আওয়ামীতন্ত্র চায়না আপনি সত্য প্রকাশ করেন

হাসিনা তথা আওয়ামী শাসনামলের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জঘন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে ক্ষমতার গদি ঠিক রাখার স্বার্থে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া। কথা বলা, লেখালেখির মাধ্যমে বলা, গ্রাফিটি কিংবা অঙ্কনের মাধ্যমে ; বলার অধিকার, ভিন্নমত ও মুক্তচিন্তার অধিকার কিংবা প্রতিবাদের অধিকার হরণ আওয়ামী রাষ্ট্রযন্ত্র ২০১৩ সাল থেকেই কোমড় বেঁধে করে আসছে! তবু সরকারী কবির মত গৃহপালিত বুদ্ধিজীবীদের কোনো ভ্রক্ষেপ দেখার সৌভাগ্য আমাদের হয়নি৷ ২০১৩ সালে নিজেদের স্বার্থে হেফাজতে ইসলামের সাথে আওয়ামীর সখ্যতা পাল্টে দিয়েছে সেকুলার ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রের সমস্ত দৃশ্যপট! গজে উঠেছে এক নব্য ও নোঙরা চর্চা, অনুভূতি। সরকারি অনুভূতি, লীগিয় অনুভূতি পরিশেষে ধর্মানুভূতি! কিন্তু মজার ব্যাপার হল ধর্মানুভূতি এদেশে কেবল মুসলমানের একার। মণ্ডপ মন্দির প্যাগোডা ভাঙলে সংখ্যালঘুদের ধর্মানুভূতি আহত হয়না, ওয়াজ ওয়াজে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিলে অসাম্প্রদায়িকতার অনুভূতি আহত হয়না, সরকারের দূর্নীতি কিংবা চৌর্যবৃত্তিতে জাতীয় অনুভূতি আহত হয়না, একদল ছাত্রলীগ নিরীহ ও অসহায় বিশ্বজিৎ এর প্রাণ কেড়ে নিলে আওয়ামী অনুভূতি আহত হয়না, বাঙালির সংস্কৃতিকে টুপি পরাতে চাইলে বাঙালির অনুভূতি আহত হয়না! একের পর এক লেখক, প্রকাশক ও ব্লগারদের নির্মম হত্যাকাণ্ড আমাদের দেখতে হয়েছে। এই হত্যাসমূহ নিয়ে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে, প্রতিবাদ করলে – গ্রেফতার হতে হয়েছে নতুবা দ্বীতিয় কোনো অপশক্তির হুঙ্কারে দেশের মাটির মায়া ত্যাগ করতে হয়েছে! একদিকে আওয়ামী আরেকদিকে ফান্ডামেন্টালিস্ট, কই যাবেন?

আবারো আওয়ামীতন্ত্রের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা থাবায় পরিণত হতে চলেছে সাংবাদিকতা! সত্য তুলে ধরা যাবেনা, উপস্থাপন করা যাবেনা, প্রচার করা যাবেনা, সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দেয়া যাবেনা! কি তুলে ধরা যাবে? উপস্থাপন ও প্রচার করা যাবে? সেটাই করা যাবে যা সরকার চায়, যা সরকারের সুনাম পাওয়ার মত না হলেও সুনাম বাড়িয়ে তোলে। সরকার দলীয় লোকেদের বিভিন্ন অপরাধ, এই মহাদূর্যোগেও চাল চুরি, তেল চুরির সত্য তুলে ধরবেন এটা সরকার চায়না। একারণেই হয়তো ঢাকায় গুম হওয়ার ৫৬ দিন পর বেনাপোলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর দায়ে সাংবাদিক কাজলকে গ্রেফতার করা হয়েছে! এছাড়া আমাদের আর কি ভাবা উচিত? সাংবাদিক দম্পতি সাগর – রুনি হত্যার ৭ বছরেরও অধিক সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো খুনির সন্ধান মেলেনি! দীর্ঘ ৭ বছর যাবৎ বিচারের প্রত্যাশায় অপেক্ষমান পরিবার শেষ অব্দি হালই ছেড়ে দিয়েছে। বিগত বছরগুলিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই পরিবারের সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি! এখন প্রশ্ন হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো কার? অবশ্যই রাষ্ট্র তথা বর্তমান রাষ্ট্রযন্ত্রের?

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামক কালো আইনে ২০১৮ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে মোট মামলা হওয়া সাংবাদিকের সংখ্যা ১৮০ জন! এরচেয়ে এই সরকারের কাছ থেকে ভালো কমপ্লিমেন্ট আর কি হতে পারে?

এই মূহুর্তে আরো এক অবাক করার মত খবর হল, সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী ; সরকারের প্রতি সরকারি কর্মচারীরা বিরুপ মন্তব্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে! ফলাফল কি সেই একই দাঁড়ালোনা? আমি অপরাধ করব, চৌর্যবৃত্তির চর্চা করব, আপনার সামনেই করব – আপনি কিচ্ছু বলতে পারবেন না, সমালোচনা করতে পারবেননা সর্বপরি সত্যটাও প্রকাশ করতে পারবেন না! আন্দার আর বাহার এই রাষ্ট্রযন্ত্রের কেবলই সুনাম চাই, সত্য হলেও চাই – মিথ্যে হলেও চাই, রফাদফা করে হলেও ভাবমূর্তি চাই।

হুমায়ুন আজাদ স্যারের মত বলতে ইচ্ছে করে ” আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?” লেজুড়বৃত্তিতে মজে থাকা বুদ্ধিজীবী চেয়েছিলাম? চেতনার ব্যবসা চেয়েছিলাম? এমন অপদার্থ রাষ্ট্র ব্যবস্থা চেয়েছিলাম?

ফেসবুক মন্তব্য

১ thought on “আওয়ামীতন্ত্র চায়না আপনি সত্য প্রকাশ করেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − 14 =