১৯৭: মক্কা বিজয়-১১: মক্কা অবমাননার সূচনা ও অতঃপর!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

ইসলামের ইতিহাসের মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মের বহু আগে থেকেই মক্কা ও তার চারিপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আরব ও অনারব জন-গুষ্টি মক্কা ও কাবা শরীফ-কে “পবিত্র” জ্ঞানে সম্মান ও শ্রদ্ধা এবং তার আশে-পাশে কোনরূপ সহিংসতা, রক্তপাত ও হত্যাকাণ্ড নিষিদ্ধ জ্ঞান করতেন। কিন্তু, ইসলাম আবির্ভাবের পর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ইসলাম বিশ্বাসীরা এই পবিত্র নগরী ও কাবা শরীফের চরম অবমাননা করে যুগে যুগে এই শহরে হামলা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে; যার সর্বশেষ-টি সংঘটিত হয়েছিল ১৯৭৯ সালের নভেম্বর – ডিসেম্বর মাসে। মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-কাহতানির নেতৃত্বে। যদি প্রশ্ন করা হয়,

“ইসলামের ইতিহাসে কোন ইসলাম বিশ্বাসী ‘সর্বপ্রথম’ মক্কা ও কাবা শরীফের পবিত্রতা ধূলিসাৎ করে তথায় হামলা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিলেন? আর সেই গর্হিত কর্মের বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে তিনি কোন অজুহাত-টি ব্যবহার করেছিলেন?”

এই প্রশ্নের সুনিশ্চিত জবাব আমরা জানতে পারি ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল) ও আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) লিখিত ‘সিরাত’ গ্রন্থের বর্ণনায়।

আল-ওয়াকিদির বর্ণনা: [1]
(ইবনে ইশাকের বর্ণনা, আল-ওয়াকিদির বর্ণনারই অনুরূপ) [2]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১৯৬) পর:

‘তিনি বলেছেন: আবদ আল-মালিক বিন নাফি আমাকে তার পিতা হইতে (ইবনে ইশাক: ‘সাইদ বিন আবু সানদার আল-আসলামি তার গোত্রের এক লোকের কাছ থেকে’) প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন, তিনি বলেছেন: —

জাহিলিয়া যুগে হুদায়েল গোত্রের হামলাকারী দলের লোকেরা যাত্রা শুরু করে, তাদের সঙ্গে ছিল জুনায়েদিব বিন আল-আদলা (ইবনে ইশাক: ‘ইবনে আল-আথওয়া আল-হুদালি’) নামের এক লোক। তাদের লক্ষ্য ছিল আহমর বাসা (বাসান) নামের এক লোকের গোত্রের লোকদের ওপর আক্রমণ। আহমর বাসা ছিল বানু আসলাম গোত্রের এক সাহসী লোক, যাকে পরাস্ত করা ছিল কঠিন। সে তার গোত্রের লোকদের সাথে না ঘুমিয়ে বরঞ্চ ঘুমিয়েছিল তাদের বসত-বাড়ীগুলোর বাহিরে। সে তার ঘুমানোর সময় জোরে নাক ডাকতো ও তার অবস্থান লুকাতে পারতো না। যখনই তাদের বসতি-তে ভীতিকর কোন ঘটনার আবির্ভাব হতো, তখন তারা চিৎকার করে আহমর বাসা-কে ডাকতো ও সে সিংহের মতো সেখানে উপস্থিত হতো।

হুদায়েল গোত্রের সেই হামলাকারীরা যখন তাদের কাছে আসে, জুনায়েদিব বিন আল-আদলা বলে, “যদি আহমর বাসা এই বসতি-তে থাকে, তবে কোন ভাবেই তাদের কাছে যাওয়া যাবে না। কিন্তু সে এমন নাক ডাকে যে তা লুকানো থাকে না; সুতরাং আমাকে শুনতে দাও।” শব্দটি অনুসরণ করে সে তার অবস্থানটি জানতে পারে ও তার কাছে যায়। সে তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায় ও তাকে হত্যা করে। সে তার বুকের ভিতর তরবারি বিদ্ধ করে তার উপর ঝুঁকে পড়ে ও তাকে হত্যা করে। অতঃপর তারা হামলা চালায় তার গোত্রটির ওপর।

তার গোত্রের লোকেরা চিৎকার করে ডাকে, “আহমর বাসা!”
কিন্তু তা ছিল নিষ্ফল। আহমর বাসা আসে না, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের যা প্রয়োজন তা তারা ঐ বসত-বাড়িগুলো থেকে আত্মসাৎ করে ও প্রত্যাবর্তন করে। অতঃপর লোকেরা ইসলাম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

বিজয়ের পরদিন, মক্কায় কারা নিরাপদ তা অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে জুনায়েদিব বিন আল-আদলা মক্কায় প্রবেশ করে। জুনদুব বিন আল-আজাম আল-আসলামি (ইবনে ইশাক: ‘খোজা গোত্রের লোকেরা’) তাকে দেখে ফেলে ও বলে, “তুমি জুনায়েদিব বিন আল-আদলা, আহমর বাসার হত্যাকারী!” সে বলে, “হ্যাঁ।”

জুনদুব সেখান থেকে চলে যায় ও তার বিরুদ্ধে একদল লোক জড়ো করে। প্রথমেই সে যার সাক্ষাত পায় সে হলো, খিরাশ বিন উমাইয়া আল কাবি; তাকে সে ব্যাপারটি জানায়। খিরাশ তার তরবারি-টি নেয় ও অতঃপর জুনায়েদিবের কাছে আসে। তার চারিপাশে ছিল বহু লোক, সে তাদের সাথে আহমর বাসার হত্যার বিষয়টি নিয়ে আলাপ করছিল। তারা যখন তার চারপাশে জড়ো ছিল, হঠাৎ সেখানে খিরাশ তার তরবারি নিয়ে অগ্রসর হয় ও বলে, “লোকটির কাছ থেকে দূরে থাকো!” আল্লাহর কসম, লোকেরা তাকে সন্দেহ না করে এই ভেবেছিল যে, সে তাকে অবকাশ দিতে চাচ্ছে। তারা তার কাছ থেকে সত্যিই ঘুরে দাঁড়ায় ও তার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যায়।

অতঃপর খিরাশ তার তরবারি দিয়ে তাকে আক্রমণ করে ও তা তার পাকস্থলী-তে বিদ্ধ করে। ইবনে আদলা মক্কার প্রাচীর গুলোর একটিতে ঝুঁকে পড়ে ও তার ভিতরে যা ছিল তা তার পেট থেকে বের হতে শুরু করে। সত্যিই তার তার মাথায় চোখগুলো জ্বলজ্বল করছিল, যখন সে বলছিল, “হে খোজার লোকেরা, তোমরা করেছো!” অতঃপর লোকটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

আল্লাহর নবী তার খুনের খবরটি শুনতে পান ও উঠে দাঁড়ান ও ভাষণ প্রদান করেন। তাঁর এই ভাষণটি ছিল মক্কা বিজয়ের পরের দিন যোহর নামাজের পর। তিনি বলেন,

“হে লোক সকল, নিশ্চিতই যেদিন থেকে আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে, যেদিন থেকে সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছে ও স্থাপন করেছে এই দুটি পর্বতমালা; তখন থেকেই মক্কাকে আল্লাহ এক পবিত্র স্থানরূপে (sanctuary) সৃষ্টি করেছে। শেষ বিচারের দিনটি পর্যন্ত এই স্থানটি পবিত্র। আল্লাহ ও শেষ বিচার দিনের কসম, বিশ্বাসীদের জন্য এটি বৈধ নয় যে তারা এখানে কোনরূপ রক্তপাত করে, কিংবা তারা করে এখানে গাছের কোন ক্ষতি।

আমার পূর্বে কারও প্রতি এটি অনুমোদিত ছিল না, আর আমার পরেও কারও জন্য এটি অনুমোদিত নয়। আমাকে এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল দিনের কিছু সময়ের জন্য, অতঃপর তার পবিত্রতা আবার আগের মত ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

নিশ্চয়ই যারা এর সাক্ষী, তারা যেন তোমাদের মধ্যে যারা অনুপস্থিত তাদেরকে তা জানিয়ে দেয়।

যদি কেউ বলে: ‘আল্লাহর নবী পবিত্র স্থানে যুদ্ধ করেছে, বলো: নিশ্চিতই আল্লাহ তার নবীকে এই অনুমতি-টি দিয়েছিল, কিন্তু সে তোমাকে এই অনুমতি দেয় নাই!’

হে বানু খোজার লোকেরা, হত্যাকাণ্ড থেকে তোমরা তোমাদের হাতগুলো সরিয়ে নাও। আল্লাহর কসম, নিঃসন্দেহে অনেক বেশি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যদিও তা ছিল লাভজনক। তোমারা এই লোকটি-কে হত্যা করেছ, আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তার রক্ত-মূল্য পরিশোধ করবো! এর পর যদি কোন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, আমার অবস্থান হলো এই: তার পরিবার, যদি ইচ্ছা করে, তবে ঘাতকের রক্ত নেবে; কিংবা, যদি তারা চায়, নেবে রক্ত-মূল্য।’

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট তা হলো, মক্কা ও কাবা শরীফে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তিটি আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিলেন, তিনি ছিলেন স্বঘোষিত আখেরি নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব। আর তিনি তা করেছিলেন তাঁর সৃষ্ট আল্লাহর অজুহাতে,

“— নিশ্চিতই আল্লাহ তার নবীকে এই অনুমতি-টি দিয়েছিল!”

অতঃপর, তিনি তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে এই নির্দেশ জারি করেছিলেন যে, অন্য কোন ইসলাম বিশ্বাসী যেন এই স্থানে আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত না করে! কারণ, “তাঁর আল্লাহ তাকে সেই অনুমতি দেয় নাই!”

ইসলামের ইতিহাসের আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের পুত্র মুয়াবিয়া ইবনে আবু-সুফিয়ানের (শাসনকাল ৬৬১-৬৮০সাল) মৃত্যুর পর উমাইয়া খেলাফতের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হোন আবু সুফিয়ানের নাতি, ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া ইবনে আবু-সুফিয়ান (শাসনকাল ৬৮০-৬৮৩ সাল)। কিন্তু মুহাম্মদের নাতি হোসাইন ইবনে আলী ইবনে আবু তালিব এবং আবু বকর ইবনে কুহাফার নাতি (কন্যা আসমা বিনতে আবু বকরের পুত্র) আল-যুবায়ের ইবনে আল-আওয়াম ইয়াজিদের আনুগত্য স্বীকার করতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন। পরিণতিতে ইয়াজিদের নির্দেশে তাঁর সৈন্যরা ৬৮০ সালের অক্টোবর মাসে কারবালা প্রান্তরে হত্যা করেন মুহাম্মদের এই নাতি হোসাইন-কে।

অন্যদিকে আবদুল্লাহ বিন আল-যুবায়ের (৬২৪-৬৯২ সাল) মক্কার অধিকাংশ কুরাইশ, আনসার ও অন্যান্য আরব গোত্রের সহায়তায় “মক্কায়” নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া তাঁকে শায়েস্তার উদ্দেশ্যে এক সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন। নেতৃত্বে ছিলেন আমর বিন সাইদ আল-আস বিন উমাইয়া (Amr b. Sa`id b. al-As b. Umayya)। ৬৮৩ সালে আমর বিন সাইদের এই মক্কা আক্রমণের প্রাক্কালে, আবু শুরায়াহ আল-খোজায়ি নামের মুহাম্মদের এক অনুসারী, যিনি ছিলেন ‘মক্কা বিজয়’ প্রাক্কালে মুহাম্মদের ওপরে বর্ণিত ভাষণের একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী, আমর-কে মুহাম্মদের সেই নির্দেশটি অবহিত করান। প্রত্যুত্তরে আমর তাঁকে কী জবাব দিয়েছিলেন তা আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে লিখে রেখেছেন।

আল ওয়াকিদির বর্ণনার পুনরারম্ভ:
(ইবনে ইশাকের বর্ণনা, আল-ওয়াকিদির বর্ণনারই অনুরূপ):

‘আবু শুরায়াহর (ইবনে ইশাক:’সাইদ বিন আবু সাইদ আল-মাকবুরি <আবু শুরায়াহ আল-খোজায়ি হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন’) ভাষ্য মতে:

আমর বিন সাইদ বিন আল-আস যখন [আবদুল্লাহ] ইবনে আল-যুবায়ের এর সাথে যুদ্ধের বাসনা করে, সে তাকে এই বিধানটি অবহিত করায় ও বলে, “সত্যিই আল্লাহর নবী আমাদের এই আদেশ করেছেন যে, আমারা যারা সাক্ষী ছিলাম তারা যেন অনুপস্থিত লোকদের এই বিধানটি জানিয়ে দেই। আমি সাক্ষী ছিলাম, আর তুমি ছিলে অনুপস্থিত। আল্লাহর নবী যে আদেশ করেছিলেন, আমি তোমাকে তাই জানাচ্ছি।” আমর বিন সাইদ বলে,

“হে অগ্রজ, ফিরে যাও, কারণ আমরা আপনার চেয়ে এর পবিত্রতার বিষয়ে আরও ভাল ভাবে অবহিত। নিঃসন্দেহে এটি অত্যাচারী, আনুগত্য বাতিল-কারী, কিংবা রক্তপাত-কারীদের বিরুদ্ধে আমাদের সংযত করে না।”’

(অনুবাদ – লেখক)

আমর বিন সাইদ বিন আল-আসের এই মক্কা আক্রমণই শেষ আক্রমণ নয়। এটি ছিল শুরু মাত্র। এর পর মুহাম্মদ অনুসারীরা “তাঁরই পথ অনুসরণ করে” যুগে যুগে যে মক্কা আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছেন, তার আরও কিছু উদাহরণ হলো: [4]

১) ৬৯১ সালে আবদুল্লাহ বিন আল-যুবায়েরের বিরুদ্ধে মারওয়ান পুত্র আবদুল মালিকের (শাসনকাল ৬৮৫-৭০৫ সাল) সেনাবাহিনী প্রেরণ। পরিণতিতে আবদুল্লাহ বিন আল-যুবায়ের-কে করা হয় হত্যা, ৬৯২ সালে।

২) ৯৩০ সালের হজের প্রাক্কালে মক্কা আক্রমণ। নেতৃত্বে ছিলেন আবু তাহির সুলাইমান আল-জাননাবি (Abu Tahir Sulayman al-Jannabi), যিনি ছিলেন একজন শিয়া মুসলমান।

৩) ১৮০৩ সালে প্রথম বার মক্কা অটোমান সাম্রাজ্যের কবল থেকে সৌদি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রনভূক্ত হয়, যা ১৮১৩ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

৪) ১৯১৬ সালের জুন-জুলাই মাসে মক্কা আক্রমণ।

৫) ১৯২৪ সালে মক্কা আক্রমণ।

৬) ১৯৭৯ সালে মক্কা আক্রমণ।

সংক্ষেপে,
মক্কা ও কাবা শরীফের অবমাননা-কারী সর্বপ্রথম ব্যক্তিটি ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), আর তিনি তা করেছিলেন তাঁর আল্লাহর অজুহাতে। তাঁর নির্দেশে আবদুল্লাহ বিন খাতাল নামের এক ব্যক্তিকে “কাবা শরীফের পর্দার ভিতরে আশ্রয়রত অবস্থায়” তাঁর অনুসারীরা কীভাবে হত্যা করেছিলেন, তার আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব: ১৯২)।

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাকের রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্য-সূত্র দুই):]

The narratives of Al-Waqidi: [1]

He said: ‛Abd al-Malik b. Nāfī related to me from his father, who said: —
The raiders of Hudhayl went out in jāhiliyya and with them was Junaydib b. al-Adla‛ desiring the tribe of Aḥmar Ba‛sā. Aḥamar Ba‛sā was a man from the Aslam, brave and difficult to beat. He did not sleep with his tribe/clan. Rather he slept outside the settlement. When he sleeps he snores loudly, and his place cannot be hidden. Whenever fear came to the settlement they screamed for Ahmar Ba‛sā and he appeared like the lion. When those raiders of Hudhayl came to them, Junaydib b. al-Adla‛ said, “If Ahmar Ba‛sā is in the settlement there will be no way to them. But he has a snore that cannot be missed, so let me listen.” He tracked the sound and heard him and he went to him and he found him sleeping and he killed him. He placed the sword on his chest, leaned on it and killed him. Then they attacked the tribe, and the tribe shouted, “Ahmar Ba‛sā!” But there was nothing. Ahmar Ba‛sā could not come for he had been killed. They took what they needed from the settlement and turned back. And the people were busy with Islam.

One day, after the Conquest, Junaydib b. al-Adla‛entered Mecca and sought out and observed the people who were secure. Jundub b. al-A‛jam al-‛Āṣlamī saw him and said, “Junaydib b. Adla‛the killer of Ahmar Ba‛sā!” And he said, “Yes.” Jundub went out and mobilized a group against him, and the first he met was Khirāsh b. Umayya al-Ka‛bī and he informed him about it. Khirāsh put on his sword and then approached Junaydib. The people were around him and he was talking to them about the killing of Ahmar Ba‛sā. While they gathered around him, [Page 844] Khirāsh b. Umayya approached all of a sudden, with his sword and said, “Keep away from the man!” and by God, the people did not doubt except that he wanted to give him space, and they surely turned around from him and were separated from him. Then Khirāsh attacked him with his sword and pierced him in his stomach. Ibn Adla‛leaned against one of the walls of Mecca, and what was inside of him began to flow from his stomach, and indeed his eyes were glistening in his head as he said, “You did it, O people of the Khuzā‛a!” And the man fell dead.

The Messenger of God heard about his killing, and he stood up and spoke. This speech was on the following day from the day of the Conquest after Ẓuhr. He said, “O people, indeed God made Mecca a sanctuary when he created the heavens and the earth, and the day he created the sun and the moon and put down these two mountains. It is a sanctuary until the day of Judgement. It is not lawful for a believer, by God and the last day, to shed blood in it, or harm its trees. It is not permitted to anyone before me, and it is not permitted to any one after me. It was permitted to me only for a part of the day, and then its holiness was returned as before. Surely you who witness will notify those who are absent among you. If someone says: The Messenger of God fought in the sanctuary, say: Indeed God permitted it to His Messenger, but he does not permit it to you! O People of the Khuzā‛a, remove your hands from killing. Surely, and by God, there has been too much killing even if there were profit in it. You killed this dead one, and by God I will surely pay his blood money! Whoever kills after, my position is this: his family has the choice: if they wish, the blood of the killer, or if they wish, the blood money.
————-
When Abū Shurayḥ entered upon ‛Amr b. Sa‛īd b. al-‛Āṣ who desired to fight Ibn al-Zubayr, he reported this tradition and said, “Indeed the Prophet commanded us as witnesses to inform those who were not present. I was a witness and you were absent. I bring you what the Prophet commanded.” ‛Amr b. Sa‛īd said, “Return, O elder, for we are better informed of its sanctity than you. Indeed, it does not restrain us from the tyrant, from one who casts off his allegiance, or from one who sheds blood.” Abū Shurayḥ said, “I bring you what the Prophet has commanded. Now, its up to you!”’

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] আল-ওয়াকিদি: পৃষ্ঠা ৮৪২-৮৪৬; ইংরেজি অনুবাদ, পৃষ্ঠা ৪১৪-৪১৬
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-

[2] অনুরূপ বর্ণনা: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৫৫৪-৫৫৫
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[3] Ibid আল-ওয়াকিদি: পৃষ্ঠা ৮৬২; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪২৪
[4] সৌজন্যে: ইন্টারনেট।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of