একটি কাল্পনিক বৈষম্য ও অসম দ্বন্দের প্রসঙ্গ!!

(১).” আক্কায়া আর হুক্কাই” আপন দুই ভাই-বোন। তবে এদের মা এক হলেও বাপ আলাদা। মা বলে কথা! আর সেটা মা এদের কখনো বুঝতে দেয়নি। দু’জনের জম্মও আবার আলাদা আলাদা দেশে। মায়ের ছিল এক মোহনীয় অক্ষ শক্তি। তবে তিনি পৃথিবীর ক্ষতি হবে ভেবে তার শক্তি কোথাও কোনদিন প্রদর্শন বা ব্যবহার করেননি। ১৯৭৬ সালে ১লা এপ্রিল (এপ্রিল ফুলের সময়) যখন ইবোলা নামক ভাইরাসের অস্তিত্ব আবিস্কার হয় ঠিক তখন আক্কায়া’র জম্ম হয়েছিল। আর প্রায় ১১ বছর পরে ১৯৮৭ সালে যখন মেনিজাইটিস রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হয় তখন হুক্কাই জম্মগ্রহন করেন। এই রোগটার প্রভাবে তখন সৌদি আরবে মক্কায় প্রচুর প্রভাব পড়েছিলো, মক্কায় হজ্ব কাফেলায় মন্দা দেখা দিচ্ছিল। এমনও হয়েছে তখন একদিনেই বিশ্ব শেয়ার বাজার অর্থনীতি বিরাট ক্ষতির ধ্বস নামে। হুক্কাই’য়ের জম্মসাল মায়ের জানা থাকলেও জম্মতারিখটা মা ভুলে গিয়েছিলেন, কারন হুক্কাই যখন জম্ম গ্রহন করেন মা দিনের অর্ধেক সময় Sense less ছিলেন। প্রতিবছর ১লা এপ্রিল বড় বোন আক্কায়া ঘটা করে জম্মদিন পালন করলেও হুক্কাই তার জম্মদিন পালন করতে পারেন না। কারন তার জম্ম তারিখটা জানা নেই। তবে এটে তার তেমন কোন দু:খ নেয়।

(২). আক্কায়া যতই বড় হতে থাকে ততই রূপবতী, সুন্দরী হতে থাকে, প্রযুক্তি জ্ঞানও তার বেশ চমৎকার। দেখতে হলিউডের নায়িকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো চেহেরা। অন্যদিকে হুক্কাই তার চেহেরা গড়নে কোন সাইজ নেই, বেশ খাটো, বোঁচা নাক। প্রযুক্তি জ্ঞানেও বড় বোন আক্কায়া’র চাইতে নবীন, তবে প্রযুক্তি জ্ঞান যত দিন যাচ্ছে তত বাড়ছে তার। দুই ভাইবোন একদিন ঠিক করলো দেশে দেশে বিশ্ব ভ্রমণে বেড়াতে যাবে। বিশ্ব ভ্রমণে বেড়াতে গিয়েই দেখা গেলো বিপত্তি! বোন আক্কায়া’রে মেনে নিলেও ভাই হুক্কাই’কে কিছু কিছু দেশ মেনে নিতে পারছে না, প্রবেশে বাঁধা দিচ্ছে। এমনকি তার বড়ববোন আক্কায়া যেদেশে জম্মগ্রহন করেছে সেখানেও তাকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ভাই-বোনের সম্পর্কও দিনে দিনে চরম খারাপ হতে লাগলে। দেশে দেশে মিডিয়া আরো কিভাবে জানি জেনে ফেললো হুক্কাই মায়ের বৈধ সন্তান নয়। এও জেনেছে তার জম্মের সময় মেনিজাইটিস রোগের প্রাদুর্ভাব হয়ে বিশ্ব অর্থনীতি নড়েবড়ে হচ্ছিল এবং দুনিয়ার বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কাবা শরীফ খুব খারপ অবস্থায় ছিল। বিংশশতাব্দী আধুনিক যুগ, ত্রাহি ত্রাহি প্রযুক্তি। একবিংশ শতাব্দী সন্নিকটে মানুষ তবুও চলছে দেশে দেশে যতসব কুসংস্কার!

(৩).হুক্কাই টগবেগ তরুন ২৩ বৎসর আর বড় বোন আক্কায়া’র বয়স প্রায় ৪৪ যৌবন শেষের দিকে। তারপরও সে সুন্দর রূপবতী রমণী হওয়ায় আরবের এক ধনী সম্ভ্রান্ত তেল ব্যবসায়ীর সাথে গোপনে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে! এমন সময় তাদের মা (মরিচিংট্রা বিবি) এক অজ্ঞাত রোগে মারা গেলেন। সেকি কষ্ট দুই ভাইবোনের, কে দেখে! বিশ্বভ্রমণ বাতিল হয়ে গেলো। তবে মারা যাওয়ার সময় মা’ সমস্ত মোহনীয় অক্ষ শক্তি ছেলে হুক্কাই কে দিয়ে গেলেন, কারন হুক্কাই বিশ্বে অনেক দেশে বড় বেশি অবহেলিত, প্রবেশে বাঁধা পাচ্ছে। হুক্কাই মায়ের মৃত্যুর পর দেখলেন তার শক্তি বলে যেখানে হাত দেন এবং সে যা বলে তা হচ্ছে। এমনকি যতদিন যাচ্ছে তার নতুন নতুন যতসব প্রযুক্তি জ্ঞান বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় এমন দাঁড়িয়েছে সম্মোহনী শক্তি বলে মনে মনে যা ইশারা করেন তা ফুঁ দেয়ার সাথে সাথে ফলে যাচ্ছে! তাই চিন্তা করলেন বিশ্বভ্রমণে যেদেশ তাকে প্রবেশে বাঁধা দিয়েছে তাকেই ঘায়েল করবেন। যেই চিন্তা সেই কাজ হুক্কাই’ শুরু করলেন দেশে দেশে তার ঘায়েলের কাজ, মনে মনে ইশারা করেন আর ফুঁ দিয়ে বাতাসে উড়ান, তা এখন চলিতেছে আর চলিতেছে….
বি:দ্র: লেখাটি নেহাত কাল্পনিক!

ফেসবুক মন্তব্য

১ thought on “একটি কাল্পনিক বৈষম্য ও অসম দ্বন্দের প্রসঙ্গ!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

67 − = 61