সোনাইচাদ

আমার সোনাইচাদ, চাদের মত হাসিখানি।
আহা হৃদয় জুড়িয়ে যেতো তোকে দেখলে।
শ্যাম কাকুর কত গর্ব, ছেলে আমার মানিক রত্ন।
কাকু যখন গ্রামে আসে, রোজ শুনি তোর কথা।
চাঁদ তোর মনে পড়ে? তোর ৫ম শেনীর কথা ?
কালা যে তোকে খুব মারলো, ঠ্যাং এ পেলি ব্যাথা।
লাল টকটকে চোখে আমায় জড়িয়ে ধরেছিলি।
আমিও তখন রেগে গিয়ে আচ্ছা পিটিয়েছিলাম কালাকে।
কালা এখনো ভুলেনি সেটা, আজো প্রতিবাদ করে।
রোজ পথ আটকায়, অথচ তুই ভুলে গেছিস আমায়।
চাঁদ তোর মনে পড়ে? তুই আমি রোজ খেলতাম আঙিনায়।
আঙিনায় মোর কত স্মৃতি, তবে সব স্মৃতিই এখন বিষ লাগে।
চাঁদ তোর মনে আছে, বিকেল হলেই চলন বিলে খেলা করতাম,
আমি আজো যাই সেখানে, আজ আর খেলা হয় নারে,
শুধু চোখ মেলে তাকিয়ে থাকি, দুটো চিল রোজ ওরে সেখানে।
তোর মনে আছে? আমার বয়স তখন সবে ষোল আর তোর চোদ্দ।
মা তোর সাথে আর মিশতে দিত না, জানতাম না মায়ের কিসের এত ভয়।
তুই তো অন্য কেউ না, তুই তো আমারি জ্যাঠাতো ভাই।
তবু লুকিয়ে লুকিয়ে মিশতাম তোর সাথে খুব সাবধানে।
ধরা খেলে যে মার খেতে হতো, কত বাজে কথাও শুনেছি মায়ের মুখে।
তুই তো ছিলি আমার এক মাত্র বন্ধু, তোকে ছাড়া কিভাবে থাকতাম?
সোনাই তোর মনে আছে, তুই তখন সবে মাধ্যমিক দিলি।
কাকু তোদের নিয়ে শহরে চলে গেলো, তুই আমার দিকে একবারও তাকাসনি।
সেদিন বুঝিনি ব্যাথাটা কোথায়, আজ বুঝছি ভালোবাসা কি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1