১৯৬: মক্কা বিজয়-১০: নবী মুহাম্মদের ক্ষমা ও তার স্বরূপ!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মৃত্যুবরণ করেন ৬৩২ সালের জুন মাসে। মুহাম্মদের মৃত্যু পরবর্তী ২৯০ বছরের কম সময়ের মধ্যে লিখিত ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই লিখিত মুহাম্মদের পূর্ণাঙ্গ জীবনী গ্রন্থের (‘সিরাত’) বর্ণনায় যা আমরা সুনিশ্চিত রূপে জানি, তা হলো, মক্কার কুরাইশদের সঙ্গে সহিংস হানাহানির সূত্রপাত করেছিলেন “মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা।” ৬২৪ সালের জানুয়ারি মাসে রাতের অন্ধকারে “নাখলা” নামক স্থানে বাণিজ্য ফেরত নিরীহ কুরাইশ কাফেলার উপর অতর্কিত আক্রমণ, তাঁদের বাণিজ্য-সামগ্রী লুণ্ঠন, একজন নিরপরাধ আরোহীকে খুন ও দুইজন আরোহীকে বন্দী করে তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় ঘটনাটির মাধ্যমে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা এই সহিংস যাত্রা শুরু করেন (পর্ব: ২৯)।

এই খুন ও অপমানের প্রতিশোধ স্পৃহা এবং মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ডাকাতি ও সন্ত্রাসী হামলার কবল থেকে আবু-সুফিয়ানের নেতৃত্বে সিরিয়া থেকে প্রত্যাবর্তনকারী বাণিজ্য ফেরত কাফেলা-সম্পদ ও কাফেলা-আরোহীদের রক্ষার কুরাইশ-প্রচেষ্টায় সংঘটিত হয় বদর যুদ্ধ। এটি ছিল কুরাইশদের সর্বপ্রথম প্রতিরক্ষা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা অমানুষিক নৃশংসতায় ৭০ জন কুরাইশ-কে করে হত্যা, ৭০ জন-কে করে বন্দি। অতঃপর বন্দি অবস্থাতেই তাঁরা পথিমধ্যে আরও দুইজন কুরাইশ-কে হত্যা করে বাঁকি ৬৮-জনকে ধরে নিয়ে আসে মদিনায় ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে আদায় করে মুক্তিপণ। এই অপূরণীয় ক্ষতি, অবমাননা ও মানসিক বিপর্যয়ের প্রতিশোধ স্পৃহায় মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে স্বজন-হারা কুরাইশ ও তাঁদের মিত্রদের প্রতিহিংসা স্পৃহার লড়াই: ওহুদ ও খন্দক যুদ্ধ!

পরিশেষে, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অতর্কিত মক্কা আক্রমণ ও বিজয়! মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারী কর্তৃক চরম অবমাননা, প্রচণ্ড ঘৃণা ও তাচ্ছিল্যে কুরাইশদের শত-শত দেব ও দেবী প্রতিমা ধ্বংস! আর এই চরম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করার পরেও মুহাম্মদ-কে নবী হিসাবে স্বীকার করে কুরাইশদের “দলে দলে” ইসলাম গ্রহণ!

আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি, মুহাম্মদের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত কিছু কুরাইশ তাঁদের জীবন বাঁচানোর প্রচেষ্টায় পলায়ন কিংবা আত্ম- গোপন করেছিলেন। তাঁরা হলেন:

(১) সাফওয়ান বিন উমাইয়া:
যার পিতা উমাইয়া বিন খালাফ-কে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা বদর যুদ্ধে অমানুষিক নৃশংসতায় হত্যা করেছিলেন (পর্ব: ৩২); আর সেই হত্যার প্রতিশোধ স্পৃহায় সাফওয়ান এক মুহাম্মদ অনুসারীকে ক্রয় করে তাকে হত্যা করেছিলেন (পর্ব: ৭২)।

(২) ইকরিমা বিন আবু জেহেল:
যার পিতা আবু জেহেল-কে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা বদর যুদ্ধে অমানুষিক নৃশংসতায় হত্যা করেছিলেন (পর্ব: ৩২)।

(৩) হুবায়ের বিন আবি ওহাব আল মাখযুমি:
যিনি ছিলেন মুহাম্মদের চাচা আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানির স্বামী।

(৪) সুহায়েল বিন আমর:
যাকে বদর যুদ্ধে মুহাম্মদ বন্দি করেছিলেন ও মুক্তিপণ আদায়ের বিনিময়ে তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ফেরত দিয়েছিলেন (পর্ব: ৩৭)। যিনি হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তির প্রাক্কালে কুরাইশদের পক্ষে মুহাম্মদের সাথে মধ্যস্থতা করেছিলেন ও চুক্তি আলোচনার প্রাক্কালে যার মুসলিম পুত্র আবু জানদাল বিন সুহায়েল পায়ে বেড়ি পরিহিত অবস্থায় সেখানে উপস্থিত হয়েছিল (পর্ব: ১১৮-১২০)। [1] [2]

(৫) ওয়াহাশি:
যিনি ওহুদ যুদ্ধে তাঁর মনিব যুবায়ের বিন মুতিমের আদেশে বদর যুদ্ধে বহু কুরাইশ হত্যাকারী মুহাম্মদের চাচা হমাজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব-কে হত্যা করে স্বজন-হারা কুরাইশদের প্রতিশোধ স্পৃহা নিবৃত করেছিলেন (পর্ব: ৬৩)। [3]

প্রাণ-ভয়ে ভীত পলাতক ও আত্ম-গোপনকারী এই মানুষগুলোর প্রায় সকলকেই মুহাম্মদ ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রদান করেছিলেন। কিন্তু তাঁর এই ক্ষমা ও নিরাপত্তা শর্তহীন ছিল না। কী ছিল তাঁদের পরিত্রাণের প্রকৃত কারণ?

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (ও আল-তাবারীর) বর্ণনার পুনরারম্ভ – কবিতা পঙক্তি পরিহার:
(আল-ওয়াকিদির বর্ণনা, ইবনে ইশাক ও আল-তাবারীর বর্ণনারই অনুরূপ) [4] [5] [6]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১৯৫) পর:

‘মুহাম্মদ বিন জাফর আমাকে <উরওয়া বিন আল-যুবায়েরের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন:

সাফওয়ান বিন উমাইয়া জাহাজ যোগে ইয়ামেনে যাওয়ার জন্যে জুদদা নামক স্থানে গমন করে। উমায়ের বিন ওহাব (Umayr b. Wahb) আল্লাহর নবীকে বলে যে কুরাইশ গোত্র প্রধান [বানু জুমাহ গোত্র] সাফওয়ান, তাঁর কাছ থেকে পালিয়ে সমুদ্রে আত্মাহুতি দেওয়ার জন্যে গিয়েছে। সে তাঁর কাছে তার নিরাপত্তার আবেদন করে। আল্লাহর নবী তাতে সম্মত হোন। সে তাঁর কাছে তাঁর এই সম্মতির এমন কোন প্রমাণ তাকে দিতে বলেন, যা সে নিদর্শন স্বরূপ তার [সাফওয়ান] কাছে উপস্থিত করতে পারে। তাই তিনি তাকে তাঁর সেই পাগড়িটি প্রদান করেন, যেটি পরিধান করে তিনি মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন।

উমায়ের সেটি নিয়ে যাত্রা শুরু করে ও সাফওয়ানের জাহাজে চড়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে সে তার কাছে গিয়ে পৌঁছে। সে তাকে আত্মহত্যা না করার অনুরোধ করে ও তাকে নিরাপত্তা-প্রদান প্রতিশ্রুতির নিদর্শন-টি হাজির করে।

সাফওয়ান তাকে বলে যে সে যেন তার সাথে কোন কথা না বলে ও তার কাছে না আসে।
জবাবে সে বলে, “আমার পিতা-মাতার শপথ! তিনি হলেন সর্বাধিক পুণ্যবান, সর্বশ্রেষ্ঠ ধার্মিক ও ক্ষমাপরায়ণ ও তিনি মানুষদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি তোমারই জ্ঞাতিভাই। তাঁর সম্মান, তোমারই সম্মান।”

সে জবাবে বলে, “তার কারণেই আমি আমার জীবন নিয়ে শঙ্কিত।”

প্রত্যুত্তরে সে বলে, “তিনি এতই ক্ষমাশীল ও সম্মানিত যে তিনি তোমাকে হত্যা করতে পারেন না।” (আল ওয়াকিদি: ‘সে বলে, “তিনি তোমাকে ইসলাম দীক্ষিত হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন; যদি তুমি সন্তুষ্ট না হও, তিনি তোমাকে দুই মাস সময় দেবেন; তিনি মানুষদের মধ্যে সর্বাধিক বিশ্বাসী ও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।” [He said, “He invites you to enter Islam, and if you are not satisfied he will grant you two months, and he is the most faithful of the people, the kindest of them]”)

তাই, সে তার সাথে আল্লাহর নবীর কাছে আসে ও তাঁকে বলে যে, উমায়ের তাকে বলেছে যে তিনি তাকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন যে, সে সত্য বলেছে। সাফওয়ান তার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মনস্থির করার জন্য তাঁর কাছে দুই মাস সময় আবেদন করে। তিনি তাকে চার মাস সময় প্রদান করেন।

আল-যুহরি আমাকে বলেছেন:
উম্মে হাকিম বিনতে আল-হারিথ বিন হিশাম ও ফাখিথা বিনতে আল-ওয়ালিদ (সে ছিল সাফওয়ানের স্ত্রী, আর উম্মে হাকিম ছিলেন ইকরিমা বিন আবু-জেহেলের স্ত্রী) ইসলামে দীক্ষিত হয়। পরের জন [উম্মে হাকিম] তার স্বামীর নিরাপত্তার আবেদন করে, আল্লাহর নবী তা মঞ্জুর করেন। সে ইয়েমেনে গিয়ে তার স্বামীর সাথে যোগদান করে ও তাকে ফেরত নিয়ে আসে। যখন ইকরিমা ও সাফওয়ান মুসলমান হয়, আল্লাহর তাদের স্ত্রীদের তাদের কাছে ফেরত দেন।’ —

(আল-তাবারীর অতিরিক্ত বর্ণনা: ‘ইবনে হুমায়েদ <সালামাহ <ইবনে ইশাক হইতে বর্ণিত: যখন আল্লাহর নবী মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন হুবায়ের বিন আবি ওহাব আল মাখযুমি ও আবদুল্লাহ বিন আল-যিবারি আল-সাহমি পালিয়ে নাজরান [ইয়েমেনের উত্তর সীমান্ত, মক্কা থেকে প্রায় ১৮০ মাইল দক্ষিণে] গমন করে।’)

‘আর হুবায়ের বিন আবি ওহাব আল মাখযুমির বিষয়টি হলো, সে সেখানে [ইয়েমেন] অবস্থান করে ও অবিশ্বাসী অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করে। তার স্ত্রী ছিল আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানী, যার আসল নাম ছিল হিন্দ। সে জানতে পারে যে তার স্ত্রী ইসলাম গ্রহণ করেছে। —–

মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে যে মুসলমানরা উপস্থিত ছিল, তাদের মোট সংখ্যা ছিল ১০,০০০। বানু সুলায়েম গোত্রের ৭০০ (কেউ বলে ১০০০); বানু গিফার গোত্রের ৪০০; বানু আসলামের ৪০০; বানু মুযায়েনার ১০০৩ জন। বাঁকিরা ছিল কুরাইশ ও আনসার ও তাদের মিত্ররা। আর ছিল আরবের তামিম ও কায়েস ও আসাদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত দলগুলো।’

আল-ওয়াকিদির অতিরিক্ত বর্ণনা:

সুহায়েল বিন আমরের ইসলাম গ্রহণ ও তার কারণ:

‘মুসা বিন মুহাম্মদ তার পিতা হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: সুহায়েল বিন আমর বলেছে:
যখন আল্লাহর নবী মক্কায় প্রবেশ করেন ও বিজয়ী হোন, আমি দ্রুতগতিতে আমার বাড়িতে আসি ও বাড়ির দরজা বন্ধ করে দিই। অতঃপর আমি আমার আমার পুত্র আবদুল্লাহ বিন সুহায়েল-কে মুহাম্মদের কাছে প্রেরণ করি, যেন তিনি আমাকে নিরাপত্তা প্রদান করেন। কারণ, সত্যিই আমার বিশ্বাস ছিল এই যে আমাকে হত্যা করা হবে। আমি মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সাথে আমার অতীত ঘটনাগুলো স্মরণ করতে থাকি, আর আমার চেয়ে বেশী দুষ্ট অতীত আর কারও ছিল না। সত্যিই আমি হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তির দিনটিতে আল্লাহর নবীকে এমন ভাবে সম্বোধন করেছিলাম, যা অন্য কেহই করে নাই ও আমিই তাঁর জন্য চুক্তি-পত্রটি লিপিবদ্ধ করেছিলাম। আমি তাঁর বিরোধিতা করেছিলাম বদর ও ওহুদ [যুদ্ধে] ও যখনই কুরাইশরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল, আমি ছিলাম তাদের সাথে।

আবদুল্লাহ বিন সুহায়েল আল্লাহর নবীর কাছে গমন করে ও বলে, “হে আল্লাহর নবী, আপনি কী তাকে নিরাপত্তা প্রদান করবেন?” তিনি জবাবে বলেন, “হ্যাঁ, সে নিরাপদ ও আল্লাহ তাকে নিরাপত্তা প্রদান করেছে, সুতরাং তাকে হাজির হতে দাও!” অতঃপর আল্লাহর নবী তাঁর চারিপাশে উপস্থিত লোকদের বলেন, “সুহায়েল বিন আমরের সাথে সাক্ষাতের সময় তোমারা তার দিকে স্থিরদৃষ্টি-তে তাকাবে না। তাকে যেতে দাও। কারণ, আমার জীবনের কসম, সুহায়েল ভাল মন ও মর্যাদার অধিকারী। আর যারা সুহায়েলের মত, তারা ইসলাম-কে উপেক্ষা করতে পারে না। নিশ্চিতই সে অনুধাবন করতে পেরেছে যে, যা সে অনুশীলন করছিল তা তার কোন উপকার করতে পারে নাই।”

আবদুল্লাহ তার পিতার কাছে গমন করে ও আল্লাহর নবী যা বলেছেন তা তাকে অবহিত করায়। সুহায়েল বলে, “আল্লাহর কসম, সে ন্যায়নিষ্ঠ, হোক না সে তরুণ অথবা বৃদ্ধ!” সুহায়েল ইসলাম গ্রহণে দ্বিধা বোধ করেন। সে মুশরিক অবস্থায়ই আল্লাহর নবীর সাথে হুনায়েন [যুদ্ধে] অংশগ্রহণ করে, যে পর্যন্ত না সে আল-জিররানায় ইসলামে দীক্ষিত হয়।’ –

ওয়াহাশির ইসলাম গ্রহণ ও তার কারণ: [7]

‘তিনি বলেছেন: ইবনে আবি সাবরা আমাকে <হুসায়েন বিন আবদুল্লাহ হইতে < ইকরিমা হইতে <ইবনে আব্বাস হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন, তিনি বলেছেন:
আল্লাহর নবী একদল লোকের সাথে ওয়াহাশি-কে হত্যার নির্দেশ জারী করেন। মুসলমানরা ওয়াহাশি-কে হত্যার ব্যাপারে ছিল উদগ্রীব। ওয়াহাশি পালিয়ে আল-তায়েফে গমন করে। সে সেখানেই অবস্থান করে যতক্ষণে না সে তায়েফের এক আসরে আল্লাহর নবীর অবস্থানকালে তথায় হাজির হয়। অতঃপর সে তাঁর নিকট গমন করে ও বলে, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই ও মুহাম্মদ হলো তার রসুল।”

আল্লাহর নবী বলেন, “ওয়াহাশি?”
জবাবে সে বলে, “হ্যাঁ।”
তিনি বলেন, “বসো। আমাকে বলো যে কী ভাবে তুমি হামজা-কে হত্যা করেছিলে।”
তাই সে তাঁকে তা অবহিত করায়।
আল্লাহর নবী বলেন, “আমার কাছ থেকে তুমি তোমার মুখ লুকিয়ে রাখবে।”

সে বলেছে, “যখনই আমি তাঁকে দেখতাম, আমি তাঁর কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতাম। অতঃপর লোকেরা মুসায়লিমার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ও আমি মুসায়লিমা-কে আক্রমণ করি ও আমার বর্শাটি দিয়ে তাকে বিদ্ধ করি। আনসারদের এক লোক তাকে আঘাত করে, আল্লাহই জানে আমাদের কে তাকে হত্যা করেছিল।”’ —–

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো, এই লোকগুলো মুহাম্মদের ক্ষমা ও নিরাপত্তা পেয়েছিলেন মুহাম্মদের নতি স্বীকার ও ইসলাম গ্রহণ কিংবা সম্ভাব্য ইসলাম গ্রহণ প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে।

“আর এই কাজটি তাঁরা করেছিলেন, নিরাপত্তা-শঙ্কায়! মৃত্যু ভয়ে ভীত হয়ে; তাঁদের জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে! মুহাম্মদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নয়!”

আর যারা মুহাম্মদের নতি স্বীকার ও ইসলাম গ্রহণে একেবারেই রাজী ছিলেন না, তাঁরা হয়েছিলেন মৃত্যু-ভয়ে দেশান্তরি। উম্মে হানীর স্বামী হুবায়ের বিন আবি ওহাব আল মাখযুমি ছিলেন তাঁদেরই একজন।

বাস্তবিকই,
“অনুসারীদের প্রতি ছিল নবী মুহাম্মদের অকৃত্রিম সহমর্মিতা। মুহাম্মদের চরিত্রের এক অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি তাঁর চরম শত্রুকেও সহাস্যে ক্ষমা করতে পারতেন “যদি সে” তাঁর বশ্যতা স্বীকার করে তাঁকে নবী হিসাবে গ্রহণ করে ‘ইসলামে’ দীক্ষিত হয়। তাঁর এই বৈশিষ্ট্যটি ছিল অনন্য! এটি ছিল মুহাম্মদের সাফল্যের ‘দ্বিতীয় চাবিকাঠি’!” এ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব: ১৭৮)!

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্য-সূত্র চার ও পাঁচ):]

The added narratives of Al-Waqidi:

‘Mūsā b. Muḥammad related to me from his father, who said: Suhayl b. ‛Amr said: When the Messenger of God entered Mecca, and became victorious, I rushed to my house [Page 847] and locked the door upon me, and I sent to my son ‛Abdullah b. Suhayl to get me protection from Muḥammad, for indeed I believed that I would be killed. I began to remember the past with Muḥammad and his companions, and there was not one who had a more evil past than I. Indeed, I greeted the Messenger of God on the day of al-Hudaybiyya, as one never does, and it was I who wrote the document for him. I had opposed him at Badr and Uḥud and whenever the Quraysh made a disturbance, I was with them. Abdullah b. Suhayl went to the Messenger of God and said, “O Messenger of God, will you grant him protection?” He replied, “Yes, he is protected and he has the protection of God, so let him appear!” Then the Messenger of God said to those who were around him, “Whoever meets Suhayl b. ‛Amr, do not stare at him. Let him leave, for by my life, Suhayl possesses a mind and nobility. And whoever is like Suhayl cannot ignore Islam. Surely he realized that what he was practicing could not profit him.” ‛Abdullah went to his father and informed him about the words of the Messenger of God, and Suhayl said, “He was, by God, righteous, whether young or old!” Suhayl hesitated to approach Islam. He went out to Ḥunayn with the Messenger of God while continuing to practice polytheism, until he converted in al-Ji‛irrāna.’ ——-

He said: Ibn Abī Sabra related to me from Ḥusayn b. ‛Abdullah from ‛Ikrima from Ibn ‛Abbās, who said: The Messenger of God commanded the killing of Waḥshī [Page 863] with the group. The Muslims were most greedy to take Waḥshī. Waḥshī fled to al-Ṭā’if. He stayed there until he reached the place of the Messenger of God with the party of al-Ṭā’if. Then he entered upon him and said, “I witness that there is no God but Allah and that Muḥammad is His messenger.” The Messenger of God said, “Waḥshī?” He replied, “Yes.” He said, “Sit. Tell me how you killed Ḥamza.” So he informed him. The Messenger of God said, “Hide your face from me.” He said, “When I saw him I used to hide from him. Then the people set out to Musaylima and I attacked Musaylima and pierced him with my spear. A man from the Anṣār struck him, and God knows which of us killed him.” —–

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] নাখলা আক্রমণ; উমাইয়া বিন খালাফ ও আবু-জেহেল হত্যা ও সুহায়েল বিন আমরের বন্দিত্ব (পর্ব: ২৯, ৩২ ও ৩৭):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOX01sZ0Q1cGJsSzg/view

[2] সুহায়েল বিন আমর ও তাঁর পুত্র আবু জানদালের উপাখ্যান (পর্ব ১১৮-১২০):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOUVBOUnlRUXkxX0E/view

[3] সাফওয়ান ও যুবায়ের বিন মুতিমের প্রতিশোধ স্পৃহা (পর্ব ৬৩ ও ৭২):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOT3l5NmpOR3VwWEE/view

[4] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল): পৃষ্ঠা ৫৫৫-৫৫৭
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[5] অনুরূপ বর্ণনা: আল-তাবারী, ভলুউম ৮; পৃষ্ঠা ১৮৪-১৮৫
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21292&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[6] অনুরূপ বর্ণনা: আল-ওয়াকিদি: পৃষ্ঠা ৮৪৬-৮৫৫; ইংরেজি অনুবাদ, পৃষ্ঠা ৪১৬-৪২০
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-

[7] Ibid আল-ওয়াকিদি: পৃষ্ঠা ৮৬২-৮৬৩; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪২৪-৪২৫

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of