বাংলা ভাষায় মুক্তচিন্তার ধ্বজাধারী ব্লগগুলো কি প্রকৃত অর্থেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পেরেছে?

সংবাদপত্রকে জনগণের কন্ঠস্বর বলা হলেও বর্তমান সময়ের প্রচলিত সংবাদপত্রগুলো জনগণের কন্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারে নি। একই কথা বলা যেতে পারে আমাদের দেশের প্রচলিত টিভি চ্যানেলগুলোর ক্ষেত্রেও। মূলত আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহে রাষ্ট্রের সেন্সরশিপের কারণেই গণমাধ্যমগুলো প্রকৃত অর্থে জনগণের কন্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারছে না। তাই মানুষ প্রিন্ট মিডিয়া বা টেলিভিশন মিডিয়ার চেয়ে অনলাইন মিডিয়াতেই নিজেদের মতপ্রকাশ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে।

বর্তমান সময়ে ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে একজন সাধারণ মানুষ চাইলে খুব সহজেই নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারছে। কিন্তু স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর সহজলভ্যতার কারণে যেহেতু যে কেউ একাউন্ট খুলতে পারছে, তাই অনলাইনে সুচিন্তিত মতামত ও যুক্তি নির্ভর তর্ক-বিতর্কের চেয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালিই বেশি হয়ে থাকে।

তাই অনেকেই স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটের বদলে অন্য একটি প্ল্যাটফর্ম খুঁজছেন। এমনি একটি প্ল্যাটফর্ম হলো ব্লগ, যেখানে একজন মানুষ তার সুচিন্তিত মতামত পেশ করতে পারে ও এর উপর গঠনমূলক সমালোচনা হতে পারে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলা ভাষায় যে সকল নামীদামী কমিউনিটি ব্লগিং সাইট রয়েছে, কোনটাই প্রকৃত অর্থে মতপ্রকাশের উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে নি। তার প্রধান ও অন্যতম কারণ হলো বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রতিটি ব্লগই তৈরি হয়েছে কোন নির্দিষ্ট উদ্দ্যেশ্যকে সামনে নিয়ে কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কোন না কোন নির্দিষ্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী মানুষদের দ্বারা।

অর্থাৎ ব্লগগুলো কোন না কোন মতাদর্শ প্রচারের প্রচার মাধ্যম হিসেবেই ব্যাবহার করছেন ব্লগের মডারেট ও ব্লগাররা।

কোন কোন ব্লগে তো সরাসরি লেখাই আছে যে, “এই ব্লগটি তৈরি করা হয়েছে ‘অমুক’ মতাদর্শের মানুষদের এক প্লাটফর্মে দাঁড়করানোর জন্য।“
আবার কোন কোন ব্লগে সেটা না থাকলেও মডারেটরগণ তার মতাদর্শের বাইরের ভিন্ন চিন্তাবলম্বী ব্লগারদের লেখা প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেয়া, ডিলিট করে দেয়া, কখনো বা সেই ব্লগারের রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত বাতিল করে দেয়ার মতো কাজ অহরহই করে থাকে। অথচ এই মানুষগুলোই নিজেদের ‘মুক্তমনা’ হেনতেন বলে থাকে। প্রকৃত অর্থে মুক্তমনা কোন মানুষ তো আর ভিন্নমতের ভয়ে পালিয়ে থাকবে না, বরং যুক্তিসহকারে ভিন্নমতকে খণ্ডন করবে।

যে ব্যাক্তি নিজের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য চিৎকার করে গলা ফাটান, ঠিক সেই ব্যাক্তিই কি করে অন্যের মতপ্রকাশের টুঁটিটিপে ধরতে পারেন তা সত্যিই আমার মাথায় আসে না।
দিন যতো যাচ্ছে, ততোই মতপ্রকাশের ক্ষেত্রগুলো আরো সংকুচিত হয়ে আসছে।

ফেসবুক মন্তব্য

২ thoughts on “বাংলা ভাষায় মুক্তচিন্তার ধ্বজাধারী ব্লগগুলো কি প্রকৃত অর্থেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পেরেছে?

  1. সেক্ষেত্রে ইস্টিশন প্রথম থেকেই ব্যতিক্রম। এখানে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করার সুযোগ আছে। কিন্তু তাই বলে কুসংস্কার চর্চার সুযোগ নাই।

    1. ইস্টিশন ব্লগ ব্যাতিক্রম বলেই তো এখানে লিখলাম। আমি নিজেও সব ধরণের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস বিরোধী।
      তবে আমি চাই একটা প্ল্যাটফর্ম হোক যেখানে একটি সমাজের বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ বিতর্ক করতে পারবে। কারণ যতই বিতর্ক বা গঠনমূলক সমালোচনার সুযোগ মানুষকে দেয়া হবে, ততোই মানুষের সামনে যুক্তির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উঠে আসবে ও কুসংস্কারের কালো রাত শেষ হয়ে সত্যের সূর্যোদয় ঘটবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

74 + = 81