বিপ্লব !!!

(১)

আজকে আমার বহু বছরের স্বপ্ন পূরণ হল। আজ বাংলার মেহনতি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা আল্লামা আবু বকর বাংলার রাষ্ট্র প্রধান হলেন। যখন থেকে মার্কসের দাস ক্যাপিটাল পড়েছি তখন থেকেই কেবল বিপ্লবের অপেক্ষায় ছিলাম। ছোটবেলায় আমার কমরেড বড়ভাইরা সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের গল্প বলতেন। ব্যাখ্যা করতেন কিভাবে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা কুটিল ষরযন্ত্র করে মেহেনতি মানুষের রাজনীতির পতন ঘটিয়েছিল। সেই থেকেই পশ্চিমাদের উপড়ে আমার তীব্র ঘৃণা। তবে যখন টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়েছিল তখনই বুঝতে পারি পশ্চিমারা অজেয় নয়। এখনো কেউ আছে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য।

আজ দুপুরে বাসায় জারিফ আজাদের আসার কথা। আমরা দুপুরে খেতে খেতে মেহনতি মানুষের এই বিপ্লবের বিজয় উদযাপন করবো। জারিফ আমার খুবই কাছের বন্ধু। আমি অমুসলিম হলেও জারিফ আমাকে খুবই ভালোবাসে। বলে অমুসলিমদেরও নাকি প্রফেট অনেক সম্মান করতেন। জারিফ খুবই ভালো লেখে। জারিফ বেশ কয়েকবছর ধরে চরম ইসলাম-বিদ্বেষী লেখকদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি বইও লিখেছে। জারিফের থেকেই আমি জানতে পারি ইসলামের চাইতে মানবিক ধর্ম আর একটিও নেই।

জারিফের জন্য হালাল চিকেনের ব্যবস্থা করেছি। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে হালাল উপায়ে মুরগি জবাই করিয়েছি। মা কে সবজি রান্নার সময় পাঁচফোড়ন দিতেও মানা করেছি। জুম্মার নামাজ পড়েই জারিফ সোজা আমার বাসায় চলে এলো। দরজা খুলতেই আমাকে জড়িয়ে ধরে স্লোগান দিতে থাকলো “নাড়ায়ে তকবির, আল্লাহু আকবার”। জারিফকে নিয়ে খেতে বসে গেলাম। আমি নিজেই ভাত বেড়ে দিলাম। খেতে খেতে জারিফ বললো কিভাবে দেশে এখন ধাপে ধাপে আল্লাহর আইন কার্যকর হবে।

“প্রথমেই দেশে চুরি ও দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে। শরীয়াহ এসব ব্যাপারে খুবই কঠোর। খুব দ্রুত সময়ের মাঝেই ইসলামী আদালত রায় দিবে আর রায়ও খুব দ্রুতই কার্যকর হয়ে যাবে। তাগুতি মানবসৃষ্ট আইনের মত এত ফাঁকফোকর আর দীর্ঘসূত্রিতা নেই শরীয়াহতে। এখন থেকেই সমাজকে সকল অশ্লীলতা থেকে মুক্ত করা শুরু হয়ে যাবে, আল্লাহ আকবার। সিনেমা হল, যাত্রাপালা এসব তো অনেকদিন ধরেই বন্ধ ছিলো। গান-বাজনাও নিষিদ্ধ হয়ে যাবে দ্রুতই। তরুণ সমাজতো অনেকদিন ধরেই গানের চেয়ে ওয়াজ বেশী শুনছে, আলহামদুলিল্লাহ! দীন কায়েমের ক্ষেত্র আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলো।”

জারিফের কথায় আমি সায় দেই। খুবই ভালো লাগে। মেহনতি আপামর মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলনই বড় কথা। পশ্চিমা পুঁজিবাদী আইনব্যবস্থা অনেকদিন ধরেই জনসাধারণকে সার্ভ করতে ব্যর্থ হচ্ছিলো। সমাজে গান-বাজনা আর সিনেমার মাধ্যমে অশ্লীলতার প্রসারওত হত সেই পুঁজিবাদ টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই।

খেতে খেতে জারিফ বর্ণনা করতে থাকে আরও কী কী পরিবর্তন আসছে সামনে। সুদী তাগুতি ব্যাংকগুলোতে বড় পরিবর্তন আসছে। সব সুদের কারবার বন্ধ হতে যাচ্ছে। পরিবর্তে আসছে শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং। আমি জানি ব্যাংগুলো পশ্চিমা পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার প্রধান হাতিয়ার। পশ্চিমা পুঁজিবাদী সুদভিত্তিক ব্যবস্থা ছুড়ে ফেলে ব্যাংকগুলো এখন মেহনতি মানুষের ব্যাংক হয়ে উঠবে বলেই আমার ধারনা।

খাবার পরে আমরা ড্রয়িং রুমে বসলাম। স্মোক করতে ইচ্ছা করছে। আগে আমি চেইন-স্মোকার ছিলাম। আমার মত অনেক বামপন্থীই স্মোকার। তবে জারিফের সান্নিধ্যে আসার পরে ধীরে ধীরে স্মোকিং ছেড়ে দেই। জারিফ বলে সব নেশাজাতীয় জিনিসই হারাম। নেশা হারাম হবার মাঝে অনেক কল্যাণ আছে।

ছোটবোন সুরোভী চা নিয়ে এলো। জারিফ মাটির দিকে তাকিয়ে সুরোভীকে আদাব দিলো। নারীর প্রতি এই সম্মান ইসলামের সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর একটি। অবশ্য প্রথম প্রথম যখন জারিফ বাসায় আসতো তখন আমার মা আর বোনের সাথে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলতো। পরে ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা ও লেখালেখি শুরুর পরে জারিফ অনেক পালটে যায়। এই পরিবর্তনটা ভালোই। এখন জারিফ রাজনীতি ও সমাজ নিয়ে অনেক সচেতন। এমনইতো হওয়া উচিত। পুঁজিবাদী বুর্জোয়া কর্পোরেটরাতো তরুণ প্রজন্মকে কেবল ভোগবাদিতায় ডুবিয়ে রাখতে চায়। সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে ভাবতে দিতে চায় না। একদিন জারিফ আমাকে এক মিশরীয় বিপ্লবীর বানী শুনিয়েছিলোঃ “পশ্চিমারাতো এমন ইসলামই চায় যেই ইসলামে কেবল সালাত ও উদু ভঙ্গের নিয়ম থাকবে, কিন্তু রাষ্ট্রপরিচালনার নিয়ম থাকবে না”। যাইহোক আমরা চা নিয়ে বসলাম। জারিফ আমাকে আশ্বস্ত করার জন্যই কিনা জানি না বলে বসলো-

“শোন যতিন, তোমরা কিন্তু একদমই ভয় পাবে না। ইসলামী শাসনের আন্ডারে সংখ্যালঘুরা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তোমাদের সামান্য জিজিয়া কর দিতে হবে নিরাপত্তার জন্য। এতে কিন্তু কোন বে-ইনসাফি নেই। এই করটি আমরা যে জাকাত দেই তার ইকুইভেলেন্ট। অর্থাৎ, মুসলিমরা যাকাত দেবে আর বাকিরা দেবে জিজিয়া”। 

আমি কিন্তু আসলে উদ্বিগ্ন ছিলাম না। ইসলাম যে একটি ইনসাফের ধর্ম সেটা আমি অনেক আগে থেকেই জানি। সাধারণ মুসলিমরা কখনোই সাম্প্রদায়িক না। সেক্যুলার পুঁজিবাদী শাসনের সময়েতো আমার প্রায় সব বন্ধুই মুসলিম ছিলো। দুর্গাপুজোর সময় ওরা আমাদের বাড়িতে আসতো। আমাদের চাইতে ওরাই বেশী আনন্দ করতো। তবে গত কয়েক বছরে দেশে ইসলামী হাওয়া বইতে শুরু করায় প্রায় সবাই দুর্গাপূজোর সময় আমাদের এড়িয়ে চলা শুরু করে। আমার সবচেয়ে আনন্দপ্রিয় গিটারিস্ট বন্ধু হায়দার হোসেন একদিন বলে বসেছিল- 

“প্লিজ আমাকে পূজায় আসতে বলিস না। শিরক ও মূর্তিপূজা আল্লাহর দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় গুনাহ। আল্লাহ সব জঘন্য গুনাহ ক্ষমা করলেও, শিরক কখনোই ক্ষমা করবেন না। তোদের পূজা তোরা কর, আমাকে ডাকিস না”।

জবাবে বলেছিলাম 

“আরে হায়দার! তোকে তো পুজো দিতে হবে না, কেবল আসলে কি সমস্যা”। 

ওর উত্তরটা বেশ রুক্ষই ছিলো 

“তোর বাব-মা কে যদি তোর সামনে হত্যা করা হয় সেটা তুই সামনে থেকে দেখতে পারবি? মুর্তিপূজাতো আমাদের কাছে পিতা-মাতা হত্যার চেয়েও বড় বিষয়, এখানে আল্লহর সাথে অন্যকে অংশীদার বানানো হয়, আমি পারবনা তোদের পূজায় যেতে”।

আর কথা বাড়াতে পারিনি আমি। তবে হায়দারের উপর আমি মোটেই চটিনি। আমি সবার ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। আমিতো তার বিশ্বাসে আঘাত করতে পারিনা। তাছাড়া কোন ধর্মইতো কখনো খারাপ কিছু বলে না।

জারিফ আয়েশ করে বসে। বলে যায় একের পরে এক কী কী পরিবর্তন আমরা দেখতে যাচ্ছি। আলাপ ছলে একসময় ইসলাম-বিদ্বেষী নাস্তিকদের প্রসঙ্গ আসে। জারিফ বলে এই নাস্তিকদের উপযুক্তভাবে দমন করা হবে। শাহবাগের পরে বেশ কয়েকটাকে চরম শাস্তি দেয়া হয় আর বাকিগুলো দেশের বাইরে পালিয়ে যায়। গুটিকয় যেগুলো রয়ে যায় সেগুলোর লেখালেখি বন্ধ। বিপ্লবের আগের সেক্যুলার তাগুত সরকার সব ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগ বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই সেক্যুলার প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকার লোভে দেশের অনেকটুকু ইসলামাইজেশন নিজেই করে যান। কিন্তু দীনের মাঝে অর্ধেক প্রবেশের সুযোগ নেই। পূর্ণ ইসলামাইজেশনের জন্যই এই বিপ্লব। সেই প্রধানমন্ত্রীর ফাঁসি হয়ে গেছে। জারিফ বলে-

“তারা কৌশল করে, আল্লাহও কৌশল করে, নিশ্চয় আল্লাহই শ্রেষ্ঠ কৌশলী। এখন বাকি লুকিয়ে থাকা ইসলাম-বিদ্বেষীগুলোকেও খুঁজে বের করে চরম শাস্তি দেয়া হবে।”

এতে আমার আপত্তি থাকার কথা না। বিপ্লবের দুশমনদের চরম শাস্তিই প্রাপ্য। 

আলাপের মাঝে মা চা নিয়ে আসে। মা একটু ভীরু প্রকৃতির। হটাত ইসলামী সরকার ক্ষমতায় চলে আসায় বোধহয় একটু বেশী চিন্তিত। জারিফকে চা দেয়ার ফাঁকে মা প্রশ্ন করে বসে 

“বাবা জারিফ, এই সরকার ক্ষমতায় আসায় আমাদের কোন সমস্যা হবে নাতো?”

জারিফ যথারীতি চোখ নিচু রেখেই উত্তর দেয় 

“আন্টি, ইসলাম কিন্তু ইনসাফের ধর্ম। নবী (সাঃ) নিজে সবসময় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার জন্য ফাইট করেছেন। আপনি কোন চিন্তা করবেন না। ইসলামের ছায়াতলে আপনারা আগের সেক্যুলার তাগুত সরকার থেকেও বেশী নিরাপদ থাকবেন”।

মা কে দেখে খুব একটা আশ্বস্ত মনে হলো না। একটু দ্বিধা রেখেই বললো 

“তাই যেন হয় বাবা”। 

মা চলে গেলে আমি জারিফকে জিজ্ঞেস করি 

“আচ্ছা জারিফ, সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে তোমাদের ইসলামী আইনগুলো আমাকে একটু বুঝিয়ে দাওতো”

জারিফ চকিত উত্তর দিল-

“ইসলামী খেলাফতে আহলে-কিতাবদের জন্য তিনটি রাস্তা রয়েছে। এই তিনটির মাঝে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। এক- তারা ইসলাম কবুল করবে, দুই- খেলাফতকে জিজিয়া কর দিয়ে নিরাপত্তা লাভ করবে, এবং তিন- যুদ্ধ। দেখেছো? ইসলাম কিন্তু শান্তিপূর্ণ দুটি রাস্তা খোলাই রেখেছে”

আমি আগেই জানতাম ইসলাম শান্তির ধর্ম। তারপরেও আরেকটু ক্লিয়ার হবার জন্য প্রশ্ন করি-

“আচ্ছা! এই আহলে-কিতাব কারা?”

“আহলে-কিতাব মানে হল ‘পিপল অব দ্যা বুকস’ মানে যেই ধর্মের ধর্মগ্রন্থ আছে”

“আর যারা আহলে-কিতাব না তাদের কী হবে?”

“তাদের ক্ষেত্রে হয় কনভার্শন নতুবা যুদ্ধ। তবে আগে অবশ্যই কনভার্শনের আহবান জানানো হবে, ইসলামে প্রথমেই যুদ্ধ করার সুযোগ নেই। এই বিধানের যৌক্তিকতা বুঝতে হলে তোমাকে একটু গভীরে ঢুকতে হবে। ইসলাম একটি পুর্নাংগ ব্যবস্থা। দেখ, খিলাফত কিন্তু সব ধর্মের মানুষকে তার নিজস্ব আইনে চলার স্বাধীনতা দেয়। আর আইনগুলোর উৎস কিন্তু ধর্মগুলোর রেস্পেক্টিভ ধর্মগ্রন্থ। এখন যাদের কিতাবই নেই তাদের ক্ষেত্রে খিলাফতের কাজী কিভাবে আইন প্রয়োগ করবে? এজন্যই তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামী আইনের অধিনে চলে আসতে হবে। খিলাফতকেতো রুল অব ল মেইনটেইন করতে হবে, নাকি?। দেখলেতো ইসলামী ব্যবস্থা কত সহজ ও নিখুঁত?“

আমাকে আরও আশ্বস্ত করার জন্য জারিফ বলে 

“তোমাদের কিন্তু চিন্তার কোন কারন নেই। হিন্দুরাতো পিপল অব দ্যা বুকস। হিন্দুদেরতো ধর্মগ্রন্থ আছেঃ বেদ ও গীতা। এগুলোও সম্ভবত আসমানি কিতাব। পরে বিকৃত হয়ে গেছে।”

জারিফ আরও বলে 

“এই বিষয়ে একটি নোট লিখব আজকে রাখতে।”

হোয়াট ওয়াজ আই থিঙ্কিং! আমারতো এসব নিয়ে আসলে দুশ্চিন্তা করার কথাই না। আড্ডা দিতে দিতে নামাজের সময় হয়ে যায়। জারিফ উঠে বলে-

“নামাজ ছেড়ে দিলেন তো হেরে গেলেন।”

আমি ওকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেই।

(২)

বিপ্লবের প্রথম সকাল। জারিফকে ফোন দিলাম। আজকে বাইরে নাস্তা করবো। জগন্নাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে বসলাম। পরোটা আর ডাল-ভাজি অর্ডার দিলাম। দুটি খবর আছে। গতকাল রাতে ব্লগার জোনাকি ভট্টাচার্য পরিবার সহ দেশ ছেড়েছে। ব্যাপারটা অদ্ভুত। কারন জোনাকি সবসময় ইসলামের পক্ষেই লিখতেন। অন্য খবরটি জারিফের পোস্ট সংক্রান্ত। 

রাতে জারিফ পোস্ট লিখে প্রমাণ করে যে হিন্দুরা আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত। তবে এবার পোস্টটি বেশ বিতর্ক উসকে দেয়। জারিফের এক কমরেড সালিফ আদনান তীব্র আক্রমণ করে বসে। তার মতে যেহেতু কুরআন ও হাদিসে কেবল ইহুদী, খৃষ্টান ও সেবিয়ানদের আহলে কিতাব হবার উল্লেখ আছে, সেহেতু হিন্দুরা আহলে-কিতাব  না। জারিফ যুক্তি দেয় যাদের ধর্মগ্রন্থ আছে তারাই আহলে-কিতাব। ওদিকে সালিফ পালটা যুক্তি দেয়-

“কুরআন ও হাদিস বুঝতে হবে ইসলামের প্রথম তিন জেনারেশন (সালফে-সালেহিন) যেভাবে বুঝেছে ঠিক সেভাবে। এটাই ইসলামী উসুল। অন্যভাবে বুঝতে গেলেই তা হবে বিদাহ।  সালফে-সালেহিন বুঝ হল কেবল ইহুদি, খৃষ্টান ও সেবিয়ানরাই আহলে-কিতাব, হিন্দুরা নয়”

জারিফ পালটা যুক্তি হিশেবে ভারতের প্রসঙ্গ নিয়ে আসে। কমেন্ট করে 

“সালিফ আদনান ভাই, আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। তারপরেও আমি দ্বিমত করছি। হিন্দুরা যদি আহলে-কিতাব না হতো তাহলে ভারত আটশ বছরের মুসলিম শাসনের পরেও কেন হিন্দু মেজরিটি রয়ে গেল? বাদশাহ আওরঙ্গজেবের (রহিমাহুল্লাহ) মত আলেম শাসকও তো হিন্দুদের রিভার্ট করার জন্য ফোর্স করেননি। আওরংজেব (রহিমাহুল্লাহ) কি একজন বড় আলেম ছিলেন না?”

জারিফের এই উত্তর ওর ফলোয়ারদের সমর্থন পায়। কিন্তু সালিফ আদনানও এর শক্ত জবাব দেয়- 

“আওরঙ্গজেব আশ’আরীপন্থী ছিলেন। ইসলাম বুঝতে হবে সালফে-সালেহিন যেভাবে বুঝতেন ঠিক সেইভাবে। সালফে-সালেহিনরা উম্মতের নক্ষত্র। এটা সহীহ হাদিসে প্রমাণিত”। সালিফ রেফারেন্স সহ প্রমাণ দেয়। এভাবে যুক্তি- পালটা যুক্তি চলতে থাকে। 

এই বিতর্কের পরে সালিফ আদনান জারিফকে আনফ্রেন্ড করে দেয়। শেষরাতে ফজরের আগে সালিফ একটি পোস্ট লিখে “মডারেট মুসলিমরা কেন নাস্তিকদের চাইতেও বেশী ক্ষতিকর”। পোস্টটি অবশ্য আমার আর পড়া হয়নি।

এই বিতর্ক নিয়ে জারিফ আমার সাথে তেমন কথা বলেনি। জিজ্ঞেস করতে খানিকটা এড়িয়ে যায়। বলে-

“বুঝলে যতিন, ইসলাম হলো সমুদ্রের ন্যায়, এই জ্ঞানের ভাণ্ডার শেষ হবার নয়, যখনি মনে হয় বুঝে গেছি সবটা একটু পরেই ধরতে পারি আসলে কিছুই বুঝিনি।”

জারিফকে আজকে ঠিক কেমন জানি লাগছে। ঠিক আগের মত স্বতস্ফূর্ত না। নাস্তার পরে জারিফ চায়ের অর্ডার দিলো। আমার দিকে মিষ্টি একটি হাসি দিয়ে তাকিয়ে বললো-

“তোমার জন্য একটি উপহার আছে। অনেকদিন ধরেই তোমাকে দিব দিব বলে ভাবছি কিন্তু সু্যোগ হয়ে উঠছে না। এই নাও”

আমি উপহারটা হাতে নিলাম। প্যাকেট করা। বই সম্ভবত। জারিফের সামনেই খুললাম। বাংলা ও ইংরেজি কোরান শরীফ। জারিফকে ধন্যবাদ জানালাম। এবার উঠতে হবে। বাসায় সবজি নেই। মা বলেছে সকাল সকাল বাজার করে বাসায় ফিরতে। কাছের বাজার বলতে ঠাঠারি বাজার। রিকশায় দশ মিনিট লাগবে। 

রিকশা নিলাম। রিকশাঅলাকে বেশ ধর্মভীরু বলে মনে হল। জিজ্ঞেস করলাম দেশের হালহকিকত কিছু জানে কিনা। বললো- 

”হুনলাম ইসলামী হুকুমত কায়েম হইসে। আলহামদুলিল্লাহ! অহন থিকা দ্যাশে গরীব মানুষ ইনসাফ পাইবো। সবাই নামাজি হইয়া যাইবো” 

আমি এটাই শুনতে চাচ্ছিলাম আসলে। নতুন সরকারকে নিয়ে  মেহনতি মানুষ কী ভাবছে জানা জরুরী। সকালেই একটা নিউজ দেখেছিলাম যে এখন থেকে সরকারীভাবে যাকাত আদায় হবে। এই জাকাত গরীব মেহনতী মানুষের মাঝে বণ্টন করা হবে। কেউ জাকাত ফাঁকি দিলে খুব কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও থাকছে। ট্যাক্সফাঁকির এই দেশে মেহনতি মানুষ সুবিচার পেতে যাচ্ছে দ্রুতই। 

ঠাঠারিবাজার যেতে হয় নারিন্দা দিয়ে। নারিন্দার মোরেই পুরোন ঢাকার বেশ কিছু বিখ্যাত রেস্তরা। তানয়িনস ও ঝুনুর পোলাউএর সামনে দিয়ে গেলেই কাবাবের একটা মাতোয়ারা সুগন্ধ আসে। একটু পরেই বিজয়া স্যুইটসের পাগল করা ভাজির গন্ধ। এখান দিয়ে যাবার সময় প্রতিবারই আমার খিদে পেয়ে যায়। রিকশায় যেতে যেতে রাস্তাঘাটের দিকে লক্ষ করছিলাম। রাস্তাঘাট-জনজীবনে তেমন কোন পরিবর্তন চোখে পরলোনা। সকাল দশটা বাজে। বাজারে ঢুকে পরলাম। তেমন কোনই পরিবর্তন নেই। বেছে বেছে পালং শাক, হেলেঞ্চা শাক ও কচুর লতি কেনা হল। এখন আমের সিজন। মায়ের আবার আম খুব পছন্দ। আম কেনার সময় জিজ্ঞেস করলাম আমে ফরমালিন আছে কিনা। দোকানদার বলে-

“আস্তাগফিরুল্লাহ! মোমেন মুসলমান কহনো ঠহায় না।”

বাজার থেকে বের হবার রাস্তায় কিছু পাঞ্জাবী পরা ছেলে দাঁড়িয়ে ছিলো। সাধারণ দৃষ্টিতে সবাইকে মাদ্রাসার ছাত্র মনে হলেও স্বাস্থ্য ও কথাবার্তার ধরনে সহজেই বোঝা যায় এদের সবাই মাদ্রাসার না। এদের মাঝে কালো পাঞ্জাবি পরা খুব পরিপাটি একটি ছেলের সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল। সম্ভবত এদের লিডার। আমি স্মিত হেসে সালাম দিলাম। সালামের উত্তর দিয়ে আমার সাথে হ্যান্ডশেক করলো।

“আমরা ইমারাতে দাওলাহর মাঠকর্মী। ভাইয়া বোধহয় বাজার করে ফিরলেন। বাজারে কোন সমস্যা হয়নি তো?”

“না না, কোন সমস্যা হয়নি।”

“আলহামদুল্লিল্লাহ! বাজারে কোন সমস্যা হলেই আমাদের জানাবেন। আমাদের কাজ হল শরীয়াহ ইমপ্লিমেন্ট করে কওমের সেবা করা। লোকবল কম হওয়ায় এখনো আমরা ব্যাপকভাবে কাজ করতে পারছিনা। কিন্তু ইনশাল্লাহ! কয়েকদিনের মাঝেই লোকবল বেড়ে যাবে, তখন সবজায়গায় আমরা মেহনত করতে পারবো।”

আমি বললাম-

“নিশ্চই নিশ্চই, দেশের মানুষ আপনাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। আপনারাই পারবেন দেশ থেকে সব অনিয়ম-দুর্নীতি দুর করতে।”

বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে জারিফের দেয়া উপহারটা বের করলাম। খুব ভালো প্রিন্টের কোরান শরীফ। মলাটের উপড়ে খুব সুন্দর ক্যালিগ্রাফি। ভেতরে একটা চিঠি-

“যতিন তুমি শুনতে পাও কি?

আল-কুরআন তোমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

তোমার হিদায়েতের অপেক্ষায়।

একদিন তুমি রিভার্ট হবেই।

  • – জারিফ আজাদ”

জারিফ আমাকে কনভার্ট হতে বলছে।

বিকেলে সুরোভী আমার রুমে আসলো।

“দাদা আজকে পারার মোরে কিছু মাদ্রাসার ছেলে আমার রিকশা থামিয়ে আমাকে মাথায় ওড়না দিতে বলে। আমার টিপও খুলে ফেলতে বলে। বলে মুসলিম মেয়েদের হিন্দুদের মত চলা ঠিক না। আমি যখন বলি আমি হিন্দু তখন অবশ্য সন্মানের সাথেই ছেড়ে দেয়। তার আগে অবশ্য মজার একটা ঘটনা ঘটে। একটা চ্যাংরা হুজুর আমাকে মালাউন বলে বসে। সাথে সাথে লিডার টাইপের ছেলেটা কসে ওর গালে চর মারে। এরপর আমাকে বলে- আপনি জান, কোন সমস্যা নেই”

আমি নিশ্চিন্ত হই। বলি-

“ওদের সবাই সম্ভবত মাদ্রাসার ছেলে না। সাধারণ ছেলেও আছে। মাত্র নতুন সরকার আসলোতো তাই একটু বেশী উৎসাহী ওরা। সময়ে সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করিস না”

(৩)

আজ বিপ্লবের এক সপ্তাহ পার হল। কিছু পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আমাদের মহল্লার সব অমুসলিমদের তথ্য নেয়া হয়েছে। নতুন আইডি কার্ড দেয়া হয়েছে। আমার ধর্মীয় পরিচয়ের যায়গায় লেখা ‘মুশরিক’। আমার আরেক বামপন্থী বন্ধু জনির ‘নাসারা’। এই লিস্ট আর আইডি নিয়ে আমার একটু সংশয় ছিলো। মা আর সুরোভীও একটু চিন্তিতো। এই নিয়ে ফেইসবুকেও বেশ সমালোচনা চলছে। এ বিষয়ে জারিফ ফোনে বললো-

“ইমারতে দাওলাহ সব ধর্মের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। এজন্যতো সবার ধর্মীয় পরিচয় জানতে হবে। সব কুফফারতো আর এক না। আহলে-কিতাবরা আছে, মুশরিকুন আছে, প্রত্যাকের আলাদা আলাদা আইন আছে, দাওলাহকে তো সবার মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাছাড়া হুকুমতের নেতৃস্থানীয় এক আখির সাথে কথা হয়েছে আমার। উনি বললেন এই নতুন আইডিকার্ড আর লিস্ট কেবল একটি রুটিন ওয়ার্ক। আজ হোক কাল হোক গাজওয়ায়ে হিন্দ শুরু হবে। দিল্লি পর্যন্ত দাওলাহর হুকুমত চলে যাবে ইনশাল্লাহ, তখন কোটি কোটি কুফফারকে নিয়ে ডিল করতে হবে। এজন্যই এটা একটা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিহার্সেল। আমাদের হুকুমততো একসময় ফ্রান্স থেকে চীন পর্যন্ত ছিলো, ইতিহাস জানোতো?”

জারিফের কথাবার্তায় স্টাইলে বেশ পরিবর্তন লক্ষ করি। আখি, গাজওয়া এসব অজানা শব্দ আগে ইউজ করত না। অবশ্য কুফফার মানে বুঝতে পারছি- কাফের থেকে কুফফার।

“যতিন তোমাকে একটা সুখবর দেই। আমি এখন ইমারতে দাওলাহর একজন স্বেচ্ছাসেবক। অফলাইন অনলাইন দুই যায়গাতেই কাজ করবো। দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল”

আমি কংগ্রেচুলেট করলাম।

জারিফ এবার জিজ্ঞেস করলো-

“যতিন তোমাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করার ছিলো, সময় হবে?”

“হুম বল জারিফ।”

“কুরআন পড়েছো? তোমাকে যে গতসপ্তাহে দিলাম?”

“না জারিফ, সময় পাইনি। বাট থ্যানক্স, পড়বো”

“আলহামদুলিল্লাহ! আসলে কি জানো, প্রতিটি মু’মিন একেকজন দাঈ। ইসলামের দা’ওয়াত দেয়া প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। দাঈর কাজ আমার অনেক আগেই শুরু করে দেয়া উচিত ছিল, কিন্তু পারিনি। বাট বেটার লেইট দেন নেভার। মানুষকেতো জাহান্নামের আগুন থেকে বাচাতে হবে। তাই বলছি তুমি একটু কুরআন স্টাডি কর, কোন প্রশ্ন থাকলে আমাকে কর। তুমিতো আমার প্যারাডক্সিক্যাল আরিফও পড়েছো। এখন তো আর কোন সংশয় থাকার কথা না। ডক্টর জাকির নায়েকের কিছু লেকচার তোমাকে পাঠাবো, দেখো।”

“হুম জারিফ, আমি স্টাডি করবো। কিন্তু এই মুহুর্তে এই লিস্ট আর আইডিকার্ড নিয়ে একটু স্ট্রেসের মাঝে আছি। তার উপর আবার সুরোভীর ক্লাসমেইটরাও ওকে এড়িয়ে চলছে ইদানীং।”

“ওয়াল্লহি! এসব নিয়ে একদম পেরেশান হবেনা প্লিজ! ইসলামের ইতিহাসে সংখ্যালঘুরা সবসময়ই নিরাপদ ছিলো। সাধারণ মুসলিমরা অবুঝ তাই এড়িয়ে চলছে। দাওলার আখি আমাকে আজই জানালো যে খুব শীঘ্রই কুফফারদের বিষয়ে সুরা কমিটি বসবে। সেখান থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও ফতওয়া আসবে। দেখবে তখন সব ঠিক হয়ে যাবে।”

(৪)

বিপ্লবের দুইমাস হল। অকল্পনীয় অনেক কিছু ঘটে গেছে। প্রায় দেড় মাস ধরে আমি জেলে। এদিকে বাসায় সুরোভী আর মায়ের খবর জানি না। দাওলাহর সুরা কমিটি ফতওয়া দেয়ছিলো যে শুধুমাত্র আহলে-কিতাবেরা জিজিয়া ট্যাক্স দিয়ে নিরাপত্তা পেতে পারে। খৃষ্টান, ইহুদী ও সেবিয়ানরাই যে কেবল আহলে-কিতাব সেটাও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেয়া হয়। এদিকে হিন্দুরা মুশরিক ক্যাটাগরিতে পরে গিয়ে এখন কনভার্শন অথবা চরম দণ্ডের মুখোমুখি। তবে সেটা কেবল হিন্দু পুরুষদের বেলায়। আমাকে এরেস্ট করার সময়ই এটা ক্লিয়ার করে দেয়া হয়। নারী ও শিশুদের কি পরিণতি আমাদের স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। আমার সেলের অন্যান্য হিন্দুদের মুখে যা শুনছি তা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি যে করেই হোক একটা চিঠি লিখে জারিফকে অনুরোধ করি ও যেন আমাকে বাসার খবর দেয়।

(৫)

জারিফ আজাদের উত্তর

যতিন,

আশা করি ভালো আছো। আমি ভালো আছি, আলহাদুলিল্লাহ। যত দিন যাচ্ছে ইসলামকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছি, জানতে পারছি। এই জ্ঞানের মহাসাগর যেন শেষ হবার নয়। তোমার অবস্থা জানি না। এখনো কি সত্য সন্ধান করছো? নাকি এর মাঝেই সত্যকে পেয়ে গেছ? সত্যতো এসেই গেছে, মিথ্যাতো দূরীভূত হেয়েছে, মিথ্যাতো দূরীভূত হবারই ছিল।

যতিন, আমি তোমাকে কছু গুরুত্বপূর্ণ খবর দিবো। তবে খবরগুলো শোনার আগে কিছু বিষয় তোমার জানা প্রয়োজন। নাহলে ভুল বুঝতে পারো। মনে সংশয় সৃষ্টি হতে পারে। তুমিতো আমার প্যারাডক্সিকেল আরিফ পড়েছো। এমন আরও অসংখ্য বই আছে আল-কুরআন এর অকাট্য সত্যতা নিয়ে। এখন পর্যন্ত কেউ কুরআনের একটা অক্ষরকেও কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারেনি। এর মানে কিন্তু ইসলামই সত্য। ইসলামের প্রতিটি হুকুমের মাঝে রয়েছে সুদূরপ্রসারী মানবকল্যান। আফটার অল, কেবল ইসলামই মানুষকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করবে। অন্য কোন দীন এটা পারবে না। ইন ফ্যাক্ট ইসলামই একমাত্র দীন। তাই মানুষের নাজাতের প্রয়োজনেই আমাদের একটু কঠোর হতে হয়। কেউ যদি বুঝতে না চায়, আমরা ক্ষেত্রবিশেষে ‘জোর’ করি। কারণ আমরা চাই না কেউ বুঝের কমতির কারণে জাহান্নামের বাসিন্দা হোক।

তোমার অ্যারেস্টের পরেই তোমার মা ও বোনকে হুকুমতের হেফাজতে নেয়া হয়। পরে হুকুমত অন্যান্য মুশরিক নারী ও শিশুদের মতই তোমার মা ও সুরোভীকে মু’মিনদের মাঝে বণ্টন করে দেয়। তোমার মা এখন নোয়াখালীতে এক পরহেজগার মু’মিনের মালিকানায় আছে। সুরোভীকেও নোয়াখালীতে দাওলার এক আখির মালিকানায় দেয়া হয়েছিলো। সেই আখি সুরোভীকে কিছুদিন নিজের কাছে রেখে চট্টগ্রামে আরেক আখির কাছে বিক্রয় করে দেয়। যতদূর শুনেছি তোমার বোন এখন ভালো আছে। আশা করি ওর বর্তমান মালিক ওকে রাখবে। ওর এখনকার মালিকের পরিবার খুবই ভালো। উনি আমাকে ইমেইলে জানিয়েছেন যে উনার স্ত্রী সুরোভীকে নিজ বোনের মতনই আপন করে নিয়েছেন। সুরোভীর খুবই আদরযত্ন করেন। কী পরহেজগার মু’মিনা স্ত্রী দেখেছো! সুরোভীর প্রতি এক জাররা পরিমাণ ঈর্ষাও নেই এই মু’মিনার মাঝে। ইসলামতো এভাবেই মানুষকে সোনার টুকরোয় পরিণত করে। আমাকে উনি আরও জানিয়েছেন যে সুরোভী গর্ভবতী হলেই উনি সুরোভীকে নিজের কাছে স্থায়ীভাবে রেখে দিবেন, অন্য কারো কাছে বিক্রয় করবেন না। এটাই শরীয়াহর নির্দেশ। হয়তো তিনি সুরভীকে বিয়েও করতে পারেন। ততদিনে হয়তো সুরোভী ইসলামে রিভার্টও করে ফেলবে ইনশাল্লাহ। আসলে এসবের মুল উদ্দেশ্যইতো ইসলামী পরিবেশে রেখে ইসলামের সৌন্দর্য দেখানো। এই সৌন্দর্য দেখেই তারা ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসবে ইনশাল্লাহ। দেয়ার ইজ নো কমপালশন ইন ইসলাম। ইসলামে কোন জবরদস্তি নেই।

ইতি

জারিফ আজাদ

 

বিপ্লব !!!-২

<সমাপ্ত>

 

শব্দার্থঃ

দাওলাহ- দেশ

আখি- ভাই

গাজওয়ায়ে হিন্দ- হাদিসে উল্লেখিত ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

সালফে-সালেহিন- মুহম্মদের পরের তিন জেনারেশনকে সালফে-সালেহিন বলা হয়। এই তিন জেনারেশন কোরান ও হাদিসকে যেভাবে বুঝতেন ঠিক সেভাবে বোঝার নামই সালাফিজম। এই তিন জেনারেশন মুলত কোরান ও হাদিসের লিটারাল ইন্ট্রাপ্রিটেশনে বিশ্বাস করতেন। বর্তমানে ইসলামী আন্দোলনের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল দলগুলো সালাফিজমে বিশ্বাসি।

 

ফেসবুক মন্তব্য

৪ thoughts on “বিপ্লব !!!

  1. ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হক,
    আপনার লেখা-টি অসাধারণ! সাবলীল ও প্রতিভা দীপ্ত! আমার খুবই ভাল লেগেছে।
    আশা করি নিয়মিত লিখবেন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
    কলম চলবে–
    /গোলাপ

  2. ধন্যবাদ মাহমুদ ভাই। আপনার মত সুলেখকের কমপ্লিমেন্ট পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এবার আরও লেখার শক্তি পেলাম। সচল আর মুক্তমনা এই লেখাটি না নেয়ায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলাম।

    কলম চলবে/

    এই লেখা বিষয়ে কিছু কথা-

    আমরা যখন কোন মতবাদকে আক্রমণ করি তখন প্রায়ই সেই মতবাদ-ধারি একজন কাল্পনিক দুর্বল মানুষকে আমাদের যুক্তির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে তাঁকে পরাজিত করি আর সবাইকে দেখাই “দ্যাখো আমি অমুক-বাদকে ধুয়ে দিলাম বা তার দাঁত-ভাঙ্গা জবাব দিলাম”। এই কাজটা আরিফ আজাদ তার প্যারাডক্সিকেল সাজিদে করেছে। আরিফের তৈরী নাস্তিকেরা খুবই হালকা, তাঁরা সাধারন মানের যুক্তি দিয়ে খ্যা খ্যা করে হাসে। এই ধরনের কাজকে স্ট্র-ম্যান ফ্যালাসি বলে। আমি এই লেখায় এই স্ট্র-ম্যান ফ্যালাসিকে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেছি (কতখানি সফল হয়েছি জানি না অবশ্য)। আমি জারিফকে একজন স্ট্রং, কমিটেড এবং সৎ মানুষ হিশেবে দেখিয়েছি। এই জারিফের ক্রমেই মডারেট থেকে হার্ডলাইনে যাত্রা ও তাঁর জাস্টিফিকেশন তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরিশেষে কী ভয়ানক পরিণতি হয় সেটাও দেখিয়েছি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 + = 83