করোনা ভাইরস, গুজব ও করনীয়

  • সাবধান সাবধান!!
    আমাদের মনে রাখতে হবে বাঙলাদেশ একটি গুজব নির্ভর দেশ। এদেশে গুজবে কান দিয়ে মানুষ পিটিয়ে মারে। চাঁদে সাঈদীকে দ্যাখে। একটা শ্রেণীর কাজই হলো দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা। বিগত বছর থেকে এরা গুজব’কে অস্ত্র হিশেবে নিয়েছে। কেউ কেউ ধরাও পড়েছে। সুতরাং সাবধান!
    সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের প্রভাব প্রায় বিশ্বব্যাপী। ইতিমধ্যে বাঙলাদেশও খবর পাওয়া গ্যাছে তিন জনের। ইটালি থেকে দুজন বয়ে নিয়ে এসেছে এ ভাইরাস। যেহেতু রোগটি ছোয়াচে সেহেত পরিবারের একজনও আক্রান্ত হয়েছে। অতএব ভয়ের কিছু নেই। ভাইরাসটি বাঙলাদেশে গ্রো করেনি। ব্যাপারটা রোগ+সুস্থ=রোগী। তাই আমি আশাবাদী এই তিনজনকে সতর্কতার সহিত চিকিৎসা প্রদান করলে ভাইরাসটি বিস্তৃণ লাভ করবে না।
    বলে রাখছি, করোনা ভাইরাস ভয়ংকর কিছু না তবে একটি মহল বা বিশ্ব গণমাধ্যম ব্যবসা করার জন্য রেড মার্ক করছে। বস্তুত তা একেবারেই নয়।
    মনে রাখবেন মানুষকে দূর্বল করে ভয় ও আতংক! আর সেটাই এখন বিরাজমান সারা বিশ্বে। অথচ, এতো আতংকিত না করে বরং সবাইকে সচেতন করতে পারতো বিশ্ব গণমাধ্যম।
    জেনে রাখুন করনো ভাইরাস সে সমস্ত দেশে বিস্তৃত হয়েছে যে সব দেশে তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রির কম। আমার কথা না, গুগল সার্চ করুন এবং নিজেই পরিলক্ষিত করুন যে সব দেশে করোনা ছড়িয়েছে সে সব দেশের তাপমাত্রা কত!
    করোনা মৃত্যু হার ইরান দ্বিতীয়। একটা প্রাশ্ন থাকতে পারে- আমরা জানি ইরান একটি আদ্র ও উষ্ণ অঞ্চল। তবে কেন ইরানে এতো মানুষ আক্রান্ত হলো?
    তাহলে আমি বলব,খবর নিয়ে দেখুন ইরানেও এখন ৯-১০ ডিগ্র সেলসিয়াস চলছে। সুতরাং ঘাব্রাবেন না!
    বাঙলাদেশের কয়েকটা বাল চেড়া বিশ্লেষক বিশ্লেষণ করে বলেছিলো করোনা ভাইরাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ছড়ায় না।আসলে বিশ্লেষণটা এরকম নয়। বিশ্লেষণ’টি হবে করোনা ভাইরাসকে মারতে ৭০ ডিগ্রি দরকার। ভাইরাস দমন ও ভাইরাস চলন দুটি আলাদা। যে সমস্ত দেশে সর্ব নিম্ন ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস চলছে সে সমস্ত দেশ ৯০ ভাগ সুরক্ষিত। সে তূলনায় বাঙলাদেশে এখন ২৬,২৭ চলছে। তবুও যে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে না তা নয়। অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। করনো ভাইরাসকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে মাস্কের দাম ডবল চৌডবল করে ফেলেছে। আর ভিম্রি খেয়ে লুফে নিচ্ছে বিনা দরে।অথচ, জানে না করোনা ভাইরাসের এতো ক্ষুদ্র জীবাণু রোধনীয় মাস্ক এখন পর্যন্ত বাজারে আসেনি। করনো ভাইরাসের সব থেকে বড় ঝুকি হলো ৫০ উর্ধ্বে বয়সিরা ও শিশুরা। আরেকটা কথা- এখন বসন্ত কাল। হালকা গরম হালকা শীত। মধ্য রাত থেকে কাথা কম্বলের ব্যবহার হচ্ছে প্রচুর। মানে গরম ও ঠান্ডাও। সিজন পরিবর্তন হলে অনেকেরই জ্বর, সর্দি, হাচি হয়ে থাকে। আমি অনুরোধ করবো এই ধরণের টিমটিমে যখন অবস্থান করবেন তখন আতংকিত হবেন না।সুস্থ মাথায় বিষয়টিকে বোঝার চেষ্টা করবেন।

তাহলে আমিন বলে লেখাটা পড়ুন আর শেয়ার করুন–

চিন বা ইতালি থেকে একটা পার্সেল এসেছে আপনার নামে! নেবেন নাকি নেবেন না ! এই সংশয়ে যারা ভুগছেন তাদের বলছি –
বিন্দাস নিয়ে নিন। করোনা ভাইরাসের বাঁচার জন্য যে পরিবেশ লাগে তা মানুষ বা পশুপাখির শরীর ছাড়া পাওয়া যাবে না। তাই এই ভাইরাস বাতাসের সংস্পর্শে এলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মরে যায়। ভাল করে রান্না করা পশুপাখির মাংস আর ফ্রোজেন খাবারেও করোনা ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা শূন্য।

বাড়ির বাইরে থাকলে মাঝে মাঝে অ্যালকোহল বেসড হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন। প্রতি আধঘন্টায় বা একঘন্টায় করার দরকার নেই। কারোর সংস্পর্শে এলে বা কোথাও খেতে গেলে খাওয়ার আগে এবং পরে করুন। মুখে এটা লাগাবেন না। যে কোন অ্যালকোহল বেসড স্যানিটাইজার হলেই হবে। মেডিকেটেড বা ক্লোরহেক্সিডিন থাকা স্যানিটাইজার ব্যবহার করার কোন প্রয়োজন নেই।

ময়লা হাতে কিন্তু স্যানিটাইজার কাজ করে না। তখন হাত ধুতেই হবে।

– বারবার নিজের মুখে, ঠোঁটে,নাকে, চোখে হাত দেবেন না। অনেকেরই এই মূদ্রাদোষ থাকে।

– যাদের হাঁচি বা কাশি হচ্ছে তাদের থেকে এক মিটার দূরত্ব রাখার চেষ্টা করুন। জানি কাজের জায়গায় এটা অনেক সময়তেই সম্ভব নয়, অশালীনও বটে। কিন্তু সংক্রমণ আটকাতে করতেই হবে এটা।

-কেউ হাঁচলে বা কাশলে মুখের আর নাকের সামনে হাত দিয়ে করতে বলুন। আপনার নিজের ক্ষেত্রেও তাই করুন। চেষ্টা করুন টিস্যু পেপারে হাঁচতে বা কাশতে। তারপরেই টিস্যু টাকে ফেলে দিন এবং নিজের হাত ধুয়ে নিন বা স্যানিটাইজার লাগান। এই অভ্যাসটা তৈরি করতে পারলে ভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটাই আটকে দেওয়া যাবে।

-কাঁচা মাংসে হাত না দেওয়ার চেষ্টা করুন। এটা মুরগী,গরু আর পাঁঠা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যারা ভাবছেন মুরগীর দাম কমেছে এবারে গুছিয়ে খাব, তাদের বলি রান্নার আগে মাংসটাকে ধোয়ার সময় তো আপনাকে হাত দিতেই হবে। সেক্ষেত্রে মাংস ধোবেন গরম পানিতে বা খুব ঠান্ডা পানিতে। ধোয়ার পরে নিজের হাত ধুয়ে নিন সাবানে। কড়ায় মাংস দেওয়ার পরে আর ভয় নেই, ভাল করে রান্না করে নেবেন, দেখবেন হাড়ের কাছের অংশ যেন কাঁচা না থাকে, মুরগীর মাংস রান্নার সময় অনেক ক্ষেত্রে এটা হয়। বাড়ীর মা, খালা-ফুফুরা,রান্নার বুয়ারা যারা এই পোস্ট পড়তে পারবেন না তাদেরকে বিশেষ করে সতর্ক করুন।

– কাঁচা দুধ খাবেন না। ডিমও ভাল করে সেদ্ধ করে খাবেন। পোচড এগ এড়িয়ে চলুন।

মাস্কঃ
আচ্ছা মাস্ক পরার কথা তো বললেন না? পরব বলে কিনলাম যে।
কিনেছেন বেশ করেছেন, এবারে মাস্কটিকে ডাস্টবিনে ফেলে দিন।
শুনুন মাস্ক পরবেন না! প্লিজ মাস্ক পরবেন না!!
কারণ গুলো হল-
– প্রথমত, মাস্ক পরে আপনি করোনা ভাইরাসকে আপনার শরীরে আটকাতে পারবেন না। তা সে যতই আধুনিক ভাল মাস্ক হোক না কেন। যে মাস্ক আটকায় তা আপনি পাবেন না বাজারে, ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত হয় তা।
মাস্ক কেমন ভাবে পরতে হয় তাও জানেন না আপনি। হ্যাঁ এটা সত্যি। জানেন না।
মাস্ক পরার অভ্যেস নেই আপনার। তাই বারবার নিজের নাকে মুখে হাত দেবেন । এতে হিতে বিপরীত হবে।

তাহলে মাস্ক কাদের পরা উচিতঃ
যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ,অথবা নিজেদেরকে আক্রান্ত বলে মনে করছেন তারা পরবেন মাস্ক। যাতে অন্য কারোর শরীরে এই রোগ না ছড়ায়।
আবার বলছি, মাস্ক কোন ভাবেই আপনাকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচাবে না, উলটে আপনার ক্ষতি করবে।

জ্বরঃ
আমার খুব জ্বর কয়েকদিন ধরে, মাথাও ধরেছে, আমার কি করোনা ভাইরাস হয়েছে?
না, খুব সম্ভবত হয়নি। করোনা ভাইরাসের রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলি আর পাঁচটা সাধারণ ভাইরাসের মতোই। তা হলঃ-

-জ্বর,কাশি,মাথা আর গায়ে হাতে পায়ে ব্যথা,ক্লান্তি,
গলা ব্যথা,নাক দিয়ে জল পড়া,পাতলা পায়খানা হওয়া ।

এই লক্ষণগুলো অন্যান্য ননগ্ল্যামারাস ভাইরাসগুলোও করে। এতে ভয়ের কিছু নেই। ডাক্তারের কাছেও দৌড়বার দরকার নেই।

এগুলো যদি হয়ঃ
-পানি ও তরল জাতীয় খাবার খান অনেক।
-রেস্ট নিন।
-জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খান।

কখন তাহলে ডাক্তারকে দেখানোই দরকারঃ
-শ্বাস কষ্ট।
-পাঁচ দিনের বেশি থাকা প্রবল কাশি।
-বুকে ব্যথা।
-কফের সাথে রক্ত।
-পেটে ব্যথা।

করোনা ভাইরাস নিয়ে যে দুশ্চিন্তা আমাদের দুর্বল করেঃ
আচ্ছা আমার যদি করোনা ভাইরাস হয় তাহলে কী আমি মারা যাব?

মনে রাখবেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে করোনা ভাইরাসে আপনার মারা যাওয়ার যা সম্ভাবনা তার থেকে বেশি সম্ভাবনা ক্যান্সারে বা রাস্তায় অ্যাক্সিডেন্টে মারা যাওয়ার।
প্রতিবছর কমন ফ্লুতে এর চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ মারা যায়। আপনারও বছরে দু’তিনবার ভাইরাল ফিভার হয়ই, তারমধ্যে ফ্লু-ও থাকে।
মারা যান কি?

তাহলে যে শুনছি এত মানুষ মারা যাচ্ছে?
প্রতি ১০০ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে মারা যাচ্ছেন ২ জন। এই সংখ্যাটিও একেবারে সঠিক নয়, কারণ ভাইরাসটি সদ্য ধরা পড়েছে এবং বিশ্ব জুড়ে এখনও এতটাও ছড়িয়ে পড়েনি। বছরের শেষে দেখবেন করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা আরো কমে যাবে।

 তাহলে যারা মারা যাচ্ছেন তারা কারা?

আপনার বয়স কি ৬০ এর বেশি?
আপনার কি এই রোগ গুলো আছে?
ডায়াবেটিস,অ্যাজমা,ক্যান্সার রয়েছে ?

এই সবকটার উত্তর যদি না হয়, তাহলে আপনি করোনাতে আক্রান্ত হলেও আপনার কোন ভয় নেই। আর পাঁচটা ভাইরাল ফিভারের মতোই দেখুন একে।

আর এর একটার উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে সাবধানে থাকুন। আপনার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং আক্রান্ত হলে ফুসফুসের ইনফেকশনের সম্ভাবনাও বেশি। তাই আপনারা আগে ডাক্তারের কাছে যান।

 ভিটামিন সি খেলে শুনছি করোনার হাত থেকে বাঁচা যায়, এটা কী সত্যি?

না সত্যি না, ভিটামিন সি আমাদের শরিরের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ঘা শুকোতে সাহায্য করে। কিন্তু আমরা সাধারণত সারাদিনে যেমন খাবার খাই তাতে যথেষ্ট ভিটামিন সি থাকেই। যদি মনে হয় নেই তাহলে বড় জোর আধখানা লেবু বা একটু আমলকী খান। এর বেশি খেতে গেলে কিছুই হবে না। শরীর প্রশ্রাবের সাথে বের করে দিবে।
ভিটামিন সি করোনার হাত থেকে আলাদা করে বাঁচাবে না আপনাকে।

আমার যদি করোনা হয়েই যায় তাহলে কী এর কোন ওষুধ আছে? বা আটকানোর জন্য ভ্যাকসিন?

 না, এখনও পর্যন্ত কোন ওষুধ নেই। তবে আগে যেমন বললাম, আপনি যদি সুস্থ শরীরে এই ভাইরাস নেন তাহলে নিজে থেকেই কয়েকদিনের মধ্যেই ভাল হয়ে উঠবেন। আর অসুস্থ শরীর থাকলে ডাক্তারের কাছে যান। ডাক্তারবাবু প্রয়োজন মতো ব্যবস্থা নেবেন। তাহলেই আপনার মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কমে যাবে।

করোনা আটকানোর জন্য কোন ভ্যাকসিন নেই এখনও অবধি।

 

বাড়িতে বাচ্চা আছে, কী করি, স্কুলে পাঠাব?

অদ্ভুত ভাবে এখনও পর্যন্ত বাচ্চাদের করোনায় আক্তান্ত হওয়ার খবর ভীষণই কম। স্কুলে পাঠান নিশ্চিন্তে, যদি না স্কুল থেকে কোন বিজ্ঞপ্তি আসে।

আচ্ছা এত রকমের রোগ তো আছে পৃথিবীতে, করোনা নিয়ে এত ভয় কেন তাহলে?

এর কারণ মিডিয়া, আরেকটা কারণ সাধারণ মানুষের সম্যক জ্ঞানের অভাব। তাদের বেশিরভাগই অথেন্টিক কোন সোর্স যেমন CDC বা BMJ এর গাইউলাইন বা আপডেট পড়তে রাজি নয়। কারণ কঠোর ইংরাজী। তাই যতটা পারলাম সহজ করে উল্লেখ করলাম।

পরিশেষে যেটা বলব,
আপাতত লিভ টু গেদার , পতিতালয়, লিপ কিস করা থেকে বিরত থাকুন ।

ধন্যবাদ

টিটপ হালদার

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

86 − 82 =