১৯৫: মক্কা বিজয়-৯: নবীর ভাষণ ও দলে দলে ইসলাম গ্রহণ!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, স্বঘোষিত আখারি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর মক্কা বিজয় সম্পন্ন করার পর, কাবার চারিপাশে উপস্থিত ভীত-সন্ত্রস্ত কুরাইশদের সম্মুখে ভাষণ দিয়েছিলেন। এই ভাষণ-টি তিনি প্রদান করেছিলেন কাবা ঘরের চাবিটি হস্তগত করার পর, সেখানে প্রবেশের প্রাক্কালে কাবার-চারিপাশে অবস্থিত কুরাইশদের উপাস্য ৩৬০-টি প্রতিমা ধ্বংস ও কাবা-ঘরের ভিতরে অবস্থিত মরিয়ম ও যীশুর (আল ওয়াকিদি: ‘ইবরাহীমের’) ছবিটি ছাড়া আর সব ছবিগুলো ধ্বংস (পর্ব: ১৯৩) করার পর; তাঁর বাহিরে আগমনের প্রাক্কালে।

আদি উৎসের বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারী কর্তৃক চরম অবমাননা, প্রচণ্ড ঘৃণা ও তাচ্ছিল্যে শত শত বছর যাবত বংশ-বংশানুক্রমে উপাস্য তাঁদের এই সব শত-শত দেব ও দেবী প্রতিমাগুলোর ধ্বংস চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করার পরেও, মুহাম্মদের এই ভাষণের পর মক্কাবাসীরা মুহাম্মদ-কে নবী হিসাবে স্বীকার করে “দলে দলে” ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন!

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1]
(আল তাবারী ও আল-ওয়াকিদির বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) [2] [3]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১৯৩) পর:

‘এক মুহাদ্দিস (তাবারী: ‘উমর বিন মুসা বিন আল-ওয়াজিহ, কাতাদা আল সাদুসি হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে’) আমাকে বলেছেন, আল্লাহর নবী কাবার দরজায় এসে দাঁড়ান ও বলেন:

“একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই; তার কোন শরীক নাই। সে তার প্রতিশ্রুতি ভালভাবে পূর্ণ করেছে ও সাহায্য করেছে তার বান্দা-কে। সে একাই শক্রবাহিনী-কে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। কাবা শরীফের রক্ষণাবেক্ষণ ও তীর্থযাত্রীদের জন্য পানি সরবরাহ করা ছাড়া আর সকল উত্তরাধিকার কিংবা বংশগত সূত্রে প্রাপ্ত বিশেষ সুবিধা বা অংশীদারিত্বের দাবী আমি বাতিল ঘোষণা করলাম।

চাবুকের আঘাতে কিংবা সংঘবদ্ধ আক্রমণে অনিচ্ছাকৃত কিংবা আপাত-ইচ্ছাকৃত উভয় হত্যার (অর্থাৎ, মানুষ হত্যা) কঠোর রক্ত-মূল্য – একশত উট, যার চল্লিশটি হতে হবে গাভিন।

হে কুরাইশগণ, আল্লাহ তোমাদের ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের পৌত্তলিকতার অহংকার ও শ্রদ্ধা ছিনিয়ে নিয়েছে। মানুষ আদম থেকে সৃষ্ট, আর আদম সৃষ্ট ধূলিকণা (মাটি) থেকে।”

অতঃপর তিনি তাদের এই আয়াত-টি পাঠ করে শোনান:
“হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার” – আয়াতটির শেষ পর্যন্ত (কুরআন: ৪৯:১৩)। [4]

অতঃপর তিনি যোগ করেন: “হে কুরাইশগণ, আমি তোমাদের কী করতে যাচ্ছি বলে তোমাদের ধারণা?” তারা জবাবে বলে, “ভাল। আপনি মহানুভব, আমাদের ভাই; সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান।” তিনি তাদের বলেন, “ফিরে যাও, তোমরা মুক্ত।”’

আল-ওয়াকিদির অতিরিক্ত বর্ণনা: [3]

‘তিনি বলেছেন, ‘আলী বিন মুহাম্মদ বিন উবায়েদুল্লাহ আমাকে <মানসুর আল-হাজাবি হইতে < তার মাতা সাফিয়া বিনতে শায়েবা হইতে < বাররা বিনতে আবি তিজরা হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন:

‘আল্লাহর নবী যখন কাবার ভিতর থেকে বাহিরে বের হয়ে আসেন, তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়েছিলাম। তিনি কাবার প্রবেশদ্বারে এসে থামেন, দুই দরজা ধরে দাঁড়ান ও নীচে উপস্থিত লোকদের দিকে তাকান; তাঁর হাতে ছিল [কাবার] চাবি। অতঃপর তিনি চাবিটি তাঁর জামার আস্তিনে রাখেন।

তারা বলেছেন: আল্লাহর নবী যখন নীচে উপস্থিত লোকদের দিকে তাকান, লোকগুলো তখন কাবা ঘরে আঠার মত লেগেছিল ও তারা সেটির চারিপাশে বসেছিল। তিনি বলেন: “আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া, সে তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে ও তার বান্দা-কে সাহায্য করেছে। সে একাই শক্র-বাহিনী-কে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। ———-

এটি আইনসম্মত নয় যে কোন মহিলা তার নিজের কোন সম্পত্তি তার স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে দান করে।

মুসলমান মুসলমানদের ভাই। মুসলমানরা ভাই ভাই। মুসলমানরা তাদের বিরোধিতা-কারীদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ থাকবে। তাদের রক্ত সমান। তাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে দূরের, তারা তাদের জন্য জবাবদিহি করবে; আর যারা তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকটতম, তারা তাদের সাথে চুক্তি করবে। সবলরা দুর্বলদের রক্ষা করবে ও সক্ষমরা সহায়তা করবে অক্ষমদের।

অবিশ্বাসীদের (ফাফেরদের) কারণে কোন মুসলমানকে হত্যা করা হবে না।

আর, চুক্তি-কারী-কে তার চুক্তির সময়কালের মধ্যে হত্যা করা হবে না। দুটি ভিন্ন ধর্মের লোকেরা একে অপরের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু পাবে না। যাকাত প্রদানকারী কোন ব্যক্তি যাকাত-সংগ্রহকারীর কাছে তার যাকাত নিয়ে আসবে না, কিংবা অন্য কোনও গন্তব্যস্থানে সে কোন যাকাত-সংগ্রহকারীর সাথে সাক্ষাত করবে না। নিশ্চিতই, মুসলমানদের দান-সামগ্রী (charity) অবশ্যই তাদের বাড়িঘর ও উঠোনে সংগ্রহ করতে হবে। কোন মহিলা তার মামী-চাচী-খালাকে (aunt) বিবাহকারী কোন ব্যক্তি-কে বিবাহ করবে না। কোন নির্দিষ্ট দাবি অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে এবং যে এটি অস্বীকার করবে, তাকে অবশ্যই শপথ গ্রহণ করতে হবে।

আইন-সিদ্ধ কোন ব্যক্তির সঙ্গ ছাড়া কোন মহিলা তিন দিনের বেশি একা ভ্রমণ করতে পারবে না।

আছর কিংবা সকালের নামাজের পর আর কোন নামাজ নাই। আর ঈদ আল-আযহা ও ঈদ আল-ফিতর পরের দুই দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ। আমি দুই ধরণের পোশাক নিষিদ্ধ করছি – একটি হলো সেটি, যা কোনও ব্যক্তির গোপনাঙ্গ অনাবৃত করে; আর অন্যটি হলো সেই পোশাক, যাতে কোন ফাঁক নাই। আমি নি:সন্দেহ, আমি কী অর্থপ্রকাশ করছি তা তোমরা বুঝতে পারছ।”

তিনি বলেছেন: অতঃপর আল্লাহর নবী সেখান থেকে নেমে আসেন, তাঁর সঙ্গে ছিল চাবিটি। তিনি মসজিদের পাশের দিকে সরে যান ও সেখানে বসে পড়েন। আল্লাহর নবী পানি সরবরাহের অংশীদারিত্ব-টি আল আব্বাসের কাছ থেকে ও চাবি-টি উসমানের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বসে থাকা অবস্থায় বলেন, “উসমান-কে আমার কাছে ডেকে নিয়ে এসো।” অতঃপর উসমান বিন আবি তালহা-কে [ ডেকে আনা হয়। —আল্লাহর নবী তাকে চাবি-টি প্রদান করেন। —- আল্লাহর নবী পানি সরবরাহের দায়িত্বটি আল-আব্বাসের ওপর ন্যস্ত করেন। জাহিলিয়া যুগে বানু আবদ আল-মুত্তালিব গোত্রের আল-আব্বাস এটি পরিচালনা করতো, অতঃপর তার সন্তানেরা। [5]

আল-তাবারীর অতিরিক্ত বর্ণনা: [6] [1]

ইবনে ইশাকের উদ্ধৃতি সাপেক্ষে (ইবনে হুমায়েদ হইতে < সালামাহ < ইবনে ইশাক < উমর বিন মুসা বিন আল-ওয়াজিহ, < কাতাদা আল সাদুসি হইতে বর্ণিত) আল-তাবারীর অব্যাহত অতিরিক্ত বর্ণনা:

—– [মুহাম্মদ বলেন], “হে কুরাইশ ও মক্কাবাসীগণ, আমি তোমাদের কী করতে যাচ্ছি বলে তোমাদের ধারণা?” তারা বলে, “ভাল। (কারণ আপনি) আমাদেরই সহৃদয় জ্ঞাতিভাই ও মহানুভব জ্ঞাতিভাইয়েরই এক সন্তান।” অতঃপর তিনি বলেন, “ফিরে যাও, কারণ তোমাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।” এভাবেই আল্লাহর নবী তাদের-কে মুক্তি প্রদান করেন,

যদিও আল্লাহ তাঁকে এই ক্ষমতা প্রদান করেছিল যে তিনি তাদের লোকদের জোরপূর্বক বন্দি করতে পারতেন ও তারা ছিল তাঁর ‘গনিমত (booty)।’

সে কারণেই মক্কার এই লোকদের বলা হয় ‘আল-তুলাকা’ (যাদের-কে দাসত্বের বন্ধন থেকে মুক্তি প্রদান করা হয়েছে)। [7]

লোকেরা ইসলাম গ্রহণ ও আল্লাহর রসূলের আনুগত্যের অঙ্গীকার প্রকাশের জন্য মক্কায় সমবেত হয়। আমাকে যা অবগত করানো হয়েছে তা হলো, তিনি তাদের জন্য সাফার [মক্কার পবিত্র স্থানটির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি ছোট পাহাড়] ওপর বসেছিলেন। আল্লাহর নবী যেখানে বসেছিলেন তার নিম্নভাগে ওমর ইবনে খাত্তাব অবস্থান করছিল ও লোকদের শপথ গ্রহণ পরিচালনা করছিল। সে তাদের কাছ থেকে আল্লাহর নবীর প্রতি তাদের আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেছিল, যাতে তারা তাদের সাধ্যমত আল্লাহ ও তার রসুলের হুকুম পালনে মনোযোগী হয়। যারা ইসলাম গ্রহণ ও আল্লাহর নবীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিল, সে তাদেরই শপথ গ্রহণ করছিল।

আল্লাহর নবীর প্রতি পুরুষদের আনুগত্যের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর, মহিলারা আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করে। কিছু সংখ্যক কুরাইশ মহিলা তাঁর সম্মুখে এসে হাজির হয়। তাদের মধ্যে ছিল হিন্দ বিনতে ওতবা, সে ছিল অবগুণ্ঠন ও ছদ্মবেশ পরিধান-রত অবস্থায়; কারণ-টি ছিল তার অপরাধ ও হামজার প্রতি তার আচরণ; সে ভীত ছিল এই ভয়ে যে তার অপরাধের জন্য আল্লাহর নবী তাকে শাস্তি প্রদান করবেন। [8]

মহিলারা যখন তাঁর কাছে আনুগত্যের শপথ করতে আসে, আল্লাহর নবী বলেন, যা আমাকে জানানো হয়েছে, “তোমরা আমার প্রতি আনুগত্যের শপথ করছো এই শর্তে যে তোমরা আল্লাহর সাথে আর কোন অংশীদার শরিক করবে না।”

জবাবে হিন্দ বলে, “আল্লাহর কসম, আপনি আমাদের উপর এমন কিছু চাপিয়ে দিচ্ছেন যা আপনি পুরুষদের উপর চাপিয়ে দেন নাই। আমরা আপনাকে এটি প্রদান করব।”

তিনি বলেন, “চুরি করো না।” সে বলে, “আল্লাহর কসম, আমি আবু সুফিয়ানের সম্পদ থেকে সামান্য কিছু টাকা-পয়সা বা এই জাতীয় কিছু গ্রহণ করতাম, এটা আমার জন্য অনুমোদিত ছিল কি না তা আমি জানি না!” আবু সুফিয়ান, যে তার বক্তব্য প্রত্যক্ষ করেছিল, বলে, “অতীতে যা তুমি নিয়েছো, তার জন্য তোমাকে ক্ষমা করা হলো।”

আল্লাহর নবী বলেন, “নিশ্চিতরূপেই তুমি হলে হিন্দ বিনতে ওতবা!” সে জবাবে বলে, “আমি হিন্দ বিনতে ওতবা। অতীতে যা হয়েছে তার জন্য ক্ষমা করুন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন।”

তিনি বলেন, “ব্যভিচার করো না।” সে বলে, “হে আল্লাহর নবী, কোন মুক্ত-স্বাধীন মহিলা কী ব্যভিচার করে?”

তিনি বলেন, “তোমার সন্তানদের হত্যা করো না।” সে বলে, “যখন তারা ছোট ছিল, আমরা তাদের বড় করেছি; আর তারা বড় হওয়ার পর আপনি বদর যুদ্ধে তাদের খুন করেছেন; সুতরাং আপনি ও তারাই এই সম্বন্ধে আরও অধিক ভাল জানেন!” [9]

ওমর ইবনে খাত্তাব তার কথাগুলো শুনে অসংযতভাবে হেসে উঠে।

আল্লাহর নবী বলেন, “এখন কিংবা এর পরে মিথ্যা অপবাদ আনয়ন করবে না।” সে বলে, “অপবাদ আনয়ন সত্যই কুৎসিত। কখনও কখনও কোনও বিষয় উপেক্ষা করায় উত্তম।”

তিনি বলেন, “কোন ভাল কর্মে আমার অবাধ্যতা করবে না।” সে বলে, “কোন ভাল পদক্ষেপে আপনাকে অমান্য করার উদ্দেশ্যে নিয়ে আমরা এই জায়গায় আসন গ্রহণ করি নাই।”

আল্লাহর নবী ওমর-কে বলেন, “তাদের আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করো।” আল্লাহর নবী তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, আর ওমর তাদের আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করে: এই কারণে যে, আল্লাহর নবী মহিলাদের সাথে হ্যাণ্ডশেক করতেন না, কিংবা তাদের স্পর্শ করতেন না, কিংবা কোন মহিলাই তাকে স্পর্শ করতেন না; ব্যতিক্রম কেবলমাত্র তারাই আল্লাহ যাদের-কে [বিবাহের মাধ্যমে] তাঁকে অনুমতি দিয়েছিলেন, কিংবা তাঁর খুবই একান্ত নিকটাত্মীয় যাদের সাথে তাঁর বিবাহ করার অনুমতি নেই [‘মাহরাম’]।” [10]

ইবনে হুমায়েদ হইতে < সালামাহ < ইবনে ইশাক < আবান বিন সালিহ (এক স্কলার, যে তাকে জানিয়েছেন) হইতে বর্ণিত:
মহিলাদের আনুগত্যের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করা হতো দুই ভাবে। আল্লাহর নবীর সম্মুখে এক পাত্রে পানি রাখা হতো। যখন তিনি তাদেরকে শপথ গ্রহণের আমন্ত্রণ করতেন ও তারা তা গ্রহণ করতো, তিনি তার হাত-টি পাত্রে [পানিতে] ডুবিয়ে বের করতেন; অতঃপর মহিলারা তাতে তাদের হাতগুলো ডোবাতেন। পরবর্তীতে, তিনি যখন তাদের কাছে শপথের প্রস্তাব দিতেন ও তারা তাঁর শর্তগুলি মেনে নিতো, তিনি বলতেন, “যাও, আমি তোমার আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেছি” – এটাই তিনি করেছিলেন।’ [11]

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর ‘মক্কা বিজয়’ উপাখ্যানের ওপরে বর্ণিত ও গত আট-টি পর্বের (পর্ব: ১৮৭-১৯৪) বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো, কুরাইশদের “দলে দলে” ইসলাম গ্রহণের প্রকৃত কারণ হলো:

“মৃত্যুভয় ও তাঁদের পরিবার-পরিজনদের নিরাপত্তা-শঙ্কা! মুহাম্মদের এই ভাষণ, কিংবা তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নয়!”

ওপরে বর্ণিত আল-তাবারীর অতিরিক্ত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি: বিনা উস্কানিতে, অতর্কিত আক্রমণে অবিশ্বাসী-কাফেরদের পরাস্ত করে তাঁদের সহায়-সম্পদ লুণ্ঠন, তাঁদের ও তাঁদের পরিবার সদস্যদের বন্দি করে দাস ও দাসী করণের যে “জিহাদি প্রক্রিয়া” মুহাম্মদ চালু করেছিলেন; পরাস্ত কুরাইশদের অবস্থানও তার ব্যতিক্রম ছিল না! কিন্তু মুহাম্মদ অত্যন্ত দয়া-পরবশ হয়ে, কুরাইশদের সম্পদ লুণ্ঠন ও তাঁদের-কে বন্দি করে দাস ও দাসী করণ না করে তাঁদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। সে কারণেই ইসলামের পরিভাষায় মক্কাবাসী ও কুরাইশদের অভিহিত করা হয় ‘আল-তুলাকা‘ নামে।

বাস্তবিকই, ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা ‘মক্কা বিজয়ের’ প্রাক্কালে কুরাইশদের প্রতি মুহাম্মদের এই ক্ষমা প্রদর্শন-কে মুহাম্মদের “পরম উদারতার” এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসাবে জগতের বিশ্বাসী-অবিশ্বাসীদের সামনে উপস্থাপন করেন। এই বিষয়ে তাঁরা নিরলস ও ক্লান্তিহীন! গত ১৪০০ বছর যাবত! ইসলামের ঊষালগ্ন থেকে! আগামী পর্বে “মুহাম্মদের ক্ষমা ও তার স্বরূপ” বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্য-সূত্র এক ও দুই):]

The added narratives of Al-Waqidi:

‘He said: ‛Alī b. Muḥammad b. ‛Ubaydullah related to me from Mānṣur al-Ḥajabī from his mother, Ṣafiyya bt. Shayba from Barra bt. Abī Tijra, who said: I looked at the Messenger of God when he came out from the House. He stopped at the entrance, held the two doors and looked down on the people, and in his hand was the key. Then he put the key in his sleeve.

They said: When the Messenger of God looked down on the people who were glued to the Ka‛ba and seated around it, he said, “Praise God who granted me His promise and helped His servant. He defeated the factions alone. —-

It is not lawful for a woman to give of her property except with the permission of her husband. The Muslim is the brother of the Muslims. The Muslims are brethren. The Muslims are one hand against those who oppose them. Their blood is equal. The farthest of them is answerable to them and the nearest of them will contract with them. The strong will protect the weak among them, and the active will help the incapable. No Muslim will be killed for a disbeliever, and no possessor of an agreement will be killed for the duration of that agreement. People of two different faiths do not inherit from each other. The one who pays zakāt does not bring it to the collector, nor does he meet the collector at some other destination; indeed the charity of Muslims must be collected [Page 837] in their houses and courtyards. The woman will not marry one who is married to her aunt; the claim must be proved, and he who denies it, must take the oath. No woman shall travel for more than three days alone, except with someone who is l‛Awful to her. There is no prayer after ‛Aṣar, or after Ṣubḥ, and fasting on two days, on ‛Īd al-aḍḥā and al-fiṭr is forbidden. I forbid two kinds of clothing—one is that which reveals one’s private parts; the other is clothing that has no openings. I do not doubt that you understand my meaning.” ——

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল): পৃষ্ঠা ৫৫২- ৫৫৩
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[2] অনুরূপ বর্ণনা: আল-তাবারী, ভলুউম ৮; পৃষ্ঠা ১৮১-১৮২
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21292&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[3] অনুরূপ বর্ণনা: আল-ওয়াকিদি (৭৪৭ সাল-৮২৩ সাল): পৃষ্ঠা ৮৩৫-৮৩৮; ইংরেজি অনুবাদ, পৃষ্ঠা ৪১১-৪১২
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-

[4] কুরআনের উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। http://www.quraanshareef.org/ কুরআনের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/

[5] অনুরূপ বর্ণনা – Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৭৪৫: ‘মুহাম্মদ কাবা শরীফের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করেন উসমান বিন আবি তালহার কাছে ও কাবায় তীর্থযাত্রীদের পানি সরবরাহের দায়িত্ব অর্পণ করেন আল-আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের কাছে।’

[6] Ibid আল-তাবারী: পৃষ্ঠা ১৮২-১৮৪; Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৫৫৩ -৫৫৪

[7] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৭৪৮: ‘আরবি ‘Tulaqa (‘taliq’ এর বহু বচন) শব্দের অর্থ হলো “একজন বন্দী, যাকে তার বন্দিত্ব থেকে মুক্তি প্রদান করা হয়েছে”; অথবা, “একজন দাস/দাসী (slave), যাকে তার দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রদান করা হয়েছে, বা বন্ধনমুক্ত করা হয়েছে;” – মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে যে সকল কুরাইশরা মুসলমান হয়েছিলেন তাদের অবস্থান বোঝাতে এই শব্দের পরিভাষাগত ব্যবহার করা হয়েছে।’

[8] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৭৫০:
‘ওহুদ যুদ্ধে আবু সুফিয়ান পত্নী হিন্দ মুহাম্মদের চাচা হামজা সহ অন্যান্য মুসলমানদের মৃত-দেহগুলো কেটে বিকলাঙ্গ করেছিলেন।’ বিস্তারিত: ‘হিন্দার প্রতিশোধ স্পৃহা (পর্ব: ৬৪):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOT3l5NmpOR3VwWEE/view

[9] বিস্তারিত: নৃশংস যাত্রার সূচনা (পর্ব:৩২):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOX01sZ0Q1cGJsSzg/view

[10] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৭৫২: ‘সাধারণত: আনুগত্যের শপথটি পাঠ করানো হয় হাতে হাত রেখে। কিন্তু মহিলাদের স্পর্শের ব্যাপারে মুহাম্মদের সঙ্কোচের কারণে যথাযথ শপথ গ্রহণের বিষয়টি ওমরের ওপর ন্যস্ত করা হয়। আত্মীয়তা সূত্রে পুরুষদের যে সকল মহিলা-কে বিবাহ করা হারাম (‘মাহরাম’), তাদের-কে ঐ পুরুষটির যৌথ পরিবারের অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়; সে কারণে এই সম্পর্কের পুরুষ ও মহিলারা এই সম্পর্কের বাহিরের পুরুষ ও মহিলাদের চেয়ে অবাধে মেলা-মেশা করতে পারে।’

[11] অনুরূপ বর্ণনা – Ibid আল-ওয়াকিদি: পৃষ্ঠা ৮৫০-৮৫১; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪১৮

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of