চীনা ভাইরাস


আমার সাথে একি রুমে বসোবাস করা ৫০ উর্ধ সার্বিয়ান ব্যক্তিটি একদিন আমাকে বলছিলো যে তাকে একজন ব্যক্তি বলেছে যে করোনা ভাইরাসটি দ্রুত কার্যকারিতা হারাবে কারন এটি চীনের তৈরি।
ভয় পাবেন না আমার লেখাটি কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নয়,
আমার জানা মতে পৃথিবীব্যপি ছড়িয়ে পড়া সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি যা মানুষের মধ্য কোভিড-১৯ রোগে সৃষ্টি করে সেটি চীনের সরকার বা অন্য কোনো মানুষ দ্বারা সৃষ্টি ভাইরাস নয়। আমি নিজে এই ভাইরাসটির উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে বেশ কিছু লেখা পড়েছি ও এই বিষয় নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের বেশ কিছু ভিডিও দেখেছি এবং তা থেকে যতটুকু বুঝতে পেরেছি সেটি এই যে সার্স-কোভ-২ নিয়ে গবেষনা করা প্রায় সকল ব্যক্তি এই বিষয়ে একমত যে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি মানব সৃষ্ট নয়।
”This epidemic is a virus that has come from bats, possibly been amplified in markets in China. The current evidence is that it took residence in pangolins for a short period of time and then of course adapted in such way that easily made the jump to humans.” Jonathan Heeney, Professor of Comparative Pathology at the University of Cambridge.

 


”যে ভাইরাসটির কারনে আমরা এই মহামারির মুখোমুখি হয়েছি সেটি বাদুড় থেকে এসেছে এবং সম্ভাবত এটি চীনের প্রাণী বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে, বর্তমান তথ্য অনুযায়ি এটি বাদুর থেকে বনরুই এর মধ্য ছড়িয়েছে তার পরে বির্বতিত হয়ে মানুষের মধ্য এসেছে”
জনাথন হিনি, প্রভাষক কমপেয়ারড প্যথলজি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়,

 

 

 

 


“I don’t think there is any dispute at all in terms of scientific record this virus made it’s original jump to the first human sometime in mid November last year.”

 

 

 

Laurie Garrett science journalist and author.
”আমার মনে হয় না যে এই বিষয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক বিতর্ক আছে যে এই ভাইরাসটি গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম মানুষটিকে আক্রান্ত করে” ল্যারি গ্রাটি বিজ্ঞান সাংবাদিক ও লেখক।

 

 

আমি এটি মেনে নিয়েছি যে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি মানব ‍সৃষ্ট ভাইরাস নয় এবং এটি চীন সরকার বা অন্য কোনো মানুষ ষড়যন্ত্র করে ছড়ায়নি।
কিন্তু এটি একদম সত্য যে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটির দ্বার সৃষ্ট বর্তমান মহামারি সৃষ্টি হবার পিছনে চীনের দায় অনেক।
লেখার এই পর্যায় থেকে আমি সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটিকে চীনা ভাইরাস হিসেবে উল্লেখ করবো যাতে আমার লেখা বুঝতে সুবিধে হয়।

গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি কোনো একটি সময়ে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে কিছু মানুষের মধ্য একটি ফ্রুর অস্তিস্ত পাওয়া যায়। ডিসেম্ববের শুরুর দিকে চীন বলতে শুরু করে যে এই ফ্লু উহানের একটি স্থানিয় প্রাণী ও মাছের বাজার থেকে এর শুরু হয়েছে এবং তারা দাবি করে যে এটি সার্স ভাইরাসের মতো কিছু নয়। এবং যারা এই কথার বিরোধিতা করেছে তাদেরকে বিভিন্নভাবে দমিয়ে রাখা হয়।

 


৩০শে ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে, লি ওয়েনলিয়াং নামে একজন ব্যক্তি যিনি, উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালের একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ছিলেন, তিনি একটি চ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে সহযোগী চিকিৎসকদের সার্স ভাইরাসের মতো একটি ভাইরাসের সংক্রমনের ব্যাপারে একটি বার্তা দেন। সেখানে তিনি সবাইকে সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য প্রতিরোধমূলক কাপড় পরার পরামর্শ দেন।

৩১শে ডিশেস্বর চীন জানায় যে সেই প্রণী মারকেট বন্ধ করা হয়েছে এবং তারা ফলে এই ভাইরাসের সংক্রমন বন্ধ হয়েছে এবং এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াবার কোনো প্রমান পাওয়া যায়নি।
তারপরে যখন চীনা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে যে লি ওয়েনলিয়াং নামে উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এটি বলেছে যে চীনের উহান শহরে সার্স ভাইরাসের দ্বারা সৃষ্টি হওয়া ফ্লুর মতো একটি ফ্লু ছড়িয়ে পড়ছে তখন চীনা কর্তৃপক্ষ লি ওয়েনলিয়াং এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মন্তব্য করবার অভিযোগ আনে এবং এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এবং তার কাছে থেক একটি চিঠিতে স্বক্ষর নেয়া হয় যাতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দেবার অভিযোগ আনা হয়।
”পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরোর কর্মকর্তারা তাকে বলেন, ” আমরা আপনাকে সতর্ক করছি। আপনি যদি একগুঁয়েমি করে এ ধরণের অবৈধ কার্যকলাপ চালিয়ে যান, তাহলে আপনাকে বিচারের আওতায় আনা হবে। আপনি কি সেটা বুঝতে পারছেন?”
এর নীচে ডক্টর লি হাতে লিখে দেন, ”হ্যাঁ, আমি বুঝতে পারছি।”
পুলিশ জানিয়েছে, তিনি হচ্ছেন আটজন ব্যক্তির একজন, যাদের বিরুদ্ধে ‘গুজব ছড়ানোর’ অভিযোগে তদন্ত করা হচ্ছে।
জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে ওই চিঠির একটি কপি ওয়েবোতে প্রকাশ করেন ডক্টর লি এবং তার সঙ্গে কী ঘটেছে, সেগুলো বর্ণনা করেন।” বি বি সি বাংলা, https://www.bbc.com/bengali/news-51371540

চীনা একটি সংবাদপত্র Caixin এর তথ্য অনুযায়ি চীনা কর্তৃপক্ষ দ্বারা চীনের একদল গবেষক যারা এই নুতন ভাইরাসটির কোড খুজে বের করেছেন এবং এটিকে করোনা ভাইরাস গোত্রের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন তাদের এই সকল তথ্য প্রকার করতে বাধা দেয়া হয়েছিলো ও তাদের গবেষনার প্রমান লোপাট করা হয়েছিলো।
গবেষকদের দ্বারা নুতন ভারাসটিকে করোনা ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত হবার ৭ দিন পরে ৭ই জানুয়ারি চীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানায় যে নতুন ভাইরাসটি করোনা ভাইরাস কিন্তু তারা বলে যে যেহেতু মাত্র ৪০জন বা এর কাছাকাছি ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তাই বিষয়টি পুরোপুরি চীনের নিয়ন্ত্রনে আছে এবং তারা বলে যে এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। কিন্তু সত্য হচ্ছে যে চীন জানতো যে চীনে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা প্রতি সপ্তহে দ্বিগুন হচ্ছে এবং এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে।

 


জানুয়ারির ২০ তারিখে এসে চীন এটি স্বিকার করে যে চীনা ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে এবং আক্রন্ত রোগির সংখ্যা ৪০ নয় বরং প্রতিদিন ৪০০ মানুষের বেশি এই চীনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে।
২৩শে জানুয়ারি চীন উহানে লকডাউন ঘোষনা করে কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গেছে কারন ততক্ষনে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ চীনের নুতন বর্ষ (২৫শে জানুয়ারি) উপলক্ষে উহান থেকে চীনের অনান্য স্থান ও পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে প্রস্থান করে।

 

 

 

 


বর্তমানে আমাদের হতে থাকা তথ্যগুলোর দিকে তাকালে একদম নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে চীন যদি প্রথম থেকে এই ব্যপারটিকে গুরুত্ব দিতো ও এটি সম্পর্কে তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য না ছড়াতো তাহলে আমাদের চীনা ভাইরাস দ্বারা সৃষ্টি মহামারি দেখতে হতো না।
কারন চীন যদি সত্য প্রকাশ করতো এবং মিথ্যা তথ্য না ছড়াতো তহলে অন্য দেশগুলো উহান থেকে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক হতে পারতো এবং সম্ভাবেতো চীনকে বহু পূর্বেই উহানে লকডাউন দিতে বাধ্য করা সম্ভব হতো।

 

 

 

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

44 + = 47