করোনা ও মানব সভ্যতার পরীক্ষা

পৃথিবীর ইতিহাসে কিছু কিছু ঘটনা যা চিরস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করে, তেমনি এক যুগ সন্ধিক্ষণে এসে আমরা দাড়িয়ে রয়েছি তা হল ‘করোনা সংকট’! এই করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতি কতদূর বিস্তৃত হবে তা এখনই বলা মুশকিল তবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধত্তর পৃথিবী আর কখনো এত ভয়াবহ সংকটের মধ্যে আগে কখনও আসেনি, এর ভয়াবহতা এত বেশি যে একে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ বলায় সংঙ্গত! বিশ্বের ইতিহাস যখন লেখা হবে তখন ‘করোনা পূর্ববর্তী বিশ্ব’ ও ‘করোনা পরবর্তী বিশ্ব’ হিসাবে উল্লেখ থাকবে। তাই বিশ্বের প্রতিটি দেশ, সমাজ, সভ্যতা এই অজানা শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যস্ত। মানব সভ্যতার এই লড়াই আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, আসলে প্রকৃতির কাছে আমরা কতটা অসহায়! মানব সভ্যতার প্রতি প্রকৃতির এ যেন এক মধুর প্রতিশোধ! প্রকৃতি যেন এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দিল পৃথিবীর সমস্ত কিছু ভোগ দখলের অধিকার একমাত্র মানুষের নেই, তাই প্রকৃতির এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে প্রকৃতি ঠিকই আসবে খড়্গহস্তে, যথার্থ শাস্তি দিতে!

বহু বিশেষজ্ঞের মতে যথেচ্ছাচার শিল্পায়ন ও অরণ্যের ধ্বংসের ফলে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির দুরত্ব ক্রমশ কমে যাচ্ছে এর ফলে মানুষ বন্য প্রাণীর সংস্পর্শে আসছে। এর ফলে বাদুড়ের মতো প্রাণী যা বহু বিষাক্ত ভাইরাসের বাহক মানুষের আরও কাছাকাছি চলে আসছে যার ফলে করোনা, ইবোলা, সার্স, মার্স ইত্যাদির মতো মারণ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আরও মনে করেন এখনই আমাদের সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, না হলে ক্রমাগত বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে আন্টার্কটিকা ও পর্বতের বরফ গলতে শুরু করবে এর ফলে একদিকে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। অন্যদিকে এরফলে (ডাইনোসর যুগের) লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি বছরের প্রাচীন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস যেগুলি এতদিন বরফের তলদেশে ঢাকা পড়েছিল সেগুলি আবার পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে। বলাইবাহুল্য এর ফলে মানব সভ্যতা চরম সংকটের সম্মুখীন হতে পারে! তাই মানুষ সচেতন না হলে করোনার মতো মহামারী তো শুধু ট্রেলার মাত্র এর চেয়েও ভয়াবহ মহামারী আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে!

প্রকৃতপক্ষে করোনা ভাইরাস ছড়ালো কিভাবে এ নিয়ে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের শেষ নেই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ভাইরাস ছড়ানোর জন্য চীনকে দায়ী করে একে ‘চীনা ভাইরাস’ নামে অভিহিত করছে! অন্যদিকে চীন দাবি করছে এটি আমেরিকার সেনা দ্বারা ছড়নো ভাইরাস। যাক পরস্পরের প্রতি এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ চললেও বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে মোটামুটি নিশ্চিত যে, এই ভাইরাস প্রাকৃতিক ভাবেই আমাদের কাছে এসেছে। যতটা জানা যায় এক শ্রেণীর বাদুড়ের আক্রমণে ‘প্যাঙ্গোলিন’ নামক এক প্রাণী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। চীনারা অন্যান্য বহু বন্যপ্রাণীর মতো প্যাঙ্গোলিনকেও খাদ্য ও পথ্য হিসাবে ব্যাবহার করে। তাই এই প্যাঙ্গোলিন উহানের পশু বাজারে বিক্রি হয় এর ফলে ক্রেতা বিক্রেতা সকলেই এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। প্রথম দিকে চীনা প্রশাসন একে গুরুত্ব না দিলেও পরবর্তীকালে চীন এর গুরুত্ব অনুধাবন করে। তাই কঠোর নীতি ও সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে চীন এই সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করে। যদিও বহু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন চীন তথ্য গোপন করছে, তবে এটা সত্য চীনের এই অসম লড়াইয়ের ফলে পৃথিবী বেশ কিছু দিন প্রস্তুতির সময় পায়, চীনের এই উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য WHO চীনের ভূয়সী প্রশংসা করে। যদিও প্রথম দিকে এই মহামারীকে বিশেষ গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে, বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কলঙ্ক চীনকে মাথায় বহন করতে হবে!

চীন তার সর্বশক্তি দিয়ে এই করোনা ভাইরাসকে রুখতে সক্ষম হয়েছে তাই করোনা সংক্রান্ত বিষয়ে চীনের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার রয়েছে। চীন যেহেতু বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি তাই স্বাভাবিক ভাবেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের চীনে অবাধ যাতায়াত রয়েছে। তাই চীন ছাড়িয়ে এই ভাইরাস এখন ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্বে প্রসারিত হয়েছে। সুপার পাওয়ার আমেরিকা আজ এই ভাইরাসে থরথর করে কাঁপছে। ইতালি, স্পেন, ইংল্যান্ড সহ ইউরোপে মৃত্যু মিছিল চলছে। ধীরে ধীরে এই ভাইরাস আফ্রিকার গরীব দেশের দিকে এগোচ্ছে এরফলে আগামী দিনে আফ্রিকা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দিকে দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। শুধু আফ্রিকা কেন মানব সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এবং পৃথিবীর কোন দেশ এই ভাইরাসের মারণ সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে না।

এই ভাইরাস বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো দেশে প্রবল প্রতাপ শুরু করেছে। পৃথিবীর উন্নত ও শক্তিশালী দেশের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে একে নিয়ন্ত্রণ করতে, ভাবুন এই ভাইরাস যখন উন্নয়নশীল দেশ ও অনুন্নত দেশে তান্ডব নৃত্য শুরু করবে তখন একে রোধ করা কি আদেও সম্ভব? এবার আশা যাক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এর প্রভাব কিরূপ তা আলোচনা করা যাক মোটামুটি এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে 16,05,277 জন মানুষ এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, মৃতের সংখ্যা 95,751 জন এবং সুস্থ হয়েছেন 3,56,925 জন। ভারতে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা 6,744 জন, মৃত 233 জন এবং সুস্থ হয়েছেন 483 জন। পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা 104 জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন 19 জন, মৃত 5 জন (সরকারি মতে) যদিও বেসরকারি মতে মৃতের সংখ্যা 15। সব বিষয়ে রাজনীতি করার প্রবণতা আগামি দিনে পশ্চিমবঙ্গকে বিরাট সমস্যার মুখে ফেলবে। বলাই বাহুল্য প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় এই তথ্য খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হল এর প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হবে? এক কথায় এত বিস্তৃত প্রভাব পৃথিবীর ইতিহাসে খুব একটা দেখা যায় না। করোনা ভাইরাস পৃথিবীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি চিরতরে বদলে দেবে। যে আমেরিকা এতদিন বিশ্বের সুপার পাওয়ার ছিল সে আমেরিকার সুপার পাওয়ার স্ট্যাটাস সম্ভবত হারাতে চলেছে। পৃথিবীর বড় বড় শক্তিশালী পুঁজিবাদী রাষ্ট্র যেমন- ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, কানাডা তাঁরা বর্তমানে চরম বিপদে পড়েছে তাঁদের অর্থনীতি শেষ হওয়ার পথে। অন্যদিকে এই করোনা ভাইরাসকে চীন, কিউবা ইত্যাদির মতো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র তুলনামূলক অনেক সহজে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে। পুঁজিবাদী অর্থনীতি ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির যে পুরানো লড়াই এখানে নতুন করে দেখা যাচ্ছে। এটা প্রমাণিত হচ্ছে পুঁজিবাদী অর্থনীতির ভোগ কেন্দ্রীক রাষ্ট্রব্যবস্থা হয়তো মানুষকে অধিক উন্নত জীবন প্রদান করে কিন্তু জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে সমাজতান্ত্রিক কাঠামোই অধিক যুক্তিযুক্ত।

আসলে ধনী দরিদ্র, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুরুত্ব না দেওয়ার ফল পুঁজিবাদী অর্থনীতির দেশগুলিকে ভোগ করতে হচ্ছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বের পন্ডিতরা পুঁজিবাদী অর্থনীতিই শেষ কথা বলবে বলে মনে করেন এবং একে নতুন ‘বিশ্ব ব্যবস্থার প্রবর্তন’ বলে মনে করা হয়েছিল কিন্তু এই এক ‘করোনা ভাইরাস’ প্রমাণ করে দিল সমাজে তীব্র বৈষম্য ও শুধু পুঁজির পিছনে ছুটে, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অবহেলা করে সমাজের একশ্রেণীর মানুষকে সুখী করা যেতে পারে কিন্তু সমাজের সমস্ত মানুষকে সুখী করতে হলে সমাজতন্ত্রের বিকল্প নেই। সকল মানুষের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও জীবন ধারণেই দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না। তবে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য চরম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বাক স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয় সেটা মোটেই কাম্য নয়, কারণ এক দলীয় শাসনব্যবস্থা প্রকারান্তরে ফ্যাসিস্ট শক্তির হাত শক্তিশালী করে। তাই প্রয়োজন ‘সমাজতান্ত্রিক মূলবোধের কল্যাণকামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা’! আগামী দিনে পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রই সম্ভবত এই মডেল গ্রহণ করবে।

করোনার ফলে আরও যে বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তা হল বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের আশঙ্কা ও তীব্র অর্থনৈতিক মহামন্দার আবির্ভাব। করোনার ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাপ্লাই লাইন ব্যাহত হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সংরক্ষণ নীতি গ্রহণ করছে যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট বৃদ্ধি করতে পারে। পৃথিবীর প্রতিটি দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় বহু দেশ বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করে WHO এর মতে এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যদি খাদ্যে সংরক্ষণ নীতি গ্রহণ করে তাহলে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ কার্যত না খেতে পেয়ে মারা যেতে পারে। আফ্রিকার গরীব দেশে সাধারণ সময়ে যেখানে খাদ্যের জন্য দাঙ্গা হয়, সেখানে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে কল্পনা করুন! কাজাখিস্তানের মতো দেশ যারা গম রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাঁরা তা বন্ধ করেছে, পৃথিবীর বহু দেশের এরূপ নীতি গ্রহণ করার ফলে সমস্যা জটিলতর হচ্ছে। তাই সমস্ত দেশের একত্রিত ভাবে কাজ করা উচিত তবেই এই তীব্র খাদ্য সঙ্কট থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব, বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এই সংকট সম্পর্কে সচেতন করেছে, আশাবাদী সমস্ত দেশ একসঙ্গে এর মোকাবিলা করবে।

ভারতের ক্ষেত্রে ও পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। লকডাউনের ফলে দেশের এক বৃহৎ সংখ্যক মানুষ কাজ হারিয়ে বাড়িতে বসে রয়েছে। তাই দিন আনি দিন খায় মানুষদের জীবন যন্ত্রণা বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে সরকার জনগণকে রেশনের ব্যবস্থা করছে কিন্তু শোনা যাচ্ছে সেখানে ও শাসক বিরোধী তরজা, রেশন দুর্নীতি ইত্যাদি দেখা যাচ্ছে। প্রকৃত পক্ষে জাতি হিসাবে আমরা কতটা নিকৃষ্ট মানসিকতার এগুলি থেকেই তা প্রমাণিত হয়! এই চরম দুর্দিনে ও আমাদের রেশন দুর্নীতি করতে হবে, গরীবের ন্যায্য পাওনা কেড়ে নিতে হবে? ছিঃ! সরকারের তথ্য অনুযায়ী জানা যায় বর্তমানে ভারতের এফসিআই এর গুদামে প্রায় 7 কোটি 70 লক্ষ টনের অধিক খাদ্য মজুত রয়েছে। মোটামুটি 4 কোটি টনের অধিক চাল ও 3 কোটি টনের অধিক গম মজুত রয়েছে যা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যা মজুত রাখা উচিত তাঁর তিন গুণ বেশি। বিশেষজ্ঞদের অনুমান এই খাদ্য দিয়ে ভারতবাসীর এক বছরের ডাল ভাতের সংস্থান সম্ভব। এর উপর কেন্দ্রের পূর্বাভাস এবারে রেকর্ড পরিমাণ অর্থাৎ প্রায় 29 কোটি 10 লক্ষ 95 হাজার টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হতে চলেছে যা গতবারের চেয়ে প্রায় 61 লক্ষ টন বেশি।

তাই ভারতবর্ষে আপাতত খাদ্যের সংকট নেই। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায় প্রথমত এই করোনা আতঙ্কে দেশের ট্রাক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, বহু জায়গায় সাপ্লাই লাইন ব্যাহত হচ্ছে, মানুষের হাতে অর্থের তীব্র অভাব তাই প্রয়োজন সরকারি সাহায্যে বাড়ি বাড়ি খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার সুব্যবস্থা করা, তা না হলে মানুষ লকডাউন মানবে না। বস্তুত এই লকডাউন কতদিন চলবে তাঁর কোন নিশ্চয়তা নেই, তাই এফসিআই এর সমস্ত খাদ্য দেশের জনগণ যাতে সুলভে পেতে পারে তাঁর ব্যবস্থা করতে হবে। এপিএল, বিপিএল না দেখে সকলকে সরকারি নির্দেশ মতো বিনা মূল্যে চাল, ডাল, গম দেওয়া প্রয়োজন। তবেই এই খাদ্য সংকট থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সেইসঙ্গে কৃষি শ্রমিকদের কৃষি কাজে ছাড় দেওয়া ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কৃষির উপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পরবর্তীকালে প্রতিবেশি তথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খাদ্য সংকট মোচনের গুরুদায়িত্ব পালনের ভার ভারতের উপর এসে পড়তে পারে তাই এখন থেকেই সেই পরিকল্পনা প্রয়োজন!

এবার আশা যাক অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে এই করোনার প্রভাব কি হতে পারে? অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে করোনার প্রভাব কতটা ভয়ংকর হবে তা এখনই বলা মুশকিল তবে বিশ্ব ব্যাংকের মত সংস্থা এখন থেকেই ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে চরম অর্থনৈতিক মহামন্দা আসতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান যত বেশি দিন এই লকডাউন চলবে তত বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে এবং বিশ্ব মহামন্দার করাল গ্রাস তত তীব্র হবে। অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল দেশ এই মন্দার অভিঘাতে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী দেশ তারাও চরমভাবে আক্রান্ত হবে। এর মধ্যেই বিশ্বের তেলের অর্থনীতির ভরকেন্দ্র ধীরে ধীরে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে তাই আগামী দিনে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বহু আশ্চর্য অপেক্ষা করছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে এই মহামন্দা 1929 এর বিশ্বব্যাপী মহামন্দার (World Great Depression) চেয়ে ও অনেক তীব্র হবে। 1929 এর আগস্ট মাস থেকে 1933 এর মার্চ পর্যন্ত প্রায় 43 মাস এই মহামন্দা চলেছিল। এরফলে বিশ্বের জিডিপি -26.7% কমে গিয়েছিল এবং 1933 সালে বিশ্বের বেকারত্ব সর্বাধিক বৃদ্ধি পেয়ে হয় 24.9%। এই মন্দা ভাব 1937-38 সাল পর্যন্ত চলেছিল এবং সর্বোপরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই মন্দা দূরীভূত হয়!

তবে 1929 এর বিশ্ব অর্থনৈতিক মহামন্দার চেয়ে ও এই অবস্থা আরও ভয়াবহ হতে পারে, কারণ ওই সময় উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ ছিল না কিন্তু করোনা ভাইরাসের ফলে উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোই বন্ধ, এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। এই স্থবিরতা ভেঙ্গে অর্থনীতিকে গতিশীল করা খুব একটা সহজ হবে না। যেখানে মানুষের জীবন বাঁচানোই বড় প্রশ্ন সেখানে পৃথিবীর কোন দেশই উৎপাদন ব্যবস্থার বিষয়ে আপাতত গুরুত্ব দিতে পারবে না। তাই এই স্থবিরতা দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে, যারা বিরুপ প্রতিক্রিয়া অর্থনীতিতে দেখা যাবে। গোল্ডম্যান স্যাক্সের মতো বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান মনে করেন 2020-21 অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি 1.6% এ নেমে আসতে পারে। রিজার্ভ ব্যাংকের পূর্বতন গভর্নর রঘুরাম রাজনের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এরফলে ভারতে 14 কোটি মানুষ বেকার হতে পারে। রাষ্ট্রপুঞ্জ মনে করে এর ফলে দেশে দারিদ্র্যসীমার নীচে যেতে পারে 40 কোটি মানুষ। তবে এপ্রসঙ্গে একটি কথা উল্লেখ্য পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে পরিস্থিতি কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে তাঁর উপর, এই অবস্থা যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে! শুধু ভারতেই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে বিশ্বব্যাপী এর প্রতিক্রিয়া কতটা ভয়ংকর হতে পারে একটু চিন্তা করে দেখুন! যদিও আশার কথা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ একসঙ্গে লড়াই করার ফলে এই পরিস্থিতি দ্রুত কেটে যাওয়ার একটা সম্ভবনা ও রয়েছে!

অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গে যে বিষয়টি মানব সভ্যতাকে সবচেয়ে বেশি বিপদে ফেলে দিচ্ছে তা হল ধর্ম। এই ধর্ম ও ধর্মান্ধতা মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের দিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এবার প্রশ্ন হল মানব সভ্যতা ধ্বংসে এই ধর্মের ভূমিকা কতটা? ধর্ম প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর যে কোন ভাইরাসের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও অনেক বেশি বিষাক্ত! এই করোনা ভাইরাসের মহামারীর সময়ে ও এই ধর্মের ভাইরাসের সংক্রমণ কোন অংশে কম নয় বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতেই দেখা যায় দিল্লির নিজামুদ্দিনে সমস্ত সরকারি নির্দেশ অমান্য করে তবলীগ জামাত মার্কাজ আয়োজন করে এরফলে বহু মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। প্রশাসনের কারা এদের অনুমতি দিয়েছে সে নিয়ে প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে। এই তবলিগ থেকেই তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু ভারতেই নয় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে এই তবলীগ জামাতের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তবলীগ প্রকৃতপক্ষে এক কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠন। চরম মূর্খ, ধর্মান্ধ ও মানসিক দিক থেকে অসুস্থ মানুষের এখানে আনাগোনা। এরা বিশ্বাস করে মুসলমানদের করোনা হবে না, আল্লার ইবাদত করলে করোনা হবে না, কোরানে যেহেতু করোনা ভাইরাসের উল্লেখ নেই তাহলে মুসলমানদের ও করোনা হবে না! বুঝন কি অবস্থা?

মহম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভি দেওবন্দি আন্দোলনে যুক্ত হন পরবর্তীকালে তাঁর নেতৃত্বে 1927 সালে উত্তরপ্রদেশের মেরটে তবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠা হয়। এই তবলীগের উদ্দেশ্য হল মুসলমানদের প্রকৃত ধর্মের নামে আরও কট্টরপন্থী করে তোলা ও 1400 বছরের পুরোনো নবী মহম্মদের সময়ের জীবনকে অনুসরণ করা। তবলীগরা মূলত ছয়টি আদর্শকে মেনে চলে- কলেমা, সালাত (নামাজ), জিকির (আল্লার নাম), ইকরাম ই মুসলিম (মুসলিমদের শ্রদ্ধা), নিয়ত (Sincerity of Intention) , দাওয়াত-ই- তবলিগ। মূলত এদের কাজ হল মুসলমানদের কট্টরপন্থীতে পরিণত করা ও মুসলিম মেয়েদের পর্দার মধ্যে বস্তাবন্দি করা, মুসলিম উম্মাহের মধ্যে ভাতৃত্ব গড়ে তোলা, সকলকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, প্রকারন্তরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে ইসলামে দীক্ষিত করা। এরা যেকোন প্রগতিশীল চিন্তা ভাবনার বিরোধী। তাই প্রকৃতপক্ষে তবলীগের সংস্পর্শে এলে যে কোন সাধারণ মানুষ বিবেক বর্জিত মানসিক দিক থেকে অসুস্থ এক প্রাণীতে পরিণত হয়। নবী মহম্মদ তাঁর শেষ ভাষণে বলেছিলেন পৃথিবীতে ততদিন জেহাদ চলবে যতদিন না ‘একজন ও অমুসলিম অবশিষ্ট থাকবে’, তাই প্রকৃতপক্ষে এরা নবী মহম্মদের পথ অবলম্বন করে পৃথিবীতে সকলকে মুসলমান হওয়ার দাওয়াত দিতে থাকে।

সরাসরি এদের সঙ্গে জঙ্গি সংযোগ পাওয়া না গেলেও এদের কট্টরপন্থী ইসলামে অনুপ্রাণিত হয়ে বহু মানুষ জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে! আবার আইএস, তালিবানের মতো সংস্থা এই জামাতিদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিজেদের কার্য হাসিল করে। ভারত ভাগের সময় এই জামাতিদের একাংশ ভারত ভাগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল এবং পরবর্তীতে তাঁদের এক বৃহৎ অংশ পাকিস্তানে অবস্থান করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই জামাতিরাই রাজকার বাহিনী গঠন করে ও পাক সেনার সঙ্গে মিলিত হয়ে বাংলাদেশের প্রায় 30 লক্ষ মানুষকে হত্যা করে। তাই এই ভয়ংকর সংগঠন প্রকৃতপক্ষে মানব সভ্যতার জন্য হুমকি স্বরূপ, তাই এদের নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। বর্তমানে এই সংগঠনটি 150 এর অধিক দেশে নিজেদের বিস্তার ঘটিয়ে পৃথিবীকে নরকে পরিণত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক শ্রেণীর ভন্ড সেকুলাররা আবার এই তবলীগদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করছে। তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ তবলীগ বিষয়ে কি কিছু জানেন? না জানলে এমন ভন্ডামি করে মুসলমান সমাজকে আরও পিছিয়ে দিচ্ছেন কেন?

এখন প্রশ্ন হল মুসলমানরা কেন পিছিয়ে? বহুল প্রচলিত এই প্রশ্নটি রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন দল ব্যবহার করে কিন্তু এর সমাধান করতে কেউ এগিয়ে আসে না। এনিয়ে পরে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা রয়েছে তবে আপাতত বলি, মুসলমানরা কেন পিছিয়ে এই নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনা হয়, বহু রাজনীতি হলেও এই বিষয়ে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সাচার কমিটির রিপোর্ট অনুসারে জানা যায় মুসলমানরা ভারতবর্ষে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়া জনজাতি। মুসলমানদের উন্নয়নের স্বার্থে কিছু মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়, মসজিদ প্রাতিষ্ঠিত হয়, হজ হাউস নির্মিত হয়। তা প্রশ্ন হল এর ফলে মুসলমান সমাজের উন্নয়ন হবে কিভাবে? মুসলমানরা সাধারণত আর পাঁচটা ধর্মের মানুষের চেয়ে অনেক বেশি কট্টর ও গোঁড়া হয়। সেখানে মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান ইত্যাদি করে মুসলমান সমাজকে আরও বেশি ধর্মান্ধ ও পিছিয়ে দেওয়ার ফলে কার লাভ হচ্ছে?প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ঠিক এই কাজটি করেই মুসলমান সমাজকে চরম অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তবে এপ্রসঙ্গে উল্লেখ্য শুধু রাজনৈতিক দলগুলিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই প্রকৃত সত্য হল মুসলমানরা পিছিয়ে ইসলামের জন্য। মুসলমানরা 1400 বছরের পুরানো সমাজ ব্যবস্থা চাই, তাঁরা চাই নবী মহম্মদের আমলের এক ধর্মান্ধ সমাজ ব্যবস্থা যেখানে পৃথিবীর অন্য ধর্মের মানুষকে জিম্মি করে রাখা হবে। প্রকৃতপক্ষে যারা পৃথিবীর জীবনের থেকে আখেরাতের (পরোকাল) জীবনকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তাদের উন্নতি হবে কিভাবে? যারা আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বেশি ভালোবাসে তাঁদের উন্নতি কিভাবে সম্ভব? একশ্রেণীর মোল্লা এলাকায় এলাকায় গিয়ে প্রচার করে তোমার যদি দুটো সন্তান হয় একটিকে স্কুলে দাও, অপরটিকে আল্লার রাস্তায় মাদ্রাসায় শিক্ষা দাও এরফলে সমাজে এক মূর্খতন্ত্রের প্রসার ঘটে। এরফলে একশ্রেণীর গরীব মানুষ তাঁদের সন্তানকে মাদ্রাসা শিক্ষায় দীক্ষিত করে, শুধু গরীব নয় অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষ ও নিজেদের জান্নাতবাসি হওয়ার টিকিট পাকা করতে নিজের সন্তানদের মাদ্রাসায় দেয়, এর ফলে তাঁরা এক মূর্খ, ধর্মান্ধ ও বর্বর মানুষে পরিণত হয়। এরা শুধু ইসলামকে ভালোবাসতে জানে এবং বাকি অন্য ধর্মের মানুষকে ঘৃণা করে এটাই তাঁদের শিক্ষা। প্রকৃতপক্ষে কোরান, হাদিসের বাইরে এদের কোন জগৎ নেই, এই কোরান, হাদিসকে ভিত্তি করেই মানুষকে ধর্মের ভয় দেখিয়ে তাঁদের ধর্মের দোকানদারি চলতে থাকে এভাবে সমাজ আরও বেশি পিছিয়ে যেতে থাকে।

এবার প্রশ্ন হল মুসলমানরা আধুনিক শিক্ষা পেলেই কি এই সমস্যার সমাধান সম্ভব? এর অপ্রিয় সত্য হল না, মুসলমানরা আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে ডাক্তার, উকিল, ইঞ্জিনিয়ার হলেও ইসলাম কিন্তু ঠিকই এদের পিছু ধাওয়া করে। তাই আধুনিক শিক্ষিত ব্যাক্তি ও এর সংস্কারের বাইরে আসতে পারেনা, সমস্ত কিছুতে ইসলামের গৌরব দেখতে পাই। ইসলামের সমস্ত কু-যুক্তিকে সঠিক মনে করে, আসলে লেখাপড়া শিখলে কি হবে যুক্তি বোধ জাগ্রত হয়নি। তাই প্রশ্ন করলেই ঈমান নষ্ট এবং জাহান্নামবাসী (নরকবাসী) হওয়ার ভয় থাকে! তাই এই কুযুক্তি থেকে তারাও কট্টর মুসলমান হয়ে থাকে, যার ফলে এই সমাজ ব্যবস্থার মৌলিক কোন পরিবর্তন হয় না।

এই ধরনের মানুষরা আবার সব কিছুতেই কোরানের মাহাত্ম্য খুঁজে পায়। এই কোরানিক বিজ্ঞানীরা মনে করেন আধুনিক বিজ্ঞানের সব কিছুই কোরান থেকে সৃষ্টি হয়েছে, যদিও এই করোনা ভাইরাসের টিকা এখনও পর্যন্ত কোন কোরানিক বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পারেনি। এদের যুক্তি বড়ই অদ্ভূত যদি এরা কোথাও জানতে পারে নবী মহম্মদ আকাশের দিকে মুখ করে থুতু ফেলত, তবে এরা সঙ্গে সঙ্গে দাবি করে বসবে দেখুন মহাকর্ষ বলের আবিষ্কারক হলেন নবী মহম্মদ, তিনি আকাশের দিকে মুখ করে থুতু ফেলে পৃথিবীর মানুষকে মহাকর্ষ বলের শিক্ষা দিয়েছেন। তেমনই অনেক ধর্মান্ধ বলেন করোনার সময় এখন যে বারবার হাত ধোওয়ার কথা বলা হচ্ছে তা তো নবী মহম্মদের কাছ থেকেই শেখা, তিনিই তো উজুর মাধ্যমে বারবার হাত ধোওয়ার কথা বলেছেন। সত্যিই ইসলাম কত মহান, এথেকেই প্রমাণিত হয় ইসলাম একমাত্র সত্য ধর্ম! এই যদি মুমিন ভাইদের অবস্থা হয় তাহলে এই সমাজ ব্যবস্থার উন্নতি হবে কিভাবে?

ঐতিহাসিক আঙ্গিকে দেখলে বলা যায় ব্রিটিশ আমলে যখন এদেশে ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলা হয় তখন হিন্দুরা বহু বিতর্কের পর আধুনিক ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও মুসলমানরা কাফেরদের ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, তাঁরা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তাই কার্যত প্রায় একশো বছরের অধিক এই ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থা মুসলমানরা হারাম মনে করেছিল, যার ফলে ওই সময়ে সমাজের সর্বস্তরে ইংরেজি শিক্ষিত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রভাব বিস্তার হয়, তাঁরা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ও অংশগ্রহণ করে। মুসলমানদের চেতনা হয় অনেক পরে পরবর্তীকালে সৈয়দ আহম্মদের নেতৃত্বে আলিগড় আন্দোলনের মাধ্যমে মুসলমানরা আধুনিক শিক্ষার দিকে এগিয়ে আসে। তাই এই পিছিয়ে থেকে শুরু করার ফলে তাঁরা বঞ্চনার সম্মুখীন হন। তবে কিছুটা ইংরেজদের প্ররোচনায় এবং বাকি মুসলিম উম্মাহর টানের কারণে এই আধুনিক শিক্ষিত মুসলমান সমাজের মধ্যে দাবি আদায় বোধ থেকে সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি হয়, সেইসঙ্গে উভয় ধর্মের সাম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধির পরিণতি হিসাবে শেষ পর্যন্ত দেশভাগের মতো দুঃখজনক ঘটনা সংঘটিত হয়।

দেশভাগ হলেও হিন্দু মুসলমান সমস্যার সমাধান কি আজও হয়েছে? মানলাম ভারতবর্ষে হিন্দুশাসনে মুসলমানদের উন্নতির বিশেষ সুযোগ নেই, তা প্রশ্ন হল পৃথিবীর প্রায় 57 টি মুসলমান দেশে মুসলমানরা কি অবস্থায় রয়েছে? পৃথিবীর কোন মুসলিম দেশ শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞানে উন্নতির চরম শিখরে উন্নীত হয়েছে? তাকিয়ে দেখুন পৃথিবীর সবচেয়ে গরীব, কুসংস্কাচ্ছন্ন, পিছিয়ে পড়া দেশগুলি হল মুসলমান দেশ। তাই প্রকৃতপক্ষে দোষারোপ অনেক করা যায় বাস্তব সত্য এটাই- যে জাতি আল্লার ভয়ে ভীত, যে জাতি জীবনের চেয়ে মৃত্যুর পরবর্তী জান্নাতের হুরের কথা বেশি চিন্তা করে, যে জাতি মনে করে কোরানই হল সমস্ত জ্ঞানের উৎস, সে জাতির এখন কেন আগামী 100 বছরে ও পৃথিবীতে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার পিছনে সবচেয়ে বেশি দায়ী হল ইসলাম!

এর চরম নিদর্শন দেখা যায় ইরানে। যে ইরান শাহের আমলে এক আধুনিক রাষ্ট্র ছিল সেই ইরানে পরবর্তীকালে ‘আয়াতোল্লা খেমেনির’ নেতৃত্বে ‘ইসলামি বিপ্লবের’ পর ইরানকে কার্যত মধ্যযুগীয় এক দেশে পরিণত করা হয়। ইহাই ইসলাম, ইহাই ইসলামি শাসন ব্যবস্থা! কেউ আবার একে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের পতনের বিরুদ্ধে ইরানের মানুষের নৈতিক জয়, সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি বলে ভন্ডামি করতে আসবেন না! এই ভ্রান্ত দর্শন ও ভন্ডামির কারণে সমাজ সভ্যতা আরও বেশি বিপদে পড়েছে। ইসলামি সভ্যতার আর এক চরম নিদর্শন দেখা যায় নাজিবুল্লার আফগানিস্তানে যেখানে তালিবানরা আধুনিক আফগানিস্তানকে কার্যত নরকে পরিণত করেছিল, ইহাই সহি ইসলামি শাসন ব্যবস্থা! তাই সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে শিখুন।

এবার প্রশ্ন হল ইসলামি জীবন বোধ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কিভাবে বাঁধার সৃষ্টি করছে?
বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞরা মানুষকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার কথা বলছেন। কিন্তু এক শ্রেণীর মোল্লারা প্রচার করছে যেহেতু কোরানে করোনার কথা নেই তাই মুসলমানদের করোনা হবে না। জনৈক এক মুসলমানকে বোঝাতে গেলাম এই সময় মসজিদে যাওয়া উচিত নয়, বাড়িতে নামাজ পড়ুন। তিনি প্রশ্ন করলেন রোগ দেওয়ার মালিক কে? রোগ সারাবার মালিক কে? আমি তখন উত্তর দিলাম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেই তো এই রোগ সারছে এবং বিজ্ঞানীরা এগুলি মেনে চলার কথা বলছেন। জনৈক ধর্মান্ধ উত্তর দিলেন একথা বলা মানেই সরাসরি কাফের হয়ে গেছ। আল্লার রোগ আল্লা সারাবেন, আর আল্লার ঘর মসজিদে গেলেই এই রোগের মুক্তি সম্ভব, তাই সরকার যে মসজিদ বন্ধ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এতে আরও আল্লার গজব নেমে আসবে, এরকম কোন প্রস্তাব মেনে নেওয়া যাবে না। এই হল এক সাধারণ মুসলমানের চিন্তাভাবনা তাহলে বলুন করোনার মতো মহামারীকে রুখবেন কিভাবে?

তবে এপ্রসঙ্গে উল্লেখ্য এই সমস্যা শুধু মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন ধর্মের ধর্মান্ধরা ও একই দাবি করছে। এই মহামারী করোনা রোধে যখন সরকার সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার কথা বলছে তখন একশ্রেণীর উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা রাম নবমী পালন করছে, পূজা করছে, গোমূত্র পান করে করোনা প্রতিরোধের চেষ্টা করছে। পাঞ্জাবে এক শিখ ধর্মগুরু বলেন গুরুদ্বারে করোনা হবে না তাই তিনি গুরুদ্বার খোলা রাখেন এতে সমস্যা আরও বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে আমেরিকা ও পৃথিবীর বহুদেশে চার্চ বন্ধ করতে গিয়ে প্রশাসনকে বহুল সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, তাদের ও একই দাবি চার্চে করোনা হবে না। ইজরায়েলে ইহুদি সিনাগগ বন্ধ করতে গিয়ে প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, প্রচুর পরিমাণে ইহুদি কট্টরপন্থী সরকারের নির্দেশ অমান্য করে ওয়েলিং ওয়ালের কাছে এসেছে প্রার্থনা করতে, এভাবে সেদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায় এই ধর্মীয় স্থান থেকেই করোনা ভাইরাস প্রসারিত হয়েছে।প্রকৃতপক্ষে বর্তমান বিশ্ব এই ধর্ম, ধর্মান্ধতা ও বিশ্বাসের ভাইরাসে শেষ হতে চলেছে, তাই ধর্মান্ধতা দূর করে মানবিক ও যুক্তিবাদী চিন্তা গ্রহণ করা উচিত। তা প্রশ্ন হল ধর্মান্ধরা কি তা গ্রহণ করবে?

এবার প্রশ্ন হল ভারতবর্ষে বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে এই করোনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা হচ্ছে কিভাবে? ভারতবর্ষে এখনও ধীর গতিতে করোনা প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি সেক্ষেত্রে ও ছয় হাজারের বেশি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাওয়া গেছে তাই প্রকৃতপক্ষে ভারতের সামনে খুব বড় পরীক্ষা আসতে চলেছে। তবে এপ্রসঙ্গে উল্লেখ্য ভারতবর্ষে করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পশ্চিমবঙ্গে, এই রাজ্যে সবচেয়ে কম পরীক্ষা হচ্ছে এর মধ্যেও একশো জনের অধিক আক্রান্ত এবং এখন পর্যন্ত 15 জন মারা গেছে যদিও সরকার বলছে 5 জন মারা গেছে। তাই প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা খুবই ভয়ংকর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এই তথ্য গোপন করার প্রচেষ্টা সমাজে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে এরফলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে না, তাঁরা নির্বিচারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সকল বিষয়ে রাজনীতি করার প্রবণতার ফলে সংবাদ মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর ফলাও ছবি বের হলেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না!

তিনি নাকি মেডিকেল কে করোনা হাসপাতালে পরিণত করেছেন? কোথায় কি হবে সে বিষয়ে এখন ও কোন নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই? ডাক্তারদের নূন্যতম কিট নেই, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই তাই প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমবঙ্গ এক বিরাট মহামারীর সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে কোন এক ডাক্তার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলে তাঁকে পুলিশ দিয়ে আটকে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এমন স্বৈরাচারি, ফ্যাসিস্ট, জঘন্য মানসিকতার প্রশাসক খুব একটা দেখা যায় না! আশার কথা কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর এক রায়ে জানিয়েছেন সংবিধানের 19 নম্বর ধারা অনুযায়ী বাক স্বাধীনতা জনগণের মৌলিক অধিকার তাই সরকারের সমালোচনা করার জন্য কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। সত্যিই স্বাধীন বিচারব্যবস্থা থাকার কারণে দেশে গণতন্ত্র সুরক্ষিত রয়েছে না হলে দেশ স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না। তাই বিচার ব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি!

বাংলার এই চরম দুর্দিনে ও তিনি সহানুভূতির রাজনীতি করে যাচ্ছেন। মানুষের মৃত্যুকে পুঁজি করে তাঁর ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। সত্যিই আমাদের ভবিষ্যত সমূহ বিপদের সম্মুখীন হতে চলেছে, অথচ প্রশাসনের কোন হুঁশ নেই। পশ্চিমবঙ্গের দালাল মিডিয়া সরকারের তোষামোদির ফলে পশ্চিমবঙ্গের সমস্যা আরও বহু গুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের আগত মানবিক বিপর্যয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মিডিয়াও তাঁর দায় এড়াতে পারবে না। সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায় দিল্লির নিজামুদ্দিন মার্কাজ থেকে এই রাজ্যে প্রায় 72-74 জামাতি পশ্চিমবঙ্গে এসেছে অথচ এই জামাতিদের কি চিকিৎসা চলছে তা সঠিক ভাবে জানা যায় না। সাধারণত জামাত থেকে কেউ এলে গ্রামের মানুষের তাঁর সঙ্গে দেখা করার রেওয়াজ আছে, তাই এই ভাইরাস আরও বহু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে।

সরকারের উচিত ছিল হোম কোয়ারান্টাইনের মাধ্যমে, ব্যাপক পরীক্ষা করে এর বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সরকার কি করছে তা সঠিকভাবে প্রকাশ না করে তথ্য গোপন করতে ব্যাস্ত। তাই প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা ভয়াবহ দিকে এগোচ্ছে। এই জামাতিরা যদি মসজিদে মসজিদে ঘুরে বেড়ায় তাহলে ও অবস্থা ভয়াবহ দিকে এগোবে। সরকারের উচিত ছিল সমস্ত মসজিদকে আপাতত বন্ধ রাখা, মমতা ব্যানার্জি প্রশাসন ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে শুধু অনুরোধ করেই নিজের দায়িত্ব সেরেছেন। এর ফলে শহরের কিছু কিছু বড় মসজিদ সরকারের কথা শুনলে ও গ্রাম বাংলায় এর বিশেষ কোন গুরুত্ব নেই তাই সমস্যা কিন্তু বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। সবে বরাতের রাতে, জুম্মাবারে ও সামনের রোমজান মাসে মানুষের মসজিদে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। সরকারকে এগুলি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে না হলে মানবিক বিপর্যয় রোধ করা যাবে না! এমন চরম সংকট কালে দিদির ভাইয়েরা এলাকায় এলাকায় যেভাবে রেশন দুর্নীতি করছে প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমবঙ্গ ধীরে ধীরে মহামারীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে! পশ্চিমবঙ্গের সমস্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে যখন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এক মন্তব্যে বলেন ‘আমরা ডেঙ্গুকে যেমন করে রোধ করেছি তেমনি করোনাকে হারিয়ে দেব’। সুপার পাওয়ার আমেরিকা যেখানে এই করোনা মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না, সেখানে তিনি একে ডেঙ্গুর মতো রোধ করে দেবেন! কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টিতে ডেঙ্গু আর করোনার মধ্যে বিশেষ কোন পার্থক্য নেই, তাহলে বুঝুন কি অবস্থা? সরকারের এই দাবির ফলেই আমাদের আগামী দিনে কি অবস্থা হতে চলেছে তা সহজেই অনুমান করা যায়!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তিনি যে মোমবাতি জ্বালানোর কর্মসূচি গ্রহণ করে মানুষের মধ্যে একাত্মতা ও মানসিক দিক থেকে এক হওয়ার বার্তা দিতে চেয়েছেন তাঁতে যেন কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতা যুক্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর শুধু থালা বাজালে আর মোমবাতি জ্বালালেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রকারন্তে জাতি এখন সমূহ বিপদের সম্মুখীন হয়েছে এখানে প্রয়োজন সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার। তাই প্রয়োজন ব্যাপক স্তরে টেস্ট, টেস্ট আর টেস্ট এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করা, নিরন্নদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা।

বর্তমানে এক বিতর্ক দেখা যাচ্ছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির সামনে আত্মসমর্পণ করে ম্যালেরিয়া রোগের ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ভারত আমেরিকার কাছে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। বিষয়টি একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা ঠিক নয় প্রথমত আমেরিকাতে যখন মৃত্যুমিছিল চলছে তখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকি অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন এটা অতিরিক্ত চাপের কারণে দিয়েছেন। তবে যাইহোক এটিকে তীব্র ধিক্কার ও নিন্দা জানাই! এখন অনেকেই মনে করছেন ভারত সরকার আমেরিকার হুমকির কাছে মাথা নত করে আমেরিকাকে এই ওষুধ পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। এখানে বেশ কিছু কথা উল্লেখ্য ভারতকে হুমকি দিয়ে ওষুধ আদায় হবে এটা যথার্থ বিশ্লেষণ নয়, বরং এটা মানবিক দিক থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ভারতে এই ওষুধ বেশি উৎপাদন হয় তাই বিদেশে সাহায্য করছে, অন্য দেশে যা বেশি উৎপাদিত হবে সেটা এদেশে আসবে এভাবেই এই মহামারীকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশ্বের সমস্ত সম্পদ ও জনশক্তি দিয়েই এই করোনাকে হারানো সম্ভব তাই এই মূহুর্তে জাতীয়তাবাদী না হয়ে আন্তর্জাতিকতাবাদী হওয়া প্রয়োজন। বস্তুত এই করোনা বিশ্বযুদ্ধের পর আমাদের পৃথিবীর সমস্ত দেশের কাঁটাতারের বেড়াজাল ভেঙে মানবিক পৃথিবী গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যেতে হবে, যেখানে মানুষের একটাই পরিচয় হোক সে ‘বিশ্ববাসী’!

তবে আশার কথা হল এই করোনা ভাইরাস আমাদের এক করেছে। আমি আগে ভাবতাম স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এখন আর জন্ম নেয় না কেন? এর প্রকৃত উত্তর করোনার কাছ থেকেই পেয়েছি। আসলে ভারতবাসী সাধারণ দিনে যেমন আচরণই করুক না কেন বিপদের দিনে জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পায় এবং দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। তাই এই চেতনা থেকেই দেখি আজ ডান, বাম, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, মানবতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এটাই আমাদের হার না মানার লড়াই আশাবাদী শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ভারতবাসী এই করোনা বিশ্বযুদ্ধ জয় করতে সক্ষম হবে। বিশ্বযুদ্ধে সৈনিকরা রণাঙ্গনে লড়াই করলে ও সাধারণ মানুষ সকলে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। করোনা এমন এক মহাযুদ্ধ যার বিরুদ্ধে গোটা পৃথিবীর মানবজাতি লড়াই করছে তাই আশাবাদী শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মানবতার জয় হবে!

তবে ব্যক্তিগত জীবনে কিছু চিন্তা অবশ্যই থেকে যায়, আমি সচেতন হলে ও আমার পরিবার সচেতন নয়। রাস্তাঘাটে ঠিকই মানুষ যাচ্ছে, মন্দির মসজিদে ভিড় করছে। আমার পরিবার ও এর থেকে অন্যথা নয়, শত বললেও মানুষ কথা শোনে না। তাই আগামী দিনে কি হবে জানি না। গ্রামেগঞ্জে কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের সংখ্যা বেশি তার মাঝেই আমার বাস। বিশেষজ্ঞদের মতে এই ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার হতে কম করে আঠারো মাস সময় লাগবে, ততদিন যদি এই ভাইরাস একই ভাবে প্রকোপ দেখাতে থাকে তাহলে এর মারণ কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।

যাক এই পরিপ্রেক্ষিতে এই ভাইরাসের মারণ কামড় এড়িয়ে যাওয়া আমার পক্ষেও খুবই কঠিন, তবে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। জানি না এতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা পাব কিনা, শুধু আমাদের মানবতাবাদী বন্ধুদের কাছে আবেদন আমার নিরাপদে থাকার বিশেষ সুযোগ নেই কিন্তু যারা সামনে থেকে মুক্তচিন্তার এই সংগ্রামকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদের নিরাপদ থাকা খুবই জরুরী। আমি থাকি আর না থাকি মুক্তচিন্তার এই সংগ্রাম যেন চলতে থাকে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমি চিন্তিত নয়, পরিতৃপ্ত, মৃত্যুকে আমি ভয় পায় না। আমার এই ছোট্ট জীবনে পৃথিবীকে যতটা দেওয়া সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করেছি, আগামী দিনেও ভালো কিছু দেওয়ার চেষ্টা করব! যতদিন বাঁচি মানবতা প্রতিষ্ঠার এই লড়াই চালিয়ে যাব। আমি আশাবাদী একদিন এই সমস্যা দূরীভূত হবে এবং আমাদের সকলের প্রচেষ্টাতেই ধর্মান্ধতামুক্ত মানবদরদী পৃথিবী গড়ে উঠবে!

তথ্যসূত্র:-
1. উইকিপিডিয়া।
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Great_Depression

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Tablighi_Jamaat

2. Worldmeters.
https://www.worldometers.info/coronavirus/

3. এই সময়।

4. গণশক্তি।

5. The Hindu.
https://www.thehindu.com/opinion/op-ed/preparing-for-saarc-20/article31273813.ece

https://www.thehindu.com/opinion/lead/a-niggardliness-that-is-economically-unwarranted/article31264475.ece

https://www.thehindu.com/opinion/lead/the-spectre-of-a-post-covid-19-world/article31252172.ece

6. BBC News.

7. বিবিসি হিন্দি।

8. আল জাজিরা।

9. The Times of India.

10. Dawn.
https://www.dawn.com/news/1547354/tableeghi-jamaat-in-hot-water-in-pakistan-too-for-covid-19-spread

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

67 − = 66