বিষ পানের পূর্বে

বাঙলাদেশ ধর্মান্ধদের দেশ, তাই ‘বিদ্যানন্দ’ শব্দে বা নামে ধর্মানুভূতিতে আঘাত লেগে গর্জে ওঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সুশীলের কাজ ভন্ডামো করা আর তাই তারা দেশের কথিত ভাবমূর্তি রক্ষার্থে বলে থাকে যে এ-দেশের মুসলমান ধর্মভীরু, ধার্মিক, সহনশীল। যেহেতু আমাদের দেশে মিথ্যের চাষাবাদ করা হয়, সেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠের মন রক্ষা না করলে গর্দান কাটা যাবে। এই কারণেই কথিত বুদ্ধিজীবীরা সুকৌশলে প্রতিবাদের অভিনয় করে আপোষ করে যাচ্ছে। ত্রিশ লক্ষ শহিদের দেশে সত্য বলার সম্মান হচ্ছে মৃত্যু ও নাস্তিক খেতাবে আমরণ মৃত্যু আতংক। অধিকাংশ মুসলমানেরা আমরণ হীনমন্যতায় ভোগে। যার ফলে অন্যের ভালো কর্মে গোস্বা করে উঠে। অন্যের ক্ষতিতে তারা জয়ী বোধ করে। পৌশাচিক আনন্দে তারা হিংস্রতাকে শান দেয়। তারা অন্যের জন্য কিছু করে না কিন্তু অন্যের ক্ষতি করতে পিছুপা হয় না।
বাঙলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষেরা অনেক সহনশীল ও আহাম্মক। যে কারণে তারা এখনও মনে করে সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যায় নি। যতদিন না শরিয়া আইন চালু হবে, যতো দিন না ধর্মান্ধরা ক্ষমতা দখল করবে, যতো দিন না শেখ হাসিনা মারা যাবে- ততো দিন হুমায়ুন আজাদের কবিতা আবৃত্তি করে সান্ত্বনা প্রকাশ করে বলবে- ইশ, মানুষটি কতো সত্যি বলতে পারতো।’ অথচ নষ্টদের অধিকারে যেন কোন মানবিক সঙ্ঘ, সংগঠন, স্বাধীনতা, অধিকার, সাধের গণতন্ত্র না যায়- সে ক্ষেত্রে তাদের কোন পদক্ষেপ নিতেই দেখা যায় না। সান্ত্বনা পুরুস্কার পেয়েই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী মানুষেরা বড্ড সুখী।
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক সব সংঘ-পরিষদ‘- হুমায়ুন আজাদ
অন্যদিকে, মানুষের কণ্ঠ রোধ করার জন্যে সাদা পোশাকে ছেয়ে গেছে গোটা দেশ। মৌলবাদের সাথে আপোষ করা হাসিনাতন্ত্রের সমালোচনা করার অর্থ হল রাতের আঁধারে বাড়িঘরে সাদা পোশাকের নিষ্ঠুর জন্তুদের প্রবেশ। একদা, জলপাই রঙে আঁতকে উঠত প্রবীণেরা। বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে; নিজের মানুষদের দেখলেই বরং আঁতকে উঠতে হয়। বর্তমানের পরিস্থিতি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সমতুল্য। কিন্তু সত্য প্রকাশ করলেই সাদা পোশাকের নিষ্ঠুর হায়েনাদের আগমন ঘটবে। কথিত ভাবমূর্তি, ধর্মানুভূতি, উসকানি, ষড়যন্ত্র, দেশদ্রোহিতার মিথ্যে নাটকীয়তা বুলি সাজিয়ে সোচ্চার সাংবাদিক, লেখক এক্টিভিস্টদের করছে কোণঠাসা। ভয়ভীতি থেকে শুরু করে গুম, গায়েব, নির্যাতন, হত্যা, মামলা সব-ই ঠুসে দিচ্ছে হাসিনাপালেরা।
ফেসবুক মন্তব্য

১ thought on “বিষ পানের পূর্বে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 54 = 56