আজকের বাংলাদেশ এবং একজন ইউটিউব ”সাংবাদিক”

৭১ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতির অতীত নিয়ে খুব বেশি বাক্যব্যয় করতে ইচ্ছে করে না, কারণ সেখানে সুখকর কোন ইতিহাস নেই। একজন মহান নেতা একদিন হয়ে উঠেছিলেন মহা একনায়ক, দেশের বিচারপতিরা একের পর বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন, সেনাবাহিনীর ক্ষমতালিপ্সু অফিসাররা নায়ক থেকে হয়েছে মহাদুর্বৃত্ত, এরা খাল কেটেছে, ভূখণ্ডকে একটি রাষ্ট্র ধর্ম দিয়েছে, তবুও ক্ষমতায় থাকতে পারে নি কেউ। এর বাইরে অবশ্য আমাদের হাতে দুজন ভাল অপশন ছিলেন, যাঁরা পারতেন গত দুই দশকে বাংলাদেশকে পথে ফেরাতে। কিন্তু তাঁরা পারেন নি।

বাংলাদেশের মানুষ ঐ দুজন মানুষের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে চিন্তিত ছিল না, তাদের পারিবারিক জীবন নিয়ে চর্চা করতে আগ্রহী ছিল না, দেশের মানুষ তাদের ধার্মিকতার উচ্চতা নিয়ে চিন্তিত ছিল না; বাঙলাদেশের মানুষ শুধু চেয়েছিল গনতন্ত্রের মুক্তি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন। এর বাইরে এই দেশের মানুষ মঙ্গা দেখেছে, দুর্ভিক্ষ দেখেছে, দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি দেখেছে, জীবন যাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি দেখেছে; তবুও এই দেশের মানুষ আশা রেখেছিল যে, একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। দেশের মানুষ ভেবেছিল, ভুল করা দলটিকে পাঁচ বছরের জন্যে নির্বাসনে পাঠাবে শুদ্ধ করার জন্যে এবং দেশের জনগন যদি মনে করে তাদের ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন, তবে ফিরিয়ে এনে পুরনো জনবিরোধী পূর্বের ভুল শোধরানোর ব্যবস্থা করে দিবে। গনতান্ত্রিক সেই নতুন সরকার জনগনের চাওয়া-পাওয়াকে মূল্যায়ন করবে এবং শিক্ষা-গবেষণায়-বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে উৎকর্ষের মাধ্যমে দেশকে আধুনিক একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি একটি ধারাবাহিক বিষয়, এর কোন একটি বিপর্যস্ত হলে দেশ পথ হারাতে বাধ্য।

খালেদা জিয়াকে নিয়ে অনলাইনে লিখালিখা করার সুযোগ আমার হয় নি, তবে একজন উদ্ধত বিলাসী প্রধানমন্ত্রী এবং তার অযোগ্য পুত্রটি এই দেশকে পুনরায় অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন নানাবিধ উপায়ে। তাঁরা বেদনাহত করেছিল বহু মানুষকে। তাঁরা যুদ্ধ অপরাধে অভিযুক্ত দলটিকে বাঙলাদেশের মন্ত্রী হওয়ার স্বাদ এনে দিয়ে কলঙ্কিত করেছিলেন এই দেশের স্বাধীনতার গৌরবের ইতিহাসকে। ইতিহাস জানেন, এমন মানুষেরা আশাহত হয়েছিলেন মানুষটির উদ্ভট ঐ ঐক্যজোট বানানোর সিদ্ধান্তে।

ইতিহাস থেকে খালেদা শিক্ষা নেয় নি। খালেদার বুঝা উচিত ছিল যে, যুদ্ধ অপরাধীদেরকে যারা সাধারণ ক্ষমা করেছিল অথবা ক্ষমতা হরণ করা সেনা অফিসাররা যেভাবে পুরস্কৃত করেছিল যুদ্ধ অপরাধীদেরকে, তা বাঙলাদেশের আপামর গনমানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল এবং বিষয়টি তারা ভালভাবে নেয় নি। তাঁদের প্রস্থানে এই দেশের সিংহভাগ মানুষ ছিল নির্লিপ্ত।

২০১৮ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত একটি নির্বাচন। দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক সেদিন তাঁদের অধিকার হারিয়েছেন। নির্বাচন পরবর্তী কিছু নৈতিকভাবে সাহসী মিডিয়ার সৌজন্যে অধিকার হারা মানুষেরা এটাও জানতে সমর্থ হয়েছিলেন যে, কী কী অন্যায়কর্ম ঘটেছিল ২০১৮ সালের নির্বাচনের দিনটির আগের রাতে, কী কী উপায়ে হরণ করা হয়েছিল নাগরিক অধিকার। অত্যন্ত নির্লজ্জের মতো দলীয় সরকারের অধীনে সংগঠিত নির্বাচনে ১০৩ টি আসনের ২১৩ টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়াটা রীতিমত যে অবিশ্বাস্য, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত অসংগতি তুলে ধরে জানিয়েছে, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা প্রায় নগ্নভাবে ভেঙে পড়েছে।চরমভাবে বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে দেশের মানুষ । নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা রদবদলের উপায় রুদ্ধ হয়ে যাবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হতে যাচ্ছে, যেখানে বিরোধীপক্ষকে নানাভাবে আঘাত করা হচ্ছে, হামলা করা হচ্ছে। এই সবকিছুই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দেওলিয়াত্বের বহি:প্রকাশ। তবে, সরকার কর্তৃক সমস্ত উপায় রুদ্ধ করে দেয়ার পরও গনতন্ত্রের আড়ালে একদলীয় ভয়ংকর সরকারের সমালোচনা করা আজ জরুরী।

আমি অবশ্য যে কোন ধরণের ক্ষমতাসীনদের বিরোধী পক্ষ, আমার ধর্ম ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করা, তোষণ করা নয়।

এই লিখালিখির সূত্র ধরেই কিছু মানুষ আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া একজন প্রবাসী সাংবাদিকের ব্যাপারে। ইউ টিউবে তিনি নিয়মিত ভিডিও আপলোড করেন, নানা বিষয়ে কথা বলেন, তবে যা বলেন তার মূল বিষয় মোটামুটি তিনটি: ১. আওয়ামী লীগ সরকারকে যে কোন মূল্যে হটাও, ২. বাংলাদেশ আজ ভারত হয়ে গেছে ৩. গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের অধিকার সবচেয়ে বেশি হওয়া উচিত

নিজেকে সাবেক টিভি সাংবাদিক দাবি করা ব্যক্তিটির ২০ জানুয়ারি ২০২০ সালে আপলোড করা ভিডিওটি দেখলাম। কথা বলবো এই ভিডিওটির সাপেক্ষে।

১. আলোচ্য সাবেক টিভি সাংবাদিক বাঙলাদেশের ইসলামিক আলেম-উলামাদের জন্যে খুব অল্প পরিসরে একটা গাইডলাইন তুলে ধরেছেন, তিনি ইসলামিক আলেম উলামাদের নির্দেশনা দিলেন যে, পর্দা-টর্দা নিয়ে কম কথা বলতে, তাতে বাঙলার নারীরা ইসলামিক আলেম উলামাদের ওপর খুশি থাকবেন বলে তিনি মনে করেন। তবে, প্রায় ১৪০০ বছর আগে উমার ইবনে খাত্তাব এর পীড়াপীড়ির প্রেক্ষিতে কথিত নাযিলকৃত আয়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত পর্দা প্রথা যেহেতু ইসলামের একটি মৌলিক বিষয়, কাজেই নারীকে বস্তা বন্দী করে রাখার ব্যাপারে যে শিথীলতা চাইছেন ইসলামপ্রিয় সেই সাংবাদিক সাহেব, তা কি উনার প্রিয় আলেম-উলামারা মেনে নিবে?

২. ইসলামপ্রিয় ইউটিউব সাংবাদিকের ইসলামিক জ্ঞানের দৈন্যতা আমাকে বিস্মিত করেছে! নবী মুহম্মদ কখনো বলেন নি, ”জ্ঞান অর্জনের জন্যে যতদূর যেতে হয় যাও”, যদি সূচনালগ্নের ইসলাম জ্ঞান-বিজ্ঞান অর্জনের দিকে মনোনীবেশ করতো, তবে মুসলমান জাতের আজকের দৈন্যতা হাস্যরসের এমন উদ্রেক করতো না। কাজেই সাবেক টিভি সাংবাদিক যে বক্তব্য দিয়েছেন জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে তার সাথে ইসলামের কোন সংযোগ নেই এবং কোন রেফারেন্স দাঁড় করানোর মতো সক্ষমতা তিনি রাখেন না। অর্থাৎ, বক্তব্যটি তিনি দিয়েছেন হয় না জানার কারণে অথবা ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীকে মুগ্ধ করার অভনব প্রতারণা করার অভিপ্রায়ে আর তখন এটাকে বলা হবে তাকিয়াবাজি। শরীয়ত বয়াতি যদি গান বাজনা হালাল হওয়ার চ্যালেঞ্জ করে অপরাধ করে থাকে, তবে ঐ ইউ টিউব সাংবাদিকটি মিথ্যে হাদিস বলে ইসলামের দৃষ্টিতে আরো গুরুতর অন্যায় কাজ করেছে।

৩. আলোচ্য সাংবাদিক সাহেবের ধারণা, ফেরাউনের লাশ আল্লাপাক কেয়ামত পর্যন্ত রেখে দিয়েছেন যাতে মানুষ ঘৃণা করতে পারে! দু:খ পেলাম, ছেলেটার জানার পরিধি এত অগভীর দেখে। কারণ, ফেরাউন বা ফারাওন কোন একক ব্যক্তি নয়। ফারাও হলো গ্রিক-রোমান কর্তৃক বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত প্রাচীন মিশরীয় রাজবংশের রাজাদের প্রচলিত উপাধিমাত্র। পুরুষ রাজা, এমনকি ফেরাউন শব্দটা মহিলা শাসকদের হ্মেত্রেও ব্যবহার করা হত। ১৮৮১ সালে যেই মমিটি পাওয়া যায়, সেই মমিটি দ্বিতীয় রামিসেসের। এই ফেরাউনের জন্ম (প্রায়) খ্রিস্টপূর্ব ১৩০৩; মৃত্যু জুলাই বা আগস্ট ১২১৩ খ্রিস্টপূর্ব; শাসনকাল হচ্ছে, ১২৭৯–১২১৩ খ্রিস্টপূর্ব।

উনাকে রামিসেস দ্য গ্রেট বা মহান রামিসেবলা হতো। তিনি ছিলেন মিশরের উনবিংশতম রাজবংশের তৃতীয় ফারাও রাজা। একটি ভিডিওতে দাবী করা হয়েছিল, এই মমিটি নাকি আবিষ্কার করা হয়েছে সমুদ্র থেকে। যা ডাঁহা মিথ্যা কথা। বলা হচ্ছে, ফেরাউনের লাশ, যা ১২৩৫ খ্রিস্টপূর্বে সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিল, ৩১১৬ বছর সমুদ্রের ভেতরে থাকবার পরেও আল্লাহর কুদরতে লাশটি অক্ষত রয়ে গেছে! এটা ডাঁহা মিথ্যাচার। সত্য হচ্ছে, ৯০ বা ৯১ বছর বয়সে মৃত্যুর পরে এই ফেরাউনের মমি তৈরি করে তা ভ্যালি অব দ্য কিংসের একটি সমাধিতে কবরস্থ করা হয়; পরবর্তীতে তার দেহকে একটি রাজ সংগ্রহশালায় স্থানান্তর করা হয়, যেখানে ১৮৮১ সালে তা আবিষ্কৃত হয়, এবং বর্তমানে এটি কায়রো জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

সুতরাং সত্য হচ্ছে, এই ফেরাউনের এই মমিটি কখনোই সমুদ্রের তলদেশে ছিল না। ইসলামের সাথে মেলাবার জন্য খুব কৌশলে তথ্য বিকৃত করা হয়েছে। [তথ্য কৃতজ্ঞতা: সংশয়.কম]

খুব সম্ভবত ঐ ভিডিও টি দেখে ইউ টিউব সাংবাদিক বিভ্রান্ত বকেছেন। সবকিছু মিলিয়ে বুঝতে পারছি, ইউ টিউব সাংবাদিক সাহেব নিতান্তই বংশ পরম্পরায় শুনে শুনে মুসলমান, যিনি পড়াশোনা না করে ইসলামিক জ্ঞান দিতে হুটহাট চলে এসেছিলেন ইউটিউবে, যার অন্ধ বিশ্বাসে জায়গা করে আছে, মানবসৃষ্ট উপায়ে মমি করে রাখা দেহ-আকৃতি মোটামুটি অক্ষত রাখার উপায়টিও আল্লাপাকের ইচ্ছায় অক্ষত থেকেছে আল্লাপাক কর্তৃক ব্যবস্থাপনায়, আজকের মুমিন বান্দারা যাতে ঘৃণা প্রকাশ করতে পারে!

৪. শরীয়ত বয়াতি কি আল্লাপাককে চ্যালেঞ্জ করেছিল? শরীয়ত বয়াতি কি মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর মতো কখনো বলেছে যে, বিবি খাদিজা ”ভার্জিন” ছিলেন না, ”ইনটেক্ট” ছিলেন না, ইত্যাদি অরুচিকর শব্দ প্রয়োগে? বয়াতি কি মোল্লা মিজানুর রহমান আজহারীর মতো নবীর বহু নারীর সাথে যৌন জীবন নিয়ে আলোচনায় বসেছিল লোকসমাগমে? সে যা করেছে তা হচ্ছে, সে তার ইসলামিক জ্ঞান দিয়ে অন্যান্য মোল্লা-মাউলানাকে চ্যালেঞ্জ করেছে, গান-বাজনা চালিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ে, এখানে বয়াতির অপরাধ হয় কী করে? সবচেয়ে বড় কথা, মোল্লা-মাওলানা-ধর্মান্ধ মূর্খ জনগোষ্ঠীর অযৌক্তিক চাপে পড়ে বাংলাদেশে প্রশাসন কি বয়াতিকে গ্রেফতার করতে পারে?

৫. ৫ই মের হেফাজত-প্রেমিক এই সাবেক টিভি সাংবাদিক ঐ হেফাজতের মতোই দাবি তুলেছে, শাপলা চত্ত্বরে শত শত মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার! কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেই উদ্ভট দাবির প্রেক্ষিতে নিহত শিক্ষার্থীদের তালিকা হেফাজতও কোনদিন দিতে পারে নি, এই ইউ টিউব সাংবাদিকও কোনদিন দিতে পারবে না। তবে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফাতে হাবুডুবু খেয়ে খেয়ে সাংবাদিক সাহেব নিজের অন্ধাকার জাত কিন্তু ঠিকই চিনিয়েছেন!

৬. সাবেক সাংবাদিক আরো দাবি করেছে, নিউ ইয়র্কের টাইমস্ স্কয়ারে গিয়ে খ্রিস্টান ধর্ম বিরোধী কথা বললে পিঠের চামড়া থাকবে না! ইউটিউব সাংবাদিকের জন্যে একটা এডরেস রেখে গেলাম :

NYC Atheists c/o Ken Bronstein
235 EAST 57th Street (9C), New York, NY 10022

এখানে শুধু নাস্তিকতাই চর্চা হয় না, এখানে খ্রিস্টান ধর্মকে প্রতিরোধও করা হয়। তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্যটা তুলে দিলাম:
NYC Atheists is a non-profit, non-partisan educational and advocacy organization based in New York City. Our primary mission is defending the separation of church and state and advocating for issues of interest to the atheist community. We focus on bringing people together and hold a number of regular monthly events as well as a range of other events to educate, promote social action, and just to have fun.

৭. আমি জানি না, এই টিভি সাংবাদিক, জীবনে কী নিয়ে পড়াশোনা করেছে, কতটুকু পড়াশোনা করে সাংবাদিকতার পেশায় এসেছিল। তবে আমি অবাক হয়েছি, যখন এই সাবেক টিভি সাংবাদিকের মনে উদ্ভট একটি ইচ্ছা হয়েছে, আর তা হচ্ছে: বাংলাদেশের মিডিয়াগুলির সংবাদ শিরোনামে একদিন হাটহাজারী মাদ্রাসার হেড মাওলানা তথা আল্লামা শফীর বাণী থাকা বাধ্যতামূলক হবে! তার মানে দাঁড়াচ্ছে, এই ছেলের আইডল হচ্ছে আল্লামা শফীর মতোই ধর্মান্ধ মূর্খ ব্যক্তিরা, যারা লোকসমাগমে প্রকাশ্যে বলে বেড়ায়: ”নারীদের ক্লাশ ফোর-ফাইভের বেশি পড়ানোর দরকার নেই” শুধু তাই নয়, নারীরা যাতে উচ্চ শিক্ষা নিতে স্কুল কলেজে না যায় সে ব্যাপারে উপস্থিত জনতার ওয়াদাও মাওলানা শফী নিয়েছিল! (তথ্যসূত্র: যুগান্তর, ১১ জানুয়ারি, ২০১৯)

অতএব, আমি ছেলেটার ভিডিওর শেষ কয়েক মিনিটে এসে নিশ্চিত হয়েছি, পাড়া মহল্লার আর দশটা ধর্মান্ধ সাধারণ মৌলবাদীর সাথে নিজেকে সাবেক টিভি সাংবাদিক দাবি করা ব্যক্তিটির তেমন কোন পার্থক্য নেই, পার্থক্য বলতে, খুব ভাল অভিনয় করে বলতে পারে ছেলেটা, যেখানে ইসলামিক ”তাকিয়া বাজিটা” খুব ভালভাবে রপ্ত করতে পেরেছে টিভি ক্যামেরার সামনে বসে।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of