ধার্মীক মুসলমানদের ক্ষতি চাইলে

মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া লোকগুলোর খারাপ চাইলে মসজিদে নামাজ পড়তে যাবার কথা বলতাম। মরুক ওরা মসজিদে গিয়ে সংক্রমক হয়ে! মাদ্রাসা শিক্ষা শিখে মুসলমানরা একবিংশ শতাব্দীতে পিছিয়ে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাক চাইলে মাদ্রাসা শিক্ষার পক্ষেই বলতাম। তাদের সর্বনাশ চাইলে ইসলামের পক্ষে কথা বলেই তাদের ধ্বংস করা যথেষ্ঠ। অথচ বিপরীতে দেখুন, গোটা বাংলাদেশে বিভিন্ন ইসলামিক দল সংঘঠনগুলো লিফলেট বিলি করছে, করোনা বলতে কিছু নেই, ছোঁয়াচে রোগ বলতে ইসলামে কিছু নেই, করোনা মুসলমানদের জন্য আসেনি, এটা শুধু কাফেরদের মারতে এসেছে…। হেফাজত ইসলামের জেলা আমীর বিভিন্ন মসজিদের ইমামরা এটাই প্রচার করছে করোনা মুসলমানদের জন্য আসেনি, এটা কেবল কাফেরদের মারতে এসেছে। মুসলমানদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই, মুসলমানরা যেন সবাই মসজিদে আসে…। ঢাকাতে ৩২টি এলাকার জন্য ৩২টি আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছিলো এইসব লিফলেট বিতরণ করার জন্য।…যাদের মনে এত ঘৃণা বিদ্বেষ তাদের মঙ্গলের জন্য আমাদের কেন এত মাথাব্যথা থাকবে?

 

মুসলমানদের খারাপ চাইলে শুরুতেই ইসলামের প্রশংসা করতে হবে। তাদের মাদ্রাসা শিক্ষার পক্ষে কথা বলতে হবে। তাদের পার্সোনাল ল’, শরীয়া আইনের সুখ্যাতি করতে হবে। এগুলোতে নিমজ্জিত থাকলে মুসলমানদের ক্ষতি করতে অন্য করোর প্রয়োজন হবে না। কিন্তু দিনের পর দিন মুসলিম সমাজের এই ভাইরাসগুলো বিরুদ্ধে বলার কারণ তারা যেন আত্মযুদ্ধে লিপ্ত হয়ে মুক্তি পায়। ভারতের হিন্দুদের করোনায় হত্যা করতে তাদের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে দিতে ভারতীয় একজন মুসলিমের আহ্বান বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। এটা বিচ্ছিন্ন হলে বাংলাদেশে সংঙ্ঘবদ্ধভাবে প্রচার চালানো হত না যে করোনা কেবল কাফেরদের মারতে এসেছে অতএব মুসলমানদের এটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমানরা এই প্রচারে আশ্বস্ত হচ্ছে এবং করোনার আগমনে তারা খুশি কারণ এতে কাফের অমুসলিমরা শেষ হয়ে যাবে!

 

মুসলিম ব্যাকগ্রাউন্ড না হলে কেউ চিন্তাও করতে পারবে না মুসলিম মানসে জন্ম থেকে কি রকম মুসলিম ও অমুসলিম এই বিভেদে সমগ্র মানবজাতিকে ভাগ করে দেয়া হয়। মুসলমানদের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের অমুসলিমরা ষড়যন্ত্র করছে। তাই অমুসলিমদের যে কোন ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হলে মুসলিমদের আনন্দিত হওয়া উচিত! এই চিন্তা চেতনা আজো মুসলিমরা পারিবারিকভাবে লাভ করে ‘মুসলিম উম্মাহ’ জাতীয়তাবাদের চেতনায়। এত ঘৃণা যারা পুষে রাখে তারাই সবচেয়ে বেশি ঘৃণা বিদ্বেষের অভিযোগ তোলে সারা পৃথিবীর বিরুদ্ধে! একটা প্রমাণ দেখান তো, পৃথিবীতে সাড়ে চার হাজার ধর্মের কোন সম্প্রদায় বলছে করোনা কেবল মুসলমানদের জন্য এসেছে? মুসলমান বাদে এমন একটি ধর্ম সম্প্রদায় দেখাতে পারবেন যারা নিজ সম্প্রদায়কে করোনা আওতামুক্ত বলে বাকীদের ধ্বংসের কামনায় উল্লসিত?

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

44 + = 52