২০২: হুনাইনের যুদ্ধ -১: কে ছিল আক্রমণকারী?

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর নবী জীবনে যে সকল বৃহৎ রক্তক্ষয়ী অমানুষিক নৃশংস সংঘর্ষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তার সর্বপ্রথম-টি হলো ‘বদর যুদ্ধ (পর্ব: ৩০-৪৩)’; আর তার সর্বশেষ-টি হলো ‘হুনাইন যুদ্ধ ও এই যুদ্ধ পরবর্তী তায়েফ আক্রমণ।’ আদি উৎসের সকল বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকই তাঁদের নিজ নিজ পূর্ণাঙ্গ সিরাত ও হাদিস গ্রন্থে এই দুই যুদ্ধের প্রাণবন্ত উপাখ্যান বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। [1]

মুহাম্মদের জীবনের সর্বশেষ বৃহৎ সফল রক্তাক্ত সংঘর্ষই শুধু নয়, কমপক্ষে আর যে সমস্ত কারণে “হুনাইন যুদ্ধ” ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো:

১) এই যুদ্ধে মুহাম্মদের পক্ষে অংশগ্রহণ করেছিলেন মক্কা-বাসী কিছু “অমুসলিম” কুরাইশ, যাদের অন্যতম ছিলেন সাফওয়ান বিন উমাইয়া ইবনে খালাফ। যার পিতা ও এক ভাইকে মুহাম্মদ অনুসারীরা ‘বদর যুদ্ধে’ অমানুষিক নৃশংসতায় হত্যা করেছিলেন (বিস্তারিত: পর্ব-৩২)। মাত্র দিন পনের আগে, মক্কা বিজয় প্রাক্কালে যিনি মুসলমান সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন ও অতঃপর তিনি মুহাম্মদের ভয়ে পালিয়ে ইয়েমেনের পথে যাত্রা করেছিলেন। পরিশেষে যিনি তাঁর স্ত্রী ও চাচাত ভাই উমায়ের বিন ওহাব (মুহাম্মদ অনুসারী) হস্তক্ষেপে মুহাম্মদের প্রাণ ভিক্ষা পেয়েছিলেন; এই শর্তে যে, “তিনি চার মাস সময়ের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করবেন (পর্ব-১৯৬)।” [2]

২) ওহুদ যুদ্ধের (পর্ব: ৫৪-৭১) মতই, এই যুদ্ধেরও প্রথমাবস্থায় মুহাম্মদের মক্কাবাসী অনুসারীরা মুহাম্মদ-কে যুদ্ধের ময়দানে ফেলে রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু মদিনা-বাসী মুহাম্মদ অনুসারীরা (আনসার) এবারও মুহাম্মদের পাশে অটুট ছিলেন ও তাঁদের জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করেছিলেন।

৩) খায়বার যুদ্ধের (পর্ব: ১৩০-১৫২) পর মুহাম্মদ সবচেয়ে বেশী “লুটের মালের (গণিমত)” অধিকারী হয়েছিলেন এই যুদ্ধেই। মুহাম্মদ এই লুটের মালের হিস্যা বণ্টনের সময় মক্কাবাসী কুরাইশদের প্রতি এতটায় পক্ষপাতিত্ব করেছিলেন যে বহু মদিনা-বাসী মুহাম্মদ অনুসারী (আনসার) প্রকাশ্যে মুহাম্মদের সমালোচনা করেছিলেন।

৪) এই যুদ্ধ শেষে যখন বিরুদ্ধবাদীরা মুহাম্মদের বশ্যতা স্বীকার করে “ইসলামে দীক্ষিত” হয়েছিলেন, তখন মুহাম্মদ তাঁদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের নারী-শিশু ও অন্যান্য বন্দীদের ফেরত দিয়েছিলেন।

মুহাম্মদের “ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ” সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের গত একশত পঁচাত্তর-টি পর্বের আলোচনায় আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, “সর্বাবস্থায়” মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরাই ছিলেন আক্রমণকারী ও আগ্রাসী, অবিশ্বাসীরা নয়। মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসীদের আক্রমণের কারণ হলো, “প্রতিহিংসা কিংবা আত্মরক্ষার প্রচেষ্টা!” পরিশেষে মুহাম্মদের জীবনের সর্বশেষ বৃহৎ রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষ! এবারের সংঘর্ষে আক্রমণকারী ব্যক্তি-টি কে ছিলেন?

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা – কবিতা পঙক্তি পরিহার: [3]
(আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) [4] [5]

‘হাওয়াজিনের [উত্তর আরবের এক বৃহৎ গোত্র বা গোত্র সমষ্টি] লোকেরা যখন শুনতে পায় যে আল্লাহ কী ভাবে আল্লাহর নবী-কে মক্কার অধিকার প্রদান করেছে, তখন মালিক বিন আউফ আল-নাসরি তাদের একত্রিত করে। থাকিফ, নাসর ও জুশাম গোত্রের সমস্ত লোক এবং সা’দ বিন বকর ও বানু হিলাল গোত্রের কিছু লোক সেখানে তার সাথে মিলিত হয়। কায়েস আইলান (Qays `Aylan) গোত্রের অন্য আর কেহই সেখানে উপস্থিত ছিল না। হাওয়াজিনের কাব ও কিলাব গোত্রের লোকেরা নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে; তাদের গুরুত্বপূর্ণ লোকদের কেহই সেখানে উপস্থিত ছিল না। বানু জুশাম গোত্রের লোকদের মধ্যে ছিল দুরায়েদ বিন আল-সিমমা (Durayd b. al-Simma)। সে ছিল অতি বৃদ্ধ এক ব্যক্তি, যার সাহায্য করার একমাত্র যে ক্ষমতা-টি অবশিষ্ট ছিল তা হলো তার মূল্যবান পরামর্শ ও যুদ্ধের জ্ঞান; এই কারণে যে সে ছিল এক অভিজ্ঞ নেতা। থাকিফ গোত্রের নেতা ছিল দুই জন: আহলাফ উপগোত্রের নেতৃত্বে ছিল কারিব বিন আল-আসওয়াদ বিন মাসুদ বিন মুয়াত্তিব; আর বানু মালিক উপগোত্রের নেতৃত্বে ছিল ধু’ল খিমার সুবায়েব বিন আল-হারিথ বিন মালিক ও তার ভাই আহমার (আল-তাবারী: ‘— ধু’ল খিমার সুবায়েব বিন আল-হারিথ বিন মালিক, যাকে বলা হতো আল-আহমর বিন আল-হারিথ’)। [6] [7] [8]

সাধারণ দিকনির্দেশনার দায়িত্বে ছিল মালিক বিন আউফ আল নাসরি (আল-ওয়াকিদি: ‘তখন তার বয়স ছিল ৩০ বছর’)। যখন সে আল্লাহর নবী-কে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সে তার সাথের পুরুষ লোকদের সঙ্গে তাদের গবাদিপশু, স্ত্রী ও সন্তানদের ন্যস্ত রাখে। যখন সে আওতাস (Autus/Awtas)’ নামক স্থানে এসে যাত্রা বিরতি দেয়, লোকেরা তার কাছে এসে সমবেত হয়; যাদের মধ্যে ছিল দুরায়েদ বিন আল-সিমমা। সে ছিল এক ধরণের ‘হাওদার’ ভিতর, যাতে করে তাকে বহন করে আনা হয়েছিল। সেখানে পৌঁছেই সে জানতে চায় যে তারা কোন উপত্যকায় আছে। যখন তাকে জানানো হয় যে তা ছিল আওতাস, সে বলে যে এই স্থানটি অশ্বারোহী সৈন্যদের জন্য চমৎকার। “এবড়ো-থেবড়ো পাথর যুক্ত কোন পাহাড় কিংবা ধুলায় সম্পূর্ণ ভর্তি কোন সমভূমি নয়; কিন্তু কেন আমি এখানে উটের গর্জন, গাধার ডাক, শিশুদের কান্না ও ভেড়ার ডাক শুনতে পাচ্ছি?” [9] [10]

তারা তাকে বলে যে মালিক তাদের-কে তার লোকদের সাথে নিয়ে এসেছে।
সে তৎক্ষণাৎ তার খোঁজ করে (আল তাবারী: ‘মালিক কোথায় আছে সে তার জিজ্ঞাসাবাদ করে ও তাকে ডেকে পাঠায়’) ও বলে: “হে মালিক, তুমি তোমার সম্প্রদায়ের প্রধান হয়েছো। আজকের দিনটি হলো এমন একটি ঘটনা, যাকে গুরুত্বের সাথে অনুসরণ করা হবে।”

অতঃপর সে তাকে গবাদি পশু, মহিলা ও শিশুদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আর মালিক তাকে ব্যাখ্যা করে বলে যে, তাদের-কে নিয়ে আসা ও পুরুষদের পিছনে রাখার উদ্দেশ্য হলো এই যে তারা তাদের রক্ষায় মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত থাকবে। সে হতাশার ইঙ্গিত বাচক এক শব্দ উচ্চারণ করে (আল-ওয়াকিদি: ‘হাত তালি দেয়’) ও বলে, “ভেড়া-দরদী তুমি, তুমি কী বিশ্বাস করো যে কোন কিছু পলায়ন-রত কোন ব্যক্তি-কে পিছনে ফেরাতে পারে? যদি সবকিছু ঠিকঠাক সমাধা হয়, তবে একমাত্র তরোয়াল ও বল্লম ছাড়া আর কোন কিছুই তোমাকে সাহায্য করবে না; যদি তা দুর্দশাগ্রস্ত হয়, তবে তুমি তোমার পরিবার ও সম্পদ-সহ লাঞ্ছিত হবে।”

অতঃপর সে কাব ও কিলাব গোত্রের খবর কী তা জিজ্ঞাসা করে। সে যখন শুনতে পায় যে তারা সেখানে অনুপস্থিত, তখন সে বলে: “সাহসী ও শক্তিমানরা এখানে নেই। এটি যদি মহৎ কর্মের কোন দিন হত তবে কাব ও কিলাব গোত্রের লোকেরা দূরে থাকতো না। আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল, যা তারা করেছে তা যদি তুমিও করতে। তুমি কী কোন গোষ্ঠীর (clan) সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পেয়েছ?”
তারা তাকে বলে, “আমর বিন আমির ও আউফ বিন আমির।”
সে বলে, “সেই দুই আমির ছোকরা কিছুই করতে পারবে না। মালিক, অশ্বারোহী সৈন্যদের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে হাওয়াজিন সৈন্যদের আসল অংশটিকে আগে পাঠিয়ে তুমি কোন ভাল কাজ করো নাই। তাদের-কে তুমি তাদের ভূমির উচ্চ ও দুর্গম অংশে প্রেরণ করো ও অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণ করে মুরতাদদের (এক্ষেত্রে ‘নব্য ধর্মান্তরিত মুসলিম’) মোকাবিলা করো। যদি সব কিছু সুষ্ঠুভাবে সমাধা হয়, তবে পিছনে যারা আছে তারা তোমার সাথে যোগদান করতে পারবে; আর লড়াই যদি তোমার বিরুদ্ধে যায়, তবে তোমার পরিবার-পরিজন ও সম্পদ রক্ষা পাবে।”

মালিক জবাবে বলে, “আমি তা করবো না। তুমি হলে এক নির্বোধ বৃদ্ধ। হে হাওয়াজিনের লোকেরা, হয় তোমরা আমার আদেশ মান্য করবে, নতুবা আমি আমার তরোয়ালটির উপর ঝুঁকতে থাকবো যতক্ষণে না তা আমার পৃষ্ঠদেশ দিয়ে বের হয়ে আসে।”

এ বিষয়ে দুরায়েদ কোন কৃতিত্বের অধিকারী হোক, তা সে সহ্য করতে পারছিল না। হাওয়াজিনের লোকেরা বলে যে তারা তার আনুগত্য করবে। আর দুরায়েদ বলে, “এটি এমন একটি দিন আমি (যোদ্ধা হিসাবে) যার সাক্ষী হতে চাই না, আবার তা পুরোপুরি হারাতেও চাই না।”

উমাইয়া বিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন উসমান আমাকে বলেছেন যে: মালিক তার গুপ্তচরদের বাহিরে প্রেরণ করে, যারা তাদের হাড়ের-জয়েন্টগুলো স্থানচ্যুত (dislocated) অবস্থায় ফিরে আসে। যখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হয় যে তাদের কী হয়েছিল, তারা বলে, “আমরা চিত্রবিচিত্র ঘোড়াগুলোর উপর বসা সাদা লোকদের দেখেছি, আর তার সাথে সাথেই আমরা যা ভোগ করেছি তা তোমরা দেখতে পাচ্ছ।” আল্লাহর কসম, এমন কী এই ঘটনাটিও তাকে তার সংকল্পের বিচ্যুতি ঘটাতে পারে নাই।

আল্লাহর নবী যখন তাদের খবর-টি শুনতে পান, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবু হাদরাদ আল-আসলামি কে তাদের কাছে পাঠান ও তাকে এই নির্দেশ দেন যে সে জেন সেখানে তাদের মধ্যে যায় ও তাদের সাথে বসবাস করে, যতক্ষণে না সে তাদের সমস্ত খবরাখবর জানতে পারে ও অতঃপর সেই খবরগুলো নিয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসে। আবদুল্লাহ প্রস্থান করে ও তাদের সাথে বসবাস করে ও অতঃপর খবরগুলো তাঁর কাছে নিয়ে আসে। আবদুল্লাহ সেখানে গিয়ে তাদের সাথে সেই সময় পর্যন্ত অবস্থান করে, যতক্ষণে না সে জানতে পারে যে তারা আল্লাহর নবীর সাথে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আল্লাহর নবী যখন হাওয়াজিনদের বিরুদ্ধে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাঁকে বলা হয় যে সাফওয়ান বিন উমাইয়ার কাছে কিছু বর্ম-আবরণ (Armour) ও অস্ত্রশস্ত্র আছে। তাই তিনি তার কাছে লোক পাঠান, যদিও তখন সে ছিল একজন মুশরিক (polytheist), এই বলে:”তোমার অস্ত্রগুলো আমাদের ধার দাও, যাতে আমরা আগামীকাল আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারি।”

সাফওয়ান জিজ্ঞাসা করে:
“মুহাম্মদ, তুমি কী তা জোর করে দাবি করছো?”

সে বলে যে, সে ক্ষেত্রে কোন আপত্তি নাই। অতঃপর সে তাঁকে একশত বর্ম-আবরণ ও পর্যাপ্ত পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র তাদের সঙ্গে নেওয়ার জন্য প্রদান করে। তারা দাবী করেছেন যে, আল্লাহর নবী সেগুলো বহনের জন্য পরিবহন (Transport) চান ও সে তা সরবরাহ করে। [11]

অতঃপর আল্লাহর নবী দুই হাজার মক্কাবাসী ও তাঁর সঙ্গে ‘মক্কা-বিজয়’ প্রাক্কালে অংশগ্রহণ-কারী দশ হাজার অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে অগ্রসর হোন; মোট বার হাজার সৈন্য। আল্লাহর নবী আততাব বিন আসিদ বিন আবুল-ইস বিন উমাইয়া বিন আবদু সামস-কে মক্কায় অবস্থানকারী লোকদের তদারক-কারীর দায়িত্বে নিযুক্ত করেন। অতঃপর তিনি হাওয়াজিনদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হোন।’ [12]

আল-তাবারীর (৮৩৯-৯২৩ সাল) অতিরিক্ত বর্ণনা: [4]

‘আলী বিন নাসর বিন আলী আল-জাহদামি [মৃত্যু: ৮০২- ৮০৩ সাল] এবং আবদ আল-ওয়ারিথ বিন আবদ আল-সামাদ বিন আবদ আল ওয়ারিথ [মৃত্যু: ৮৬৬-৮৬৭ সাল] উভয়ই <আবদ আল-সামাদ বিন আবদ আল ওয়ারিথ [মৃত্যু: ৮২১-৮২২ সাল] <আবান বিন ইয়াজিদ আল-আততার < হিশাম বিন উরওয়া বিন আল-যুবায়ের [মৃত্যু: ৭৮০-৭৮১ সাল] <উরওয়া বিন আল-যুবায়ের [মৃত্যু: ৭১২-৭১৩ সাল] হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আল্লাহর নবী, মুসলমান ও হাওয়াজিনের (গোত্রের) যে বিষয়টি জানতে পেরেছি, তা হলো: [13]

‘মক্কা বিজয়’ প্রাক্কালে আল্লাহর নবী মক্কায় মাত্র একপক্ষ কাল অবস্থান করেন। সেই সময় (তিনি খবর পান যে) হাওয়াজিন ও থাকিফ (গোত্রের লোকেরা) তাঁর সাথে লড়াইয়ের অভিপ্রায়ে (মক্কার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়েছে ও) ইতিমধ্যেই হুনাইনে শিবির স্থাপন করেছে। হুনাইন স্থানটি হলো ‘ধু আল-মাজাজের’ পাশে অবস্থিত একটি উপত্যকা। [14] [15]

পূর্বোক্ত দুটি গোত্রের লোকেরা, মদিনা থেকে আল্লাহর নবীর প্রস্থানের খবর পেয়ে (তাদের অগ্রসর হওয়ার) পূর্বেই তারা সেখানে একত্রিত হয়েছিল, “এই ভেবে যে তিনি তাদের (আক্রমণের) অভিপ্রায়ে আসছেন।” [16]

(Both the aforementioned tribes had assembled before [their march] after hearing about the Messenger of God’s departure from Medina, thinking that he was intending [to invade] them.)

যখন তারা জানতে পারে যে তিনি মক্কা বিজয় করেছেন, হাওয়াজিন গোত্রের লোকেরা তাদের সম্পদ, মহিলা ও শিশুদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে (মক্কার উদ্দেশ্যে) অগ্রসর হয়। তাদের দলনেতা ছিল বানু নাসর গোত্রের মালিক বিন আউফ। থাকিফ (গোত্রের) লোকেরা আল্লাহর নবীর সাথে যুদ্ধ করার অভিপ্রায়ে তাদের সৈন্যদের নিয়ে তাদের সাথে যোগদান করে ও হুনাইন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করে। [17]

আল্লাহর নবীর মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে যখন তাঁকে তাদের সম্বন্ধে জানানো হয়, তিনি তাদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়া মনস্থ করেন। তিনি হুনাইনে তাদের সাথে মোকাবেলা করেন। আর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাদের পরাজিত করে। এই যুদ্ধের বিষয়ে আল্লাহ কুরানে উল্লেখ করেছে [কুরান: ৯:২৫-২৬]। যেহেতু তারা তাদের মহিলা, শিশু ও পশুগুলো সঙ্গে নিয়ে অগ্রসর হয়েছিল, তাই আল্লাহ তাদের-কে তার নবীর লুণ্ঠন-সামগ্রী (গনিমত) রূপে দান করে। আর তিনি এই লুণ্ঠন-সামগ্রী সেই কুরাইশদের মধ্যে ভাগ করে দেন যারা (সম্প্রতি) ইসলাম গ্রহণ করেছিল। —-

দুরায়েদ ছিল বানু জুশাম গোত্রের প্রধান, তাদের নেতা ও তাদের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চ-পদমর্যাদা সম্পন্ন, কিন্তু বার্ধক্য তাকে এমন পর্যায়ে ফেলেছিল যে সে দুর্বল হয়ে পড়েছিলে। তার সম্পূর্ণ বংশানুক্রম হলো দুরায়েদ বিন আল-সিমমাহ বিন বকর বিন আলকামাহ বিন জুদাহ বিন ঘাযিয়াহ বিন জুশাম বিন মুয়াবিয়া বিন বকর বিন হাওয়াজিন। মালিক তার লোকদের বলে যে যখন তারা শত্রুদের দেখতে পাবে তখন যে তারা তাদের তলোয়ারের খাপগুলো খুলে একজোট হয়ে তাদের আক্রমণ করে। —-

— সে [ইবনে আবি হাদরাদ, মুহাম্মদের গুপ্তচর] আরও জানতে পারে মালিক ও হাওয়াজিনের লোকদের ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্তের খবর। অতঃপর সে ফিরে আসে ও আল্লাহর নবী-কে তা অবহিত করায়।

আল্লাহর নবী উমর বিন আল-খাত্তাব-কে ডেকে পাঠান ও ইবনে আবি হাদরাদ তাঁকে যা বলেছে তা তাকে অবহিত করান। যার ফলে উমর বলে যে সে মিথ্যা বলেছে। ইবনে আবি হাদরাদ জবাবে বলে, “হে উমর, তুমি আমাকে মিথ্যাবাদী বলে অভিযুক্ত করতে পারো, কিন্তু তুমি সত্যকে দীর্ঘদিন অস্বীকার করেছিলে।” উমর বলে, “হে আল্লাহর নবী, ইবনে আবি হাদরাদ কী বলছে আপনি কি তা শুনেন নাই?” আল্লাহর নবী জবাবে বলেন, “হে উমর, তুমি ভ্রান্তিতে ছিলে, আর আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত করেছে।”

‘ইবনে হুমায়েদ < সালামাহ <মুহাম্মদ ইবনে ইশাক < আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন [হইতে বর্ণিত]: [18]

আল্লাহর নবী যখন হাওয়াজিনদের বিরুদ্ধে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাঁকে বলা হয় যে সাফওয়ান বিন উমাইয়ার কাছে কিছু বর্ম-আবরণ ও অস্ত্রশস্ত্র আছে। তাই তিনি তার কাছে লোক পাঠান, যদিও তখন সে ছিল মুশরিক, এই বলে:”তোমার অস্ত্রগুলো আমাদের ধার দাও, যাতে আমরা আগামীকাল আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারি।” সাফওয়ান জিজ্ঞাসা করে, “মুহাম্মদ, [তুমি কী তা] জোর করে দাবি করছো?” আল্লাহর নবী জবাবে বলেন:

“(না), শুধু ধার স্বরূপ, আমাদের-কে বিশ্বাস করে; সেই সময় পর্যন্ত যতক্ষণে না আমরা তোমাকে সেগুলো ফেরত দিই।” [11]

সাফওয়ান বলে যে সে ক্ষেত্রে তার কোন আপত্তি নেই। অতঃপর সে ১০০-টি বর্ম-আবরণ ও পর্যাপ্ত পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র প্রদান করে।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭ -৮২৩ সাল) অতিরিক্ত বর্ণনা: [5]

আল ওয়াকিদি: ‘আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন শুজা আল-থালি বলেছেন: আল-ওয়াকিদি আমাদের যা বলেছেন, তা হলো: “মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ বিন জাফর, ইবনে আবি সাবরা, মুহাম্মদ বিন সালিহ, আবু মাশার, ইবনে আবি হাবিবা, মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া বিন সাহল, আবদ আল-সামাদ বিন মুহাম্মদ আল-সা’দি, মুয়াধ বিন মুহাম্মদ, বুকায়ের বিন মিসমার এবং ইয়াহিয়া বিন আবদুল্লাহ বিন আবি কাতাদা; একই সাথে অন্যান্য লোকেরা, যাদের নাম উল্লেখ করা হয় নাই – যারা ছিলেন নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসী, সকলেই আমাদের-কে এই উপাখ্যানের বিভিন্ন অংশগুলো বর্ণনা করেছেন। তাদের মধ্যে কিছু লোক যারা অন্যদের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। এ সম্পর্কে তারা আমাকে যা বলেছেন তার সমস্তই আমি সংগ্রহ করেছি।”‘

তারা বলেছে: যখন আল্লাহর নবী মক্কা-বিজয় সম্পন্ন করেন, হাওয়াজিন ও থাকিফ গোত্রের উচ্চপদমর্যাদা সম্পন্ন লোকেরা একত্রিত হয়। তারা সৈন্যসমাবেশ, বিদ্রোহ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ও বলে:

“আল্লাহর কসম, মুহাম্মাদ এখনও এমন লোকদের সম্মুখীন হয় নাই যারা যুদ্ধে ভাল; সুতরাং তোমরা তোমাদের মনস্থির করো ও ‘সে তোমাদের কাছে আসার আগে’ তার দিকে যাত্রা শুরু করো।”

অতঃপর, হাওয়াজিনের লোকেরা তাদের নেতা মালিক বিন আউফের অধীনে সমবেত হয়। তখন তার বয়স ছিল ৩০ বছর, সে ছিল তাদের প্রধান ও সে পরিধান করতো লম্বা আলখাল্লা। সে তার ধন-সম্পদ দিয়ে প্রতিনিধিত্ব করে; সে কারণেই লোকেরা তার নির্দেশ পালন করে ও হাওয়াজিনদের সকলেই একত্রিত হয়। সেই সময় থাকিফ গোত্রের নেতা ছিল দুইজন: ‘আহলাফ’ এর নেতৃত্ব দিয়েছিল কারিব বিন আল-আসওয়াদ বিন মাসুদ বিন মুয়াত্তিব; অন্যদিকে ‘বানু মালিক’ এর নেতৃত্বে ছিল থাকিফের সহযোগী ধু’ল খিমার সুবায়েব বিন আল-হারিথ বিন মালিক (অন্যরা বলে, সে ছিল আল-আহমর বিন আল-হারিথ’)।

তারা সকলেই মুহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযানের নিমিত্তে হাওয়াজিনদের সাথে একত্রিত হয়, থাকিফরা অবিলম্বে তাদের সাথে এসে যুক্ত হয়। তারা বলে:

“আমরা তার বিরুদ্ধে অগ্রসর হতে যাচ্ছিলাম এই কারণে যে ‘আমাদের বিরুদ্ধে তার আগমণ-কে আমরা প্রচণ্ড ঘৃণা করি’। তা সত্ত্বেও, সে যদি আমাদের কাছে আসে তবে সে দেখতে পাবে দুর্গম দুর্গ, যার পিছনে থেকে আমরা প্রচুর খাদ্য-সামগ্রী সমেত লড়াই করব ‘যতক্ষণে না আমরা তাকে পরাস্ত করতে পারি, কিংবা সে ফিরে যায়’।”

তবে আমরা তা কামনা করি না। আমরা এক-জোট হয়ে তোমাদের সাথে যাত্রা করবো। অতঃপর তারা তাদের সাথে যাত্রা শুরু করে। —–

আল্লাহর নবী ১৫দিন মক্কায় অবস্থান করেন ও দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করেন। অতঃপর, পরদিন সকালে, শনিবার, ৬ই শওয়াল, তিনি যাত্রা শুরু করেন।’—

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

আদি উৎসে ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট তা হলো, কী কারণে হাওয়াজিন ও থাকিফ গোত্রের লোকেরা মুহাম্মদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন, তা ইবনে ইশাকের বর্ণনায় অস্পষ্ট। অন্যদিকে, আল-তাবারী ও আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আল-তাবারীর বর্ণনায় তা হলো:

“মদিনা থেকে আল্লাহর নবীর প্রস্থানের খবর পেয়ে তাদের অগ্রসর হওয়ার পূর্বেই তারা সেখানে একত্রিত হয়েছিল, “এই ভেবে যে তিনি তাদের আক্রমণের অভিপ্রায়ে আসছেন।”

আর আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় তা হলো:
“আমরা তার বিরুদ্ধে অগ্রসর হতে যাচ্ছিলাম এই কারণে যে ‘আমাদের বিরুদ্ধে তার আগমন-কে আমরা প্রচণ্ড ঘৃণা করি’। —-আমরা লড়াই করব ‘যতক্ষণে না আমরা তাকে পরাস্ত করতে পারি, কিংবা সে ফিরে যায়’।”

অর্থাৎ, এটি ছিল তাঁদের প্রতিরক্ষা প্রচেষ্টা। তাঁরা সমবেত হয়েছিলেন “মুহাম্মদের সম্ভাব্য আক্রমণের” কবল থেকে নিজেদের রক্ষার প্রচেষ্টায়। আদি উৎসের “সকল মুসলিম ঐতিহাসিকদের” ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আর যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো: হাওয়াজিন ও থাকিফ গোত্রের লোকেরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আক্রমণ করেন নাই। অন্যান্য সকল আক্রমণের মতই আগ্রাসী আক্রমণকারী দলটি ছিল মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা! অজুহাত, বরাবরের মতই: “তাহারা আক্রমণের পরিকল্পনা করিয়াছিল!”

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র তিন ও চার):]

The narratives of Al-Waqidi: [5]

‘Abū ‛Abdullah Muḥammad b. Shujā al-Thaljī said: Al-Wāqidī related to us that Muḥammad b. ‛Abdullah, ‛Abdullah b. Ja‛far, Ibn Abī Sabra, Muḥammad b. Ṣāliḥ, Abū Ma‛shar, Ibn Abī Habība, Muḥammad b. Yahyā b. Sahl, ‛Abd al-Samad b. Muḥammad al-Sa‛dī, Mu‛ādh b. Muḥammad, Bukayr b. Mismār, and Yahyā b. ‛Abdullah b. Abī Qaṭāda, as well as others not named—people of trust—all have related portions of this tradition to us. Some of them are more reliable than others, and I have gathered all that was related to me about it.

They said: When the Messenger of God conquered Mecca, the nobility of the Ḥawāzin and the Thaqīf came together and they mobilized and rose up and demonstrated and said: By God, Muḥammad has not yet met with a people who are good in battle, so make up your minds and march to him before he marches to you. And the Ḥawāzin gathered under their commander Mālik b. ‛Awf, who at that time was thirty years of age, a lord of theirs, and wore a long cloak. He acted with his money and was commended for it, and all of the Ḥawāzin gathered. The two lords of the Thaqīf were at that time Qārib b. al-Aswad b. Mas‛ūd who commanded the Ahlāf, while Dhū 1-Khimār, Subay‛ b. al-Ḥārith (and others said it was al-Ahmar b. al-Ḥārith), who was the ally of the Thaqīf, commanded the Banū Mālik.
All of them gathered with the Ḥawāzin who came together for the expedition against Muḥammad, and the Thaqīf were swift to join them. They said: We were about to march to him for we detest that he march to us. Nevertheless, if he came to us he would find an inaccessible fortress that we will fight behind, and much food, until we take him or he turns away. But we do not desire that. We will march with you as one hand. And they set out with them. ——-

— The Messenger of God stayed in Mecca for fifteen days and prayed two bowings. Then, on the next morning, Saturday, the sixth of Shawwāl, he left having appointed ‛Attāb b. Asīd in Mecca to pray with them, and Mu‛ādh b. Jabal to inform them of the practice and jurisprudence of Islam.’

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] হুনাইন যুদ্ধের বিস্তারিত বর্ণনা: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৫৬৬-৫৯৭; আল-তাবারী: ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা (Leiden) ১৬৫৪-১৬৭০ ও ১৬৭৫-১৬৮৬; আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৮৮৫-৯২৩; ইংরেজি অনুবাদ – পৃষ্ঠা ৪৩৫-৪৫২;

[2] মালিক মুয়াত্তা (৭১১-৭৯৫ সাল): বই নম্বর ২৮, হাদিস নম্বর ৪৪
http://hadithcollection.com/maliksmuwatta/Maliks%20Muwatta%20Book%2028.%20Marriage/maliks-muwatta-book-028-hadith-number-044.html

সহি মুসলিম: বই নম্বর ৫, হাদিস নম্বর ২৩০৯
http://hadithcollection.com/sahihmuslim/Sahih%20Muslim%20Book%2005.%20Zakat/sahih-muslim-book-005-hadith-number-2309.html

‘Anas b. Malik reported: We conquered Mecca and then we went on an expedition to Hunain. The polytheists came, forming themselves into the best rows that I have seen. —‘

[3] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৫৬৬-৫৬৮
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[4] অনুরূপ বর্ণনা – “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক – লেখক: আল-তাবারী, ভলুউম ৯, (The Last Years of the Prophet) – translated and Annotated by Ismail K. Poonawala [State university of New York press (SUNY), Albany 1990, ISBN 0-88706-692—5 (pbk), পৃষ্ঠা ১-৭
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[5] অনুরূপ বর্ণনা -আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৮৮৫-৮৯০; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৩৫-৩৭
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[6] হাওয়াযিন: উত্তর আরবের এক বৃহৎ গোত্র বা গোত্র সমষ্টি। মক্কা ও আল-তায়েফের মধ্যে বাণিজ্য শত্রুতার কারণে তারা কুরাইশের তীব্র বিরোধিতা করতো। তারা ছিল আল-তায়েফ শহরের বাসিন্দা কিংবা এই শহরের জনগণের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত।

[7] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ২৪: “কায়েস আইলান – যারা ছিলেন মধ্য আরবের (Mudar) দুইটি প্রধান শাখার একটি, যাদের-কে আদনানের বংশধর হিসাবে গণ্য করা হয়; তথাকথিত উত্তর আরব।”

[8] থাকিফ গোত্র: এই গোত্রের লোকেরা আল-তায়েফ এলাকায় বসতি স্থাপন করেছিল, যেটি ছিল তাদের নগর কেন্দ্র। থাকিফ গোত্রের বেশিরভাগ লোকেরা, সম্ভবত তাদের নিজেদের স্বার্থ ও ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে, হাওয়াজিন গোত্রের লোকদের বংশধর হিসাবে বিবেচনা করতো। থাকিফ গোত্রের দু’টি শাখা: আল-আহলাফ ও বানু মালিক।

[9] হাওদা (Howdah): উট কিংবা হাতির পিঠের ওপর বসানো ডুলি সাদৃশ্য আসন।

[10] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৩২: “আওতাস: হাওয়াজিন অঞ্চলের এক উপত্যকা, যেখানে হুনাইনের যুদ্ধ-টি সংঘটিত হয়েছিল।”

[11] অনুরূপ বর্ণনা: Ibid মালিক মুয়াত্তা: বই নম্বর ২৮, হাদিস নম্বর ৪৪
http://hadithcollection.com/maliksmuwatta/Maliks%20Muwatta%20Book%2028.%20Marriage/maliks-muwatta-book-028-hadith-number-044.html

অনুরূপ বর্ণনা: সুন্নাহ আবু দাউদ (৮১৭-৮৮৯ সাল): বই-১৭, হাদিস নম্বর ৩৫৫৫-৫৬
http://hadithcollection.com/abudawud/Abu%20Dawud%20Book%2017.%20Wages/abu-dawud-book-017-hadith-number-3555.html

http://hadithcollection.com/abudawud/Abu%20Dawud%20Book%2017.%20Wages/abu-dawud-book-017-hadith-number-3556.html

[12] অনুরূপ বর্ণনা: সহি বুখারি (৮১০-৮৭০ সাল) : ভলুম ৫, বই ৫৯, হাদিস নম্বর ৬২২
http://hadithcollection.com/sahihbukhari/-sp-608/sahih-bukhari-volume-005-book-059-hadith-number-622.html

অনুরূপ বর্ণনা: সহি মুসলিম (৮২১-৮৭৫ সাল): বই নম্বর ৫, হাদিস নম্বর ২৩০৮
http://hadithcollection.com/sahihmuslim/Sahih%20Muslim%20Book%2005.%20Zakat/sahih-muslim-book-005-hadith-number-2308.html

[13] উরওয়া বিন আল-যুবায়েরের মাতা ছিলেন আবু বকর কন্যা আসমা বিনতে আবু বকর।

[14] হুনাইয়েন স্থানটি হলো মক্কা থেকে আল-তায়েফের রাস্তায় তৎকালীন এক দিন দূরত্বে অবস্থিত এক গভীর ও অসমতল উপত্যকা, যেখানে এই বিরাট যুদ্ধ-টি সংঘটিত হয়েছিল।

[15] ‘ধু আল-মাজাজ’: আরাফাত থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হুদাইল গোত্রের একটি বাজার।

[16] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ১৩: “আল-ওয়াকিদি, ইবনে সা’দ ও ইবনে আল-কাথিরের তথ্য মতে: হাওয়াজিন ও থাকিফ গোত্রের লোকেরা মক্কার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এই কারণে যে, তারা ভীত ছিল এই ভেবে যে মক্কা বিজয়ের পর আল্লাহর নবী তাদের আক্রমণ করতে পারে।”

[17] বানু নাসর: জোটবদ্ধ হাওয়াজিন গোত্রগুলোর একটি।

[18] আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন (৬৭৭-৭৩৩ সাল): পঞ্চম শিয়া ইমাম, আলী ইবনে আবু তালিবের নাতি। তিনি ছিলেন এক বিশিষ্ট মুহাদ্দিস; যাকে বলা হতো, “আল-বাকির (al-Baqir): The one who opens knowledge (জ্ঞান উন্মুক্ত-কারী)।”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

43 − 40 =