যে ধর্ম নিরীহ পশুকেও ঘৃণা করতে শেখায়

মুসলিম অ্যাপলোজিস্টদের প্রচার করতে শোনা যায় ইসলাম নাকি শান্তির ধর্ম! তার মানে ইসলাম নিশ্চয়ই মানুষসহ পৃথিবীর সকল প্রাণীর শান্তি কামনা করে, সকল জীবকে ভালবাসতে বলে! কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে ইসলাম সকল জীবের কল্যাণ কামনা করে না, বরং ইসলাম জীবকে ঘৃণা করতে শেখায়। ইহুদি, নাছারা, কাফের, মুশরিকদের ঘৃণা-বিদ্বেষের কথা না হয় বাদই দিলাম, নিরীহ পশুও ইসলামের ঘৃণা বিদ্বেষের বিষাক্ত ছোবল থেকে রেহাই পায় না। এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এটাই সত্য।

হযরত মুহাম্মাদ একজন সিজোফ্রেনিয়ার রোগী ছিলেন। তিনি মাঝে মাঝেই জিব্রাইল ফেরেস্তা, জীন, আল্লাহ প্রভৃতি অবাস্তব জিনিসপত্র দেখতে পেতেন এবং তাদের কণ্ঠস্বর শুনতে পেতেন। সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা অনেক ক্ষেত্রে কোনও মানুষ, কোনও বস্তু বা কোনও নিরীহ পশু দেখলে অকারণেই ভয় পায়। হযরত মুহাম্মাদেরও কুকুর ভীতি ছিল, তিনি কুকুরকে প্রচণ্ড ঘৃণা করতেন। কুকুরের প্রতি এই অমূলক ভীতিকে Cynophobia বলে।

Cynophobia (from the Greek: κύων kýōn “dog” and φόβος phóbos “fear”) is the fear of dogs. Cynophobia is classified as a specific phobia, under the subtype “animal phobias” (Wikipedia)

এ কারণে হযরত মুহাম্মাদ কুকুর ভয় পেতেন এবং তার উম্মতদেরকে কুকুর হত্যার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। এখন আমি হাদিস থেকে তার কিছু নমুনা দেখাব।

আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ-সালাত (নামায/নামাজ)-এ দাঁড়াবে, তখন তার সম্মুখে হাওদার পিছনের কাষ্ঠ পরিমাণ কোনও বস্তু রেখে দিবে। যদি এরূপ কোনও বস্তু না থাকে, তবে তার সম্মুখ দিয়ে গাধা স্ত্রীলোক কালো কুকুর গমন করলে তার সালাত (নামায/নামাজ) ভঙ্গ হয়ে যাবে। রাবী ইবনু সামিত বলেন, আমি বললাম, হে আবূ যার! লাল কুকুর হলুদ কুকুর থেকে কালো কুকুরকে পৃথক করার কারণ কি? তিনি জওয়াব দিলেন, হে ভাতিজা, আমিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তোমার মত এই বিষয়টি জিজ্ঞাস করেছিলাম। তিনি বলেছেন, কালো কুকুর একটি শয়তান। (সহীহ মুসলিম, ১০২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।’ (সহীহ বুখারী, ৩০৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

আবূ ত্বলহা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে বাড়িতে কুকুর এবং প্রাণীর ছবি থাকে তাতে ফেরেশতামন্ডলী প্রবেশ করেন না।’ (২৩২৫) (সহীহ বুখারী, আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩০৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৮৫)

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি মদিনার চারপাশে লোক প্রেরণ করলেন যে, কুকুর হত্যা করা হোক। (সহীহ মুসলিম, ৩৮৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার জন্য হুকুম দিতেন। অতঃপর আমি মদিনার অভ্যন্তরে তার চারপাশের কুকুর ধাওয়া করাতাম। আর কোন কুকুরই আমরা না মেরে ছেড়ে দিতাম না। এমন কি বেদুইনদের দুগ্ধবতী উষ্ট্রীর সাথে যে কুকুর থাকত তাও আমরা হত্যা করতাম। (সহীহ মুসলিম, ৩৮৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

বোঝাই যাচ্ছে ইসলাম কুকুরের মতো একটি নিরীহ পশুকেও কি পরিমাণ ঘৃণা করতে শেখায়! মানুষ অনেক প্রাচীন কালেই কুকুরকে পোষ মানিয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই কুকুর মানুষের বন্ধু। কুকুর ভীষণ প্রভুভক্ত। নিজের জীবন দিয়ে হলেও সে তার প্রভুকে রক্ষা করবে। তাই মানুষ বহু প্রাচীনকাল থেকেই নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি পাহাড়া দেওয়ার কাজে কুকুরকে নিয়জিত করেছে। কুকুর মানুষের সবচাইতে বিশ্বস্ত বন্ধু, সাথী, এবং সহচর। অথচ সামান্য একটু ভালবাসার কাঙ্গাল কুকুরদের কি ইসলাম ভালবাসতে বলেছে? ভাল তো বাসতেই বলে নি বরং হত্যা করতে বলেছে!

যে ধর্ম কুকুরের মতো একটা উপকারী পশুকে ঘৃণা করতে বলে সেই ধর্ম মানুষের কিভাবে কল্যাণ করতে পারে?

পার্থ দাশ

২০/০৫/২০

ঢাকা, বাংলাদেশ

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

69 − = 67