কোরানের মধ্যে বিজ্ঞান আবিস্কারের কৌশল

সাম্প্রতিক কালে কোরানের মধ্যে বিজ্ঞান আবিস্কারের সুনামি চলছে। আগে এক্ষেত্রে একক আধিপত্য ছিল জাকির নায়েকের। জাকির নায়েক বর্তমানে দৌড়ের ওপর থাকায় এ মাঠে চলে এসেছে বহু ওয়াজীদের নাম।তার মধ্যে বর্তমানের বিতর্কিত ও আলোচিত মিজানুর রহমান আজহারি অন্যতম।

আজহারির দাবী দুনিয়ার সব জ্ঞান আছে কোরানের মধ্যে। তার কৌশলটা বেশ চমকপ্রদ। উদাহরন স্বরূপ বলা যায় – দুনিয়াতে আল্লাহ কেন পাহাড় পর্বত সৃষ্টি করেছে তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আজহারি মহা বিজ্ঞান আবিস্কার করে ফেলেছে। তার বক্তব্য হলো – পৃথিবী পৃষ্ঠ যে সাতটা টেকটনিক প্লেটের ওপর ভাসমান , তাদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যেই নাকি আল্লাহ নানা যায়গায় পাহাড় পর্বত সৃষ্টি করেছে। সেই জন্যেই কোরানে বার বার পাহাড়কে পেরেকের সাথে তুলনা করেছে। তবে অবশ্যই কৌশল হিসাবে আজহারি প্রথমে বিজ্ঞানের নানারকম কথা বার্তা বলেই অত:পর এই দাবী করেছে , যা ওয়াজীরা সর্বদাই করে থাকে। এবার কোরান থেকেই দেখা যাক, পাহাড় পর্বত সৃষ্টির কারনটা কি —

সুরা নাহল-১৬:১৫: এবং তিনি পৃথিবীর উপর বোঝা রেখেছেন যে, কখনো যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে-দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরী করেছেন, যাতে তোমরা পথ প্রদর্শিত হও।

সুরা আম্বিয়া-২১:৩১: আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে প্রশস্ত পথ রেখেছি, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয়।

সুরা লোকমান-৩১:১০:তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উদগত করেছি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদরাজি।

সুরা নাবা-৭৮:৬-৭: আমি কি করিনি ভূমিকে বিছানা, এবং পর্বতমালাকে পেরেক?

পাহাড় তৈরীর উদ্দেশ্য হলো পৃথিবী যেন হেলে দুলে না পড়ে , তাহলে মানুষ সবাই পৃথিবী থেকে ঢলে পড়ে যাবে। এসব বিবরনের সোজা অর্থ হলো – কোরানের মতে পৃথিবী হলো একটা সমতল ভূমি মাত্র , কোন গোলাকার পিন্ড নয়। গোলাকার পিন্ড হিসাবে যদি কোরান মনে করত , তাহলে এই ধরনের হেলে দুলে ঢলে পড়ার কথা বলত না। একটা বড় গোলাকার পিন্ড যেমন পৃথিবী , তার পৃষ্ঠ দেশে মানুষ বা অন্য সব বস্তু , পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষন শক্তির কারনেই আটকে থাকে। মহাশূন্যে ভাসমান গোলাকার বিশাল পিন্ডের এদিক ওদিক হেলে পড়া বা হেলে পড়ার কারনে পৃথিবী থেকে মানুষ ঢলে পড়ে যাওয়ার বক্তব্যটা খুবই উদ্ভট ও অর্থহীন বক্তব্য। কোরানের আল্লাহর মহাকর্ষ সূত্র সম্পর্কে ধারনা থাকলে, এই ধরনের উদ্ভট প্রলাপ কোরানের দেখা যেতো না। একটা কলশের পৃষ্ঠদেশে যদি একটা পিঁপড়া ঘুরে বেড়ায়, তারপর কলশটা যদি ঘোরানো হয় বা কলশটাকে হেলানো দুলানো হয়,  তাহলে কিন্তু পিপড়াটা সেসবের কিছুই টের পাবে না । ঠিক তেমনি ভাবে মহাশূন্যে ভাসমান গোটা পৃথিবী যতই এদিক ওদিক হেলা দুলা করুক না কেন ,তা আমাদের মত অতি ক্ষুদ্র প্রানীর টের পাওয়ার কথা নয় , আর তাই তা থেকে ঢলে পড়ার কথাটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই না।

অথচ এই পাগলের প্রলাপের সাথে কিছু বিজ্ঞানের কথা বার্তা জুড়ে দিয়ে আজহারী সাহেব তার সামনে বসা মূর্খ মুমিনদেরকে রীতিমতো বোকা বানালো। কোরানের মধ্যে বিজ্ঞান আবিস্কারের এটাই হলো সব চাইতে জনপ্রিয় কৌশল  বর্তমানে। আজহারির বক্তব্য শোনা যাবে এখানে —

https://www.youtube.com/watch?v=hAPPJx8NL2o&t=329s

আহাজারি কর্তৃক কোরান থেকে বিজ্ঞান আবিস্কার পদ্ধতি

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of