ধন্যবাদ সংসদ সদস্য মেনন সাহেব!

ধন্যবাদ সংসদ সদস্য মেনন সাহেব ।

জামাতি এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী, নবী ও ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করে পরে ক্ষমা চেয়ে কোরানের পাখি মিজানুর রহমান আজাহারী দেশ থেকে রাতের আঁধারে পালালেন। রাশেদ খান মেনন এই কথাই সংসদে বললেন। “এই মিজানুর রহমান আজাহারীকে কেন গ্রেফতার করা হলো না মাননীয় স্পিকার।”

আমার কাছে যুক্তি আর ভাবনার সংমিশ্রণ হল বেঁচে থাকার ফিলোসফি । আর ফিলোসফি আর বিজ্ঞানের সমন্বয়ে পৃথিবীর সকল দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে , ঠিক তখনই আমাদের দেশে সামাজিক আগ্রাসন হচ্ছে ধর্মীয় চেতনার মাধ্যমে। রাষ্ট্রীয় কাঠামো কুলশিত হয় যখন তা ধর্মীয় চেতনায় সংক্রামিত হয় । আমরাও এখন তেমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে ড্রেনের পানির ন্যায়ে প্রবাহিত হয়ে প্রাগ ঐতিহাসিক দিকে ধাবিত হচ্ছি । অনুভূতির সীমাবদ্ধতা আমরা যুক্তি ও ভাবনার মাধ্যমে উপলব্ধি করতে পারছি না । সবাই এখন কিছু না বুঝেই সমস্বরে ঠিক কিনা বলেন বললে সমস্বরে তৌহিদী হয়ে যায় পরকালের লোভে ।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাঠামোগত নিয়ম হল রাষ্ট্রের সকল মানুষের বাকস্বাধীনতা ও সমানাধিকার প্রদান করা । আজ রাষ্ট্রের বলতে হবে অনুভূতির মানদণ্ড কি দিয়ে নির্বাচন করা হবে? অথবা বক স্বাধীনতার মানদণ্ডই বা কি ? আমরা জানতে চাই আজাহারীকে কেন মালায়সিয়া চলে যেতে দেয়া হল ? কদিয়ানিকে কাফের বলার বগল দবানো দায়িত্ব রাষ্ট্র কাকে দিয়েছে ?বাউলদের একের পর এক ব্লাসফামি আইনে গ্রেফতার হয় কিন্তু ওয়াজিদের উগ্রতার ক্ষেত্রে আইসিটি এক্ট যেন চোখে কালো কাপড় পরে অন্ধ হয়ে গিয়েছে । তাহলে কি বাউলের সমানাধিকার এখন রাষ্ট্রীয় আদালতের চেয়ারের নিচে পিষ্ট । কোথায় গেল যুক্তি কিংবা ভাবনার ।

প্রগতির সাথে সাথে রাষ্ট্র কাঠামো আমার সন্তানদের বুকের দুধ নিশ্চিত করতে পারে নি কেন ? জানতে চাই ? পক্ষপাতদুষ্টতার মাধ্যমে মিল্ক ব্যাংক বন্ধ কেন ? আমি আমার সন্তানের দুধ চাই । আমার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে । শুনলাম,গর্ভবতী মায়ের শিশুর জন্মের পূর্বে শিশুর জেন্ডার ডিকলারোশনের বিরুদ্ধে আদলতে রিট করা হয়েছে ? এটা জানলে বাবা মা প্রশান্তি পায় । শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় আয়োজন করতে পারে ।এটা জানাতে ক্ষতি কি? বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা মানুষকে নানান ভাবে জীবন যাত্রায় আধুনিক হবার সুযোগ ও সুবিধা করে দিয়েছে । কিন্তু স্বার্থন্বাষী মহল এ যাত্রাকে বাঁধাগ্রস্ত করে জাতিকে পশ্চাৎ বিমুখ করার অভিপ্রায়ে মঘ্ন । রাষ্ট্র যন্ত্র এখন নীরব কেন ? জানতে চাই ।

এখন সময় হয়েছে অনুভূতির সংজ্ঞা নির্ধারণে আদলতে রিট করার । ওয়াজিদের উগ্রতার বিরুদ্ধে রিট করার।আমার সন্তানের জন্য বুকের দুধ চেয়ে রিট করার।আমার বাক স্বাধীনতা চেয়ে রিট করার । কাউকে কাফের ঘোষণা করার বিরুদ্ধে রিট করা । দমন নীপিড়ন সাময়িক বাঁধা ।রাষ্ট্র যন্ত্র যখন চোখে কালো কাপড় বেঁধে অক্ষমের মতো আচরন করে , ঠীক তখনই আদালতে রিট করে রাষ্ট্র যন্ত্রের চোখের কালো কাপড় সরাতে হয় ।

সময় থাকতে সকলের যেন সুবুদ্ধির উদয় হউক এই কামনা করি । সঠিক গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হলে ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করতে হবে । সকলের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে এটা এখন সময়ের দাবী ।

আমার যুক্তি ও আমার ভাবনাই আমার প্রগতির চাবিকাঠ ।

https://youtu.be/l1jPaItvm20

জ্যাক পিটার
১১/০২/২০২০।

 

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of