পুর্নজম্ম ও তথ্যের আঙ্গিকে একটি আলোচনা প্রসঙ্গ।

(১) পুনর্জম্ম এটি একটি মতবাদ যা প্রধাণত জৈনধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, হিন্দুধর্ম, শিখধর্ম সহ প্রভৃতি ধর্মে প্রচলিত রয়েছে। যে মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে বিখ্যাত দার্শনিকের সাধনার জ্ঞান ও মুখ নি:সৃত বাণী থেকে। মহামানব দার্শনিক সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধই তারমধ্যে অন্যতম একজন।
পুনর্জন্ম বলতে কোনো ব্যক্তি বা প্রাণীর মৃত্যুর পরেও আবার নতুন কোনো দেহে তার আত্মার জীবিত হওয়াকে বোঝায়। ইংরেজি Word “reincarnation” derives from Latin, literally meaning, “entering the flesh again”.
অনেক উপাত্তে জানা যায় বিখ্যাত গ্রীক দার্শনিক পীথাগোরাস, সক্রেটিস ও প্লেটোসহ আরো অনেকে পুনর্জম্ম বিশ্বাসের কথা স্বীকার করে গেছেন। এমনকি তখন বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিসের অনেক চিন্তা-চেতনা বিশ্বাসকে তখনকার শাসকরা মানতেন না, যার জন্য পরবর্তীতে তাকে হেমলক বিষ পানে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।
এতদস্বত্তেও বিভিন্ন সময়ে নানা দার্শনিক এবং গবেষকগণ পুর্নজম্ম বিষয়ে গবেষণা করলেও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে একেবারে নির্ভুল বলে আজ পর্যন্ত গণ্য করা হয়নি। তবে ভারতসহ সারা পৃথিবীতে যুগযুগ ধরে পুনর্জন্মের নানা সত‍্যকাহিনী প্রচলিত আছে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ নিকেতনে বসে সূর্যাস্তের রঙের ছটা দেখতে দেখতে অনায়াসে লিখলেন-
“শেষ নাহি যে শেষ কথা কে বলবে
আঘাত হয়ে দেখা দিল আগুন হয়ে জ্বলবে।
ফুরায় যা তা ফুরায় শুধু চোখে,
অন্ধকারে পেরিয়ে দুয়ার, যায় চলে আলোকে।”

-যেখানে তাঁর লেখায় পুর্নজম্ম রূপেরই ইঙ্গিত বহন করে।

(২)এবার জেনে নেওয়া যাক পুনর্জম্ম বিষয়ে কিছু তথ্য উপাত্ত:
কানাডিয়ান বংশদ্ভূত Ian Stevenson আমেরিকান Psychiatrist ও ডাক্টার, এবং Director of the Division of Perceptual Studies at the University of Virginia School of Medicine. যিনি দীর্ঘ অনেক বছর যাবত পুর্বজন্মের কথা বলতে পারা শিশুদের উপরে ২৫০০ টিরও বেশি তদন্ত করেছেন এবং ১৪টি বই লিখেছেন। তিনি ছিলেন মূলত পুনর্জম্ম গবেষণা বিষয়ে পূর্ণ Determined একজন ব্যাক্তিত্ব। তিনি তাঁর গবেষণাতে বয়স্ক ব্যাক্তি ও শিশুদের মধ্যেও পুনর্জম্ম বিষয়গুলো বলতে পারাদের লক্ষ্য করেছেন। তিনি আরো বিশ্বাস করেছিলেন যে পুনর্জন্ম তৃতীয় ধরণের একটি ব্যাখ্যা প্রদান করে। এমনকি তিনি ১৯৮২ সালে সমাজে বৈজ্ঞানিক অন্বেষণ খুঁজে পেতে অনেক সহযোগিতা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রিসার্সগুলো “Twenty Cases Suggestive of Reincarnation (1966) এবং European Cases of the Reincarnation Type (2003)” নামে অধিক পরিচিত।

বিখ্যাত জার্মান থেরাপিস্ট Trutz Hardo এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি তার রচিত “Child Who Have Lived before: Reincarnation Today” বইতে Droze আদিবাসীদলের একটি ছেলের কথা উল্লেখ করেছেন যে পুর্বজন্মের কথা বলতে পারতো। যে ছেলেটি আগের জম্মে সাপের কামড়ে মারা গিয়েছিলেন।

এছাড়াও পুনর্জন্ম নিয়ে গবেষণাকালে আমেরিকার বিখ্যাত শিশু মনোবিশারদ প্রফেসর Jim B. Tucker ২০০৫ সালে তার বিখ্যাত বই “Life Before Life: A Scientific Investigation of Children’s Memories of Previous Lives” এ উল্লেখ করেছেন, তিনি একজন শিশুর খোঁজ পান যে তার পুর্বজন্মের কথা হুবুহু বলেছিল। তিনি এরকম আরও অনেকের সাথে দেখা করেছেন যাদের বয়স ২ থেকে ৬ বছরের মধ্যে এবং তারাও পুর্বজন্মের কথা বলতে পারতো। তার উক্ত বইটি মূলত তার ৪০ বছর ধরে University of Verginia তে পুনর্জম্ম বিষয়ে গবেষণায় প্রদর্শিত তথ্যের ফলাফল।
উপরোক্ত বিষয়গুলো আপনাদেরও ঘেটে দেখার আহবান থাকলো।

(৩) আমার একটি কবিতা:-

পুনর্জন্ম!

জম্মের জীবন মাত্রই কঠিন, বরং মৃত্যুই তত সহজে ঘটে,
সৃষ্টির যত যত পরিণাম, নি:শেষ হতে থেকেও ধারা আজো চলমান।
কাল থেকে কালে ঘটে চলে যে প্রকৃতির নিয়ম তা যেন অবিরাম নিত্য তবু বহমান।

মনের খবর জানতে তো তোমায় কেউ প্রশ্ন করেনি, তোমার চিন্তাশীলতাও কেউ তোমার মতো ভাবেনি,
অথচ তুমি উড়তে চেয়েছিলে শূন্য আকাশে, উড়েছো বটে খানিক পাখিদের মতো করে!

তোমার যে মনের স্বাদ ছিলো, সেটা তো কেউ খুঁজে দেখেনি,
অথচ তুমি উড়িয়েছো মনের ফানুস সেই মিটি মিটি তারাদের মতো করে।

ফেলে যাওয়া স্মৃতিগুলো নি:শব্দে বলবে তোমার কথা,
রেখে যাওয়া ডায়রিতে হয়তো হঠাৎ পড়বে কারো অপলক দৃষ্টি,
আঙিনায় তোমার রোপিত গাছের ডালে ডালে গজাবে নতুন পাতা,
মেঘে থেকে ঝরবে পানি ভেজাবে তাহা সেতো বর্ষিত বৃষ্টি।

এই প্রস্থান হয়তো তোমার শেষ নয়, এই চলে যাওয়া হয়তো তোমার ইতি নয়,
নিয়ম বদলে, যুগ বদলাবে রচিত হবে একে একে জগতের সৃষ্ট অধ্যায়।

রূপের হবে পরিবর্তন, স্থানে স্থানে পুনরায় বাসা বাঁধবে সারি সারি অমর অতিন্দ্রীয় আত্মা,
ফিরে আসবে বারে বার জীব হয়ে তারা, আমরা যে একে একে প্রকৃতিরই সেই ক্ষণজম্মা।

তথ্যপ্রমাণগুলো নিম্নরূপ:

বি:দ্র: লেখাটি যারা করোনাভাইরাসের মহামারিতে অবেলায় মৃত্যুবরণ করছেন তাদের জন্য উৎসর্গ করছি।

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

57 − = 49