দুই মোড়লের কৈল্পিক কাহিনী!

(১). ইয়াবড় গ্রাম কমলালেবুর মতো গোওল, গ্রামটির নাম ওয়াকিপৃটাং। বাস করতেন খুবই পরাক্রম শৈক্তশালী দুই মোড়ল ‘শিয়ংকঙ ও ট্রংবঙ’। দু’জনেরই আবার শৈলমাছের ঝোল খুব পছন্দ। এছাড়া তাদের মৈধ্যে মৌড়গবিদ্যা, দারুবিদ্যা, প্রযৈক্তদৃশ্য বিদ্যা, তারাবিদ্যা, চাঁনসুরতবিদ্যা, শৈল্যযাদু, ফোঁকোবিদ্যা, ভৈরস্যবিদ্যা ও কৈথ্যবাক্যে নিত্য যুদ্ধ ও প্রৈতৈযোগৈতা লেগেই থাকতো। আর এক অদৃশ্যৈ কৈবিরাজ ‘প্রকংবঙ’ বগল বাজাতে বাজাতে নিত্য ঝারফুঁক দিয়ে ভেতরে ভেতরে তৈবিজ বানাতে থাকলেন। কোনএকসময় বনৈমৌড়গের ঠ্যাঙের সাথে শৈলমাছের ঝোল কাড়াকাড়ি নিয়ে দু’মোড়লের তুমুল ঝগড়া বেঁধে যায়। অবশেষে চৈন্তাশৈক্তে দৃঢ় হলো তাদের প্রৈতলযোগিতা সর্বশৈক্ত প্রৈদর্শন করার মৈধ্যমে সৈমাধা করা দরকার। যে চৈন্তা সেই কার্য এতে তারা বাজিও ধরলো, যে জিতবে তাকে অন্য একটি ‘গুবিটঙ'(ভিনগ্রহৈর মৈলিকানা) এর মৈলিকানা স্বীকার করে নিতে হবে।

(২). রাজ্যের প্রজৈদের জন্য তেমন কোন চৈন্তা এদের নেয়। মোড়লগিড়িই এদের সৈব্যসর্বা। প্রৈদর্শন শুরু- প্রথম মোড়ল নাম ‘শিয়ংকঙ’ নিজের মাথা বাদে সারাশরীরে ফোঁকোযাদুমৈন্ত্র বলে আগুন লাগালেন, আগুন দেখা যাচ্ছে আর থামছেই না এভাবে অনেকদিন। ইহা দেখে অন্যমোড়ল ‘ট্রংবঙ’ মিটি মিটি জোনাকি ফোঁকার মতো দূর থেকে হাঁসতে লাগলেন, আর মনে মনে বলতে লাগলেন মনে হয় এবার রৈক্ষা নেই। এর পরাজয় নিশ্চিৎ কিন্তু কিছুদিন পর দৈখা গেলো শিয়ংকঙে’র তেমন কিছুই হয়নি, শুধু পায়ের গোড়ালির নিচে পুড়ে গিয়ে একটু ফোঁসকা পড়েছে মাত্র; তাও তার মৈন্ত্র ও কালাদারুতে অনেক ঠিক হয়ে গেছে। তবে খারাপ দিক হলো ফোঁসকা থেকে কঠিন ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। এরপর এলো দ্বিতীয় মোড়ল ট্রংবঙে’র পালা তার ভৈরস্যবিদ্যা মৈন্ত্র পাঠ করতে করতে তিনিও মাথা বাদে সারাশরীরে নৈলাভঅগ্নি লাগালেন। কিন্তু কি আশ্চর্য! আগুন রঙ পাল্টাচ্ছে আর পাল্টাচ্ছে, থামছেই না। দেখা যাচ্ছে অনেকদিন হলো তার কালাদারু, ততমতযন্ত্র মৈন্ত্রবিদ্যা কোনকিছুতেই কাজ হচ্ছে না সর্বৈক্ষেত্রে পোড়ার মাত্রা বেড়েই চলেছে। তাই বাধ্য হয়ে প্রথম মোড়ল শিয়ংকঙের নিকট সাহায্যের হাত পাতলেন। প্রথম মোড়ল সাহায্যের হাত বাড়ালেন বটে। কিন্তু ততদিনেই তার দুই পাছা পুড়ে গিয়ে এমন দুটো বড় ফোঁসকা ও গর্ত হয়ে পড়েছে, যার জন্য হাটাচলায় করতে পারছে না এখন ঠিকমতো। এর ফাঁকে আবার অদৃশ্য কৈবিরাজ ‘প্রকংবঙ’ তাবিজ বানাতে বানাতে দুইমোড়লের ঝগড়াতে নাকে সৈরসুরি লেগে হাঁচি পেয়ে এমন জোরে কাঁশৈ ও সাথে পাদৈ দিয়েছেন একটা তাবিজ ভৈস্মিভূত হয়ে এখন ওয়াকিপৃটাং নামক গ্রামের আনাচে-কানাচে বৈষিক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে কাপুনিসমেত ছোঁয়াশে চিকনমরিচাভৈরস্য রোগ ছড়িয়ে গেছে । তবে আশা করা যায় ভৈস্মিভূত তাবিজের বৈষক্রিয়ার মেয়াদ শেষ হলে ওয়াকিপৃটাং গ্রামটি আবার সজীব হয়ে উঠবে নৈতনরূপে। তবে আড়ালে আড়ালে দুই মোড়ল আলাপ করে ঠিক করলো গুবিটঙ(ভিনগ্রহ) অনাবৈস্কৃত থেকে যাবে। আপাতত সর্বৈপ্রাণুজীবন ও প্রজৈসাধারণের স্বাভাবিকভাবে বাঁচানোর জন্য গ্রাম ওয়াকিপৃটাং ই গড়ে তোলবে তারা এবং শপথ নিলো আর মোড়লগিরি ও ঝগড়াবৈবাদ বা কোন ক্ষৈতিকর প্রদর্শনী কৈরবে না।

Moral of the history: যততৈত্র বিদ্যা প্রদর্শন ও মোড়লগিড়িই পৃথিবীর একমাত্র ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর পৃথিবীতে বড় মোড়লের উপর যে আরো মহাবড় মোড়ল আছে, যা দৃশ্যমান হলেও বুঝতে দেড়ি হচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 5