প্রতিষ্ঠার 48 বছর: পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি

প্রতিষ্ঠার 48 বছর: পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি

“পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি”(পিসিজেএসএস) পার্বত্য চট্টগ্রামের 13 ভাষাভাষি 14টি জুম্ম জাতীসত্তা সমূহের একমাত্র লড়াকু ও প্রাণপ্রিয় সংগঠন। আজ থেকে 48 বছর আগে 1972 সালের 15’ই ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আজকের এই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের অধিকার সংরক্ষণ ও অস্তিত্ব রক্ষার শপথে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংগঠনটির প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন “বিরেন্দ্র কিশোর রোয়াজা” এবং প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন “মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা”।

জুম্ম জনগনের ভাগ্য পরিবর্তনের তাগিদে সংগঠনটি প্রগতিশীল আদর্শিক, ন্যায়গত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করে। সংগঠনটির এক দুঃসাহসী অন্যায়ের প্রতিবাদী বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর ছিলেন “মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা”(এমএন লারমা), যিনি বর্তমানে জুম্ম জনগনের অগ্রদূত, স্বপ্নদ্রষ্টা ও বিপ্লবী আন্দোলন সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে আছেন জুম্ম জনগণের লড়াকু চেতনায়। প্রগতিশীল আদর্শিক নেতৃত্বে ভরপুর “এমএন লারমা” নামের এই মহান মানুষটি জাগ্রত করেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘুমন্ত নিপীড়িত নির্যাতিত গোটা জুম্ম জাতিকে।

সদ্য স্বাধীন বাংলার মাটিতে যখন রাষ্ট্রীয় সরকার কতৃক পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের উপর ব্যাপক নিপীড়ন নির্যাতন চালানো হচ্ছিলো, গণহত্যা চালানো হচ্ছিলো, ঘরবাড়ী পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছিলো! যখন রাষ্ট্রীয় বর্বরতার শিকারে নিজের বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি থেকে জুম্মরা উচ্ছেদের শিকার হচ্ছিলো! জুম্মদের উপর যখন জোরপূর্বকভাবে বাঙালী পরিচয় চাপিয়ে দেয়া হচ্ছিলো! 70/80 দশকে যখন পার্বত্য চট্টগ্রামে বহিরাগত সেটেলার বাঙালী ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছিলো! রাষ্ট্রীয় সেসব অন্যায়, অত্যাচার ও বৈষম্যকে প্রতিহত করতেই রূখে দাড়িয়েছিলো পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগনের একমাত্র লড়াকু সংগঠন “পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি”। সংগঠনটির একটি সশস্ত্র শাখাও ছিলো অবশ্যই। সেই সশস্ত্র শাখাটির নাম দেওয়া হয়েছিলো “শান্তি বাহীনি”। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি ব্যাপক বাধা বিপত্তির মধ্য দিয়েও আজ পর্যন্ত এসে 48টি বছরে পূর্ণ হলো। রাষ্ট্রীয় সরকার ও সেনাবাহিনীর বর্বরতাকে রূখে দাড়াতে, প্রতিহত করতে দীর্ঘ দুই যুগের অধিক রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র আন্দোলন করতে হয়েছিলো “পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি”কে। দীর্ঘ দুই যুগের অধিক সশস্ত্র সংগ্রাম ও তরুণদের বুকের তাঁজা রক্তের বিনিময়ে 1997 সালের 2 ডিসেম্বর তথসময়ের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ সরকারের সাথে “পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির” মধ্যে “পার্বত্য চুক্তি” নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যে চুক্তির মধ্য দিয়ে জুম্ম জনগন মৌলিক অধিকারের সাথে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলো। “পার্বত্য চুক্তি”তে মোট 72টি ধারা/উপধারা ছিলো। দুঃখের বিষয় পার্বত্য চুক্তির ২৩টি বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি পার্বত্য চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো। সরকার উল্টো পার্বত্য চুক্তির বিপরীতে অবস্থান করে পার্বত্য চুক্তি পরিপন্থী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী নীল নকশা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। পার্বত্য চুক্তির পূর্ববর্তী সময়ে রাষ্ট্র কতৃক, রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী কতৃক যেভাবে জুম্মদের উপর নিপীড়ন নির্যাতন চালানো হয়েছিলো ঠিক তার সম বাস্তবতা জুম্মদের উপর বর্তমানেও চলমান।

তবে সংগঠনটির উপরে 1983 সনের 10’ই নভেম্বর একটি ধ্বস নেমে আসে। কারণ 83 সনের 10’ই নভেম্বর সংগঠনের লড়াকু মহান বিপ্লবী নেতা “মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা” মীরজাফরিয় ঘাতকচক্রের প্রতিক্রিয়াশীল বুলেটে মৃত্যুবরণ করেন। শত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও সংগঠনটি জুম্ম জনগনের অধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রনাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে থেমে থাকেনি। মহান বিপ্লবী নেতা “মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা”র প্রগতিশীল উর্বর আদর্শে আদৌ বলিয়ান নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে জুম্ম জনগণের একমাত্র প্রাণপ্রিয় সংগঠন “পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি”।

“পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি” পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জাতির একমাত্র আশার প্রদীপ, জুম্ম জনগনের একমাত্র আশা-ভরসা। কেবল জুম্ম জনগনের পক্ষে নয়। গোটা বিশ্বের সকল সর্বহারা মেহনতি মানুষদের অধিকার আদায়ে সদা সর্বদা সোচ্চার “পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি”। ইস্পাত সংগ্রামের স্পৃহাই সামনের দিকে এগিয়ে যাক মহান পার্টি “পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি” জুম্ম জনগণের ভালোবাসায়। সংগঠনটির বর্তমান কান্ডারি সভাপতি শ্রী: জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু লারমা)। প্রিয় নেতা সন্তু লারমার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। জনসংহতি সমিতি এগিয়ে যাক, সন্তু লারমা এগিয়ে যাক, জুম্ম জাতি এগিয়ে যাক।

জনসংহতি সমিতি, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of