ইসলাম ধর্মের শেষ সময় কাছাকাছি চলে এসেছে।

ইসলাম ধর্মের শেষ সময় কাছাকাছি চলে এসেছে।

কাঠের পুতুল আল্লাহকে আর বাচাঁনো সম্ভব হবে কিনা সেটা নিয়েই শিক্ষিত মুমিনদের রাতের ঘুম এখন ফেসবুকের হোমপেজের দিকে তাকিয়েই পার হচ্ছে। আগের মতো রুটি বা বেগুনের ভেতরে আল্লাহু লেখা ছবি পোস্ট করার পরে সুবহান আন আল্লাহ আর আল্লাহু আকবরের জয় জয়কার আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে, এ জেনো ইসলামের গোমর ফাঁস হবার আগের প্রতিক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে। আর তাইতো মুমিনরা মুহাম্মদের তোইরি কাঠের পুতুল আল্লাহকে বাঁচাতে শুরুতেই হাদীস নামক বই গুলোকে অশ্বীকার করতে শুরু করেছে, হয়তো অচিরেই তারা কোরান নামক বিষাক্ত বইটিকেও অস্বীকার করা শুরু করবে।

যাক ভালই ভালই সেইটা হয়ে গেলেই এই পৃথিবীর ৭০০ বিলিয়ন মানুষ হয়তো রক্ষা পেয়ে যাবে। ইসলামী জীবন বিধানে আল-কোরানের পরেই হাদীসের অবস্থান। আর সকল হাদীস গ্রুন্থের ভেতরে সব থেকে বেশি গ্রহনযোগ্য হাদীস হচ্ছে বুখারী শরীফ যা ইসলামী সাল বা হিজরী অনুযায়ী তৃতীয় শতাব্দী, অর্থাৎ ৯০০ খ্রিস্টাব্দের শুরুর দিকে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী নামের কেউ লিখেছিলো।

হাদীস সম্পর্কে বুখারী শরীফের ভূমিকাতে বলা আছে, “হাদীস শরীফ মুসলিম মিল্লাতের এক অমুল্য সম্পদ, ইসলামী শরী’আতের অন্যতম অপরিহার্য উৎস এবং ইসলামী জীবন বিধানের অন্যতম মূল ভিত্তি। কিন্তু কেন জানি বর্তমান সময়ের একশ্রেনীর মুমিন বান্দাদের দেখা যাচ্ছে তারা হাদীস মানতে রাজি না। এর পেছনে কি কি কারণ থাকতে পারে জানতে চাইলে তারা দাবী করে যে হাদীস আল্লার বানী নয় তাই মুসলমানদের উচিৎ হাদীস বর্জন করা।

এই হাদীসের যেমন বিপক্ষের মুমিন মুসুল্লি রয়েছে ঠিক তেমনই রয়েছে একদল পক্ষের লোক যারা মনে করেন হাদীস ছাড়া ইসলাম অচল অথবা কোরানের কোন অর্থই মানুষ এই হাদীস ছাড়া বুঝতে পারবে না ঠিক মতো। কিন্তু যারা এই সব মুমিন মুসুল্লিদের আল্লাহ নামক মুহাম্মদের তৈরি করা একটা কাঠের পুতুল আর সেই পুতুলের বানানো শত শত বছর আগে থেকেই তেল গ্যাস পুড়িয়ে তৈরি করে রাখা দোজোখ বা জাহান্নামের কনসেপ্ট-এর ভূয়া বা মিথ্যা কাল্পনিক তথ্য ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে বলে থাকেন আল্লাহ মহান, নামাজ পড়ো, তাদের কিন্তু এই হাদীস বর্জনের তীব্র ইচ্ছাটা অজানা নয়। কারণ হচ্ছে একমাত্র নাস্তিকরাই সঠিক এবং নির্ভুল ইসলাম প্রচার করে থাকে যা কোন জ্ঞানী মুমিন মুসুল্লি কোনদিনও করতে পারবেনা। এর হচ্ছে আল্লাহ নামক কাঠের পুতুল বেজার হবে।

আসলে ইসলাম ধর্মের ব্যাপ্যারটাই হচ্ছে এরকম যে আপনি যত ইসলাম জানবেন ততই আপনার ইসলাম থেকে ঈমান উঠতে শুরু করবে। আর তাই তো ইসলাম ধর্মের মূল দুইটি অলিখিত ভিত্তি হচ্ছে (১) প্রশ্ন করা যাবে না যা বলা হচ্ছে মুখ বন্ধ করে মেনে নিতে হবে নয়তোবা আল্লাহ নামক মুহাম্মদের কাঠের পুতুল রাগ করবে আর রাগ করলে মুনকীর আর নেকির নামক দুই ফেরস্থা দিয়ে হিসাব লিখে ফেলবে। আর এক্সট্রা খাতির দোররা মারার ব্যবস্থা তো থাকছে জাহান্নামে। আর লোভের বিষয়টি তো থাকছেই জান্নাত বা বেহশতো নামক পতিতলয়ের।

যে পতিতালয়ে এদেশের মুমিন ও ধার্মিক পিতা মাতারা যাবার জন্য তাদের সন্তানদেরকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে যৌন নির্জাতন সহ আরো ভয়াবহ সব নির্যাতনের মাধ্যমে টিকিট কনফার্ম করছে। সে যায় হোক এই যুগে এসেও যদি মানুষের সম্মুক্ষে কেউ জোর গলায় বলতে থাকে দেড় হাজার বছর আগের এক অশিক্ষিত ভ্যাড়ার রাখাল তার আঙ্গুলের ইশারা দিয়েই পৃথিবীর বাইরে অবস্থান করা চাঁদকে দুই ভাগ করে দিয়েছে আর চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রাখা মানব নীল আর্মস্ট্রং গিয়ে সেই দুই ভাগের ফাঁটা দাগ দেখে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে ফেলেছে তাদেরকে আপনি কি বলবেন ?

হ্যাঁ, হাস্যকর হলেও ঘটনা তাই। এই জন্যই হাদীসের হয়েছে নানান নাম। ভ্যজালের উপরে ভ্যাজাল। এরকম হাদীসগুলো হাজার বছর ধরে চলে আসলেও এই যুগের একদল মুমিন মুসুল্লি হঠাৎ করে এখন দাবী করছেন এসব জাল হাদীস বা মিথ্যা হাদীস। আর এরকম আরো অনেক ভন্ডামী মার্কা কথাই ইসলামে বিদ্যমান থাকার কারণে এবং সর্বোপরী মুহাম্মদের তৈরি আল্লাহ নামক কাঠের পুতুলকে আরো কিছুদিন জীবত রাখতে হলে এই সমস্ত হাদীসকে মিথ্যা না বললে যে আর উপাই নেই।

আর কোরানের ব্যকআপ যে খুব বেশি কাজ করছে এই যুগে সেটাও একজন শিক্ষিত মুমিন ঠিক করে বলতে পারবেনা। যতই ধানাই পানাই করে প্রতিটি ভুলে ভরা কোরানের আয়াতের নানান তালগোল পাকানো জাকির নায়েক টাইপের যুক্তি সবাই দিয়ে যাচ্ছে। এসব করে তাতে যে ইসলামের পিঠ বাঁচতেছে তাও কিন্তু নয়। তবে তাই হোক। আগে হাদীস বাতিল করলেও তো মুমিন ভায়েরা আসলেই বুঝতে শুরু করেছেন কোরান বা হাদীস সে যেটাই হোক তার সবই আরব দেশের মানুষের লেখা তাও আবার অন্যান্য ধর্মের গল্প থেকে চুরি করে বা কপি করে।

রবিউল আলম ডিলার

প্রবাসী ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট

২৯/০১/২০২০

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

60 + = 68