কী সাহস আপনাদের! – Greta Thunberg

(১) প্রকৃতিই প্রথম ঈশ্বর বা Nature is the first God in the world. প্রবাদ আছে Nature must be justify for any violation of human being. তবে এটাও ধ্রুব সত্য প্রকৃতির কাছে কেউ রেহায় পায় না। জম্ম হয় আমাদের যেমন প্রকৃতিভাবেই ঠিক তেমনি মৃত্যু হবে এক সময় অনিবার্য। অতএব মৃত্যুর পরেও আমাদেরকে প্রকৃতির সাথেই মিশে যেতে হয়। সেটা মৃত্যুর পরে আগুনে পুড়িয়ে হউক, মাটিতে কবর দিয়ে হউক বা সাগরের পানিতে নিক্ষেপ করে হউক। প্রকৃতির কাছে হারতেই হবে। পশু-পাখি, প্রাণীকূলও তার বিপরীত নয়। এমনকি বিজ্ঞানও তার আবিস্কারে স্বীকার করেছে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে প্রকৃতির নিয়মে বিকট এক মহাবিস্ফোরণে। তাই ভবিষ্যত প্রজম্মরা যাতে পৃথিবীতে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে তার জন্য প্রকৃতিকেই আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসতে হবে। একমাত্র প্রকৃতি বাঁচলেই, বাঁচবে মানুষ বা প্রজম্ম।

(২) গত ২৩/০৯/২০১৯ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে আবেগভরা ভাষণ দেন জলবায়ু বিষয়ক আন্দোলনের সাড়া জাগানো বিশিষ্ট আন্দোলন নেত্রী, সুইডিশ কিশোরী Greta Thunberg(১৭), বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিশাল মাত্রায় বিলুপ্তির পথে চলতে শুরু করেছি৷ আর আপনারা শুধু টাকাপয়সা আর অনন্তকাল ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির রূপকথার কাহিনী শুনিয়ে চলেছেন৷ কী সাহস আপনাদের!” রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতার অভিযোগ করে গ্রেটা আরও বলেন, ‘‘আমাদের কাছে আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন৷ কিন্তু তরুণ প্রজন্ম আপনাদের বিশ্বাসঘাতকতা বুঝতে পারছে৷”
একমাত্র তিনিই মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump কে লক্ষ্য করে বলেছেন, ডেয়ার ইউ! ফাঁকা ভাষণ দিয়ে আমাদের শৈশবের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দাও। মানুষ মারা যাচ্ছে। গোটা পরিবেশ শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা এখনও অনেকদিন বাঁচব। কিন্তু পৃথিবী বাঁচবে কি? দূষণ আর উষ্ণায়নে পৃথিবীর মৃত্যু ডেকে আনছেন আপনারা।

(৩) তিনি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে ২ বছর আগে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর ভয়াবহ বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন। এখন আমরা পুরো বিশ্বেই ভয়াবহ বিপর্যয় লক্ষ করছি। বলতে দ্বিধা নেই আমার মতে এই কিশোরী মেয়েটিই প্রকৃতি প্রদত্ত বর্তমান বিশ্বের জীবন্ত কিংবদন্তী! অল্প বয়সে প্রকৃতিকে বাঁচাতে সদা তৎপর থেকে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।

(৪) জলবায়ু বিষয়ক অ্যাক্টিভিস্ট, বিজ্ঞানী, বিশ্বনেতা এমনকি পোপও গ্রেটাকে সমর্থন করে তাকে ‘কাজ চালিয়ে’ যেতে বলেছেন।
আর প্রকৃতিবিদ এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো গ্রেটার প্রশংসা করেছেন এই বলে যে সে যা অর্জন করেছে তা আর কেউ করতে পারেনি। গ্রেটাকে তিনি বলেছেন, “তুমি পৃথিবীকে জাগিয়ে তুলেছ। আমি তোমার কাজে গর্বিত।”

(৫) সর্বোপরি তার আন্দোলনের অনুপ্রেরণাতেই সবাই নিজের নিজের কমিউনিটিতে গড়ে তোলেন প্রতিবাদের আন্দোলন যা পরবর্তীতে পরিচিতি পায় ‘Fridays for Future’ আন্দোলন নামে। তাই আসুন আমরা প্রকৃতি প্রদত্ত কিংবদন্তী Greta Thunberg কে সমর্থন দিয়ে “জলবায়ু ন্যায়বিচারের” পক্ষে জনমত গড়ে তুলি এবং বিশ্বকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে যতদ্রুত সম্ভব রক্ষা করি।

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 38 = 44