“যুগ যন্ত্রণার দর্শন” এক অনন্য বোধোদয়ের দর্শনকাব্য

নিজে বাংলা সাহিত্যে পড়ালেখা করলেও “যুগ যন্ত্রণার দর্শন” সম্পর্কে আমার আগ্রহ সেই কৈশোরিক কাল থেকেই। এবং বস্তুবাদী আমাকে ঐরূপ বস্তুবাদী এক দর্শন পুস্তক “যুগ যন্ত্রণার দর্শন” ডাকযোগে পাঠালেন বন্ধু মো: আ: কাইয়ুম। সরকারি কলেজের দর্শনে অধ্যাপনাসূত্রে জনাব কাইয়ুম তার এ বইয়ে জগৎ জীবনের সাথে তাবৎ যুগের যন্ত্রণাকেও প্রত্যক্ষ করার চেষ্টা করেছেন এ বইয়ের পাতায় পাতায়। তাইতো প্রকাশক এ পুস্তককে ‘নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গীর নির্দেশনামূলক সমীকরণিক প্রচেষ্টা’ বলেছেন অবলীলায়।
:
জীবন ও জগতের যে কোনো সমস্যাই গোড়াতে দর্শনের আওতাভুক্ত থাকলেও, দর্শনের মূল প্রশ্ন হিসেবে বিশ্বসত্তার প্রকৃতি, মানুষের জ্ঞানের ক্ষমতা অক্ষমতার প্রশ্ন, বস্তু ও ভাবের পারস্পরিক সম্পর্ক, মানুষের চিন্তা প্রকাশের প্রকৃষ্ট উপায় বা যুক্তি এবং মানুষের ন্যায়-অন্যায় বোধের ভিত্তি ও তার বিকাশের প্রশ্নগুলি প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি দর্শনের নিজস্ব আলোচনার বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। দর্শনের এই মূল বিষয়কে ‘মেটাফিজিকস, অধিবিদ্যা বা পদার্থ-অতিরিক্ত বিদ্যা বলে অনেক সময় অভিহিত করা হয়। প্রাচীনকালের বিশ্বকোষিক এরিস্টটলের আলোচনারাজিকে ফিজিকস, মেটাফিজিকস, লজিক, এথিকস, পলিটিকস পোয়েটিকস, রেটোরিকস প্রভৃতি ভাগে বিভক্ত করা হয়। এবং সেই দৃষ্টিভঙ্গীতে জনাব কাইয়ুমের পুস্তককে দেখার চেষ্টা করেছি আমি!
:
দর্শন অধ্যয়নে মানবিক জ্ঞানতত্ত্ব, অভিজ্ঞতাবাদ, নীতিশাস্ত্র তথা মূল্যবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা, অধিবিদ্যা, রাজনৈতিক দর্শন, দর্শনের ইতিহাস, পাশ্চাত্য দর্শন, গ্রীক দর্শন, মধ্যযুগ, এনলাইটেনমেন্ট যুগ, আধুনিক যুগ, সমসাময়িক যুগ, প্রাচ্য দর্শন, ভারতীয় দর্শন, চৈনিক দর্শন, ইসলামী দর্শন, আফ্রিকান দর্শন, দার্শনিক মতবাদসমূহ, বাস্তববাদ ও নামবাদ, বুদ্ধিবাদ ও অভিজ্ঞতাবাদ, সংশয়বাদ, ভাববাদ, প্রয়োগবাদ, রুপতত্ত্ব, অস্তিত্ববাদ এবং এর বিশ্লেষণী ধারা জানা অত্যাবশ্যক বলে মনে করি। বস্তুবাদী দার্শনিক জনাব কাইয়ুম এ প্রপঞ্চকে মাথায় রেখে তার পুস্তকে বাস্তবিকতা ও বস্তুগত ব্যঞ্জনা, দর্শনের প্রকৃতি, কলা ও দর্শন, ধর্ম ও দর্শন, বিবর্তন দর্শন ও বিজ্ঞান, দর্শন ও বাস্তবতার বিবর্তন, দর্শন ও অভেদ্য ভাবধারা, দর্শন সংশ্লিষ্টতা, দর্শন ও বিশ্বতত্ত্ব, মৌল কৃষ্ণগহবর ও আবর্তনের দর্শন, সৃষ্টি ও বিবর্তনের দর্শন, মানবপ্রবৃত্তি ও প্রকৃতির দর্শন, দর্শনে জৈব যৌগের বংশধারা ও প্রজননশীলতা, লজ্জা ও জড়তার দর্শন, জীবনচক্র ও বাস্তবতার দর্শন, মানুষের সাধারণ ও যৌন স্বাস্থ্য, সমকালীন চিন্তা ও দর্শন, শব্দ পদ ও প্রত্যয়ের অর্থ হিসেবে যুক্তি, আত্মা ও পরমাত্মার অর্থ এবং বাস্তবতা, বাস্তবে পরমসত্তা ও আত্মা, আস্তিকতা ও নাস্তিকতার দর্শন, তত্ত্ব ও দর্শন, মৌলের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার দর্শন, বিশ্বাস ও প্রবণতার দর্শন এবং আদর্শের মুদ্রণ ও প্রজন্মের দর্শন প্রভৃতি সব শাখাতেই ঢু মেরেছেন অতলান্তিক নিপুণতায়।
:
তার এ পুস্তক পাঠে দর্শনের শিক্ষার্থী ছাড়াও উপকৃত হবেন আমার মত অদার্শনিক — যারা আজকের জটিল আস্তিকতা ভার্সাস নাস্তিকতার জীবন ও জগৎ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। চমকপ্রদ হৃদহরণী ভাষায় বর্ণিত জনাব কাইয়ুমের র্দশন পুস্তক সত্যিই এক সুখপাঠ্য জ্ঞানমূলক গ্রন্থ। মাত্র দুশ টাকার এ বইটিতে পাঠক খুঁজে পাবেন ন্যূনতম দুকোটি টাকার দার্শনিক জ্ঞান, যা আমাদের জীবন ও জগৎকে চিনতে সহায়ক হবে। আমাদের সমকালীন চিন্তা আর বোধকে আরো শানিত করবে এ বই, এ প্রত্যাশা দৃঢ়তর আমার মননে!
ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

89 + = 93