আওয়ামীলীগের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার মরণকামড়

প্রথমে, আওয়ামী সরকার করোনাভাইরাসকে তোয়াক্কা না করে মুজিববর্ষ পালনে ব্যস্ত ছিল। যখন মোদী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় তখন আওয়ামীলীগের টনক নড়ে। তারপরও তারা বেশ কিছুদিন অনবরত বলতেই লাগলেন, আতংকের কোন বিষয়ই না।

যেখানে ইউরোপ, আমেরিকা মহাদেশ হিমশিম খাচ্ছিল, সেখানে একমাত্র বাঙলাদেশ ঘোষণা দিতে থাকল ‘পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে’। আওয়ামী দালাল ও আওয়ামী ছদ্মবেশী সুশীলেরাও অনবরত বলতে লাগলেন, আতংকিত হবেন না।

যখন দেশের মানুষ আতংকিতবোধ না করে কক্সবাজার,বান্দরবান, রাঙামাটি ঘুরতে যাওয়া শুরু করলো তখন এই সরকার থেকে আওয়ামী দালাল ও আওয়ামী ছদ্মবেশী সুশীলেরাই বলতে থাকলেন- ‘মানুষজন এতো অসচেতন কীভাবে হতে পারে?’ প্রথমে তারাই মানুষজনকে ভরসা দিল যে আতংকের কিছু নেই; আবার, তারাই বড় গলায় চিৎকার করে বলতে থাকলেন- ‘এভাবে চলতে থাকলে তো মহামারী আকার ধারণ করবে’।

অনেকদিন লুকোচুরির পর সরকার ঘোষণা দিতে বাধ্য হল যে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ আছে। আবার, অন্যদিকে, সরকার কয়েকজন ডাক্তারসহ গুরুত্বপূর্ণ মানুষজনের স্ট্যাটাস ডিলিট করতে বাধ্য করলেন। একদিকে সচেতন হওয়ার গল্প, বিপরীতে ধামাচাপা দেওয়ার প্রবণতা।

আমাদের দেশের রাজনীতি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বের পরিবর্তে মিথ্যে গল্পের ভিত্তিতে চলে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তে একাধিক মানুষের মৃত্যু হলেও সরকার অনেকদিন পর একজন মানুষের মৃত্যু ঘোষণা দেয়। এই ভাইরাস থেকে মুক্তির পথ যেখানে উন্নত বিশ্বই খুঁজে পাচ্ছে না, সেখানে বাঙলাদেশের মত ক্ষুদ্র, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের পক্ষে সমাল দেওয়া সম্ভবই নয়। কিন্তু, মিথ্যে আশ্বাসে রাজনীতি নির্ধারিত।

এই দুর্যোগ মুহূর্তেও একাধিক ইসলামিক বিজ্ঞানীর আবির্ভাব ও উসকানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতিকে শুধু ঘোলাটেই করছে না বরং রোগের বিস্তার করতে সাহায্য করছে। সুতরাং সরকারের শুধুমাত্র পালিত সেলিব্রেটি ইসলামিকজঙ্গির উপর নির্ভর করে থাকলেই চলবে না, বরং শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, অসতের প্ররোচনায় শুধু সৎ মানুষের মৃত্যু হয়।

সরকার একাধিক নাট্য পরিচালনার পাশাপাশি ঘোষণা দিলেন যে আকাশ পথে যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। অথচ, এই ঘোষণার পরের দিনই ঢাকা বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট অবতরণ করে। সেই ফ্লাইট থেকেই একাধিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়।

পূর্বেই যদি সরকার এয়ারপোর্টে পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন, তাহলে- সারাদেশে প্রবাসীরা ছড়িয়েছিটিয়ে যেতে পারতেন না। সরকারের জানা ও বোঝা উচিত ছিল যে, বাঙলাদেশের মানুষেরা জার্মান বা ক্যানাডিয়ান নয়; বাঙলাদেশের মানুষ ও প্রবাসী সকলেই অবাধ্য, উগ্র, অসভ্য, অসচেতন, নিরক্ষর, মূর্খ। সরকার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন না হওয়ার কারণে অবাধ্য মানুষেরা এই দুর্যোগেও হাসিঠাট্টা ভয়ভীতি হুংকার দিয়ে ওয়াজমাহফিল করতে পারছে। যেমন সরকার তেমনই মানুষ।

সম্ভবত, সরকার ভেবেছিল সব কিছু ধামাচাপা দেওয়া যাবে কিন্তু যখন বুঝতে পেরেছে এই মরণকামড় থেকে কেউই রক্ষা পাবে না তখন তারা স্কুলকলেজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। গতকাল এই সরকারের ও দেশের সবচেয়ে বড় অভিনেত্রী শেখ হাসিনা নতুন এক নাট্যকলার সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেছেন, এই সংক্রমণ থেকে নিজের রক্ষা পাওয়ার জন্য বাড়তি কোন সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন না। এটাকে বলা হয় সিম্প্যাথি পলিটিক্স। একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকে লুকোনোর জন্য নিজেকে সবার সামনে মহীয়সী রূপে স্থাপন। এই উপমহাদেশ মমতার পর শেখ হাসিনার স্থান চূড়ান্ত।

সরকারদলীয় একাধিক রাজনীতিবিদ বক্তব্য দিলেন যে, প্রিয় জনগণ আপনারা সচেতন হন। অথচ মানুষজনকে সচেতন করার প্রচারণায় শত শত মূর্খ রাজনীতিকদের নিয়ে রাস্তাঘাটে ছোটখাটো মিটিং মিছিল করে ফেললেন। অন্যদিকে, ঢাকার এক বিশিষ্ট মেয়র হাত ধোয়া কর্মসূচিতে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নিয়ে জড়াজড়ি করে সচেতনা বৃদ্ধির যে অসাধারণ কল্যাণময় কাজ সম্পাদন করলেন তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অনেক দেরি হলেও সরকার কয়েকটি অঞ্চলকে লক ডাউন করেছে। কিন্তু, যে সকল অঞ্চলকে লক ডাউন করেছে, সে সকল অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক, দরিদ্র। সব কিছু বন্ধ করে দেওয়া হলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে। এই কারণে সরকারের উচিত সেই সব অঞ্চলের মানুষের তালিকার মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দেওয়া।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে শপথ নেওয়া সংসদ সদস্যের ১৮২ জনই ব্যবসায়ী। তাদের যে পরিমাণ কালো টাকা সংগ্রহে আছে, তারা চাইলেই সাহায্য করতে পারে। এছাড়া, গত দশ বছরে মোট ৩৫০ জন সংসদসহ তাদের আত্মীয়স্বজনেরা যে পরিমাণ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে- তা দিয়েও দরিদ্র মানুষের সাহায্য করতে পারে।

একদিকে সরকার বলছে ঘরবাড়ি থেকে না বের হতে, মসজিদ-গীর্জা-মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা না করতে, সমাবেশ ও অনুষ্ঠান স্থগিত করছে। অন্যদিকে, ঢাকা ১০ আসনের নির্বাচনের ঘোষণাও দিয়েছে। অর্থাৎ, এই সংকটময় দুর্যোগ পরিস্থিতিতেও আওয়ামী সরকার আরেকটি অগণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচনের ছক কেটে রেখেছে।

একদিকে ঢাকাবাসী করোনামুক্ত থাকতে চায়। অন্যদিকে, কোয়ারেন্টিন ক্যাম্প বানাতে উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকার সচেতন বাসিন্দারা তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন।

বাঙলাদেশের মানুষের মন বোঝার জন্য এই একটা জীবন খুবই ক্ষুদ্র!

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of