প্রেক্ষিত: করোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশ করনীয়

১) আমেরিকা ও চীন সরকার কর্তৃক ঘোষিত হয়েছে বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। তার মানে এর মধ্যে এই ভাইরাস হানা দেয়নি তার কোন গ্যারান্টি নেই! চীন থেকে বাংলাদেশের দুরত্ব অনেক নিকটে। অথচ চীন থেকে অনেক দূরের দেশ ইউরোপের ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, আমেরিকা, ভারত, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, জাপান, সৌদিআরব, ইরান, ইসরাইল, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ প্রায় ৮০ টির মতো দেশের মানুষেরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বা হচ্ছে, যা তথ্যপ্রবাহের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হচ্ছি। করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে দুইমাসের বেশি অতিবাহিত হলো, কিন্তু পত্রিকায় ১৭ কোটি ঊর্ধ্বের মানুষের দেশে কোথাও একজনেরও এই ভাইরাস আক্রান্তের খবর পরিলক্ষিত নেই। এমতাবস্থায় সঠিক তথ্য যাহাতে গোপন না থাকে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা আশু প্রয়োজন। কারন তথ্য গোপন যদি হয় এটি আরো ভয়ংকরভাবে ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তবে আমরা চাই বাংলাদেশ যাতে করোনা আক্রান্ত থেকে সবসময় রক্ষা পায়। আর আক্রান্ত হলেও যেন দ্রুত এবং পরিকল্পনামাফিক সরকার তা নিরাময়ের ব্যবস্থা নিতে পারে। কারন রাজধানী ঢাকা যে পরিমাণ ঘনবসতিপূর্ণ শহর, এখানে একজনও যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তবে দেশে মহাদুর্যোগ হতে বেশি সময় লাগবে না। এমনকি চিকিৎসা ও ঔষধব্যবস্থা বাংলাদেশে অনেক নিম্নমানের, যেখানে স্বয়ং রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মহোদয়ও ঔষুধে ভেজালের অতিরিক্ত মাত্রা নিয়ে তার এক বক্তব্যে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

২) বলা ভালো কথায় আছে- সাবধানের মাইর নাই। তাই সরকারের উচিত হবে সর্বাত্মক সর্তকতা অবলম্বন করে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া। সঠিক তথ্য জনগণকে সরবরাহ করা। আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন -“বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকির বাইরে না”। বুঝা যাচ্ছে এখানে তথ্য চেপে রাখার একটা প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

৩) মুজিব শতবর্ষ দিবস ১৭ই মার্চ, ২০২০ পালন থেকে এখন করোনা ভাইরাস মোকাবেলার প্রস্তুতি নেওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া সরকারের জন্য অনেক অনেক মঙ্গল হবে। কারন ঢাকাতে এই দিবসটি যদি পালন করা হয় দেশের আনাসে-কানাসে এলাকা থেকে মানুষ এসে জনসমাগম হবে। আর ছোঁয়াশে ভাইরাসটি যদি কোনমতেই মানুষে মানুষে সংস্পর্শ এসে যায় তবে দেশের প্রতিটি অঞ্চল মহাদুর্যোগে পরিপূর্ণ হবে নির্ধিদ্বায় বলে দেওয়া যায়। তাই পরামর্শ বঙ্গবন্ধুর জম্মশত বার্ষিকী উদযাপন আপাতত বড়সড় জনসমাগম বাদ দিয়ে ছোট পরিসরে পালন করতে হবে। পরে না হয় পরিস্থিতি বুঝে একসময় ঘটা করে বড়পরিসরে পালন করা যেতে পারে। এই দুর্যোগময় মূহুর্তে অনেক দেশ কিন্তু বড় সমাগম কর্মসূচী এড়িয়ে চলছে। এমনকি মিডিয়াতে তাদের দেশের নাগরিকদেরও লোকসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে।
অনেকে মন্তব্য করেছেন সম্ভবত ১৭ মার্চ,২০২০ মুজিব বর্ষের দিন উদযাপনের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ করোনা আক্রান্ত হবে না বা মিডিয়াতে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত হয়েছে তার খবর প্রকাশিত হবে না। সত্যি কি তাই?
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে করোনা ভাইরাস মুক্ত পৃথিবীই এখন একমাত্র সময়ের দাবি।

ফেসবুক মন্তব্য

১ thought on “প্রেক্ষিত: করোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশ করনীয়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 1