কৈশোরের ডায়েরি: দ্বিতীয় পর্ব

1.01 P.M                                       10/09/2007

□ সমাজে নারীর উপর এত বিধি নিষেধ এল কিভাবে?

সমাজ সভ্যতা মূলত নারী ও পুরুষ এই দুই ভাগে বিভক্ত। সৃষ্টির আদিতে নারী ও পুরুষের মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য ছিল না। তাঁরা একসঙ্গে শিকারে যেত, হিংস্র পশুর সঙ্গে লড়াই করত, বিপদের মোকাবিলা করত ও একসঙ্গে খাবার জোগাড়ের চেষ্টা করত বরং আশ্চর্যের বিষয় হল অনেক গবেষকের মতে চাষের প্রথা প্রথম মানব সমাজ, নারীর হাত ধরেই শিখেছে! কারণ সন্তান প্রতিপালন ও পশু খাদ্যের জন্য যাযাবর মানুষদের মধ্যে নারীরাই প্রথম লক্ষ্য করেছিল বীজ থেকে গাছ হয় এবং সেই গাছ থেকে ফল হয়, এভাবে নারীর হাত ধরেই মানব সভ্যতা ‘চাষআবাদ শেখে’! এই চাষের আবিষ্কার মানব সভ্যতাকে চিরতরে বদলে দেয় এর ফলে মানুষ যাযাবর জীবন ছেড়ে ধীরে ধীরে স্থিতিশীল জীবনের দিকে এগিয়ে যায় এবং এভাবেই বর্তমান মানব সভ্যতার গড়ে ওঠার পথ প্রশস্ত হয়!

অথচ এই নারীদের সমাজ আজও হীন চোখে দেখে মনে করা হয় নারীর বুদ্ধি কম, নারী ভুল করে, নারীর মতামতের বিশেষ কোন গুরুত্ব নেই! এই অবস্থার সৃষ্টি হল কিভাবে?

জীবনে চলার পথে দেখা গেছে নারীর তুলনায় পুরুষের গায়ের জোর অনেক বেশি, তাই আদিম মানুষের সমাজে ধীরে ধীরে পুরুষদের প্রভাব প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে, তাঁরা শিকার, চাষাবাদ ইত্যাদি কাজ করতে থাকে এবং নারীদের সন্তান প্রতিপালন, বৃদ্ধদের দেখা শোনা, ঘর সামলানো ইত্যাদি দায়িত্বের কারণে ঘর মুখি হওয়ার ঝোঁক দেখা যায়, এখান থেকেই সমাজে পুরুষদের প্রাধান্যের বিস্তার ঘটতে থাকে ও নারীর অবস্থা ক্রমাগত দুর্বল হতে থাকে!

পরবর্তীকালে সমাজে চলার পথে বিভিন্ন নিয়ম নীতি তৈরি হতে থাকে। যেহেতু সমাজের শাসনভার পুরুষদের উপর ছিল সেহেতু তাঁরা বিভিন্ন নিয়ম নীতি তৈরি করে, যাতে নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এবং তাঁদের উপর নানা বাঁধা নিষেধ আরোপ করা হয়! পরবর্তীকালে এই বাঁধা নিষেধগুলি ধর্মের আকারে সমাজে প্রবেশ করে এবং এই ধর্মের শিকলে চিরতরে নারীকে আবদ্ধ করা হয়! নারীর অবস্থার তখনই উন্নতি সম্ভব যখন তাঁরা এই ধর্মের শিকল ভেঙ্গে এগিয়ে যেতে পারবে!

সমাজ কি করে মেয়েদের পিছিয়ে দিতে চাই, তাঁর একটা ছোট্ট উদাহরণ- একটা খেলার সময় যদি কোন ছেলের সঙ্গে অন্য কোন ছেলের ঝগড়া হয়, তবে একটি ছেলে চাইবে অন্য ছেলেটিকে কি করে পিছিয়ে দিতে ও একঘরে করে দিতে। কিন্তু অন্য ছেলেটি অন্য কারোর সঙ্গে খেলে তাদের তোয়াক্কা করে না। এখানে মেয়েদের ক্ষেত্রে সব ছেলেরা একদিকে হয়ে যাবে। তখন এরা মেয়েদের বলবে- ‘এদের কথার কোন মূল্য নেই, এদের বুদ্ধি কম, এরা কিছু পারে না, মেয়েদের স্বাধীনতা দিলে চলবে না’ ইত্যাদি…! এভাবে সমাজ ধীরে ধীরে পুরুষকে স্বাধীন হতে শেখায় ও নারীকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করতে থাকে, যার ফলে নারীরা ধীরে ধীরে পিছিয়ে যেতে থাকে! যা মানব সভ্যতার জন্য খুবই লজ্জার বিষয়!

3.45 P.M                                        18/09/2007

□ অনেকের মতে দুনিয়া দুদিনের এখানে এসে দুনিয়ার কাজ করবে তো আখেরাতের (পরকালের) কাজ করবে কবে? মরে গেলে কি হবে?

আমরা জানি মানুষ পৃথিবীতে এসেছে কর্ম করতে, পৃথিবীতে কুড়ে ব্যাক্তির কোন স্থান নেই। অনেক মনীষীরা বলেছেন- ‘আমাদের কর্মই আমাদের কাছে পুজা/ উপাসনা হওয়া উচিত, আমরা কাজের মাধ্যমেই পূর্ণতা লাভ করব ও বড় হব। আমরা যদি আমাদের কাজ না করি, শিক্ষা অর্জন না করি, আর শুধু ধর্মশিক্ষা অর্জন করি ও ধর্ম করতে যায় তাহলে আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হবে এবং আমরা মূর্খ হয়েই থাকব! এরফলে আমরা কিছু শিখতে পারব না, আমরা বেকার হয়ে থাকব ও আমাদের পেট চলবে না।

তাহলে শিক্ষা অর্জন ও কাজই কি আমাদের প্রকৃত উপাসনা হওয়া উচিত?

বিবেকানন্দের ভাষায়- “ওরে ধর্ম কর্ম করতে গেলে কূর্মাবতারের পুজা চাই, পেট হচ্ছেন সেই কূর্ম। একে আগে ঠান্ডা না করলে তোর ধর্ম কর্মের কথা কেউ নেবে না।”

আখেরাত বা পরকালের কি হবে?

আমরা দিন রাত নামাজ, রোজা, দান ধ্যান করছি কিন্তু একটা হিন্দুদের বা অন্যকোন ধর্মের মানুষ আমার বাড়ি এলে আমি মুখ সেটকাচ্ছি, অন্য ধর্মের মানুষকে ঘৃণা করছি। মনে করছি এটা ধর্ম করছি, কাফেরদের থেকে দুরত্ব বজায় রাখছি! ধর্মের নামে মানুষকে ঘৃণা করছি, এটা কেমন ধর্ম? এটা কোন ধরনের ধর্ম যে মানুষকে ঘৃণা করতে শেখায়? এটা কি প্রকৃত কোন ধর্ম হতে পারে?

মানুষকে ভালোবাসা, নারী পুরুষ সকলকে সন্মান করা, সকলকে স্বাধীন ভাবে বাঁচতে দেওয়া এর চেয়ে বড় ধর্ম আর কি হতে পারে?

তা প্রশ্ন হল আখেরাত বা পরকালের অস্তিত্ব আছে কি?

পৃথিবীতে এমন কি কেউ আছে যে মৃত্যুর পর ফিরে এসে বলেছে, পরকালের বিচার হয়েছে? তা পরকালের বিচার করবে কে? বলা হয় আল্লা, ঈশ্বর বা ভগবানের ইচ্ছা ছাড়া পৃথিবীতে একটি গাছের পাতা ও নড়ে না, তাহলে পৃথিবীতে এত খুন, ধর্ষণ, গণহত্যা সবই ঈশ্বরের ইচ্ছায় হচ্ছে! তাহলে ঈশ্বরের ইচ্ছায় যদি সব কাজ হয়ে থাকে, তাহলে ঈশ্বর আমাদের পরকালের বিচার করবে কি করে? তাহলে বিচারে সবচেয়ে বড় অপরাধী ঈশ্বর, আল্লা বা ভগবান নয় কি? তাহলে ঈশ্বর, আল্লা বা ভগবানের কি বিচার হবে? ঈশ্বর, আল্লা বা ভগবানের কি জাহান্নাম বা নরকবাস হবে? নাকি পুরো বিষয়টিই ধূর্ত মানুষের কল্পনামাত্র?

9.10 P.M                                        13/01/2007

□ মেয়েরা কেন পিছিয়ে?

বর্তমান একবিংশ শতাব্দীতে ও দেখা যায় আমাদের দেশের মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। এর কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে বহুবিধ কারণের ফলে এই অসাম্যের সৃষ্টি হয়, যেমন- দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ইত্যাদি কারণ। এর মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় কারণ প্রধানতম! এই সামাজিক ও ধর্মীয় কারণ কিভাবে নারীর বিকাশের ক্ষেত্রে বাঁধা স্বরূপ কাজ করে তা কয়েকটি উদাহরণ দিলেই পরিস্কার বোঝা যাবে।

যেমন- বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায় একটি ছেলে ও একটি মেয়ে যখন বড় হয় তখন তাঁদের মধ্যে বিশেষ কোন পার্থক্য থাকে না। তারা প্রায় সমানভাবে একসঙ্গে খেলাধুলা করে, পড়াশোনা করে, বদমাইশি করে, মারামারি করে কিন্তু তারপর সমাজ ও পারিপার্শিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে মেয়েদের পিছিয়ে দিতে থাকে। মেয়েদের উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আসতে থাকে যেমন- মেয়েদের এটা করতে নেই, মেয়েদের ওখানে যেতে নেই, মেয়েদের জোরে হাসতে নেই, প্রাণ খুলে কথা বলতে নেই ইত্যাদি…!

এভাবে ধীরে ধীরে মেয়েদের মানসিক দিক থেকে পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁদের জীবন শক্তি ও প্রাণোচ্ছলতা কেড়ে নেওয়া হয়! ছেলেদের ক্ষেত্রে কিন্তু এসব বাধা নিষেধ বিশেষ আসে না বরং সমাজ চাই ছেলেরা সমাজের সঙ্গে বেশি করে মিশুক যাতে তাঁদের ব্যাক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। কোন ছেলে যদি ঘরে থাকতে পচ্ছন্দ করে এবং মানুষের সঙ্গে বিশেষ না মেশে তখন তাঁকে, ‘এতো মেয়েদের মতো’ বলে বিদ্রুপ করা হয়! তারপর পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গীটা ও এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন- ছেলেকে বাজারে পাঠানো হল এবং মেয়েকে বলা হল ঘরটা মুছে ফেলতে বা জল আনতে! এভাবে ধীরে ধীরে ছেলেদের মধ্যে সাহসিকতা, সমাজ সচেতনতা ও ব্যাক্তিত্বের বিকাশ ঘটে যা তাদের জীবন যুদ্ধে বহু অংশে এগিয়ে দেয়, অন্যদিকে মেয়েদের ক্ষেত্রে সমাজে তাঁর ব্যাক্তিত্বের যথার্থ বিকাশ ঘটাতে না পারার ফলে তাঁরা দুর্বল হতে থাকে ও জীবন যুদ্ধে ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে থাকে!

একথা সত্য আমাদের দেশের নারীদের মধ্যে সানিয়া মির্জা, মাধুরী দীক্ষিত, কল্পনা চাওলা, ইন্দিরা গান্ধীর মতো স্বক্ষেত্রে বিশ্ববরেণ্য ব্যাক্তিত্বরা রয়েছেন, এরা আমাদের গর্ব ও অনুপ্রেরণা যোগায় কিন্তু এই ধরণের প্রতিভার সংখ্যা খুবই নগণ্য! মেয়েদের পিছিয়ে পড়ার গ্লানি দূর করতে গেলে আগে যেটা প্রয়োজন তা হল তাঁরা যেন সুশিক্ষিত হয়। সুশিক্ষিত হওয়ার অর্থ শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যায় পারদর্শীতা নয়, বরং তাঁদের বাস্তবধর্মী শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

আর একটা বিষয় যেটা খুব লক্ষ্য করেছি তা হল মেয়েদের পিছিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে একত্রিত ভাবে কোন কাজ করতে না পারা বড় ভূমিকা পালন করে। ছেলেদের ক্ষেত্রে যেখানে দেখা যায়, তাঁরা প্রায়ই একটি কাজ একসঙ্গে করে সফল হয়, সেক্ষেত্রে মেয়েদের মধ্যে একত্রিত ভাবে কাজ করার প্রবণতা বড়ই কম যা তাঁদের একত্রে কাজ করার শিক্ষা ও নেতৃত্ব দেওয়া থেকে বঞ্চিত করে, তাই অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা ব্যার্থ হয়! মেয়েরা যদি যে কোন কাজ একসঙ্গে করতে পারে, তাহলে যতই বাঁধা আসুক না কেন তাঁরা সফল হবে!

যে সকল নারীরা আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত যেমন- মা, দিদিমণি, সমাজ সেবিকারা, মহিলা সমিতির সদস্য ইত্যাদি। তাঁদের উচিত তাঁরা জীবনে বড় হতে গিয়ে যে প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন তাঁদের এই শিশুরা যাতে সেইরূপ প্রতিবন্ধকতার শিকার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা এবং নিজেরদের জীবনের অভিজ্ঞতা এদের কাছে ভাগ করে নেওয়া। যাতে তাঁরা আগামী জীবনের জন্য সঠিকভাবে তৈরী হতে পারে কিন্তু বাস্তবে আমরা কি দেখি? বাস্তবে আমরা দেখি মা, নারীদের স্কুল ইত্যাদিতে সংকীর্ণতা, গোঁড়ামি, ও নিয়ম কানুনের কঠোরতা, সাধারণ বিদ্যালয়ের সাপেক্ষে অনেক বেশি, যার ফলে মেয়েদের সঠিক বিকাশ ঘটে না এবং এরা আরও পিছিয়ে যেতে থাকে। এই ঘৃণ্য দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন, আশাবাদী সরকার ও এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে যুক্ত মানুষরা এ বিষয়ে ভেবে দেখবেন এবং অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হবে!

এই ছাত্রীরা যদি ঠিক মতো সুশিক্ষিত হয় তাহলে এরা দেশের আগামী প্রজন্মের প্রতিনিধি, এরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আমাদের চেনা সমাজকে বহু অংশে পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে সেটাই কামনা করি!

আর একটা বাস্তব অভিজ্ঞতা যা খুবই ভয়ংকর ও লজ্জাজনক! একটা ছাত্রী পড়াশোনা করছে মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করছে এবং ভালো ফল করছে। তারপর তাঁর পরিণতি হল তাঁকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে! প্রায় দেখা যায়, যে মেয়েটির বিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাঁতে মেয়েটির মত নেই এবং মেয়েটি খুব মেধাবি। মেয়েটি সুযোগ পেলে ভালো কিছু হতে পারত, তা না করে তাঁকে এক মূর্খ ব্যাক্তির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে যা তাঁর জীবনের অগ্রগতির পথ চিরতরে শেষ করে দিচ্ছে!

তাহলে প্রশ্ন হল মেয়েরা লেখাপড়া শেখে কেন? শুধুই কি বিয়ের জন্য এই লেখাপড়া? মানুষ হিসাবে কি মেয়েদের কোন গুরুত্ব নেই? মেয়েদের স্বপ্নের কি কোন মূল্য নেই?

অনেক দেশের বিদ্বজ্জনেরা বলেছেন সমাজের বিকাশের ক্ষেত্রে নারী, পুরুষের সমান উন্নতি হওয়া প্রয়োজন। তবেই সমাজ এগোতে পারবে। বিবেকানন্দের ভাষায়- “পাঁচশ পুরুষের সাহায্যে ভারতবর্ষ জয় করতে পঞ্চাশ বছর লাগতে পারে, কিন্তু পাঁচশ নারীর দ্বারা মাত্র কয়েক সপ্তাহে তা সম্ভব”। তিনি আরও বলেছেন “মেয়েদের পুজা করেই সব জাত বড় হয়েছে, যে দেশে, যে জাতে মেয়েদের পুজা নেই, সে দেশ সে জাত কখনও বড় হতে পারে নি এবং কস্মিনকালেও পারবে না”!

এথেকেই বোঝা যায় নারী শক্তির ক্ষমতা কত, শুধু এই শক্তির জেগে ওঠার অপেক্ষা। আমাদের দেশে নারীর খুব একটা সন্মান নেই, তাই আমাদের দেশ ও খুব একটা এগিয়ে নেই!

এটাই কি আমাদের দেশের ভবিতব্য হওয়া উচিত?

11 P.M                                           26/08/2007

□ ইসলাম ধর্মে মেয়েরা!

পৃথিবীতে আজ যে ধর্ম গুলি বহুল পরিমাণে প্রচলিত রয়েছে তারমধ্যে অন্যতম হল ইসলাম। এই ইসলাম ধর্ম আর পাঁচটি ধর্মের চেয়ে অনেক বেশি কট্টর ও সংকীর্ণ এক ধর্ম, এই ধর্মে নারীর অধিকারকে বহুল পরিমাণে সংকুচিত করা হয়েছে! যদিও ধর্মান্ধ নারীরা বোরখার মতো চরম ‘দাসত্বের শৃঙ্খলকে’ বলে বেলায় এটা নাকি তাঁদের অধিকার? ইসলামের যত অমানবিকতা সব কিছুকেই জায়েজ মনে করে। ধর্ম আসলে মানুষকে মূর্খ, বর্বর ও ঘৃণিত প্রাণীতে পরিণত করে, এগুলি কি তাঁর চরম নিদর্শন নয়?

এখানে কিছু লেখার আগে বলি মেয়েদের ব্যাপারে কেন আমি এত উৎসাহি?

ছেলেবেলা থেকেই লক্ষ্য করেছি বাড়িতে কোন গন্ডগোল হলে বা পাড়ায় কোন গন্ডগোল হলে ছেলেরা সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে ও তাঁদের মতামত জোর করে নারীর উপর চাপিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে মেয়েরা ইচ্ছুক থাকুক বা না থাকুক তাঁরা সেই মত গ্রহণ করতে বাধ্য হয়! আসলে জগৎ, সংসারে মেয়েদের মতের যেন কোন গুরুত্ব নেই, তাঁরা সমাজের উচ্ছিষ্টজীবী! এদের মতের আর কি গুরুত্ব রয়েছে? তাই শতকষ্ট হলেও মেয়েরা এই মতামত মেনে নেয় এবং নীরবে চোখের জল ফেলে। তাঁদের এই চোখের জলই আমাকে উৎসাহিত করেছে ও শক্তি জুগিয়েছে মেয়েদের ব্যাপার নিয়ে ভাবতে!

যেমন- বাড়িতে কোন ঝগড়া হলে বাবারা (ছেলে) মায়েদের (মেয়ে) উপর তাঁদের মত, রাগ, ক্ষোভ প্রকাশ করে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে গায়ে হাত তুলতে ও অন্য কিছু করতেও বাকি রাখে না।অন্যদিকে মায়েরা (মেয়েরা) শুধু চোখের জল ফেলে। তাঁদের অশ্রু মোছবার কেউ নেই, নিজের অশ্রু নিজেরাই মোছে!

এটা কি ছেলেদের অন্যায় নয়?

হয়তো কোন ছেলে অন্য কোথাও ঠকে এল বা বকুনি খেয়ে এল, কথা শুনল (বস, অফিস ইত্যাদি)। তখন সে বাড়িতে এসে তাঁর যত রাগ তাঁর স্ত্রীর উপর তুলল!

এটা কোন ধরনের ক্ষমতার প্রয়োগ?

ধর্মের ক্ষেত্রে: ধর্ম নিয়ে কথা বলার মতো এখনও কোন কিছু আমার তৈরি হয়নি। তবুও এখানে আমি আমার চিন্তা ভাবনা লিখে রাখলাম।

কিছু কিছু বিষয় যেগুলি আমাকে খুব খারাপ লাগে সেগুলি লিখে রাখলাম।

আমার মতামত হল সব কিছু যুক্তি দিয়ে গ্রহণ করা উচিত।

□ মুসলিম মেয়েদের নামের পাশের পদবি ব্যাবহার করা হয় না কেন?

যেখানে সব ধর্মের মেয়েরা পদবি ব্যাবহার করে সেখানে এরা বঞ্চিত কেন? এটা কি মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার নিদর্শন নয়?

□ ছেলেরা মসজিদে যেতে পারবে কিন্তু মেয়েরা যেতে পারবে না কেন?

ছেলেরা আর মেয়েরা একসঙ্গে পৃথিবীতে এসেছে, ‘আল্লা তাদের পাঠিয়েছে’ তাহলে নিশ্চয়ই আল্লার কাছে ছেলেরা ও মেয়েরা সমান। ছেলেদের আল্লাহ কি মেয়েদের আল্লাহের চেয়ে আলাদা?তবে কেন মেয়েরা মসজিদে যেতে পারবে না?

পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের ক্ষেত্রে হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ প্রভৃতি ধর্মের ক্ষেত্রে নারীদের মন্দির, চার্চ, গুরুদ্বারে প্রবেশের অধিকার রয়েছে একমাত্র ইসলাম ধর্মে মসজিদে যাওয়া নিষিদ্ধ, এটা কি মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার প্রতীক নয়?

যদিও অনেক মোল্লারা বলেন নারীরা মসজিদে যেতে পারবে তবে তাঁর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে? এটা কেমন কথা? আল্লার ঘরে ইবাদতের জন্য যেতে গেলেও বিশেষ ব্যাবস্থার প্রয়োজন কেন? আল্লা কি নারী ও পুরুষদের আলাদা চোখে দেখে?

ছেলেদের বক্তব্য: আমাদের মৌলানা বা অন্যান্য রক্ষণশীল মানুষেরা বলেন- মেয়েরা মসজিদে গেলে ‘আমাদের উপাসনা নষ্ট হয়ে যাবে’। কিন্তু আল্লার সৃষ্টি ছেলে ও মেয়ে দুই, একদল মসজিদে যেতে পারছে ও একদল যেতে পারছে না। এটা কি আমাদের ভুল নয়?

যে উপাসনা করবে/ আল্লাকে ডাকবে সে ‘হেনতেই ডাকবে বা তেনতেই ডাকবে’ মেয়েরা মসজিদে গেলে মন ঘুরে যাবে একথা আমি বিশ্বাস করি না।

□ আল্লাকে মানি কিন্তু আল্লিকে মানি না কেন?

ইসলাম ধর্ম বা পৃথিবীর সমস্ত ধর্মতে সব কিছুতেই নারীর উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে নারীকে এটা করতে নেই সেটা করতে নেই ইত্যাদি। পৃথিবীর সমস্ত ধর্মগুলি কেন পুরুষদের হাত ধরে সৃষ্টি হয়েছে? পৃথিবীর সমস্ত ধর্মের ঈশ্বরগুলি কি পুরুষদের প্রতিনিত্ব করে? তাই নারীর উপর এত বিধি নিষেধ?

আমরা বলি আল্লার কোন সৃষ্টি ও ধ্বংস নেই, আল্লার কোন লিঙ্গ নেই কিন্তু আল্লার আচরণ কেন এত পুরুষ পুরুষ? আল্লা কেন যত নিষেধাজ্ঞা নারীর উপর চাপিয়েছে? তাহলে আল্লা কি পুরুষের সৃষ্টি? আল্লা কি পুরুষদের প্রতিনিধিত্ব করে? আমরা আল্লাকে মানি অথচ আল্লি বা কোন মহিলা আল্লাকে মানি না কেন?

□ মেয়েদের পুরো শরীর না ঢাকলে ছেলেদের সেদিকে দৃষ্টি যাবে, সেটা মেয়েদের গোনা! এমনকি একটা মেয়ের মুখ কোন ছেলে দেখলে সেটা মেয়েটির গোনা (পাপ) কেন?

মেয়েদের শরীরের প্রতি আকর্ষণ আমাদের, আমরা তাঁদের উপর দৃষ্টি দিচ্ছি, আমরা ছেলেরা মেয়েদের মুখ দেখছি যদি কোন গোনা হয় সেটা আমাদের হওয়া উচিত, মেয়েদের কেন গোনা হবে? এটা কি ‘চুরি কি সিনা জুরি; জোর যার মুলুক তারের’ মতো ঘটনা নয়?

আমরা শরীর বিদ্যা নিয়ে পড়লে জানতে পারব, একটা ছেলের প্রতি একটা মেয়ের এবং একটা মেয়ের প্রতি একটা ছেলের আকর্ষণ থাকবেই, এটাই আমাদের জিনের গঠনগত বৈশিষ্ট্য!

তাহলে একটা ছেলের মেয়ের প্রতি আকর্ষণ বা একটা মেয়ের ছেলের প্রতি আকর্ষণ এটা কি খারাপ? না এটা গোনা? বিজ্ঞান বলে এটা জীবনের স্বাভাবিক গঠনগত বৈশিষ্ট্য।

তাহলে প্রশ্ন হল এখানে কে ঠিক বলছে ধর্ম না বিজ্ঞান?

বিজ্ঞান- বিজ্ঞান কথার অর্থ হল বিশেষ জ্ঞান। যে কোন বিষয় যুক্তি দিয়ে বিচার করে গ্রহণ করাই হল বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি। অন্যদিকে।

ধর্ম- ধর্ম কথার অর্থ হল ধারণ করা। ধর্মের মূল ভিত্তি হল বিশ্বাস!

তাহলে প্রশ্ন হল ধর্ম ও বিজ্ঞান কি একসঙ্গে চলতে পারে? ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যে কি মিলন সম্ভব?

ধর্মের দিকে থেকে দেখলে বলতে হয়, যদি ভূমিকম্প হয় তাহলে ধার্মিক ব্যক্তি বলবেন এটা আল্লার গজব বা ভগবানের রোষ, মানুষের অপকর্মের ফলে আল্লা, ভগবান বা ঈশ্বর এগুলি দিয়ে মানুষকে শাস্তি দিচ্ছে বা পরীক্ষা করার চেষ্টা করছে!

অন্যদিকে, বিজ্ঞানে আস্থাশীল মানুষ ভূমিকম্প হলে বলবে, এটা পৃথিবীর মহাপ্লেটের স্থান পরিবর্তনের ফলে ঘটে। তেমনি পৃথিবীতে যা কিছু ঘটছে ধার্মিক ব্যক্তি মনে করে এটা আল্লা, ঈশ্বর বা ভগবানের দান। অন্যদিকে বিজ্ঞানে আস্থাশীল মানুষ এর কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করবে। এ থেকে এ সিদ্ধান্তে আসা যায় ধর্ম ও বিজ্ঞান, ধার্মিক ও বিজ্ঞানী কখনও একই রাস্তায় আসতে পারবে না তাঁদের সম্পর্ক পরস্পর বিপরীত মুখি!

এখন যদি ধর্মের ব্যাপারে কেউ যুক্তি দিয়ে প্রশ্ন করতে চাই এবং বলে এটা কেন হয়েছে, ওটা কেন মানব? তখন তাঁকে বলা হবে তোর ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে!

প্রশ্ন হল ঈমান শব্দের অর্থ কি?

ঈমান শব্দের অর্থ হল বিশ্বাস। তা যুক্তি দিয়ে কোন কিছু গ্রহণ করলে বিশ্বাস টলমল হবে এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। তাহলে এভাবে ঈমানের দোহাই দিয়ে ভয় দেখিয়ে মানুষকে ধর্মান্ধ বানিয়ে রাখার মানে কি? আসলে মানুষ প্রশ্ন করতে শিখলে ধর্মের গোমর ফাঁস হয়ে যাবে তাই যেন তেন প্রকারণে ধর্মকে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা!

□ মেয়েদের সমস্যা কি সত্যিই সমস্যা?

জনসংখ্যার অর্ধেক এই মেয়েরা, তাই নারীদের সমস্যা সত্যিই এক বিরাট সমস্যা। এই অর্ধেক আকাশকে বাদ দিয়ে সমাজে ভালো কিছু হওয়া সম্ভব নয়। তাই এই মহাশক্তিকে জাগাতে হবে এবং এদের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে।

□ মেয়েদের কি বাইরে বেরনো উচিত?

ঘরের পরিধি ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং বাইরে মানে বিশাল সীমা হীন জগৎ। যাঁরা অদেখা কে দেখল না, অচেনা কে চিনল না, অজানা কে জানল না তাঁদের মূল্য- ‘ছেঁড়া দুটাকার নোটের চেয়ে ও কম’!

বাইরের জগৎই মানুষকে শেখায় কিভাবে সমাজে মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে, কিভাবে চলতে হবে। যদি মেয়েরা বাইরে না বের হয়, তাহলে তাঁরা জগৎকে চিনতে পারবে না এবং নিজেদের ভালোমন্দ বুঝতে পারবে না। মূর্খ ও দুর্বল হয়ে থাকবে, যতই অর্থশালী পরিবারের মেয়ে হও না কেন বাবা, মা, স্বামী, সন্তান সন্ততি চিরকাল থাকে না, তাই কারোর উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা উচিত নয়। জীবনে কখন কি কাজে লাগবে তা বলা খুবই মুশকিল, তাই ‘বাইরের জগৎকে জান ও নিজেকে চেন’!

□ এসব নিয়ে মাথা ঘামানো কি আমার ঠিক হচ্ছে?

জানি না কিন্তু কাউকে কিছু একটা শুরু করতে হবে, হয়তো আমাকে! জানি না এগুলি নিয়ে মানুষকে আমার মতামত বললে ভালো বলবে না খারাপ বলবে; হয়তো আমার জীবন বিপন্ন হতে পারে! তবে সত্যের জন্য, ন্যায্য অধিকারের জন্য যদি জীবনের ঝুঁকি ও নিতে হয় তবে তাও রাজি আছি। যেখানে কোটি কোটি মানুষের চোখের জল (বিশেষত মেয়েদের) আমার সঙ্গে রয়েছে তাই ভয় নেই!

ব্যাক্তিগত জীবনে বেশ কিছু মানুষকে সামনাসামনি যুক্তি তর্কের মাধ্যমে মুক্তচিন্তায় দীক্ষিত করার চেষ্টা করেছি। আসলে তখন ইন্টারনেট, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদির এতটা প্রসার ছিল না। এরফলে চারিদিকে আমার অনেক শত্রু তৈরী হয়, যারা আমার জীবন বিপন্ন করার কথাও চিন্তা করত। এমন কিছু বন্ধু ও আছে যাঁরা আমার সামনে মুক্তচিন্তার কথা বলত ও পেছনে ধর্মান্ধতা চর্চা করত অর্থাৎ যেই কে সেই। এরূপ চরম মূহুর্তে আমি আমার মতাদর্শের কারণে বহু শত্রু বাড়িয়ে ফেলেছিলাম।

আমার এক শিক্ষক যাকে বিশ্বাস করে কিছু কথা বলেছিলাম, তিনি বললেন এভাবে সমাজ পরিবর্তন হবে না। আর তুমি তোমার এলাকায় কতজনকে পরিবর্তন করতে পারবে 10 জন, 20 জন খুব বেশি 100 জন এর বেশি কি মানুষকে পরিবর্তন করতে পারবে? আর এই কাজে ঝুঁকি অনেক এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে! তাই সামাজকে পরিবর্তন করতে গেলে লিখতে হবে, একমাত্র লেখনিই পারে সমাজের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে! স্যারের এই মূল্যবান পরামর্শের পর আমি নতুন করে চিন্তা করি এবং এরপর থেকে লেখানির উপর জোর দিয়! বলাইবাহুল্য আধুনিক ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি আমাকে আমার মত প্রকাশ করার সুযোগ করে দেয়! এরপর থেকে এই ধর্মান্ধতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ‘আমার কলমই আমার প্রধান অস্ত্র’!

আমি কি আমার লক্ষ্যে সফল হব?

□ আরও কিছু প্রশ্ন যেগুলি আমার মনকে নাড়া দিত তাহল- অনেকের মুখেই শুনেছি পৃথিবীতে কে কি করবে তা সব কিছুই আগে থেকে নিশ্চিত। আল্লা এগুলি একটা গাছের পাতায় লিখে রেখেছে, পৃথিবীতে মানুষ জন্মের পর সেই কাজ গুলিই করে। এজন্যই কথায় বলে আল্লার হুকুম ছাড়া গাছের একটি পাতাও নড়ে না!

তা প্রশ্ন হল পৃথিবীতে যদি সব কিছুই আল্লার মর্জি মাফিক চলে এবং সব কিছুই যদি তিনি লিখে রেখেছেন তাহলে যে যত বড় অন্যায়ই করুক না কেন তার দায় তাঁর নয়, সে তো আল্লার ইচ্ছায় সব কিছু করেছে! তাহলে আল্লা কেমন ঈশ্বর যে মানুষে মানুষে এত বিভেদ সৃষ্টি করে, মানুষের মধ্যে ঘৃণার চর্চা করে, মানুষকে সাম্প্রদায়িক বানায়!

এই সাম্প্রদায়িক আল্লা, ঈশ্বর বা ভগবানকে কি মেনে চলা উচিত? সবই যদি আল্লার ইচ্ছায় হয় তাহলে মৃত্যুর পর হাসরের ময়দানে কিসের বিচার হবে? সবচেয়ে বড় অপরাধী কি ঈশ্বর, আল্লা, ভগবান নয়? তাহলে পৃথিবীতে এত অসাম্য, ঘৃণা ও বৈষম্য সৃষ্টির জন্য ঈশ্বর, আল্লা বা ভগবানের কি কোন বিচার হবে? তাঁদের বিচার করবে কে?

3.45 P.M                                        18/09/2007

□ নিজের জীবন নিয়ে চিন্তা।

আমি আমার জীবন নিয়ে চিন্তা করে দেখেছি, যে কোন জিনিস আমি আমার বয়সের তুলনায় আগে পেয়েছি। যেমন- আমি আমার বয়সি ছেলেদের তুলনায় দেহে অনেক বড় হয়ে গেছি। আবার বয়সের আগে আমার মুখে দাড়ি গোঁফের রেস দেখা দিয়েছে, যা আমার চেয়ে বয়সে বড় অনেক ছেলেদের এখন ও দেখা যায় নি। অনেকে বলে আমার কথা বলার ভঙ্গিটা অনেকটা বড়দের মতো। যাইহোক এইসব কথা পর্যালোচনা করে দেখলে মনে হয়, আমার জীবনের গাড়ি ছাড়ার সময় ও হয়তো অন্যদের থেকে অনেক আগে! যতদিন বাঁচি পৃথিবীকে যেন মানুষের বাসযোগ্য ভূমিতে পরিণত করে যেতে পারি সেটাই কামনা করি!

জীবনের মধ্যে দিয়ে সমাজ, সভ্যতার বিকাশের জন্য কিছু করে যেতে চাই, ধর্মান্ধতা মুক্ত এক সুন্দর পৃথিবী, সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা আগামীর জন্য রেখে যেতে চাই!

আমি কি তা পারব?

চলবে…

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of