লৌকিক লোকলীলা (উপন্যাস: পর্ব-আট)

চার

রাস্তার দু-পাশে বড় বড় গাছ আর কিছু দূর পর পর গৃহস্থবাড়ি, অন্ধকারে ওরা দ্রুত পা চালায়। স’মিলের শ্রমিক সাধনের বাড়ির পিছন দিয়ে যাবার সময় ওদের কানে ভেসে আসে নারী কণ্ঠের শীৎকার-‘আহ…, উহ…, ইস…!’ ওরা বুঝতে পারে যে সাধন আর সাধনের স্ত্রী এখন সঙ্গমে রত। ওদের পায়ের গতি থমকে যায় অকস্যাৎ, শীৎকারে কান পাতে, কেবল সাধনের স্ত্রী’র নয়, সাধনের শীৎকারও শোনা যায়। ওরা শীৎকার শোনে আর শোনে খাটের মচমচ শব্দ! হঠাৎ সাধনের স্ত্রী ককিয়ে উঠে বলে, ‘উহ আস্তে…. হাত তো না য্যান কোদাল!’

সাধন স’মিলের শ্রমিক, দিনভর কাঠ চেরাই করতে তাকে, কড়া পড়া হাত, তাই হয়ত কড়া পড়া হাতের অতি আদরে কোমল দেহের সাধনের স্ত্রী ব্যথা পেয়ে ককিয়ে ওঠে, বিরক্ত প্রকাশ করে!

অমল হাত দিয়ে খোঁচা মেরে পরিমলকে সামনে এগিয়ে যেতে ইঙ্গিত করে, খানিকটা এগিয়ে যাবার পর ওরা মৃদু শব্দ করে হাসে।

একটা পোড়ো ভিটের কাছে এসে অমল আর বিলাসের উদ্দেশে পরিমল বলে, ‘দাঁড়া, এট্টা ধরাই।’

পরিমল দাঁড়ালে অমল আর বিলাসও দাঁড়িয়ে পড়ে, পরিমল হাতের রামদাখানা অমলের হাতে দিয়ে কোমরে গুঁজে রাখা সিগারেটের প্যাকেট বের করে, দুপুরে এক ফাঁকে সিগারেটের ভেতরের তামাক ফেলে গাঁজা ভরে রেখেছে সে, প্যাকেট থেকে একটা গাঁজার স্টিক বের করে ঠোঁটে পুরে আগুন জ্বালে।

বিলাস তাকায় সামনের শূন্য পোড়ো ভিটেটার দিকে, অনেক জাতের গাছপালা আর লতাগুল্মের ঝোপের কারণে বোঝাই যায় না যে এখানে এক সময় মানুষ বাস করত। গাছপালার ভেতরে মেঝে পাকা কাঠের বেড়া দেওয়া টিনের চালার একটি জরাজীর্ণ ঘর এখনো দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তার দিকটায় একটা বড় নিমগাছ, নিমফুলের মিহি মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসে ওদের নাকে। অন্ধকারময় জঙ্গলাকীর্ণ ভিটের দিকে তাকিয়ে বিলাসের মনের আকাশে হঠাৎ ভেসে ওঠে কাঁশফুলের মতো ফুরফুরে সাদা চুলের বৃদ্ধ তেজরাজ রুংটার বলিরেখাময় অসহায় মুখখানা, তেজরাজের জন্য মনটা কেমন করে ওঠে ওর! বিলাসরা দেখেছে শেষ বয়সের বৃদ্ধ তেজরাজকে, তেজরাজের স্ত্রী দেবীকে ওরা দ্যাখেনি, ওরা যখন একেবারে শিশু তখন দেবী মারা যান। দেবীকে না দেখলেও মানুষের মুখে গল্প শুনে ওদের মনের মধ্যে দেবীর একটা অবয়ব তৈরি হয়েছে সেই ছোট্ট বয়সেই, সেটা এখনো অমলিন। এই এলাকায় এখনো যে ক’জন অতি বৃদ্ধ বেঁচে আছেন, তারা দেখেছেন তেজরাজ আর দেবীর যৌবন এবং তারুণ্যে জীবন সংগ্রামের সেই উত্তাল দিনগুলি। এখনো এই অতি বৃদ্ধরা এক জায়গা হলে তাদের মুখে উঠে আসে তেজরাজ আর দেবীর গল্প, বিলাসরা এই গল্প শুনেছে বৃদ্ধদের মুখ থেকেই, তেজরাজ ছিলেন অবাঙালী মারোয়াড়ি আর দেবী বাঙালী হিন্দু।

অবিভক্ত ভারতবর্ষের অধিকাংশ অশিক্ষিত বাঙালী ছিল কৃষিমুখী কিংবা নিজ এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসাতেই তারা ছিল সুখী, আর শিক্ষিত বাঙালী ছিল কেরানীর চাকরিমুখী। অন্যদিকে মারোয়াড়িরা ছিল তুখোর ব্যবসায়ী; ক্ষুদ্র, মাঝারি কিংবা বড় সকল ব্যবসায়েই তাদের ভূমিকা ছিল অগ্রগামী; ব্যবসা করার জন্য তারা পৈত্রিক ভিটে-মাটির মায়া ছেড়ে ছড়িয়ে পড়ত ভারতবর্ষের নানা প্রান্তে। তখন বহু মারোয়াড়ি ব্যবসায়ী বাংলায় ব্যবসা করত; নদীর তীরে পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে যেখানেই হাট-বাজার গড়ে উঠেছিল, সেখানে এসেই মারোয়াড়িরা ব্যবসা শুরু করেছিল। তৎকালীন ফরিদপুর জেলার জামালপুর বাজারেও তখন কিছু মারোয়াড়ি এসে ব্যবসা শুরু করেছিল; কেউ পাটের ব্যবসা, কেউ মণিহারি পণ্য কিংবা তেলের ব্যবসা, কেউবা কাপড়ের ব্যবসা ইত্যাদি। এই ব্যবসায়ীদেরই একজন ছিলেন তেজরাজের ঠাকুরদা গোকুল রুংটা, তিনি এসেছিলেন রাজস্থানের যোধপুর থেকে। তিনি প্রথমে শুরু করেছিলেন পাটের ব্যবসা, এখনকার মতই তখনও এই অঞ্চলে প্রচুর পাট উৎপাদিত হত, তখন কৃষকেরা নদীপথে নৌকায় এবং স্থলপথে গরুরগাড়ি বোঝাই করে পাট বিক্রি করতে আসত জামালপুর বাজারে। গোকুল রুংটা পাট কিনে বাজারের পশ্চিমদিকে চন্দনা নদীর পাড়ের গুদামে মজুদ রাখতেন, তারপর সময় বুঝে বিরাট বিরাট নৌকা বোঝাই করে সেই পাট চালান করতেন কলকাতা এবং নারায়ণগঞ্জের পাটকলে। গোকুল রুংটার ছিল চার ছেলে, ফলে পরবর্তীতে তিনি ব্যবসায়ের পরিধি বাড়িয়েছিলেন, কাপড়ের ব্যবসাও শুরু করেছিলেন। মারোয়াড়িদের মাতৃভাষা মারোয়াড়, কিন্তু ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তারা বাংলা ভাষাও শিখতেন, কেননা মারোয়াড়িদের দোকানের ম্যানেজার থেকে কুলি প্রায় সকলেই ছিল বাঙালী। বাঙালীদের সঙ্গে ব্যবসায়িক কাজকর্ম করা এবং বাংলাভাষায় কথা বললেও বাড়িতে তারা মারোয়াড় ভাষায় কথা বলত এবং মারোয়াড়ি সংস্কৃতির চর্চাই করত। পরিবারের অবিবাহিত ছেলে কিংবা মেয়েকে বিয়ে দিতে হলে বিভিন্ন শহর কিংবা গঞ্জে খুঁজে খুঁজে মারোয়াড়ি পাত্র বা পাত্রীর সঙ্গেই বিয়ে দিতেন অথবা রাজস্থানে গিয়ে ছেলে-মেয়েকে স্ব-গোত্রে বিয়ে করিয়ে আনতেন। গোকুল রুংটা তার চার ছেলের মধ্যে দুজনকে কুষ্টিয়া, একজনকে কলকাতা এবং সবচেয়ে ছোটছেলেকে যোধপুরের মারোয়াড়ি পরিবারে বিয়ে দিয়েছিলেন। সাধারণত মারোয়াড়িরা বাঙালীদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করত না, তবে কোনো কোনো মারোয়াড়ি পুরুষ বাঙালী নারীর সঙ্গে গোপন প্রণয় কিংবা বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কে জড়াত বাঙালী নারীদের সঙ্গে, মারোয়াড়ি পুরুষের ঔরসে বাঙালী নারীর সন্তান জন্মদানের মত ঘটনাও ঘটত।

গোকুল রুংটার মেজো ছেলে কৈলাশ রুংটার বড়ো ছেলে ছিলেন তেজরাজ রুংটা, তেজরাজের জন্ম জামালপুরেই, ফলে তিনি মারোয়াড়ি ভাষা এবং সংস্কৃতি যতটুকু শিখেছিলেন তা নিজের পরিবার এবং স্থানীয় আরো কয়েকটি পরিবারের ক্ষুদ্র পরিসর থেকেই, যোধপুরের বৃহত্তর পরিসরের মারোয়াড়ি সংস্কৃতি সম্পর্কে তার খুব বেশি ধারণা ছিল না, কেননা ছেলেবেলায় তিনি পাঁচ-ছয় বছর পর পর বাবা-মায়ের সঙ্গে অল্প কিছুদিনের জন্য যোধপুর বেড়াতে যেতেন, পরের দিকে সেটা আরো কমে গিয়েছিল।

তেজরাজকে ভর্তি করা হয়েছিল জামালপুর বাজারের অদূরে নলিয়া শ্যামমোহন ইনস্টিটিউশনে, বাংলাতেই পড়তেন তিনি, কিন্তু ম্যাট্রিক পাশ করার আগেই লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে বাবার সঙ্গে কাপড়ের দোকানে বসতে শুরু করেন। মারোয়াড়ির সন্তান হয়েও ব্যবসার চেয়ে তিনি আমোদ-ফুর্তি বেশি পছন্দ করতেন বাঙালী ছেলেদের মত, বিকেল হলেই কাপড়ের দোকানের চেয়ে ফুটবল খেলার মাঠ তাকে বেশি টানত, বাঙালী ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলতেন। বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি খুব ভালবাসতেন; যাত্রা, রামযাত্রা, অষ্টক গান, বৈষ্ণব পদাবলী, বাউল গান ইত্যাদি খুব টানত তাকে। অনেক বাঙালী বন্ধু ছিল তার, বিভিন্ন পালা-পার্বণে বাঙালী বন্ধুদের বাড়িতে যেতেন নিমন্ত্রণ খেতে।

বাবার বড়ো সন্তান তেজরাজ, কোথায় ব্যবসায়ে মন দেবেন, তা না হাড়হাভাতে বাঙালীদের সাথে তার ওঠা-বসা আর আমোদ-ফুর্তি! ভারতবর্ষের মধ্যে বাঙালী একটা উচ্ছন্নে যাওয়া জাত, পেটে ভাত না থাকলেও অর্থ রোজগারের চিন্তা না করে গান-বাজনা হই-হুল্লোরে মেতে থাকে, নিজের সংসারটা চালানোর মুরোদ না থাকলেও ব্রিটিশরাজকে তাড়িয়ে নিজেরা দেশ চালাতে চায় আর নির্বোধের মত নিজের জীবনের মায়া-সাধ-আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে বিপ্লবী হয়ে গুলি খেয়ে নয়ত ফাঁসির দড়িতে ঝুলে মরে, আর এই নির্বোধ জাতটার ছন্নছাড়া নেশা পেয়ে বসেছে তেজরাজকে, এমনটাই মনে করত তার নিজের এবং অন্যান্য মারোয়াড়ি পরিবারের লোকজন। কোনো মারোয়াড়ি যখন তেজরাজের বাঙালীপ্রীতি নিয়ে অভিযোগ করত তখন তিনি বলতেন, ‘আমি মারোয়াড়ির ঘরে জন্মালেও বড়ো হয়েছি বঙ্গদেশের জল-হাওয়ায় বাঙালীর উৎসব-সংস্কৃতি দেখে দেখে, বঙ্গদেশের কৃষকের উৎপাদিত খাদ্য-শস্য খেয়ে বেঁচে আছি। আমার বাঙালপ্রীতি থাকবে না? আমি তো অর্ধেক বাঙালী আর অর্ধেক মারোয়াড়ি, জন্মসূত্রে মারোয়াড়ি আর জীবনযাপনের সূত্রে বাঙালী!’

জামালপুর বাজারের অদূরে আলোকদিয়া গ্রামে তখন বৈষ্ণব আখড়া ছিল, সেখানে বৈষ্ণব-বৈষ্ণবীরা আধ্যাত্মিকতার চর্চা করতেন, সন্ধ্যা হলেই গান-বাজনা করতেন। প্রায়ই উৎসবের আয়োজন করা হত, দূর-দূরান্ত থেকে আরো বৈষ্ণব-বৈষ্ণবীরা আসতেন উৎসবে, কিছুদিন থেকে তারা চলে যেতেন। বাঙালী বন্ধু মাখনলালের সঙ্গে প্রায়ই সন্ধ্যাবেলা বৈষ্ণব আখড়ায় গান শুনতে যেতেন যুবক তেজরাজ, আখড়ার গুরু দীনবন্ধু বৈষ্ণব তেজরাজকে খুব স্নেহ করতেন, হয়ত মারোয়াড়ি সন্তানের বৈষ্ণবধর্মের প্রতি টান দেখে তাকে একটু বেশিই স্নেহ করতেন।

তেজরাজ তখন বাইশ বছরের যুবক, পরিবার থেকে তার বিয়ের জন্য পাত্র দেখা হচ্ছে বাংলার বিভিন্ন শহর ও গঞ্জের মারোয়াড়ি সমাজে, কিন্তু ততদিনে তেজরাজের মন জয় করে নিয়েছেন তার চেয়ে চার বছরের বড় বৈষ্ণব আখড়ার পাতলা গড়নের অপূর্ব সুন্দরী এবং সুকণ্ঠী দেবী বৈষ্ণবী! বিকেল হতেই দেবী বৈষ্ণবী যেন অদৃশ্য মায়ার জালে জড়িয়ে টানতেন তেজরাজকে, তাকে দেখার জন্য মন উতলা হত, কানে বাজত তার গাওয়া বৈষ্ণব কবি জ্ঞানদাসের লেখা পদাবলীর মধুমাখা সুর-

‘আমি দেখিনু গৌরাঙ্গ চান্দে।।

ও রুপ দেখিয়া আকুলি-বিকুলি।।

পরিলাম পিরিতি ফান্দে।।

গৌর যদি হত কালো গো সখি

গৌর যদি হত কালো

অঞ্জন করিয়া নয়নে পরিতাম।।

কত দেখিতাম ভালো

গৌর যদি কালো।

গৌর যদি হত মতি গো সখি

গৌর যদি হত মতি

যতন করিয়া গলায় পরিতাম।।

শোভা যে হইত অতি

গৌর যদি হত মতি।

গৌর যদি হত পাখি গো সখি

গৌর যদি হত পাখি

যতন করিয়া পালন করিতাম।।

হৃদ পিঞ্জিরায় রাখি

গৌর যদি হত পাখি।

আমার গৌর যদি হত মধু গো সখি

গৌর যদি হত মধু

জ্ঞানদাসে কয়।।

আস্বাদ করিয়া আ আ

জ্ঞানদাসে কয়

আস্বাদ করিয়া

ভুলিত কূলের বধু

গৌর যদি হত মধু।

গৌর যদি হত মধু গো সখি

গৌর যদি হত মধু।

জ্ঞানদাসে কয়,

আস্বাদ করিয়া।।

মজিত কূলের বধু।।

আমার গৌর যদি হত মধু গো সখি,

গৌর যদি হত মধু।।

 

দেবী বৈষ্ণবী ছিলেন মাহিষ্য সম্প্রদায়ের মেয়ে, বিয়ে হয়েছিল, স্বামী ছিল ডাকপিয়ন। তার স্বামী রমেশ দাস গ্রামে গ্রামে চিঠি বিলি করত আর ইংরেজদের চর হিসেবে কাজ করত, কোথায় কোন গ্রামে বা কোন বাড়িতে স্বদেশী লুকিয়ে আছে বা কার ছেলে স্বদেশী হয়েছে সেই খবর পৌঁছে দিত ইংরেজদের কাছে, বিনিময়ে পেত বকশিস। এমনকি দেবীর আপন মামাত দাদা অবিনাশকেও পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল রমেশ, তার ভেতরে বিন্দুমাত্র দেশপ্রেম ছিল না, আপাদমস্তক ইংরেজদের দালাল ছিল। ইংরেজদের বকাঝকা কিংবা চড়-লাথিও ছিল তার কাছে ছিল আশির্বাদের মতো! বিয়ের পর থেকেই রমেশের সঙ্গে দেবীর বনিবনা হত না, স্বামীর ইংরেজদের চর হিসেবে কাজ করা দেবী পছন্দ করতেন না, কিন্তু নিষেধ করলেও সে শুনত না, উল্টো দেবীকে মারধর করত, অসহায় দেবী নিরুপায় হয়ে তার সঙ্গে সংসার করে যাচ্ছিলেন।

একরাতে চার্লি নামের একজন ইংরেজকে বাড়িতে নিয়ে আসে রমেশ আর চার্লির জন্য দেবীকে দিয়ে পাঁঠার মাংস রান্না করায়। চার্লি আর রমেশ বারান্দায় বসে মদ আর পাঠার মাংসে মজে থাকে মাঝরাত পর্যন্ত, তারপর চার্লিকে ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেয় রমেশ। দেবী তখন গভীর ঘুমে অচেতন, শরীরে কামলিপ্সু পুরুষের হাতের স্পর্শে তার ঘুম ভেঙে যায়, তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন রমেশ, কিন্তু হাত এবং শরীরের স্পর্শ আরেকটু গাঢ় হতেই বুঝতে পারেন লোকটি রমেশ নয়, তখন আর তার পালাবার পথ নেই, চার্লি তার মুখ চেপে ধরলে চিৎকারও করতে পারেন না, শক্তিমান দীর্ঘদেহী পাষণ্ড চার্লির কাছে তার প্রতিরোধের বাঁধ ভেঙে পড়ে। ধর্ষিত হন দেবী, সতের বছরের কিশোরী বধূ, ভোর পর্যন্ত একবার…দুইবার…তিনবার…! ভোরবেলায় চার্লি চলে যাবার বেশ কিছুক্ষণ পর রমেশ যখন ঘরে আসে তখন দেবীর চোখের অশ্রু শুকিয়ে গেছে, রমেশকে দেখে আর কাঁদেন না দেবী, কেবল নিথর চোখে তাকিয়ে থাকেন পশুর চেয়েও অধম স্বামী নামক লোকটির দিকে। রমেশ অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় তাকে বলে, ‘চার্লি সাহেব তো আর মুচি-মেথর না, খানদানি সাহেব, রাজার জাত, তোরে ছুঁইছে তাতে কী হইছে, তোর তো ধইন্য হওয়া উচিত! চার্লিরে খুশি রাখলি তাড়াতাড়ি আমার প্রমোশন হবেনে জানিস! যা, গাঙের তে এট্টা ডুব দিয়ে শরীর-মনের তে সব ধুয়ে-মুছে আয় আর ভুলে যা।…. চুপ করে আছিস ক্যা? আরে বাল, আমি তো আর মানষির কাছে ক’য়ে বেড়াবান না যে আমার বউরে সাহেবে চুদিছে, আমার বউ কলঙ্কিনী! পাপ-টাপ যদি কিছু হয় তো আমার হবেনে, তুই তো আর সাধ করে সাহেবের সাথে শুস নেই, আমি-ই তোর বিছানায় সাহেবরে পাঠাইছি। যা গাঙের তে ডুব দিয়ে আয়, আমার প্রমোশন হলো বলে!’

কয়েক মুহূর্ত থামে রমেশ, দেবীকে তার দিকে অমন নির্লিপ্ত পাথুরে চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে কিছুটা অস্বস্তিবোধ করে, আবার মুহূর্তেই তা কাটিয়ে উঠে বলে, ‘অমন যোগীনির মত চায়ে আছিস ক্যা! ব্যতা পাইছিস নাকি? সাহেবের জাত তো, গায় অসুরির মত শক্তি! একবেলা গেলিই ব্যতা সারে যাবেনে।’

দাঁত বের করে ফিক করে হাসে রমেশ। আবার বলে, ‘যা, গাঙের তে এট্টা ডুব দিয়ে আয়।’

তারপর বেসুরো গলায় গাইতে গাইতে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়, ‘সময় গেলে সাধন হবে না…!’

দেবী যখন চন্দনা নদীতে যান স্নান করতে তখনো সূর্য দৃশ্যমান হয়নি, পূর্ব আকাশে আবির আভা ছড়িয়েছে মাত্র, দেবী ডুব দিয়ে ক্ষণে ক্ষণে হারিয়ে যান চন্দনার বুকে, পরনের শাড়ি-ছায়া আর গায়ের ব্লাউজ কচলে কচলে ধুয়ে ফেলেন, শরীরে সাবান মেখে চার্লির গায়ের-ঘামের-মদের গন্ধ আর কামোচ্ছিষ্ট ধুয়ে ফেলেন চন্দনার জলে। রোজ সকালেই চন্দনার জলে স্নান করেন দেবী, রাতের স্বামীসঙ্গ-রতিরঙ্গের মলিনতা জলে ধুয়ে ভোরের শিউলির মত সিন্গ্ধ হয়ে ওঠেন, কিন্তু সেদিন বারবার ডুব দিয়ে এবং শরীরে সাবান মেখেও তার মনে হয় শরীরের মলিনতা দূর হচ্ছে না, বরং রোজ সকালে কত-শত ঘাটে অজস্র মানুষের শরীরের কামের-ঘামের মলিনতা শুষে নিয়েও অমলিন থাকা চন্দনা-ই যেন তার স্পর্শে মলিন হয়ে গেছে! দেবী চন্দনার বুক থেকে উঠে আর স্বামী নাম পাষণ্ডটার ঘরে ফেরেন না, ভেজা কাপড়ে হাঁটতে থাকেন উদ্দেশ্যহীন-গন্তব্যহীন। সূর্য আলো ছড়ালে- রোদ, বাতাস আর আপন শরীরের উত্তাপে তার পরনের ভেজা কাপড় শুকিয়ে যায়। অনেকটা পথ অতিক্রম করার পর ক্ষুধায়-ক্লান্তিতে এক সময় চন্দনা পাড়ের উঁচু রাস্তার পাশের একটা অশ্বত্থ গাছের নিচে বসে পড়েন, আশপাশে কোনো বাড়ি নেই, মানুষ নেই, নির্জন চন্দনা পাড়ের অশ্বত্থ গাছের নিচে বসে তার কান্না পায়, হাউ-মাউ করে কাঁদেন কিছুক্ষণ, তারপর আবার মৌন হয়ে বসে থাকেন, একসময় অধরের অশ্রুরেখাগুলো শুকিয়ে যায়। মনস্থির করে ফেলেছেন স্বামীর ঘরে আর ফিরে যাবেন না, তাহলে কোথায় যাবেন, বাবার বাড়িতে? কিন্তু সেখানে গিয়ে কী উত্তর দেবেন? সত্য বললে লোকে তাকে কলঙ্কিনী বলবে, মানুষের গঞ্জনায় সমাজে টিকতে পারবেন না তিনি, তার বাবা-মাকে একঘরে করতে পারে সমাজের ব্রাহ্মণ আর মাতব্বররা। তাহলে কি গাঙের জলে ডুবে আত্মহত্যা করবেন? আত্মহত্যার কথা মনে হতেই প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের কথা মনে পড়ে তার, মাত্রই কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের দেশপ্রেমী-দুঃসাহসী সেই মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন, সারা বাংলার মানুষের মুখে মুখে ফিরছে সেই আত্মত্যাগী মেয়েটার কথা। প্রীতিলতা সহযোদ্ধাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করেছিলেন, এক পর্যায়ে ধরা পড়ার উপক্রম হলে পটাশিয়াম সাইনাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন, যাতে ইংরেজদের হাতে জীবন্ত ধরা না পড়েন। প্রীতিলতার আত্মহত্যার কারণ তার ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্ট ছিল না, বৃহত্তর স্বার্থে ইংরেজদের হাত থেকে ভারতবর্ষের মুক্তির জন্য লড়াই করতে গিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু তিনি কিসের জন্য আত্মহত্যা করবেন? ইংরেজের পা চাটা নরপশু স্বামীর সহযোগিতায় ইংরেজ দ্বারা ধর্ষিত হয়েছেন, এই অন্যায়ের কাছে পরাজিত হয়ে আত্মহত্যা করবেন তিনি? আত্মহত্যার বাসনা নয়, হঠাৎ যেন প্রীতিলতা নামটি তার মনের মধ্যে প্রতিশোধের স্পৃহা জাগিয়ে তোলে। কিন্তু কিভাবে প্রতিশোধ নেবেন তিনি? প্রীতিলতার মাথার ওপর তো সূর্যসেনের মতো বিপ্লবের মহীরুহ ছিলেন, কিন্তু তিনি তো তার মামাত দাদা অবিনাশকে ছাড়া আর কোনো বিপ্লবীকে চেনেন না, আর অবিনাশ দাদাও তো জেলে। কোনো কূল-কিনারা খুঁজে না পেলেও মনস্থির করে ফেলেন যে আত্মহত্যা করবেন না। হঠাৎ তার কানে চেনা স্বরের গুনগুন গান ভেসে আসতেই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দ্যাখেন- বৈষ্ণবী দিদি!

শিবানী বৈষ্ণবী, পরনে গেরুয়া রঙের শাড়ি, মাথার কাঁচা-পাকা চুল চূড়ো করে বাঁধা, গলায়-বাহুতে তুলসীর মালা, কপালে-নাকে-গলায়-বাহুতে তিলক কাটা, কাঁধে ঝোলা আর হাতে একতারা নিয়ে কাছে আসতেই দেবীর সাথে চোখাচোখি হয়। শিবানী বৈষ্ণবী গ্রামে গ্রামে ঘুরে গান করে বেড়ান, দেবীর বাবার বাড়ি-শ্বশুরবাড়ি উভয়ই চেনেন। শিবানী বৈষ্ণবী বলেন, ‘কী গো দিদি, সাতসকালে তুই এত দূরে এই বিজনে বসে?’

পরিচিত বৈষ্ণবীকে দেখে দেবীর ভেতরটা কান্নায় উথলে ওঠে, মুখে কোনো কথা আসে না, উঠে দাঁড়ায়।

শিবানী বৈষ্ণবী আরো কাছে এসে দেবীর হাত ধরে বলেন, ‘তোর এই বেশ ক্যান দিদি? কী হইছে তোর?’

শিবানী বৈষ্ণবীকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন দেবী, শিবানী বৈষ্ণবীও তাকে বাহুবন্ধনে আগলে রাখেন কিছুক্ষণ। তারপর শিবানী বৈষ্ণবী আবার বলেন, ‘তোর চাঁদবদনে কেন এত মেঘ, ধরিত্রীতে কেন এত ঝড়-বৃষ্টি! কিসের কষ্ট তোর দিদি? আমায় খুলে ক দেখি?’

এতক্ষণ একা একা দিশাহীন ভাবনার অতল সমুদ্রে ছটফট করার পর হঠাৎ শিবানী বৈষ্ণবীকে পেয়ে যেন আশার আলো খুঁজে পান দেবী, কান্না থামিয়ে বলেন, ‘আমি স্বামীর ঘর ছাড়ে আইছি বৈষ্ণবী দিদি!’

‘ওমা সে কী সর্বনাশের কথা! কেন?’

‘সে অনেক কথা বৈষ্ণবী দিদি, তোমারে পরে কবো। আমারে তোমার সাথে নিবা দিদি? তোমাদের আখড়ায় এট্টু আশ্রয় দিবা?’

‘স্বামীর ওপর অভিমান হইছে তোর?

‘শুধু মান-অভিমানের বিষয় না বৈষ্ণবী দিদি, এ এমন এক আঘাত যা তুমি ভাববারও পারবা না। আমি আর স্বামীর বাড়ি ফিরে যাব না, বাবার বাড়িতেও যাব না। তোমাদের আখড়ায় আমায় এট্টু আশ্রয় দাও বৈষ্ণবী দিদি, তাতে যদি আমার পরানডা রক্ষা পায়।’

‘তুই গৃহস্থবাড়ির মেয়ে, ভাল ঘরের বউ। তুই কি পারবি এই কঠোর-কঠিন বৈরাগ্য জীবন ধারণ করতি?’

দেবী শিবানী বৈষ্ণবীর হাত শক্ত করে ধরে বলেন, ‘পারব বৈষ্ণবী দিদি। তোমরা এট্টু শিখায়ে-পরায়ে দিলেই পারব।’

টপ করে দেবীর চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়ে, শিবানী বৈষ্ণবী তাকে আবার বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘পারবি যহন কইতেছিস, চল যাই, গোঁসাইয়ের হাতে-পায়ে ধরে দেখি তোরে আশ্রয় দেওয়া যায় কি না।’

সেই থেকেই দেবীর আশ্রয় হয় আলোকদিয়ার বৈষ্ণব আখড়ায়, দেবী রানী দাস হয়ে যান দেবী বৈষ্ণবী। কিছুদিন পর বাড়িতে চিঠি লিখে জানান- স্বামীর প্ররোচনায় ইংরেজ কর্তৃক তার ধর্ষিত হবার কথা, ঘটনাচক্রে বৈষ্ণবী হবার কথা। বাবা-মা দেখা করতে আসেন তার সাথে, বাবা-মায়ের মুখে জানতে পারেন তার স্বামী রমেশ সর্বত্র রটিয়ে দিয়েছে যে দেবী পরপুরুষের সঙ্গে পালিয়েছে, তার চিঠি পাবার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বাবা-মা তাই বিশ্বাস করতেন। বাবা-মা মেয়েকে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করেন, কিন্তু মেয়েকে তারা বাড়িতে ফিরিয়ে নেবার কথা একবারও বলেন না, দেবীও ফিরে যাবার কথা বলেন না, বাবা-মা ফিরে যান। বৈষ্ণবী হলেও দেবীর প্রতিশোধ স্পৃহা মরে যায় না, বাবা-মায়ের কাছ থেকেই জানতে পারেন অবিনাশ দাদা জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে, বাবা-মাকে বলে দেন অবিনাশ দাদা যেন তার সাথে দেখা করেন। কিছুদিন পর হঠাৎ এক রাতে অবিনাশ দেবীর সঙ্গে দেখা করতে আখড়ায় আসেন। দেবী রমেশের কথা, চার্লির কথা, তার ধর্ষিত হবার কথা জানান অবিনাশকে। অবিনাশ চলে যাবার মাসখানেক পর ভাইফোঁটার দিন সকালে দেবীর ভাই পরিচয় দিয়ে চৌদ্দ-পনের বছরের এক কিশোর আসে আখড়ায় তার সঙ্গে দেখা করতে, অন্য বৈষ্ণবীর মুখে ভাই আসার খবর শুনে ছুটে এসে থমকে দাঁড়ান তিনি, কিশোরকে চিনতে পারেন না, কিশোর কাছে এসে নিচুস্বরে দেবীকে বলে, ‘অবিনাশ দাদা আমারে পাঠাইছে।’

দেবীর ভাই এসেছে ভাইফোঁটা নিতে, আখড়ার সকলের কাছে খবরটা পৌঁছে যায়, অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ ঘটা করে ভাইঁফোটার আয়েজন করেন সকল বৈষ্ণবী মিলে। কিশোর স্নান করে এলে দিদিরা তাকে আলোমাটি দিয়ে লেপা আলপনা দেওয়া বারান্দায় আসন পেতে বসতে দেন, একের পর এক নানা ধরনের খাবারের থালা-বাটি এনে সাজিয়ে রাখেন সামনে। উলুধ্বনি বাজে, শঙ্খ বাজে, একে একে দিদিরা ভাইফোঁটা দেন। একসঙ্গে এত দিদি পেয়ে, এত দিদির স্নেহমাখা ভাইফোঁটা পেয়ে রীতিমত আপ্লুত কিশোর, তার চোখে জল এসে যায়, দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে হয়ত অনেকদিন সে এমন আদর-স্নেহ পায়নি, কিংবা হয়ত কোনোদিনও পায়নি। ভাইফোঁটার পর্ব শেষ হলে দেবী কিশোরকে নিজের ঘরে নিয়ে যান বিশ্রামের জন্য, সুযোগ বুঝে কিশোর ছোট্ট একটা কাগজের টুকরো বাড়িয়ে দিলে দেবী সতর্কভাবে সেটা হাতে নিয়ে খোলেন-

বুনু,

তোকে ধন্যবাদ ইংরেজের পা চাটা একটা বেঈমান অমানুষকে দুনিয়া সরিয়ে দিতে সাহায্য করার জন্য। যে ছেলেকে পাঠাচ্ছি ও নিজ হাতে ইতরটাকে মেরে চন্দনায় ভাসিয়ে দিয়েছে। লালমুখো জানোয়ারটাকে মারতে পারিনি বলে ক্ষমা করিস, সে বাংলায় নেই, বদলি হয়ে পাঞ্জাবে না কোথায় চলে গেছে। চিঠিটা পড়ামাত্র ছিঁড়ে ফেলে দিস। আশির্বাদ রইলো।

-অ দাদা

 

পড়া শেষ হতেই অনিচ্ছে সত্ত্বেও কাগজের টুকরোটা মুখে পুরে চিবিয়ে পিষে ফেলেন দেবী, তারপর বিছানায় বসা কিশোরের কাছে গিয়ে ওর হাত দুটি ধরে, হাত দুটিতে হাত বুলায়, এখনো বালকের মত নরম হাত, অথচ এই অশক্ত হাত দিয়ে জানোয়ারটাকে মেরেছে ও, একজন অচেনা-অদেখা বোনের সম্মান নষ্টের প্রতিশোধ নিয়েছে! হাত দুটিতে স্নেহ-চুম্বন করে নিজের গালে ছোঁয়ান দেবী।

 

সেই দেবী বৈষ্ণবীর প্রেমে পড়ে তুখোর মারোয়াড়ি ব্যবসায়ীর সন্তান হয়েও বৈরাগ্যভাব হয় তেজরাজ রুংটার, ব্যবসায়ের কাজে মন বসে না, কিছুই ভাল লাগে না, কেবল দেবী বৈষ্ণবীকে নিয়ে ভেবে ভেবেই সময় গড়িয়ে যায়, শেষে একদিন বন্ধু মাখনলালকে দিয়ে দেবী বৈষ্ণবীর কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান তেজরাজ। সংসারে একবার পোড় খেয়ে সংসারের প্রতি তখন প্রবল বিতৃষ্ণা দেবী বৈষ্ণবীর, নতুন করে সংসার করার বাসনা তার মরে গেছে। মাখনলালের মুখে সব শোনেন দেবী বৈষ্ণবী, তার রাগ হয় না আবার আনন্দে ভেসেও যান না। খুব শান্ত গলায় মাখনলালকে বলেন, ‘তুমি আমার ছোট ভাইয়ের মতোন মাখন, তোমারে অনুরোধ করতেছি-তেজরাজজীকে আর আখড়ায় নিয়ে আসো না। আমি ওর আচরণে আগেই কিছু আঁচ করছিলাম, কিন্তু তোমারে কই নাই, ভাবছিলাম যে এ ওর সাময়িক মোহ-মতিভ্রম, আপনা-আপনিই কাটে যাবেনে। ওরে ‍তুমি বুঝায়ে কোয়ো, সংসারের সাধ আমার মিটে গেছে, আমি আর সংসার করবার চাইনে, ভগবানের চরণে নিজেকে সঁপে দিয়ে আমি বেশ ভাল আছি।’

 

(চলবে…..)

1
Leave a Reply

avatar
0 Comment threads
1 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
1 Comment authors
মিশু মিলন Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of