বৌদ্ধ শাস্ত্রে নারী অশুচি – পর্ব (১)

কালে কালে পৃথিবীতে ধর্ম জাহির করতে, লালন করতে আর পালন করতে বা করাতে গিয়ে সব ধর্মপ্রবর্তক নারীকেই মূল উপজীব্য, তত্ত্ব সর্বপরি অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে এসছেন। যার ওপর ভর করে খুব সহজেই ধর্মের তরী চালিয়ে নেয়া যায়। বৌদ্ধ শাস্ত্রে গৌতম বুদ্ধও এর ব্যতিক্রম নন। কিন্তু এই ধর্ম সম্বন্ধে খুব ভালো না জানার ফলশ্রুতিতে আমরা হয়তো ক্রমশই সত্য থেকে ছিটকে পরেছি। যেকোনো নূন্যতম বোধসম্পন্ন মানুষই এই বিষয়ে একমত হবেন যে ; ধর্ম মাত্রই সমস্ত মানবিক আবেদনের বিপক্ষে হলে বৌদ্ধ ধর্ম ভালো বা ইতিবাচক হয় কি করে? তাই নির্দ্বিধায় ও নিঃসঙ্কোচে সত্যকে আরো প্রবলভাবে আলিঙ্গন করাই এই আলোচনার মূখ্য উদ্দেশ্য। এই সত্য আলিঙ্গন করতে গিয়ে আমরা দেখব ; বৌদ্ধ ধর্ম নারীকে কোন অবস্থানে এবং কত ভালো রেখেছে৷ সত্যের দ্বারস্থ হয়ে জানার চেষ্টা করব বৌদ্ধ ধর্মে, নারীর প্রতি প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি কি?

বৌদ্ধ শাস্ত্র অনুযায়ী সিদ্ধার্থ গৌতমের বুদ্ধত্ব লাভের অন্তরায় হিসেবে নারীকেও ভাবা হয়েছে :

গৌতম বুদ্ধের বুদ্ধত্ব ( সিদ্ধি) লাভের ঘটনার এক পর্যায়ে গেলে দেখা যাবে, সিদ্ধার্থ গৌতম যেনো বুদ্ধত্ব লাভ করতে না পারেন একারণেই মার ( শয়তানের রাজা) তার তিন কন্যা রতি, আরতি ও তৃষ্ণাকে ধ্যানরত গৌতম সম্মুখে নৃত্য পরিবেশনে প্রেরণ করেন। মার কন্যাদের মুহুর্মুহু নৃত্যেও সিদ্ধার্থের ধ্যান ভাঙেনি এবং এভাবেই শত বাধা বিপত্তি পেড়িয়ে তিনি অন্তিম সাফল্য বুদ্ধত্ব লাভে উপনীত হন৷ এই ঘটনার সাইকোলজিক্যাল দিকটা এমন ; সাধনা, তপস্যা বা অধ্যাবসায়ের বাধা বিপত্তি হিসেবে নারীকে অন্যতম অন্তরায় হিসেবে ভাবা যায় বা মনে করা হয়। অনুরূপভাবে এর অর্থ এও দাঁড়ায় – সাধনা, তপস্যা বা অধ্যাবসায়ে নারীও বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায় শয়তানের প্ররোচনায়!

বৌদ্ধ শাস্ত্রমতে নারী ” বুদ্ধ ” হতে পারবেনা :

বৌদ্ধ শাস্ত্রমতে ” বুদ্ধ ” শব্দের অর্থ সেই মহাজ্ঞানী ; যিনি জগতের সারসত্য অবগত হয়েছেন এবং মহাপরিনির্বাণের পূর্বে, জগতের সকলকেই নির্বাণ লাভের উপায় বলে গেছেন। যিনি শাশ্বত, বিজয়ী পরমবিজয়ী বোধ লাভ করেছেন তিনিই বুদ্ধ।
শাস্ত্রমতে অষ্টবিধ বা আট প্রকার গুনসম্পন্ন কিংবা আট ধরনের শর্ত পূরণ করতে না পারলে বুদ্ধ হওয়ার প্রত্যাশী কেউই বুদ্ধ হতে পারবেনা। এই আট রকমের শর্তাবলীর মধ্যে ২য় শর্ত হল ” পুরুষত্ব লাভ। আরো ভালো করে বললে যার অর্থ দাঁড়ায়, পুরুষত্ব লাভ যেহেতু করতেই হবে সেহেতু কোনো নারী বুদ্ধ হতে পারবেনা।

সেই অষ্টবিধ গুন বা শর্তসমূহ :

১। মানব জাতিতে জন্ম
২। পুরুষত্ব লাভ
৩। ইহ জীবনে অর্হৎ ( সিদ্ধি) লাভে হেতু সম্পন্নতা
৪। বুদ্ধ দর্শন
৫। প্রব্রজ্যা ( বৌদ্ধ ধর্মে শ্রমণ হওয়া)
৬। অভিজ্ঞরূপ গুণসম্পন্নতা
৭। বুদ্ধত্ব লাভের জন্য জীবন ত্যাগ
৮। এবং অপরাজেয় ইচ্ছাশক্তি।
– ত্রিপিটক, সূত্র পিটক, খুদ্দক নিকায়, চরিয়াপিটক।

তথাগত গৌতম বুদ্ধের ভূমিষ্ঠ হওয়ার ঘটনা বিবরণে মাতৃগর্ভকে অশুচিরূপে উপস্থাপন :

ত্রিপিটক মতে, কপিলাবস্তু ও দেবদহের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত লুম্বিনী উদ্যানে দণ্ডায়মান অবস্থায় রাণী মায়াদেবী সিদ্ধার্থকে ( গৌতম বুদ্ধ) প্রসব করার পর নবজাতকের শরীরে কোনো জল, শ্লেষ্মা এবং কোনো অশুচি পদার্থ লেগে ছিলোনা। মাতৃগর্ভ কলঙ্কময় হলেও, নবজাতক সিদ্ধার্থ ছিলেন নিস্কলঙ্ক৷ ত্রিপিটক এর এই বর্ণনা যেকোনো বোধসম্পন্ন মানুষকেই কপাল কুচকিয়ে ভাবাবে।

” হে ভিক্ষুগণ ইহাই বিশ্বধম্ম যে, যখন বোধিসত্ত্ব ( গৌতম) মাতৃকুক্ষি হইতে নিস্ক্রান্ত হন তখন তিনি সুনির্মল ; জল, শ্লেষ্মা বা অপব কোনো অশুচি দ্বারা লিপ্ত নহেন। তখন তিনি শুদ্ধ নিস্কলঙ্ক, ইহাই বিশ্বধম্ম।”
– ত্রিপিটক, সূত্র পিটক, দীর্ঘ নিকায়, মহাবর্গ, মহাপদান সূত্র।

কিন্তু এই সূত্রে বোধিসত্ত্বকে শুদ্ধ নিস্কলঙ্ক বলা হলেও পরের সূত্রে, মায়ের সাথে তাঁরও শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্তবীক্ষ হতে দুটি জলধারার প্রয়োজন হয়েছে। হিপোক্রেসিটা কেমন দেখা যাক:

” হে ভিক্ষুগণ যখন বোধিসত্ত্ব মাতৃকুক্ষি হইতে নিস্ক্রান্ত হন তখন অন্তবীক্ষ হইতে দুইটি জলধারা নির্গত হয়৷ একটি শীত এবং অপরটি উষ্ণ। যা দ্বারা বোধিসত্ত্ব ও তাঁর মায়ের প্রক্ষালন কার্য সম্পন্ন হয়। ইহাই বিশ্বধম্ম।”
– ত্রিপিটক, সূত্র পিটক, দীর্ঘ নিকায়, মহাবর্গ, মহাপদান সূত্র।

নারী যোনি সম্বন্ধে বুদ্ধের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য :

তার আগে এই ঘটনায় আলোকপাত না করলেই নয় ; সেই সময় বৈশালীর নিকটবর্তী কলকন্দ গ্রামে কলকন্দপুত্র সুদিন্ন নামে এক শ্রেষ্ঠীপুত্র ছিলেন৷ কোনো এক কার্যপলক্ষে সহায়কগণের সঙ্গে সুদিন্ন বৈশালীতে গমন করেন। সেইসময় ভগবান বুদ্ধ, মহতি পরিষদ দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে উপবিষ্ট অবস্থায় ধর্মদেশনা করছিলেন। মহতি পরিষদ কর্তৃক বুদ্ধের ধর্মোদেশনা শ্রবণ দেখে, সুদিন্নেরও ধর্মোদেশনা শ্রবণের ইচ্ছে জাগে। বুদ্ধের ধর্মোদেশনা শুনে সুদিন্নের ব্রহ্মচর্য পালনের আগ্রহ হয় যা গৃহে অবস্থান করে সম্ভব নয়। অতঃপর কলকন্দপুত্র সুদিন্ন মহতি পরিষদ সভা থেকে উঠে বুদ্ধের নিকট উপস্থিত হয়ে একান্তে উপবিষ্ট সুদিন্ন বুদ্ধকে বললেন ; ভগবান আপনি কর্তৃক দেশিত ধর্ম আমি যেই রূপে শ্রবণ করে উপলব্ধি করেছি, তাতে এই একান্ত পরিপূর্ণ, পরিশুদ্ধ, শঙ্খলিখিত ( নির্মল, সমুৎকৃষ্ট) ব্রহ্মচর্য গৃহে বাস করে চর্চা করা সম্ভব নয়। যদি সেরূপ হয়, আমি কেশ – শ্মশ্রু মুণ্ডণ করে কাষায় বস্ত্র আচ্ছাদনপূর্বক আগার থেকে অনাগরিক হয়ে প্রব্রজ্যা ( বৌদ্ধ ধরে শ্রমণ হওয়া ) গ্রহণ করব৷

বুদ্ধ বললেন ; হে সুদিন্ন – তুমি আগার থেকে অনাগরিক প্রব্রজ্যা গ্রহণের জন্যে মাতাপিতার নিকট হতে অনুমতি নিয়েছো কি?

সুদিন্ন ; হে ভগবান আমি আগার থেকে অনাগরিক প্রব্রজ্যা গ্রহণের জন্যে মাতাপিতার নিকট হইতে অনুমতি পাইনি।

বুদ্ধ বললেন ; হে সুদিন্ন, তথাগত মাতাপিতার অনুমতি ব্যতিত পুত্রকে প্রব্রজ্যা দেন না৷

সুদিন্ন ; হে তথাগত আমি সেটাই করব, আগার থেকে অনাগরিক প্রব্রজ্যা গ্রহণে মাতাপিতা যেনো অনুমতি দেন।

তথাপি সুদিন্ন কলকন্দ গ্রামে ফিরে মাতাপিতার কাছে উপস্থিত হন এবং প্রব্রজ্যা গ্রহণের অনুমতি প্রার্থনা করেন। কিন্তু তার মাতাপিতা তৃতীয়বার অনুরোধের পাওয়ার পরো আপত্তি জানান৷ সুদিন্ন ভূমিতে শায়িত হন এবং অনশন করেন৷ এভাবে একসপ্তাহ অনশনের পর, পুত্রের দুরবস্থা দেখে তার মাতাপিতা সহায়কদের অনুরোধে তাকে প্রব্রজ্যা গ্রহণের অনুমতি দেন। সুদিন্ন প্রব্রজিত হওয়ার অনতিকাল পর বজ্জি নামক স্থানে তিনি বাস করছিলেন। সেখানে প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়ায় এবং নিজ জ্ঞাতিদের কাছ থেকে সহযোগীতা পাওয়ার আশায় তিনি বৈশালীতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। বৈশালীতে পৌঁছে জ্ঞাতী দাসীর বাসি ভাতের মার ফেলে দেয়া দেখে তিনি তা পানের ইচ্ছে জানান৷ অতঃপর সেই বাসি ভাতের মার পানকালে তার পিতা এই দৃশ্য অবলোকন করেন। এবং পুত্রকে নিজ গৃহে অনুরোধপূর্বক নিয়ে আসেন এবং ভোজন করান। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, ভিক্ষু হওয়ার পূর্বে আয়ুস্মান সুদিন্ন বিবাহিত ছিলেন৷ সুদিন্নের মা ও বাবা চাইছিলেন সম্পদ ও তার একা বিবাহিত স্ত্রীর প্রতি তার মায়া জন্মাক।
তথাপি সুদিন্নের স্ত্রী তার কাছে এসে বললেন ; আর্যপুত্র, সেই অপ্সরা কিরূপ যাদের জন্য আপনি ব্রহ্মচর্য পালন করছেন? সুদিন্নের মা চাইছিলেন তার পুত্র ব্রহ্মচর্য ত্যাগ করে সংসারী হোক এবং পুত্র সন্তান জন্ম দিক। বারংবার অনুরোধে সুদিন্ন স্ত্রীর সাথে তিনবার মৈথুন প্রতিসেবন করলেন। স্ত্রী গর্ভবতী হল৷

সুদিন্ন ভিক্ষু হওয়ার পরো এই মৈথুন প্রতিসেবন ( স্ত্রীর সাথে সহবাস) ভিক্ষুসংঘ অনুযায়ী অপরাধ বলে বিবেচিত করে ভূমি দেবগণ তা প্রচার করতে থাকলেন৷ ভূমি দেবগণের এমন উচ্চরবের সহিত প্রতিবাদের ফলে চতুর্মহারাজিক স্বর্গের ( কি মুশকিল! বৌদ্ধ ধর্মে নাকি স্রষ্টা নাই ? স্বর্গ আইলো ক্যামনে?) দেবগণ উচ্চরবে সুদিন্নের অপরাধ প্রচার করলেন। এভাবে তাবতিংস স্বর্গ, যাম স্বর্গ, তুষিত স্বর্গ, নির্মাণরতি স্বর্গ ও পরনির্মিত বশবর্তী স্বর্গের দেবগণও সুদিন্নের অপরাধ প্রচার করলেন৷ স্বর্গের দেবগণ কর্তৃক সুদিন্নের অপরাধ প্রচার দেখে ব্রহ্মকায়িক দেবগণও একইভাবে প্রচার করলেন৷ সুদিন্নের ঘর আলো করে পুত্র সন্তান আসলো, নাম রাখা হল বীজক। ভিক্ষুসংঘের নিয়মানুযায়ী সুদিন্নের অপরাধের ফলে তার অনুশোচনা জাগ্রত হল। সুদিন্ন ভিক্ষুসংঘের দ্বারস্থ হলেন। প্রভূত নিন্দা জ্ঞাপনের পর ভিক্ষুরা সুদিন্নকে গৌতম বুদ্ধের নিকট নিয়ে আসলেন।

অতঃপর ভগবান বুদ্ধ সুদ্দিনের প্রতি এই দেশনাসমূহ দেন :

“হে মোঘপুরুষ ; নিশ্চই মৎ কর্তৃক অনেক প্রকারে রাগ বিরাগের ধর্ম, মদ – বশীভূতকরণ, পিপাসা বিনয় ( আসক্তি দমন) আলোয় সমুদ্ঘাত ( আকাঙ্খার মূলোৎপাটন), ভবচক্রের উচ্ছেদ, তৃষ্ণাক্ষয়, বিরাগ, নিরোধ এবং নির্বাণের ধর্ম দেশিত হয়েছে। ”

” হে মোঘপুরুষ ; মৎ কর্তৃক অনেক প্রকারে কামের প্রহান ( পরিহার) সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কাম পিপাসার প্রতি বিনয় ( দমন) সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এবং কামযন্ত্রণার উপশম সম্বন্ধেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ”

” হে মোঘপুরুষ ; কোনো নারী যোনীতে লিঙ্গ প্রক্রিপ্ত করার চাইতে, যদি কোনো কালান্তর সাপের মুখে লিঙ্গ প্রক্ষিপ্ত ( প্রবেশ) করা হয় তথাপি তাই শ্রেয়। ”

” হে মোঘপুরুষ ; কোনো স্ত্রী যোনিতে লিঙ্গ প্রক্ষিপ্ত করার চাইতে উত্তপ্ত, সম্প্রজ্জলিত, সজ্যোতিভৃত অঙ্গের গর্তে যদি লিঙ্গ প্রক্ষিপ্ত করা হয় তবু শ্রেয়। তার কারণ কি? ইহাই নিদান, ইহাই প্রত্যয় যে, ব্যভিচারজনিত মহাপরাধের কারণে সেই ভিক্ষু মরণে পতিত হয়। কিংবা মরণতুল্য দুঃখ ভোগ করে থাকে।
– ত্রিপিটক, বিনয় পিটক, পারাজিকা, সুদিন্ন পরিচ্ছেদ।

নারী যোনি ভীক্ষুসংঘের জন্য নিয়মলঙ্ঘন ও নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। কিন্তু সেই নারী যোনির তুলনায় লিঙ্গ প্রবেশের জন্য বুদ্ধ, কালান্তর সাপের মুখ অধিক শ্রেয়তর কেনো মনে করলেন এখানে অনেক বড় কিন্তু থেকে যায়! যেহেতু বুদ্ধ একসময় তাঁর অতীত জন্মের একটি ঘটনায় নারী যোনি সম্বন্ধে ভিক্ষুদের বলতে গিয়ে বলেছিলেন ; হে ভিক্ষুগণ আমি তীর্যক যোনিতে জন্মগ্রহণ করিয়াও স্ত্রীজাতির অকৃতজ্ঞতা, বহুমায়াবিতা, অনাচারতা ও দুঃশীলতা ( দোষ) জানিতে পারিয়াছিলাম।

( চলবে)

সহায়ক গ্রন্থ :

১। বিনয় পিটকে পারাজিকা, অনুবাদক ; ভদন্ত বুদ্ধবংশ ভিক্ষু।
২। সারনাথ বিবরণ, শ্রী ভবতোষ মজুমদার।
৩। ত্রিপিটক, সূত্র পিটকে খুদ্দক নিকায়, দশ পারমী ও চরিয়া পিটক, অনুবাদক ; ডাঃ সীতাংশু বিকাশ বড়ুয়া।
৪। খুদ্দক নিকায়ে জাতক, অনুবাদক ; শ্রী ঈষাণচন্দ্র ঘোষ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =