ওঁৎ পেতে আছে ইশ্বরগণ, কখন আবিস্কার হবে বিজ্ঞানের হাত ধরে করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন?

ওঁৎ পেতে আছে ইশ্বরগণ, কখন আবিস্কার হবে বিজ্ঞানের হাত ধরে করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন।

ঈশ্বর’রা বিজ্ঞানের প্রতি নির্ভরশীল। যুগযুগ ধরে ঈশ্বররা বিজ্ঞানের কাছে বন্দী থাকা সত্বেও ইশ্বরের বান্দাগণ ধান্দাবাজী মোটেও কমাতে চায় না।এই ধরুন গতকাল রাতে সুরা পাঠ করে থানকুনি পাতার গল্প,পিরোজপুর একদল হিন্দুরা খাচ্ছে তিন বেলা কৃষ্ণ নাম ভিজিয়ে তুলসী।
বাদ দেই এ-সব কথা। দেখুন’না এক করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আজ মসজিদ বন্ধ,মন্দিরে+মন্দিরে কপাট। বাজছে না মুয়াজ্জিনের কন্ঠে আজানের ধ্বনি, ঢং ঢং শব্দে কাঁপছে না মন্দিরের চৌকাঠ।
দলে দলে যাচ্ছে না আর মন্দির,মসজিদ,প্যাগোডার দরবারে।
অথচ, বিজ্ঞানের গবেষণা চলমান,হাসপাতাল গুলো প্রস্তুত করোনা মোকাবিলায়,জীবন বাজী রেখে পরিক্ষায় ও সেবায় নেমেছে হাজার হাজার ডাক্তার, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবীরা। তাহলে প্রশ্ন কী জাগে না-
কোথায় তোমার দেবদূত! কোথায় তোমাদের আল্লাহ প্রদত্ত অলী,পীর,জ্বীন? কই তারা তো কেউ এলোনা করোনকে ধ্বংস করার জন্য। বরং তারা পালিয়েছে কোভিড ১৯ এর ভয়ে। কিন্তু আমি জানি তোমার ঐ সব বিকলঙ্গ ঈশ্বরগণ ওঁৎ পেতে আছে বিজ্ঞানের অপেক্ষায়।কবে বিজ্ঞান করোনার প্রতিশোধক বেড় করবে!
কবে মানুষ বাঁচিয়ে তোলার ঔষধ বানাবে। কারণ ঈশ্বরকে বাঁচাতে মানুষের বেঁচে থাকা আবশ্যক।

ঠিক তখনই ঈশ্বর-আল্লহ-ভগবান’রা আবার পূনরায় যায়গা দখল করবে মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডায়। আবার শুরু হবে সাধারণ মানুষের নরম, কুসুম,কোমল অনুভূতি নিয়ে তামাসা থেকে ব্যবসা। ব্যবসা ব্যবসা আর ব্যবসা!
একদল শাসকের হাত ধরে পৃথিবীর বুকে আবির্ভাব হয় ঈশ্বরের। তারই ফলসরূপ আজকের ৪৩ শ ধর্মের ৪৩শ ঈশ্বর, মক্কা,মদিনা,মন্দির, প্যাগোডা- দোয়া,কালাম,মন্ত্র-তন্ত্র,ঝারফুঁক,তাবিজ-কবচে আর দোয়া আশীর্বাদের রমরমা ব্যবসা। তবুও কিছু পাগল দাবী করবেন আমি মিথ্যে কথা বলছি,আমি তার অন্ধ,নোংরা অনুভূতিতে আঘাত হানছি।
কী অভাবনীয় পরিবর্তন ! যদিও এটা বাঙলি ধার্মিকগণদের আদি ধর্ম। বেশিদিন নয়,এই ক’দিন আগেও করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা ধার্মিকগণ দলে দলে মসজিদ মন্দিরে, দৌড়িয়েছে। দলে-দলে গো-মূত্র,উট-মুত্র পান করার হিরিক,ব্যবসা পর্যন্ত শুরু করেছে। এমনকি আবেগে,বিশ্বাসের বিষ গিলে, পাগল হয়ে- অফিস,আদলত,স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসার নোটিশ বোর্ডে সেঁটে দিয়েছে ‘করনো’ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া দোয়া!
অদ্ভুত ব্যপার করোনা মোটেও থামছে না।কোন প্রকার দোয়া,গো-উট মুত্রেও কাজ হচ্ছে না।
তো এখন কী করার!
তাই এখন জান বাঁচান ফরজ মেনে অধার্মিক, নাস্তেক বিজ্ঞানীদের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে শুরু করেছে। এখন নোটিশ বোর্ডের ‘আবু দাউদ,তিরমিতযী’ এর দোয়ার পাশে সাঁটানো হয়েছে হু(who) এর নির্দেশনা। তো এটাই হবে ধার্মিকগণদের আসল পরিক্ষা। নোটিশ বোর্ডে গিয়ে ধার্মিক ভাই বা বোন কোনটা মানবেন?
আবু দাউদ,তিরমিতযীর হুকুম নাকি হু(who) এর নির্দেশনা? আমি শতভাগ শিওর তারা এখন জান বাঁচান ফরজ হিশেবে হু এর নির্দেশকে হুকুম ভেবে পালন করবেন।
অন্যদিকে, ওয়াজী বিজ্ঞানীগণ নতুন করে করোনা ভাইরাসের ফুল মিনিং বের করেছে।
ক- রো – নাঃ-
কোরান- রোজা- নামাজ। তারমানে, ধার্মিকগণ দাবী করছে ‘করোনা’ শব্দের অর্থাৎ ‘কুরান রোজা নামাজ’।
অথচ,এই সব গাধার দল কখনো অনুধাবন করছে না আমরা কী থেকে কী বলছি!কী করছি! কী ভাবছি! কী ভাবাচ্ছি! তারা দুনিয়ায়র মানুষকে নতুন করে জানতে উদগ্রীব হয়ে উঠেছে করোনার মত ভয়ংকর ব্যধির নাম কুরান-রোজা-নামাজ। যাহোক এই প্রচার যেনো অব্যাহত থাকে এই কামনাই করি। তাদের এই ব্যখ্যা যেনো জাতিসংঘ থেকে স্বীকৃতি পাক।
সুবিধাবাদী উন্মাদরা যখনই অসুস্থ হয় তখনই বিধর্মী, অমুসলিম, নাস্তেক,কাফেরদের সরোনাপন্ন হওয়ার জন্য ব্যকুল হয়ে ওঠে। এই তো কিছু দিন আগে তেতুল হুজুর অসুস্থ হয়ে পরে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ছুটে গিয়েছিলো বিধর্মী দেশ ভারতে। হিন্দু, নরেন্দ্রমোদী সরকার নিয়ন্ত্রিত হাসপাতালে। সেখানে মহিলা নার্সের তত্বাবধানে তেতুল হুজুর সুস্থতা নিয়ে দেশে আসেন।
আশ্চর্য ব্যপার ঠিক ৭ দিন পরই তেতুল হুজুর রোহিঙ্গাদের বাঁচাতে ভারতের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে। কতবড় বিশ্বাসঘাতক হলে এমন কাজ করে একবার ভাবুন!
ভারতে দাঙ্গা নিয়েও এরা সরব হয়েছিলো নরেন্দ্রমোদীকে প্রবেশ করতে দিবে না। রক্তের বিনিময় হলেও ইসলামের মান রাখতে এয়ারপোর্ট থেকেই মোদীকে বিদায় করে দিবে বলে যত্ন করে ওঁৎ পেতে থেকেছিলো। দূর্ভাগ্যবশত করোনার হানায় সব কিছু লন্ডভন্ড হয়ে গেলে। বন্ধ হয়ে গেলো সমস্ত আয়েজন। কিন্তু দেখা গেলো গতকাল করোনার কারনে ভিডিও কনফারেন্সের সাথে সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এত নিয়মিত ভাবে অংশগ্রহণ করেছে হাসিনা সরকার। শেখ হাসিনার সার্কে দীর্ঘ বক্তব্য রেখেছে শুধু করোনা নিয়ে।করোনা মোকাবিলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন।এতে সারা দিয়েছে সার্কের অন্যান্য দেশগুলোর রাষ্ট্রনায়কগণ। বিশেষ করে ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করোনা মোকাবিলার জন্য বাঙলাদেশকে এক কোটি মার্কিন ডলার ও ১৫০ টি এম্বুলেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এবং তার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনা অনুরোধ করেছে।
তো এমতাবস্থায় ক’দিন আগেও যারা মোদী গদিতে আগুন লাগানোর জন্য অতিমাত্রায় ছাগল সেজেছেন তাদের কী করা দরকার!
হা, হা আমি জানি সেই সব ছাগলদের যদি করোনায় ধরে, তাহলে ছাগলরা প্রথমেই ভারতের- বেলুর,চেন্নাই,এপোলোই পছন্দ করবে😆
যারা এসব বলেন তারাই কিন্তু আজ করোনার ভয়ে আল্লাহর ঘরে যেতে নারাজ, একসাথে জমায়েত হয়ে মোনাজাত করতে নারাজ।তারা জানে এই নামাজা,কালাম,মসজিদ, মন্দির আমাকে করোনার হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না। আমাকে বাঁচাতে পারবে ডেটল,বাঁচাতে পারবে বিজ্ঞান। এরপর যখন বিজ্ঞানের আদলে সুস্থ হয়ে যাবে ঠিক তখনই এই এনারাই হুংকার দিয়ে বলবে- আমাকে বাঁচিয়েছে আল্লাহ,আমাকে মুক্ত করেছে ঈশ্বর। সমস্ত গুনের ভাণ্ডার হতো তখন মানতের নামাজ কালাম প্রার্থনা। লক্ষ,লক্ষ টাকা দান করতো মসজিদ,মন্দির উন্নয়নে। অথচ,একটাবারের জন্যেও কৃতজ্ঞ বোধ উদয় করত না সে জীবন বাজী রাখা ডাক্তারের প্রতি,বিজ্ঞানের প্রতি।
সুতরাং, আমি নির্ঘাত নিশ্চিত –
ঐ যে অন্ধকারে ঘাপটি মেরে আছে কথিত ঈশ্বর, আল্লা, কালী,অলি রয়েছে ভ্যাক্সিনের অপেক্ষায়। মানুষের নিরাপদ যাপিত জীবন বাস্তবায়নে করবে আবার দখল মন্দির, মসজিদ থেকে অন্ধজনের কোল থেকে ঘরের সিন্দুক।
যাহোক, ইশ্বরের গজব আজ মক্কা-মদিনায়, বৃন্দাবন-মথুরায় ।
ইশ্বরের গজব ছুঁয়ে গেছে আসমানে।বিমান উঠবে না নামবে না। ইশ্বরের গজবে বন্ধ হয়ে গেছে জুম্মার নামাজ,কালাম, মন্ত্র পাঠ।বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম স্কুল কলেজ মাদ্রাসা সহ ধর্মশালা।স্বং ইশ্বরের ঘরে তালা ঝুলে দিতে বাধ্য করেছে করোনা ।
তবুও থামছে না উন্মাদদের বিকারগস্ত উন্মাদনা,থামছে না ওয়াজের নামে নোংরামি, বদমাইসি,পাগলামি।
করোনা ভাইরাসের কবলে সেদিন তিন জন, আজ দুজনের কথা জানতে পারলাম। আসলে কী গোটা পাঁচজন!
অন্যদিকে বিদেশ ফেরত পাগলদের পাগলামি দেখে অবাক হয়ে যাই এরা কী ভাবে ঐ সভ্যদেশে এযাবতকাল থেকেছে।তাদের ভেতর এতো স্বার্থপরতা! এতো অশিক্ষা এদের ভেতর! ভেবে ভেবে আমিও কেমন যেনো পাগল হয়ে যাচ্ছি। করোনাকে মহামারি ঘোষণার পরও ঐ সব বিদেশফেরত’দের অনূভুতিতে কড়া নাড়ে না, আমরা কোথা-থেকে এসেছি,কী নিয়ে এসেছি! আমার সন্দেহ হয় তারা নিশ্চয়ই ইউরোপের পথে ঘাটে ভিক্ষা কিংবা কাগজ, বোতল, প্লাস্টিক কুড়াতো । আর রাত ভরে মহা বিজ্ঞানী কাজি ইব্রাহীম হুজুরের বক্তব্য শুনতেন ।
করোনা নিয়ে এদেশে আতংকের চেয়ে দেখছি একপ্রকার উৎসবে মেতে উঠেছে। হা-হা,হি-হি করে করোনা নিয়ে শুরু করেছে আমদ ফুর্তি। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন কী, প্রত্যক্ষ ভাবে পাঁচ জন রোগী হলেও পরক্ষ ভাবে আমরা সবাই এই ব্যাধির ভুক্তভোগী।
করোনা আতংকে ইতিমধ্যে ইউরোপ থেকে কোন বিমান যাচ্ছে না ওপারে।ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা করতে পারছে না মদিনা সফর, দিতে পারছে না বহু দোষ পাওয়া পিন্ডির দলা গয়া গঙ্গার জলে।
একবার চিন্তা করুন তো এই মৌসুমে কাশী,বৃন্দাবন,মায়াপুরে তীর্থ ব্যাবসায়ীদের কী হাল হয়েছে। যে মক্কার উপর দিয়ে একটা কাকও উড়ে যায় না সে মক্কায় আজ করোনার উড়ে বেরায়! কী ভয়ংকর ব্যপার। ওদিকে যে ব্যক্তি করোনাএ দোয়ার বড়াই করে আমাকে চিকিৎসা দিচ্ছিলো সেও খুঁজতে বেরিয়েছে ভালো মাস্ক কোথায় পাওয়া যায়! সে বুঝতে পারছে ঐ সব দোয়া ফোয়া,বা ফতোয়ায় কাজ হবে না। কাজ হবে অমুসলিম, বিধর্মী who এর পরামর্শে, এলকোহল মিশ্রিত জলে। তাই বলছি করোনা নিয়ে আর তামাশা করবেন না প্রিয় ভাই,বোন,হুজুর পুরোহিত গণ ।

 

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

61 − 55 =