অদৃশ্য ভাইরাসে বিশ্বাস করলে অদৃশ্য আল্লাহকে কেন নয়?

“কোভিড ১৯ দেখা যায় না, তবু মানুষ না দেখেই সতর্কতা অবলম্বন করছে,

তাহলে আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করবেন না কেন?”

শেয়ারকারী দীনদার ভাইয়ের পোষ্ট দেখে আমি মিনিট পাঁচেক পাগল আছিলাম। ভদ্রলোক দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা করা প্রকৌশলী। শিক্ষিত মানুষদের এমন কর্মকাণ্ড দেখলে আমি সাময়িকের জন্য পাগল থাকি। তারপর একটু হুশে এসে ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম,
— ভাইজান, আপনি কি কোভিড ১৯ এর মাইক্রোস্কোপিক ভিউ দেখেন নাই? দেখতে চাইলে বলুন বা নিজেই গুগল করুন, আশা করি পেয়ে যাবেন।
— আপনি নিজের চোখে দেখেছেন কোভিড ১৯?
— আমি কি বায়োরিসার্চার যে সচক্ষে সরাসরি প্রত্যক্ষ করব?
— তো আপনি বায়োরিসার্চারদের দেখাকে বিশ্বাস করছেন। তবে আমাদের নবীগণও আল্লাহকে দেখেছেন। আপনি তো নবী না যে আপনিও দেখবেন। তবে এক্ষেত্রে বিশ্বাস করবেন না কেন?
— ওয়েল, বায়োরিসার্চাররা শুধু দেখেই আমাদের উপর বিশ্বাসের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে কি? তারা কি প্রমাণ ছাড়াই প্রচার করেছে? তারা কোভিট ১৯ এর ফুটেজ, এভিডেন্স সহ পাবলিশ করেছেন। আপনি চাইলে সেগুলো দেখে নিতে পারেন। আল্লাহর কোন ফুটেজ হবে আপনার কাছে?
— তো আমাদেরও প্রমাণ আছে, কুরআন-হাদিস। এমনকি কাবা শরীফও তার অনন্য প্রমাণ। আল্লাহর ফুটেজ ধারণ করার প্রয়োজন হয় নি কখনো, বিশ্বাসীদের ঈমানই যথেষ্ট।
— তা বটে, প্রয়োজন হবে কি করে! জ্ঞানের সাথে ঈমানের সম্পর্ক ব্যাস্তানুপাতিক তা কে জানত, তা আগে জানলে নবী নিশ্চই ফুটেজও ম্যানেজ করে যেত। যাইহোক, কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা, গোটা পরিস্থিতি দৃশ্যমান, তাই কোভিড ১৯ নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকে না প্রমাণের। তাহলে ভাইজান কুরআন হাদিস যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে এসব নাস্তিক বিজ্ঞানী-গবেষকদের উপর বিশ্বাস ছেড়ে আল্লার নাম জপ করুন, কুরান-হাদিস থেকে সূরা বের করে পাঠ করুন, কারণ কুরান হাদিসের চাইতে তো বড় চিকিৎসা শাস্ত্র, বিজ্ঞান আর কিছু নেই! নিশ্চই এটা বিশ্বাস করেন!
— হ্যাঁ, আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে নবীর দেখানো পথেই চলছি।
— ভাইজান তাহলে এখন থেকে হ্যান্ড ওয়াশ, মাস্কের বদলে একবার করে আল্লাহর নামে ঝার ফুক করে নিবেন— কিচ্ছু হবে না ইনশাল্লাহ! আল্লার নাম শুনে করোনা এমনিই দৌড়ে পালাবে। আর পারলে একটু কাবা শরীফ দর্শন করে আসুন কিংবা যে জমজমের পানি পান করে এত এত কঠিন রোগ থেকে মানুষ মুক্তি পায়, সেটার পানি পান করে আসুন।
— কাবা এখন বন্ধ, সৌদিআরবও লকডাউন।
— কি বলেন ভাইজান! এই সৌদি আরব তো তাহলে নাস্তিক দেশ হয়ে গেছে! কাবা শরীফের কাছে মিলিত হলে যদি মানুষের কোভিড ১৯ ছড়ায়, তাহলে কাবার কোন বিশেষত্ব রইল! বরং কাবা তো এখন সকল ধর্মাবলম্বীদের জন্য খুলে দেয়া উচিত যেন পরিত্রাণ পায় সবাই এই রোগ থেকে! ঘোর অন্যায় করছে আরব!
এতক্ষণে শিক্ষিত দীনদার ভাইয়ের মাথা চক্কর দিয়েছে। কোন দিকে যাচ্ছে কথা! এবার অন্য স্বরে,
— আচ্ছা এই পোষ্ট আরও অনেকে শেয়ার করেছে, তাহলে আপনি তাদেরও এসব বুঝান! আমি তো একা সব জানি না, সবাইকে বলুন সঠিক উত্তর আসবে ইনশাল্লাহ।
— আজ্ঞে, ভাইজান আমার তো চাকরি বাকরি কিছু নেই তাই ভাবছি একটা টোল খুলেই বসতে হবে এবার সবাইকে বুঝাতে। সবাইকে তো আর মেসেজ দিয়ে দিয়ে বুঝাতে পারব না। আর পোষ্ট করলেও ঝামেলা!
— কেন? পোষ্ট করুন, সবাই দেখতে পাবে তবে!
— করতাম তো, কিন্তু সমস্যা হল আপনার দীনদার ভাইদের ঈমানদণ্ড বড্ড শক্ত যে! আমার এত ফ্রেন্ড ফলোয়ার সহ আইডিটা খেয়ে দিল, ফোন, মাস্টারকার্ড সব গেল, শুধু প্রাণটা আছে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পোষ্ট করব?
— আপনারা নাস্তিক মানেই মিথ্যেবাদী। আপনার আইডি আপনি ডিএক্টিভ করে রেখে এসব মিথ্যাচার করছেন।
— হ্যাঁ, ভাইজান তো আমার আগের আইডিতে ছিলেন, তাহলে মেসেঞ্জার চেক করে দেখুন আমার আগের আইডি ডিএক্টিভ নাকি নষ্ট করে দেয়া হয়েছে? আশা করি মেসেঞ্জার চেক করলে বুঝবেন। আর তাও বুঝতে সমস্যা হলে আমার পেইজে গিয়ে কষ্ট করে জিডির কপি দেখে আসুন। আর হ্যাঁ, আপনারা তো সত্যবাদী, আজ থেকে এসব অমুসলিমদের আবিষ্কার ব্যবহার বাদ দিয়ে আল্লার রাস্তায় আসুন। পারলে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে সবাই মিলে রক্ষা চান, আপনাদের করোনা হবে না ইনশাল্লাহ! টেক কেয়ার।
মনে মনে: যে দেবতা যে ভোগে তুষ্ট! মরো গিয়ে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 55 = 56