সব যৌন নির্যাতনের কথা কি প্রকাশ পায়।

সব যৌন নির্যাতনের কথা কি প্রকাশ পায় ?

পশ্চিমা দেশগুলো ছাড়িয়ে যখন Me Too আন্দোলন নামের প্রতিবাদ ধীরে ধীরে এশিয়া মহাদেশে প্রবেশ করলো, তখন হয়তো অনেকেই ধারনা করেছিলো এবার হয়তো ধীরে ধীরে এদেশের প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে যৌন নিপিড়কদের মুখোশ খোলা শুরু করবে। অনেকেই হয়তো প্রতিবাদ করবে।

এতোদিন নানা কারণে, নানাভাবে, নানান যায়গায় নানান জনের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার প্রতিটি নারীই নিজ নিজ অবস্থান থেকে তা প্রকাশ করে জানান দিবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আসলেই কি তাই হয়েছে বা হচ্ছে ? এখনও কি এদেশের সকল নির্যাতিতা তাদের সাথে ঘটে যাওয়া সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলো কাউকে জানাতে পেরেছে ? নিঃসন্দেহে এই প্রশ্নের উত্তর হবে না।

কারণ আমরা সবাই জানি আসলেই অনেকে আজও তাদের সাথে ঘটে যাওয়া এমন অনেক ঘটনায় প্রকাশ করে সেই যৌন নির্যাতকের মুখোশ খুলে দিতে পারেনি। মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে যদি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে তাহলে সেটা শতকরা ৯০ ভাগ ঘটে থাকে তার পরিবারিক আত্মীয় স্বজনের দ্বারা। শিশুকালে অনেক মেয়েই এমন ঘটনাকে হয়তো মুখ বুজে মেনে নেয় কিন্তু মানসিকভাবে সেই ঘটনা তাকে সারাজীবনের জন্য অসুস্থ করে যায়।

অনেকেই এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও খুব কম সংখক নারী তার পুর্ণ জীবনে এই জাতীয় নির্যাতনগুলো ভুলতে পারে। এরকম ঘটনা কমবেশি অনেক নারীদের ক্ষেত্রেই রয়েছে। যেই অভিজ্ঞতা তারা তাদের শিশুকালে অতিবাহিত করেছে। এমন নির্যাতনের ঘটনাগুলো অনেক বছর অতিবাহিত হওয়া সহ নিজের ও সেই আত্মীয়তা রক্ষা অথবা অন্যান্য নানান দুর্বলতার কারণে হয়তো প্রাপ্তবয়স্ক হবার পরেও আর প্রকাশ করা সম্ভব হয়ে উঠেনা।

আমার মনে হয় এই জাতীয় ঘটনাগুলোর জন্য Me Too আন্দোলন তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। এই জাতীয় ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যয় অভিভাবক হিসাবে প্রতিটি পিতা মাতাকেই সচেতন থাকতে হবে। নারীদের জন্য যেহেতু আমাদের দেশ নিরাপদ নয় তাই শিশুকালে মেয়ে শিশুদের যৌন নির্যাতনের মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলোতে সবাইকেই সোচ্চার থাকতে হবে।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of