মানবতার আর বিজ্ঞানের সম্পর্কের মাঝে ধর্মের উৎপাত

বিজ্ঞান ও মানবতা একে অপরের সম্পূরক হয়ে টিকিয়ে রাখার জন্যেই হয়তো এই পৃথিবীতে মানব জাতির উত্থান। অস্বীকার করার কোন উপায় আছে কি, মানুষ বিভিন্ন দুর্যোগে, অসুস্থতায় রোগমুক্তি থেকে শুরু করে জীবন ধারণে যে কোন প্রয়োজনে বিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল আর এই বিজ্ঞানকে সহযোগিতা করছে মানবতা। বিজ্ঞান যে কখনো কখনো মানবজাতির অকল্যাণেও ভূমিকা রেখেছে আমি সে কথা কোন ভাবেই উপেক্ষা করছি না, তবে মোদ্দা কথা হলো মানবজাতির মাঝে মানবতা না থাকলে বিজ্ঞানও টিকে থাকতো না। ধর্ম মাঝে মধ্যেই এই মানবতার আর বিজ্ঞানের সম্পর্কের মাঝে উৎপাত ও উত্তপ্ত অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করে বটে কিন্তু ধর্ম কস্মিনকালেও বিজ্ঞানকে জয় করতে পারে নাই। মানবজাতির মাঝে মানবতা ও মানবিকতার অনুভূতি আছে বলেই প্রেম, ভালবাসা, হাসি, কান্না, দুঃখ এসবের উদ্রেক ঘটে, পশু ও প্রাণী জগতেও এই অনুভূতি বিরাজমান কিন্তু বিজ্ঞান সেখানে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারছেনা বলেই পশু কিংবা প্রাণী রোগশোকে একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারেনা, একটি পা ভাঙ্গা ঘোড়া বা হাতির সর্বশেষ পরিণতিই হচ্ছে মৃত্যু যদি মানবজাতি তাদের রক্ষায় এগিয়ে না আসে।

একজন মানুষ যখন কাউকে ভালোবেসে সংসার জীবন শুরু করে ধর্ম সেখানে বিশেষ ভূমিকা রাখতে না পারলেও কিছু মানুষের মনে প্রেম ভালবাসায় ধর্ম আছে কি না সে প্রশ্নটাই মুখ্য হয়ে দাড়ায়, অন্ধের মত প্রেম ভালবাসাতেও ধর্ম খুঁজে বেড়ায়, সংসার জীবনে কাবিন নামায় ধর্ম লেখা আছে বা ছিল কিনা সে প্রশ্ন খুঁজে বেড়ায়, সেই ধর্মান্ধ মানুষগুলো কখনই বুঝতে পারে না যে ধর্ম কখনই মানুষের প্রেম, ভালোবাসা সংসার ধর্মের উপর নির্ভরশীল নয়, প্রেম ভালবাসা না থাকলে দুটি মানুষ শুধু মাত্র ধর্ম দিয়ে সংসার টিকিয়ে রাখতে পারে না।

covid-19 ভাইরাসটি মানবজাতির মাঝে আতংক সৃষ্টি করলেও এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে মানবজাতি এখনও বিজ্ঞানের মুখাপেক্ষী ধর্ম এখানে সত্যি নিষ্ক্রিয়, কথাটা ধর্মান্ধদের মাথায় ঢুকছে না বিধায় বিভিন্ন ধর্মীয় জমায়েতে একত্রিত না হতে শত উপদেশ দিলেও মানুষের বোধ জ্ঞান সেখানে জাগ্রত হয়না, ধর্ম হচ্ছে মানুষের অন্ধ বিশ্বাস যার প্রথম সূত্রই হচ্ছে যেসব কিছুই মানুষের অজানা সেগুলোর ছায়া তলে মানুষ আশ্রয় নেয় আর অজানা বিষয়গুলোর প্রশ্ন খুঁজে বেড়াতেই ধর্মকে শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে ধরে নেয়।

বিজ্ঞান এবং ধর্মের মধ্যে দ্বন্দ্বের উপলব্ধি :
মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস বিজ্ঞানের বিষয়গুলি সম্পর্কে তাদের মতামতকে কতটা প্রভাবিত করে?
মহাবিশ্বের উৎপত্তি এবং স্বর্গের নক্ষত্র এবং গ্রহ সংক্রান্ত ক্রিয়াকলাপ কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায় সে সম্পর্কে কয়েক শতাব্দী ধরে বিতর্ক ছিল। সাম্প্রতিক দশকগুলিতে, ১৮৫৯ সালে চার্লস ডারউইনের “অন্য প্রজন্মের প্রজাতি” প্রকাশের পর থেকে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে যেহেতু কেউ কেউ বিবর্তন তত্ত্বের দ্বন্দ্ব হিসাবে বিবেচনা করছেন তা থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং খ্রিস্টান বিশ্বাসের মূল শিক্ষাগুলি, বিবর্তন নিয়ে বিতর্ক এবং স্কুল পাঠ্যক্রমের তার অবস্থানের বিষয়টি স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং টেনেসি বনাম স্কোপস রাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট সহ সারা দেশের আদালতগুলিতে প্রকাশিত হয়েছে, যাকে “স্কোপস বিচার” হিসাবে উল্লেখ করা হয় যা ছিল “monkey” trial of 1925″ সালের বিচার। এই বিরোধগুলি কমপক্ষে দুটি বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত বইগুলির সাথে এখনও অব্যাহত রয়েছে যারা বিজ্ঞান এবং ধর্মের মধ্যে মতবিরোধের মধ্যে মূলত মতবিরোধ করছেন এবং তারাই ধর্মের সাথে বিজ্ঞান সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে বলে যুক্তি দেখাচ্ছেন। আর ঠিক এই মধ্যযুগীয় চিন্তা ভাবনার মানুষরাই হঠাত করে আপনাকে প্রশ্ন করে বসে ধর্মই যদি না থাকলো তবে সংসার বা বিয়ে কি করে হয়?

— মাহবুব আরিফ কিন্তু।

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

72 + = 73