বিভিন্ন ধর্ম-পুস্তক অনুসারে স্বর্গ ও নরক সম্পর্কিত বর্ণনা

১. প্রাচীন মিশরীয় ধর্মে স্বর্গ-নরক
প্রাচীন মিশরীয় ফারাও ধর্ম মতে স্বর্গে অন্যান্য সুযোগ সুবিধার সঙ্গে কৃষিকাজেরও ব্যবস্থা থাকবে৷ তাদের আর এক বিশ্বাস ছিলো, যুগ বিবর্তনান্তে তিন থেকে দশ হাজার বছর পরে মৃত ব্যক্তির আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসবে৷ আর এই বিশ্বাসের কারণেই মিশরে মৃতদেহ রক্ষার প্রথা প্রবর্তিত হয়েছিল৷ প্রাচীন মিশরীয়রা প্যাপিরাস বা সমাধিগাত্রে মৃত ব্যক্তিদের জীবন সংক্রান্ত বিভিন্ন কথা লিখে রাখার প্রচলন ছিল৷ পরে একসময় সেই সব লেখা সংকলন করে “আমদুয়াত গ্রন্থ, ফটকের গ্রন্থ এবং মৃতের গ্রন্থ” নামক তিনটি গ্রন্থ রচিত হয়৷ মৃতের গ্রন্থের বর্ণনায় দেখা যায় যে, প্রত্যেক মৃতকে পরমেশ্বরের কাছে একটা শপথ বা এফিডেভিট দিয়ে জীবিত কালে তার পাপ পূণ্য কাজের হিসেব দিতে হবে৷ পরে ঐ সত্যপাঠের সত্য মিথ্যা যাচাই করবেন জ্ঞানের দেবতা ‘থৎ’ এবং ‘হোরাস’ ৷ মৃতের হৃৎপিণ্ড দাঁড়িপাল্লায় ওজন করা হবে ৷ বিচারের বর্ণনায় দেখা যায় যে, দুইটি দ্বার দিয়ে স্বর্গ ও নরককুণ্ডে প্রবেশ করতে হবে৷ পুণ্যাত্মাগণ আলু নামক স্বর্গধামে প্রবেশ করে মনের আনন্দে শস্যক্ষেত্র চাষ করবে, আর পাপাত্মাদের নরককুণ্ডে পাঠিয়ে পিলারের সঙ্গে বেঁধে জ্বলন্ত আগুনে পোড়ানো বা গভীর সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হবে৷ আরো কিছু আনুষ্ঠানিকতার পর অধিকতম পুণ্যবানগণ এক পর্যায়ে নিম্নতম স্বর্গে দেবগণের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার বিধানও চালু ছিল মিশরীয় ফারাওদের ধর্মে।
 
২. ইরানীয় ধর্মের স্বর্গ-নরক
প্রাচীন ইরানীয় পুরাণ মতে, ঋষি বা ধর্মগুরু জোরওয়াষ্টার “জেন আভেস্তা” নামক গ্রন্থখানা পেয়েছিলেন ইরানীয় দেবতা “অহুর মাজদা” এর কাছ থেকে কোনো এক বজ্রবিদ্যুৎ সমাকীর্ণ ঘোর নিনাদ সম্বলিত রাতে এক পর্বতে বসে, প্রায় খ্রৃস্টের জন্মের দু-হাজার বছর পূর্বে খ্রী.পূ . ১৯২০ সালের দিকে ৷ ইরানীয় দেবতা অহুর মজদা একেবারে নিরাকার ব্রহ্ম ছিলেন না, তকে ব্যক্তিসত্তার অধিকারী এক স্বর্গবাসী দেবতা মনে করা হতো৷ ঐ মত অনুসারে মৃত্যুর পর জীবিত কালের পাপ ও পূণ্যের দণ্ড ও পুরস্কারের বিধান ছিলো৷ তবে তার আগে প্রথমে মৃতের দেহকে এক দানব অধিকার করে নেবে, আর আত্মাকে বিভিন্ন পরীক্ষার পরে এক পর্যায়ে এসে আত্মার মাঝে জ্ঞানের সঞ্চার হবে, তখন আত্মাকে ‘চিন্দভাদ’ নামক এক পুল (ব্রিজ) পার হতে হবে ৷ পূণ্যবানরা অনায়াসে পুল পার হয়ে গিয়ে দেবতার সঙ্গে মিলিত হবে, আর দেবতা অহুর মাজদা ঐ পূণ্যবানকে স্বর্ণ সিংহাসনে সমাসীন করে ‘হুরান-ই-বেহস্ত” নামক সুন্দরী পরীগণের সহবাসে থাকার ব্যবস্থা করে তাকে সর্বপ্রকার আনন্দ উপভোগের সুযোগ করে দিবেন৷ আর যে আত্মা পুল পার হতে ব্যর্থ হবে অর্থাৎ যে জীবিত কালে পাপ কার্য করেছে, সে নরক গহবরে নিপতিত হয়ে চিরশাস্তি ভোগ করতে থাকবে৷ ইরানীয়দের ধর্মগ্রন্থ জেন্দ-আভেস্তায় স্বর্গ-নরকের শ্রেণিবিভাগের বিধান ছিলো না৷ তাদের স্বর্গের নাম “গারো-ডে মান” যা পারস্যভাষায় “গাবাৎ মান” নামে অভিহিত৷ ঐ মতে আরো এক নিয়মের কথা বলা হয়েছে, তা হচ্ছে উপাসনা দ্বারা এবং স্বর্গ লাভপ্রাপ্ত বন্ধু-বান্ধবের মধ্যস্থতায় কারোকারো নরকভোগের সময় হ্রাসপ্রাপ্তের বিধানেরও প্রচলন ছিলো৷ ইরানীয়দের মতে, আবার পৃথিবী ধ্বংসের ( কিয়ামতের ) পরে ‘সওসন্ত’ নামক এক অবতারের আবির্ভাব হবে৷ আর তিনি অত্যাচার – অবিচার থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করে এক অনন্ত সুখের রাজ্য সর্বত্র প্রতিষ্ঠা করবেন৷ তখন বিশ্বব্যাপী এই পুনরুত্থানের পর আবার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন পুনরায় একত্রে মিলিত হবে এবং তখন সৎ ও অসতের মধ্যে একটা নির্ধারণী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়ে পাপি এবং অসতদেরকে ভীষণ যন্ত্রণা ভোগ করতে দেয়া হবে ইত্যাদি৷
 
৩. চীনা ধর্মের স্বর্গ-নরক
চীন দেশের প্রাচীন ধর্ম-মতানুসারে পাপ – পূণ্য অনুসারে স্বর্গ ও নরক লাভের বিধান প্রচলিত ছিলো৷ ঐ উপদেশযুক্ত গ্রন্থে ন্যায়-অন্যায় ও পাপ-পূণ্যের বিচারের ব্যাপার, পুরুস্কারের ও শাস্তির কথাসহ অনেক কিছুর উল্লেখ ছিলো, যা দ্বারা মানুষ ন্যায়-অন্যায়, ভালমন্দ বুঝে চলতে পারে৷ তবে সু-কিং নামক গ্রন্থটি চীনদেশের সর্বোৎকৃষ্ট প্রাচীন গ্রন্থ বলে পরিচিত , যা কনফুসিয়াস সংকলন করেন৷ যাতে মৃত্যুর পরে স্বর্গ নরকের ব্যাপারে সুষ্পষ্ট কোন কিছুর উল্লেখ নেই তেমন ভাবে৷ তবে কনফুসিয়াস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যেখানে বর্তমান জীবনের বিষয়েই আমরা অবগত নই, তাই মৃত্যুর পরে কি হবে, তা কে বলতে পারবে’? তাঁর দর্শনানুসারে দেহাংশ পঞ্চভূত, পঞ্চভূতে মিশে যাবে এবং অশরীরী আত্মা সংসারে অদৃশ্য আকারে উপস্থিত থেকে আপন সংসার ও জগতের মঙ্গল সাধন করতে থাকবে। মানে মানুষের শারীরিক মৃত্যু হবে, তবে তার আত্মার মৃত্যু নেই, তাই কনফুসিয়াস প্রলয়ান্তে পুনরায় সৃষ্টি বা পরলোক বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে যাননি তার প্রবর্তিত ধর্মে ৷
৪. ইহুদি ধর্মের স্বর্গ-নরক
ইহুদিদের জুডাইজম ধর্মমতে মানুষের মৃত্যুর পর বিচারের একটি শেষদিন নির্দিষ্ট করা আছে৷ সেই দিন মৃতদের আত্মার পুনরুত্থান ঘটবে এবং তাদের জীবিতকালের পাপ-পূণ্যের বিচার করা হবে৷ ইরানীয়দের মতো ইহুদিদের আত্মাকেও একটি নির্দিষ্ট সেতু পার হতে হবে এবং তুলাদণ্ডে পরিমাপ করে তার পাপ-পূণ্যের বিচার৷ সেতু অতিক্রমে ব্যর্থরা নিচের নরক নদীতে নিপতিত হয়ে শাস্তি ভোগ করবে ইত্যাদি সবই প্রায় একই রকম বর্ণনা দেখা যায়৷ তবে ইহুদিদের মতে মানুষের পাপ-পূণ্যের পরিমান দু’টা গ্রন্থে লিপিবদ্ধ থাকে এবং তা তুলাদণ্ডের দু’দিকে স্থাপন করে প্রতিজনের পাপ-পূণ্যের পরিমান নির্ধারণ করে যে দিকে পাল্লা ভারি হবে, সে অনুসারে ব্যবস্থা হবে অর্থাৎ পূণ্যের ভাগ বেশি হলে স্বর্গ লাভ আর পাপের ভাগ ভারি হলে নরকের যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে অনন্তকাল!৷ ইহুদিদের স্বর্গের নাম এদন (ইডেন), ঐ স্বর্গ বহুমূল্যবান প্রস্তরে ঘঠিত এবং তিনটি দ্বার বিশিষ্ট ও চারটি প্রবাহমান নদী থাকবে ঐ স্বর্গে। আর নদীগুলোর একটিতে দুধ, একটিতে মধু, একটিতে মদ, আর চতুর্থ টিতে সুগন্ধিযুক্ত নির্যাস প্রবাহিত হতে থাকবে৷ এছাড়া এটা একটি উৎকৃষ্ট উদ্যানও বটে। সেখানে বহু সুমিষ্ট ফলে এবং সুগন্ধ-সৌন্দর্যময় ফুলেও পরিপূর্ণ তথা ভরপূর থাকবে৷
ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ ইসাইয়া, এজিকিল, ডেনিয়েল ও যব ইত্যাদিতেও মৃত্যুর পরে পুনরুত্থানের বিষয়ের উল্লেখ আছে৷ ঐ মতে শুষ্ক অস্থিখণ্ড পুরর্জীবিত হয়ে আপন কর্মাকর্মের ফল ভোগ করার বিধান দেয়া আছে৷ ঐ ধর্মে আরো বলা হয়েছে যে, শরীর বিনষ্ট হলেও শরীরের ‘লুজ’ নামক একটি অস্থি অবিকৃত থাকবে এবং শেষ বিচারের পূর্বে পুনরুত্থানের সময়ে পৃথিবীতে ভয়ানক এক শিশিরপাত হবে এবং তাতে ঐ ‘লুজ’ নামক অস্থি শিশিরে সিক্ত হয়ে অঙ্কুরিত হয়ে আবার নরদেহকে পুনর্জীবন প্রদান করবে। তৌরাত থেকে জানা যায়, এদন উদ্যানে সেচনার্থে এদন থেকে এক নদী নির্গত হয়ে তার প্রবাহকে চতুর্মুখী করা হয়৷ প্রথম প্রবাহিত নদীর নাম পীশোন, যা সমস্ত হবিলাদেশ বেষ্টন করে প্রবাহিত ছিলো। আবার তথায় উত্তম স্বর্ণ পাওয়া যেত এবং সেই স্থানে গুলগুল ও গোমেদক মনি জন্মিত বলেও উল্লেখ আছে। দ্বিতীয় নদীর নাম ছিলো গীহোন, যা সমস্ত কুশদেশ বেষ্টন করে প্রবাহিত ছিলো৷ তৃতীয় নদীর নাম হিদ্দেকল, এটা অশুরিয়া দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়৷ আর চতুর্থ নদীর নাম ছিলো ফরাৎ৷ ঐতিহাসিকদের মতে পীশো, গীহো, হিদ্দেকল ও ফরাৎ এই চারটি নদীর উৎপত্তি এলাকার মধ্যে ঐ সময়ে ইডেন নামে একটা জায়গা ছিলো৷ ধারনা করা হয়ে থাকে যে, ইডেন স্থানটি বর্তমান তুরস্ক দেশের পূর্বভাগের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত একটি অঞ্চল ছিলো ৷ অর্থাৎ তাওরাতে উল্লিখিত নদী চারটি ঐ অঞ্চল থেকেই উৎপন্ন হয়ে পীশোন ও গীহোন কৃঞ্চসাগর ও কাস্পিয়ান সাগরে এবং হিদ্দেকল ফরাৎ নদীদ্বয় একত্রিত হয়ে পারস্য উপসাগরে পতিত হয়েছে৷ তাই সহজেই বলা যায় যে, ইডেন উদ্যানে বসবাস করার কালকেই আদমের স্বর্গবাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ৷
৫. বৌদ্ধ ধর্মের স্বর্গ-নরক
বৌদ্ধ ধর্মমতে এই পৃথিবীর কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই৷ ঐ মতে জগত অনন্তকাল থেকে বিদ্যমান আছে এবং অনন্তকাল এ ভাবেই থাকবে৷ বৌদ্ধ ধর্ম অনুসারে বিশ্বের আকৃতি চিরকালই একরূপ আছে এবং আগামীতেও ঐ একরূপই থাকবে৷ কর্মানুসারে প্রাণীসমূহ সংসারে ঘুরে বেড়াচ্ছে মাত্র ৷ স্বর্গ – নরক, দেবদূত, নবী বা পয়গম্বর এবং শেষ বিচার ও শয়তান সহ অন্যান্য বিষয়াদির উল্লেখ নেই বৌদ্ধ ধর্মে, আবার বৈদিক বা হিন্দু ধর্মেরও প্রভাব মুক্ত দেখা যায় এই বৌদ্ধ ধর্ম বিশ্বাসে ৷
৬. খ্রীস্টান ধর্মের স্বর্গ-নরক
বাইবেলের (New Testament) বিভিন্ন অংশের বর্ণনা মতে, মানুষ আপন পাপকর্ম দ্বারাই মৃত্যুমুখে পতিত হয়। মৃত্যুর পর আত্মা দেহ হতে বিকারপ্রাপ্ত ও ধূলায় পরিণত হয়৷ আর মৃত্যুদের মধ্যে যারা পূণ্যবান, দেহত্যাগের পরেই তাদের আত্মা স্বর্গে গমন করে, আর পাপিদের আত্মা শেষ বিচারের দণ্ডের জন্য প্রস্তুত হয় এবং শেষে একদিন তাদের বিচার হবে৷ বিচারের দিন পবিত্র আত্মা যীশুখ্রীস্ট স্বর্গ হতে মর্ত্যে অবতরণ করবেন। স্বর্গীয় বেশে সুসজ্জিত হয়ে এবং স্বর্গীয় দূত ও পরিষদবর্গের দ্বারা পরিবৃত হয়ে একপর্যায়ে তিনি বিচারাসনে উপবিষ্ট হবেন৷ সেদিন মৃতগণ কবর থেকে উত্থিত হবে বিচারের সম্মূখিন হতে৷ বিচারে দণ্ডপ্রাপ্ত পাপিগণ চিরপ্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হবে। আর পূণ্যবানরা অত্যুজ্জ্বল আলোকমালায় শোভিত প্রসাদে প্রেরিত হবে, যেখানে তারা তাদের পূর্বপুরুষগণসহ দেবদূতগণ এবং স্বয়ং যীশুখ্রীস্ট ও তাদের সঙ্গে আনন্দোৎসবে যোগদান করবেন। খ্রীস্ট মতে, বিচারকর্তা স্বয়ং ঈশ্বর নয়, যীশুই হবেন শেষ বিচারের বিচারকর্তা।
৭. বৈদিক (হিন্দু) ধর্মে স্বর্গ-নরক
বৈদিক বা হিন্দু ধর্ম অনুসারে স্বর্গ শুধু দেবদেবীদের বাসস্থান ৷ তাই স্বর্গে কোনো রোগ, শোক, তাপ, মৃত্যু কিছুই নেই ৷ স্বর্গতে সব সময় চির বসন্ত বিরাজমান থাকবে ৷ আর স্বর্গবাসীদের মনের আনন্দের জন্যে সেখানে রয়েছে যেমন নন্দনকানন, পারিজাত বৃক্ষ; তেমনি রয়েছে সুরভী গাভী, ঐরাবত হস্তী, ঊচ্চঃশরা অশ্ব প্রভৃতি ৷ আর আছে স্বর্গবাসীদের কামনা -বাসনা পুরণের জন্যে অপ্সরা, মেনকা, রম্ভা, কিংকরী, গন্ধর্ব ইত্যাদি সুন্দরী রমণীগণ (অনেকটা ইসলামি হুর)। হিন্দু পৌরাণিক শাস্ত্রানুসারে স্বর্গের অবস্থান এক দুর্গম ও দুরারোহী এবং অতি উচ্চে অবস্থিত এক স্থানে ৷ যার অবস্থান সুমেরু পর্বতের উপরে ৷ ভৌগলিকদের মতে, স্থানটি ছিল বর্তমান হিমালয় পর্বতের অংশ বিশেষ ৷ আজকাল হিমালয়ে যে ভাবে সহজে আরোহণ করা যায়, তখনকার দিনে অসাধারণ শারিরিক ও মানসিক শক্তি সম্পন্ন নাহলে কেউ সেখানে পৌঁছতে পারতোনা, শুধু দেবদেবীরা ছাড়া ৷ তাই ঐ উঁচুস্থান থেকে নীচু সমতল ভূমিকে বলা হতো মর্ত্যলোক ৷ আর সাধারণ মানুষরা এ মর্ত্যে বাস করতো৷ কারণ দেবদেবী ছাড়া কাউকে স্বর্গে যেতে দেয়া হতো না ৷ ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির পদব্রজে এবং সশরীরে স্বর্গে আরোহণ করেছিলেন বলে ধর্ম পুস্তকে উল্লেখ আছে ৷ তাঁর স্বর্গে গমনের পথ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, ঐ স্থানটি কৈলাস হিসেবে পরিচিত ছিলো, যা বর্তমানে হিমালয় পর্বতের চীন-ভারত অংশে অবস্থিত ৷
রামায়ণ থেকে জানা যায়, লঙ্কাধিপতি রাবণ মর্ত্য থেকে স্বর্গে আরোহণ করে দেবগণের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন। আর আরো দেখা যায়, মানুষ পুণ্যের তারতম্য অনুসারে ক্রমান্নয়ে ঊর্ধ্ব হতে ঊর্ধ্বতম স্বর্গের অধিকারী হতে পারে, আবার পাপ অনুসারে নিম্ন থাকে নিম্নতর নরকে নিপতিত হতে হয়৷ অবশ্য এর আগে একটি বৈতরণী পার হতে হয় তাকে, আর নিরাপদে ঐ বৈতরণী অতিক্রমকারীরা স্বর্গ লাভ করে, আর অতিক্রম করতে ব্যর্থর পতিত হয় পচা রক্তমাংশে পরিপূর্ণ দুর্গন্ধযুক্ত ও অগ্নিগরম নদীর জলে। সেখানেই থাকতে হবে পাপীকে অনন্তকাল৷ হিন্দু শাস্ত্রে পাপপূণ্য তুলাদণ্ডে ওজন করে পরিমাপের বিধানসহ পাপ পূণ্যের বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা আছে বলে বৈদিক ও পৌরাণিক ঋষি মুনিগণ প্রথমেই প্রচার করেছেন।
 

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of