করোনা ব্যবসা

ইউরোপের অনেক দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষজন কিছুটা ভীত, আতংকিত। জার্মানির একাধিক শহরের একাধিক মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। কিন্তু, এখন পর্যন্ত কোন মানুষজনকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখি নি। এমনকি, কারো মুখ থেকে শুনি নি যে, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক কিনতে হবে। কোন ডাক্তার বা রাষ্ট্র থেকে মাস্ক ব্যবহার করার কোন ঘোষণা পর্যন্ত দেয় নি। তবে সাবধান থাকতে বলেছে।

অন্যদিকে, বাঙলাদেশে মাস্ক নিয়ে রীতিমত ব্যবসা শুরু হয়েছে। শতাধিক কোম্পানি মাস্কের জন্য বিজ্ঞাপন শুরু করে দিয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি জানে যে, বাঙালি হুজুকে আহাম্মক একটি জাতি। যে কাউকেই দ্রুত গাধা বানানো সম্ভব। প্রায় প্রতিটি মানুষই মাস্ক কেনা ও ব্যবহার করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে। মাস্কের আবার দাম বৃদ্ধিও পাচ্ছে। ষ্টকও নাকি শেষ হচ্ছে!

বাঙালি ইউনিসেফের নামে ফেসবুকে স্ট্যাটাস, ভিডিও, ইনবক্সে অজস্র হাস্যকর ও ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে যাচ্ছে। এবং বাঙালি গিলছে। বাঙালি একটি খাদক জাতি; গবগব করে খেতেই থাকে। খাওয়ার আগে জানার প্রচেষ্টাও করে না কী খাচ্ছে, কেনো খাচ্ছে? শুধু খেতেই জানে। প্লেট ভর্তি ভাত খায়; আবার, বালতি ভর্তি প্রোপাগান্ডাও খায়। এতো অসচেতন ও ধূর্ত জাতি খুঁজে পাওয়া কঠিন।

আবার, সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বলেছে- বাঙলাদেশেও করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে! প্রথমে চীন জানিয়েছে, ভাইরাসটি প্রাণী থেকে সংক্রমিত। উল্লেখ্য যে, গোপনীয়তায় চীন পারদর্শী ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বহু মাস পূর্বেই করোনাভাইরাসের দ্বারা আক্রান্তের ঘটনা ঘটলেও তারা বিষয়টি গোপন রাখে। ইউরোপের একাধিক গবেষণাকেন্দ্র ধারণা করছে যে, এই ভাইরাসটি প্রাণী থেকে নয়, বরং ল্যাবরেটরি থেকে ছড়িয়েছে। তবে তারা আরও গবেষণা করার প্রয়োজনবোধ করেছে। রোগ প্রাদুর্ভাব বিষয়ক বিজ্ঞানী অধ্যাপক নিল ফেরগুসন বলছেন, ‘উহানের ভাইরাসটি অন্য দেশে পাওয়া যাওয়ার অর্থ হচ্ছে, যা দাবি করা হচ্ছে তার চেয়েও আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেশি হতে পারে।’ এই ভাইরাসটি তুলনামূলক ঠাণ্ডা পরিবেশেই ছড়াচ্ছে। কিন্তু তার এই মানে নয় যে, গরম পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারবে না।

দয়া করে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নাম ব্যবহার করে মানুষজনকে বিভ্রান্ত করা বন্ধ করুন। নিজের ব্যবসার সুবিধার্থে
কিংবা অজ্ঞতাবশত প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন না।

আরেকদিকে, এক মোল্লা আল্লাহ্‌র নামে করোনাভাইরাসের ফর্মুলা বের করছে। এই অশিক্ষিত জঙ্গিটি আল্লাহ্‌র নাম ব্যবহার করে পূর্বেও একাধিক মিথ্যে বলেছে। ওয়াজে মিথ্যে পর মিথ্যে বলে অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত মানুষদের বলদ বানিয়েই যাচ্ছে। এতে কি ধর্মের ক্ষতি হচ্ছে না? কারো অনুভূতিতে কি আঘাত লাগছে না? অবমাননা কি হচ্ছে না? আবার, আরেক মোল্লা নিজেদের মানুষের (মুসলমান) উপর বিরক্তি থেকে করোনাভাইরাসের গজব দিচ্ছে।

অন্যদিকে, করোনার ভয়ে কথিত আল্লাহ্‌র ভূমি সৌদি আরব উমরাহ্‌ বাতিল করেছে। ইরান শুক্রবারের নামাজ বন্ধ করে দিয়েছে। মসজিদে, মন্দিরে, গীর্জায় গিয়ে প্রার্থনা করলেই যদি সব কিছু পাওয়া যেতো, তাহলে তো বেশ হতো।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

24 − = 23