১৯৮: বানু জাধিমা হত্যাকাণ্ড -১: কে ছিল আক্রমণকারী?

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

ইসলামের ঊষালগ্ন থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ‘মুসলমান বনাম মুসলমানদের’ মধ্যে হানাহানি ও নৃশংসতার ইতিহাস নতুন কোন খবর নয়। যুগে যুগে তা হয়ে এসেছে, এখনও হচ্ছে ও ভবিষ্যতেও তা হবে। যতদিন পর্যন্ত ‘ইসলাম’ টিকে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিকাংশ দেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকেরা এই অভিশাপ থেকে যে মুক্তি পাবেন না, তা প্রায় নির্দ্বিধায় বলা যায়! প্রশ্ন হলো, “ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম কোন ইসলাম বিশ্বাসী কবে-কোথায় ও কীভাবে ‘মুসলমান-মুসলমানদের’ মধ্যে হানাহানি ও নৃশংসতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন? যে ঘটনায় তারা প্রায় ৩০জন মুহাম্মদ অনুসারী-কে তাঁদের আত্মসমর্পণ ও বন্দী অবস্থায় একে একে হত্যা করেছিলেন?”

ইসলামের ইতিহাসের এই অমানুষিক নৃশংস ঘটনাটির বিস্তারিত আলোচনা শুরু করার পূর্বে, মুহাম্মদের জীবনের চরম সাফল্য, ‘মক্কা আক্রমণ ও বিজয়’ উপাখ্যানের গত এগার-টি পর্বের আলোচনার ‘হাইলাইটস’ ঘটনাগুলোর দিকে আর একবার দৃষ্টিপাত করা যাক:

(১) ইসলামের ইতিহাসে ‘সর্বপ্রথম’ যে ব্যক্তিটি মক্কা ও কাবা শরীফের পবিত্রতা ধূলিসাৎ করে সেখানে হামলা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিলেন, তিনি হলেন স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) স্বয়ং! আর তিনি তা করেছিলেন তাঁর সৃষ্ট আল্লাহর অজুহাতে (পর্ব: ১৯৭)।

(২) কুরাইশরা বিরুদ্ধে “যে অজুহাতের আশ্রয়ে” মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর মক্কা আক্রমণ ও কাবা-শরীফের পবিত্রতা ধূলিসাৎ করে তথায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিলেন, তা ছিল, “সম্পূর্ণ মিথ্যা, প্রতারণা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত (পর্ব: ১৮৭)!”

(৩) মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের করাল গ্রাস থেকে ‘মক্কা বাসীদের’ বাঁচানোর প্রচেষ্টায় কুরাইশ দলনেতা আবু-সুফিয়ান ইবনে হারব (পর্ব: ১৮৮), হাতিব বিন আবু বালতা নামের মুহাম্মদের এক বিশিষ্ট অনুসারী (পর্ব: ১৮৯) ও মুহাম্মদের চাচা আল আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব সক্রিয় সহযোগিতা করেছিলেন। হাতিব ব্যর্থ হয়েছিলেন; সফলকাম হয়েছিলেন আল-আব্বাস (পর্ব: ১৯০)

(৪) মক্কা বিজয়ের পর, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা মক্কায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। কুরাইশদের “দলে দলে” ইসলাম গ্রহণের প্রকৃত কারণ হলো: “মৃত্যুভয় (পর্ব: ১৯৫)!” মুহাম্মদের করাল গ্রাস থেকে কুরাইশদের বাঁচার একমাত্র উপায় ছিল “ইসলাম গ্রহণ, কিংবা তা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি(পর্ব: ১৯৬)।”

(৫) “মুহাম্মদের মক্কা বিজয় রক্তপাতহীন ছিল”; এমন দাবী সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও অসৎ। মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের মক্কা প্রবেশের প্রাক্কালে, তিন জন মুহাম্মদ অনুসারী, চব্বিশ জন কুরাইশ ও হুদায়েল গোত্রের আরও চার জন লোক খুন হয় (পর্ব: ১৯১)। এ ছাড়াও:

(৬) মক্কায় প্রবেশের পর, মুহাম্মদ ছয় জন পুরুষ ও চার জন মহিলা-কে হত্যার নির্দেশ জারী করেছিলেন; তা তাঁদের যেখানেই পাওয়া যাক না কেন, “এমনকি তা যদি হয় কাবা ঘরের পরদার ভিতরেও (পর্ব: ১৯২)!” এই লোকগুলোর পাঁচ জনেরই একমাত্র অপরাধ ছিল, এই যে, তাঁরা মুহাম্মদের কর্মকাণ্ডের “মৌখিক সমালোচনা ও কটূক্তি” করেছিলেন! এই দশ জনের পাঁচ জনকে অমানুষিক নৃশংসতায় হত্যা করা হয়। “মুহাম্মদ-কে নবী হিসাবে স্বীকার করে তাঁর আনুগত্য ও ইসলাম গ্রহণের বিনিময়ে” মুহাম্মদ বাঁকি পাঁচ জন-কে ক্ষমা প্রদান করেন। যে পাঁচ জনকে হত্যা করা হয়, তাঁরা হলেন:

আল হুয়ায়েরিথ বিন নুকায়েদ: যাকে হত্যা করে আলী ইবনে আবু তালিব।
আবদুল্লাহ বিন হিলাল বিন খাতাল: কাবা শরীফের পর্দার ভিতরে আশ্রয়-রত অবস্থায় যাকে হত্যা করে আবু বারযাহ আল-আসলামি নামের মুহাম্মদের এক অনুসারী।
মিকায়েস বিন সুবাবা: যাকে হত্যা করে নুমায়েলা বিন আবদুল্লাহ আল-লেইথি নামের মুহাম্মদের এক অনুসারী।
আর, দুইজন মহিলা: সারা ও ইবনে খাতালের দুই-গায়িকার একজন (আরনাব অথবা ফারতানা)।

(৭) মক্কায় প্রবেশের পর, মুহাম্মদ তাঁর হাতের লাঠি দ্বারা কাবা শরীফের চারিপাশে অবস্থিত ৩৬০টি দেবদেবীর-প্রতিমা ধ্বংস করেছিলেন। এ ছাড়াও, তিনি ধ্বংস করেছিলেন কাবা শরীফের অভ্যন্তরে অবস্থিত সবগুলো ছবি; ব্যতিক্রম, মরিয়ম ও যীশুর ছবিটি (পর্ব: ১৯৩)। অতঃপর, মুহাম্মদ “দলে দলে” ইসলাম গ্রহণকারী প্রাণ ভয়ে ভীত নব্য মুসলিম কুরাইশদের উদ্দেশ্যে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তাঁরা যেন তাঁদের গৃহের প্রতিমাগুলোও ধ্বংস করে! ভীত সন্ত্রস্ত কুরাইশরা তাঁদের গৃহের সমস্ত প্রতিমাগুলো ভেঙ্গে ফেলেছিলেন (পর্ব: ১৯৪)! অতঃপর, মুহাম্মদ সম্পন্ন করেন মক্কার আশে-পাশে অবস্থিত অন্যান্য অবিশ্বাসীদের প্রতিমা ধ্বংস! মুহাম্মদের নির্দেশে হুদায়েল গোত্রের ‘সুয়া প্রতিমা-টি’ ধ্বংস করে আমর বিন আল-আ’স; আল-আউস ও খাযরাজ গোত্রের ‘মানাত’ দেবী প্রতিমা-টি ধ্বংস করে সা’দ বিন যায়েদ বিন আল-আশালি নামের এক মুহাম্মদ অনুসারী; আর বানু সেইবান গোত্রের আল-উজ্জার প্রতিমা-টি ধ্বংস করে খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ।

প্রশ্ন ছিল, “ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম কোন ইসলাম বিশ্বাসী কবে-কোথায় ও কীভাবে ‘মুসলমান-মুসলমানদের’ মধ্যে হানাহানি ও নৃশংসতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন?” এই প্রশ্নের সুনিশ্চিত জবাব আমরা জানতে পারি ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসে মুহাম্মদের ‘পূর্ণাঙ্গ” জীবনী গ্রন্থের (সিরাত) প্রায় সকল লেখক ও ইমাম বুখারীর হাদিস গ্রন্থের বর্ণনায়। আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল ওয়াকিদি, ইমাম বুখারী আল তাবারী প্রমুখ বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে এই ঘটনার বর্ণনা বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। বিভিন্ন উৎসের রেফারেন্সে এই ঘটনার সবচেয়ে বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন আল ওয়াকিদি, তাঁর ‘কিতাব আল-মাঘাজি’ গ্রন্থে।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) বর্ণনা: [1]
(ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর বর্ণনা, আল-ওয়াকিদির বর্ণনারই অনুরূপ) [2] [3]

‘তিনি বলেছেন: আবদ আল-রাহমান বিন আবদ আল-আযিয আমাকে <হাকিম বিন আববাদ বিন হুনায়েফ হইতে <আবু জাফর হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন, তিনি বলেছেন:

‘আল-উজ্জার’ প্রতিমা-টি ধ্বংস করার পর যখন খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ আল্লাহর নবীর কাছে ফিরে আসে, তখন তিনি মক্কাতেই অবস্থান করছিলেন। আল্লাহর নবী তাকে বানু জাধিমা গোত্রের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন, যুদ্ধ করার জন্য নয়; শুধু, তাদের-কে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার জন্যে। মুহাজির, আনসার ও বানু সুলায়েম গোত্রের ৩৫০ জন মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে খালিদ যাত্রা শুরু করে ও মক্কার নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত বানু জাধিমা গোত্রের এলাকায় গিয়ে পৌঁছে।

বানু জাধিমার লোকদের বলা হয়, “এ হলো খালিদ বিন ওয়ালিদ ও তার সঙ্গে আছে মুসলমানরা।” বানু জাধিমা গোত্রের লোকেরা বলে,

“আমরা হলাম মুসলিম সম্প্রদায়। আমরা মুহাম্মদ-কে আশীর্বাদ করি ও বিশ্বাস করি। আমরা এখানে মসজিদ নির্মাণ করেছি ও সেখানে নামাজের ডাক দিয়েছি।”

খালিদ তাদের কাছে গিয়ে বলে, “আত্মসমর্পণ করো!”
তারা বলে, “আমরা মুসলমান।”
সে বলে, “তাহলে কেন তোমরা অস্ত্র বহন করছো?”
তারা বলে, “বস্তুতই আমাদের ও বেদুইন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুরা রয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছিলাম যে তোমরা তাদেরই লোকজন। ইসলাম বিরোধীদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার নিমিত্তে আমরা অস্ত্রগুলো ধারণ করেছি।”
খালিদ বলে, “তোমাদের অস্ত্রগুলো নিচে জমা রাখো!”

তাদের মধ্যে ছিল ‘জাহদাম’ নামের এক লোক; সে বলে, “হে বানু জাধিমার লোকেরা, আল্লাহর কসম, সত্যিই সে খালিদ। ইসলামে দীক্ষিত হওয়া ছাড়া আর কোন কিছুই মুহাম্মদ কারও কাছ থেকে চায় নাই। আর আমরা ইসলামে দীক্ষিত হয়েছি। কিন্তু এ হলো খালিদ; সে আমাদের কাছে এমন আকাঙ্ক্ষা করে না যা মুসলমানদের আকাঙ্ক্ষা। আসলে, অস্ত্রের মাধ্যমে সে যা আদায় করে তা হলো কেবল লোকদের বন্দী করা; ও অতঃপর বন্দীদের ওপর, তরোয়ালের কোপ!”

তারা [তাকে] বলে, “আমরা তোমাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি আল্লাহ-কে, তুমি আমাদের লাঞ্ছিত করছো।” জাহদাম তার তরোয়াল-টি জমা দিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে, যতক্ষণে না তারা যুগপৎ তার সাথে কথা বলে। অতঃপর সে তার তরোয়াল-টি জমা দেয়। অতঃপর তারা বলে:

“বাস্তবিকই, আমারা মুসলমান। আমাদের লোকেরা ধর্মান্তরিত হয়েছে। মুহাম্মদ মক্কা বিজয় সম্পন্ন করেছেন। সুতরাং খালিদের কাছ থেকে আমাদের কিসের ভয়?”

সে বলে, “আল্লাহর কসম, এটি কেন নয় যে সে তোমাদের ও তাদের মধ্যে পুরাতন বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে তোমাদের বন্দী করবে?”

লোকেরা তাদের অস্ত্রগুলো জমা দেয়। অতঃপর খালিদ তাদের-কে বলে, “আত্মসমর্পণ করো!” জাহদাম বলে, “হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা, সে কী মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকদেরই আত্মসমর্পণ করাতে চাচ্ছে না! বস্তুতই, সে যা চায়, তাইই করবে। তোমারা আমার সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছো ও আমার নির্দেশ অমান্য করেছো। আল্লাহর কসম, এ হলো মৃত্যু (তরোয়ালের কোপ)!”

সম্প্রদায়টির লোকেরা আত্মসমর্পণ করে। তাদের মধ্যে কিছু লোকদের এই নির্দেশ প্রদান করা হয় যে তারা যেন অন্যদের বেঁধে ফেলে। তাদেরকে বেঁধে ফেলার পর, খালিদ তাদের এক বা দু’জন পুরুষকে প্রত্যেক মুসলমানদের কাছে ধাক্কা দিয়া ঠেলে দেয়। বেঁধে রাখা অবস্থায়ই তারা রাত্রি যাপন করে।

যখন নামাজের সময় হয়, তারা মুসলমানদের সাথে কথা বলে ও নামাজ আদায় করে।

অতঃপর, পুনরায় তাদের বেঁধে ফেলা হয়।” —

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা অত্যন্ত সুস্পষ্ট তা হলো, বানু জাধিমা গোত্রের কোন লোক মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ওপর আক্রমণ করতে আসেন নাই। বিনা উস্কানিতে অবিশ্বাসী জনপদের ওপর, পূর্ববর্তী সকল হামলাগুলোর মতই, আক্রমণকারী দলটি ছিল,”মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা।” অবিশ্বাসীরা নয়। এই ঘটনায় আর যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তা হলো, ভীত-সন্ত্রস্ত বানু জাধিমা গোত্রের লোকেরা, খালিদ বিন আল ওয়ালিদের নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র হামলাকারী দলটির আগমন ও তাদের মরফত “ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত-প্রাপ্তির পূর্বেই” শুধু যে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিলেন তাইই নয়; তাঁরা তাঁদের এলাকায় এক মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন ও সেই মসজিদে তাঁরা নামাজ কায়েমের ইসলামী প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছিলেন। মুহাম্মদের মক্কা-দখলের খবরটি জানার পর, তাঁদের এই আচরণের প্রকৃত কারণ হলো, নিঃসন্দেহে:

“তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা হুমকি! তাঁরা নিশ্চিত জানতেন, মুহাম্মদের করাল গ্রাস থেকে নিরাপত্তা পাওয়ার উপায় হলো, ‘ইসলাম গ্রহণ!”

মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রচেষ্টায়ই তাঁরা যে এই কাজটি করেছিলেন, তা ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট। মুহাম্মদ প্রেরিত এই হামলাকারী দলটির আগমনের পর তাঁদের আকুতি: “আমরা হলাম মুসলিম সম্প্রদায়। আমরা মুহাম্মদ-কে আশীর্বাদ করি ও বিশ্বাস করি। আমরা এখানে মসজিদ নির্মাণ করেছি ও সেখানে নামাজের ডাক দিয়েছি।”

>>> ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসে “বানু জাধিমা গোত্রের পরিণতির” এই বর্ণনা আমাদের-কে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়। বাংলাদেশের শহরে-গ্রামে-গঞ্জের নিরীহ জনপদ-বাসীর ওপর পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণ, ধরপাকড়, নিপীড়ন, হত্যা ও সর্বোপরি ধৃত নারীদের ওপর তাদের যৌন-নির্যাতন। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর এই নৃশংসতা থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রচেষ্টায় সেদিন তাদের কাছে বাংলাদেশীদের “সহি-মুসলমানিত্বের” পরীক্ষা দিতে হয়েছিল; সহি শুদ্ধ-ভাবে কালেমা পাঠ ও লিঙ্গাগ্রচর্মছেদন-যুক্ত (Circumcised) পুরুষাঙ্গ প্রদর্শন প্রক্রিয়ায়। ধৃত বানু জাধিমা গোত্রের মানুষদের মতই ধৃত বাংলাদেশীদেরও তা করতে হয়েছিল নিপীড়ন, নির্যাতন ও জীবন বাঁচানোর তাগিদে!

আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, তা হলো, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা ধর্মের নামে “ইসলাম অবিশ্বাসী” অসংখ্য মানুষ-কে হত্যা, বন্দি, দাস ও যৌনদাসী করণ ও সম্পদ লুণ্ঠন করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন। এই লোকগুলোর একমাত্র অপরাধ ছিল এই যে, তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর মতবাদে ছিলেন অবিশ্বাসী, সমালোচনা-কারী, কিংবা তাঁর আগ্রাসনে বাধাদান-কারী! ইন্টারনেট প্রযুক্তির এই যুগে এ বিষয়ে আগ্রহী মুক্ত-চিন্তার অধিকারী যে কোন মানুষ ইচ্ছে করলেই বিভিন্ন ইন্টারনেট উৎস থেকে এই ঘটনাগুলো ও তার বীভৎসতার ইতিহাস জেনে নিতে পারেন। প্রয়োজন, শুধুই সদিচ্ছা ও মানবতার মাপকাঠিতে মুক্ত-চিন্তার অনুশীলন!

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র দুই ও তিন):]

The narratives of Al-Waqidi: [1]

He said: ‛Abd al-Raḥmān b. ‛Abd al-‛Azīz related to me from Ḥakīm b. ‛Abbād b. Ḥunayf from Abū Ja‛far, who said: When Khālid b. al-Walīd returned from the destruction of al-‛Uzzā to the Messenger of God, who was staying in Mecca, the Messenger of God sent him to the Banū Jadhlīma, not on a mission of war, but, with an invitation to Islam. Khālid set out with Muslims from the Muhājirūn, the Anṣār, and the Banū Sulaym—numbering three hundred and fifty men—and he reached the Banū Jadhīma at the bottom of Mecca. It was said to the Banū Jadhīma, “This is Khālid b. al-Walīd with the Muslims,” and the Banū Jadhīma said, “We are a Muslim community; we bless and trust Muḥammad. We built the mosque and call to prayer in it.”

Khālid reached them and said, “Submit!” They said, “We are Muslims!” He said, “Then why do you carry weapons? They said, “Indeed, among us and among the community of Bedouin are enemies, and we feared that you were from them. We took the weapons in order to defend ourselves from those who oppose Islam.” Khālid said, “Put down your weapons!”
A man from them named Jaḥdam said, “O Banū Jadhīma, indeed he is, by God, Khālid. Muḥammad did not seek from anyone more than that he accept Islam. And we have accepted Islam. But he is Khālid, and he does not desire with us what is desired of Muslims. Indeed, what he accepts with weapons are only prisoners, and after the prisoners, the sword!” They said, “We remind you of God and you humiliate us,” and Jaḥdam refused to put down his sword until they spoke to him together and he put down his sword. Then they said, “Indeed, we are Muslims and the people have converted. Muḥammad conquered Mecca, so what do we fear from Khālid?” He said, “Is it not, by God, that he will take you by the ancient hatred that was between you.”

The people put down their weapons. Then Khālid said to them, “Surrender!” And Jaḥdam said, “O community, he does not want a community of Muslims to surrender! Indeed, he desires what he desires. You have disagreed with me and disobeyed my command, By God, it is the sword.” The community surrendered. Some of them were commanded to tie others. When they were tied Khālid pushed to every man among the Muslims one or two men. They spent the night tied up. When it was time to pray, they spoke to the Muslims and prayed, then they were tied, again.

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৮৭৫-৮৭৬, ইংরেজি অনুবাদ- পৃষ্ঠা ৪৩০
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-

[2] অনুরূপ বর্ণনা- মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল): পৃষ্ঠা ৫৬১
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[3] অনুরূপ বর্ণনা- আল-তাবারী (৮৩৯-৯২৩ সাল): ভলুউম ৮; পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21292&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.