যে জাতির মেধাবীরা জ্ঞান চর্চা না করে অন্ধত্বের চর্চা করে , সেই জাতির ধ্বংস কেউ ঠেকাতে পারে না

এক সুদর্শন যুবক , সম্ভবত: মেডিকেল সায়েন্স পাশ , মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে গবেষণা না করে, ডা: জাকির নায়েকের মত কোরান থেকে বিজ্ঞান আবিস্কারের নেশায় মেতেছে। জাকির নায়েক এভাবেই মুসলিম মেধাবী তরুনদেরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। সেই সাথে মুসলিম দেশ ও জাতি ধ্বংস করার বীজ বুনে গেছে জাকির নায়েক। যাহোক, প্রথমেই ছেলেটির একটা লেকচার শুনি ইউ টিউব থেকে —https://www.youtube.com/watch?v=L0HvHQkN20I

তার বক্তব্যের মূল কথা হলো , কোরানে লোহা নাজিলের কথা বলেছে , যা ভয়াবহ একটা অলৌকিক ঘটনা। কারন সে জেনেছে পৃথিবীতে লোহা নাকি এসেছে সুপারনোভা থেকে। তো প্রথমেই কোরানের সেই আয়াতটা দেখা যাক–

সুরা হাদিদ- ৫৭:২৫: আমি আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। এটা এজন্যে যে, আল্লাহ জেনে নিবেন কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে সাহায্য করে। আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী।

উক্ত আয়াতে বলা হচ্ছে — আমি নাযিল করেছি লৌহ- আর এ থেকে সে আবিস্কার করে বসে আছে , পৃথিবীর বাইরে থেকে কোন সুপারনোভা থেকে দুনিয়ার সব  লোহা এসেছে। আর এটাই বর্তমানে বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেছে এবং সেই কারনে ১৪০০ বছর আগে কথিত কোরানের ভাষ্য ভয়ংকর অলৌকিক কথা না হয়েই যায় না।

প্রথমে সে বলল- পৃথিবীর কেন্দ্রে কোর হিসাবে বিপুল পরিমান লোহা আছে গলিত অবস্থায় , আর কোরানের মোট আয়াত হলো ১১৪টা , আর কি অদ্ভুত বিষয় সুরা হাদিদ যার অর্থ হলো লোহা সেই সুরার নম্বর হলো ৫৭, যা বলা বাহুল্য তার কাছে অলৌকিক মনে হয়েছে, কারন এই সুরাটা কোরানের প্রায় কেন্দ্র বিন্দুতেই আল্লাহ অবতীর্ণ করেছে। মূর্খতার একটা সীমা থাকা দরকার। সে যেহেতু ইসলাম প্রচার করে থাকে , তার ভালই জানা থাকার কথা যে , সুরা হাদিদ কোরানে সুরা যে ধারাক্রম আছে , সেই ভাবে নাজিল হয় নি। সময়ের ধারাক্রম অনুযায়ী সুরা যেরকম নাজিল হয়ে সেসব হলো- ১ম – সুরা আলাক( কোরানে ৯৬ নম্বর), ২য়- সুরা কালাম(কোরানে ৬৮), ৩য়- সুরা মুজাম্মিল(কোরানে ৭৩) ইত্যাদি । অর্থাৎ পরে যারা কোরান সংকলন করে একটা কিতাব বানিয়েছে ,তারা সময় অনুযায়ী ধারাক্রম একেবারেই অনুসরন না করে , নিজেদের ইচ্ছা খুশিমত সাজিয়েছে। আর সেই হিসাবে সুরা হাদিদের সময় ক্রম অনুযায়ী নম্বর হলো ৯৪ , যা অনেকটা শেষের দিকে নাজিল হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হবে নিচের লিংক থেকে —

https://wikiislam.net/wiki/Chronological_Order_of_the_Qur%27an

অন্ধত্বের মাত্রা ছেলেটার এতটাই বেশী যে , সে হিতাহিত জ্ঞান ভুলে , কোরানকে উচ্চে তুলে ধরার জন্য ডাহা মিথ্যা কথা প্রচার করছে। বলাবাহুল্য, ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ লোকজন তাকে মন্তব্য কলামে বাহবা দিচ্ছে।

এবার দ্বিতীয় প্রসঙ্গ: উক্ত আয়াতে শুধু লৌহ নয় ,  কোরানকেও কিতাব আকারে নাযিল করেছে বলে আল্লাহ বলছে। এখন ছেলেটা লোহা নাযিলের ঘটনাকে যে ভাবে ব্যখ্যা করলো , সেই একই যুক্তি অনুযায়ী কোরানকেও আল্লাহ মুহাম্মদের কাছে একটা ছাপানো কিতাব আকারে নাযিল করেছিল বলে ধরতে হবে।

এবার আসা যাক সুপারনোভা থেকে লৌহ আসার কথা। ছেলেটার বক্তব্য অনুযায়ী, সৌরজগতের বাইরে কোথাও সুপারনোভা হয়েছিল সেখানে লোহা উৎপন্ন হয়েছিল আর সেই লোহাই অত:পর পৃথিবীতে এসেছে। এখন ছেলেটার যুক্তিকে আমলে নিয়ে ধরে নেই,  কোরান যেমন আল্লাহ লাওহে মাহফুজ থেকে নাজিল করেছে , লোহাও তেমনি পৃথিবীর বাইরে কোথাও থেকে নাজিল করেছে – এটাই কোরান বলছে।

কিন্তু বিষয়টা কি তাই ?

আমরা বর্তমানে জানি  , আমাদের সূর্য দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের একটা তারকা। এর আগে একটা বিশাল তারকা যেটা সুপার নোভার আকারে বিস্ফোরিত হয়েছিল , তার চারপাশে ছড়িয়ে পড়া অবশিষ্ট গ্যাসীয় পদার্থ যেমন – হাইড্রোজেন , হিলিয়াম সহ বিভিন্ন ধাতুগুলো আবার সংযুক্ত হয়ে সূর্য গঠিত হয়, একই সাথে তার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা গ্যাস ও ধাতব পদার্থসমূহ থেকে গ্রহগুলোও ঠিক একই প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়। তার অর্থ- সৌরজগতের প্রতিটি গ্রহের বয়স এবং সূর্যের বয়স একই। এবং সূর্য ও গ্রহ গঠনের সময়কালেই অপেক্ষাকৃত ভারী মৌলিক পদার্থসমূহ লোহা, নিকেল ইত্যাদি প্রতিটা গ্রহেরই কেন্দ্রর দিকে কেন্দ্রিভুত হতে থাকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবেই। সেই একই সময় দুনিয়াতে যে ৯২টা মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায় , সেসবও পৃথিবী সহ সকল গ্রহ ও সুর্যে জমা হয়। আর এসব গুলোই একই সাথে আসে সেই পূর্বেকার বৃহৎ তারকার অবশিষ্ট পদার্থ থেকে। অর্থাৎ পৃথিবীতে শুধু লৌহও জমা হয় না , সেই সাথে বাকী ৯১টা মৌলিক পদার্থ যেমন – হাইড্রোজেন , নাইট্রোজেন , অক্সিজেন , কার্বন ইত্যাদিও জমা হয়।

যার অর্থ হলো – সৌর জগতের বাইরের কোন নক্ষত্রের সুপারনোভা থেকে কোন পদার্থই সূর্য, পৃথিবী বা অন্য গ্রহে আসে নি। লোহাও না। অথচ ছেলেটা বলছে – লোহা এসেছে সৌরজগতের বাইরের কোন সুপার নোভা থেকে। তার অর্থ ছেলেটাকে গোজামিল দিয়ে হলেও কোরানকে অলৌকিক কিতাব হিসাবে প্রমান করতে হবে। মেধার কি ভয়াবহ অপচয় ও অবক্ষয় ?

পরিশেষে , উল্কার মাধ্যমে সামান্য কিছু লোহা দুনিয়াতে পতিত হয়। মুহাম্মদের সময়কালেও উল্কাপাত হতো , এখনও হয়,  মানুষ সেসব দেখত ও এখনও দেখে। মরুভূমিতে যেসব উল্কা অবিকৃত অবস্থায় এসে পড়ত , মানুষ সেসব সংগ্রহ করত। আর এরই একটা হলো আজকের হজরে আসওয়াদ নামের কাবার পাথর। মুহাম্মদ কোরানে সেই কথাটাই বলেছে মাত্র। এর মধ্যে কোনই অলৌকিকতা নেই।

 

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

66 − 58 =