২০৪: হুনাইনের যুদ্ধ-৩: নবী মুহাম্মদ-কে হত্যা চেষ্টা!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, নবী মুহাম্মদ-কে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল কমপক্ষে তিনবার। আর এই হত্যা-চেষ্টা ঘটনার সবগুলোই ঘটেছিল তাঁর মদিনায় অবস্থান-কালীন সময়ে (৬২২-৬৩২সাল)। তাঁকে হত্যার প্রথম চেষ্টা-টি হয়েছিল সফল! আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় চেষ্টা দুটি হয়েছিল ব্যর্থ! আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি উদ্ভট ও আশ্চর্য-জনক মনে হতে পারে! কারণ, যদি কোন মানুষ-কে হত্যার প্রথম চেষ্টা-টিই সফল হয়, তবে কী ভাবে সম্ভব সে একই ব্যক্তি-কে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার হত্যা-চেষ্টা করা? বিষয়টি উদ্ভট ও আশ্চর্য-জনক মনে হলেও, মুহাম্মদের জীবনে এই ঘটনাটিই ঘটেছিল!

মক্কায় অবস্থান-কালীন সময়ে (৬১০-৬২২সাল) তাঁকে হত্যার যে উপাখ্যান-গুলো ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা (অধিকাংশই না জেনে) শতাব্দীর পর শতাব্দী নিরলস প্রচার করে চলেছেন, তার ঐতিহাসিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল; যার সমস্তই মিথ্যাচার ও অলৌকিক কিচ্ছা-কাহিনীর ওপর প্রতিষ্ঠিত!

প্রথম হত্যা-চেষ্টা: যয়নাব বিনতে আল-হারিথের প্রতিশোধ-স্পৃহা:

আদি উৎসে বিশিষ্ট মুসলমান ঐতিহাসিকদের রচিত পূর্ণাঙ্গ ‘সিরাত (মুহাম্মদের জীবনী)’ ও হাদিস গ্রন্থের বর্ণনায় আমরা জানতে পরি, স্ব-ঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ-কে সর্ব-প্রথম হত্যা চেষ্টা করেছিলেন একজন “ইহুদি মহিলা!” যার নাম ছিল ‘যয়নাব বিনতে আল-হারিথ।’ ঘটনাটি ঘটেছিল মুহাম্মদের ‘খায়বার আগ্রাসন’ এর প্রাক্কালে। কারণ-টি ছিল, মুহাম্মদের নির্দেশে তাঁর অনুসারীরা এই মহিলাটির পিতা আল-হারিথ [পর্ব-১৩৩], দুই চাচা ইয়াসার ও যাবির [পর্ব-১৩৪] ও স্বামী সাললাম বিন মিশকাম-কে [পর্ব-১৩৮] অমানুষিক নৃশংসতায় একে একে হত্যা করেছিলেন! এই লোকগুলোর কেউই মুহাম্মদ, কিংবা তাঁর অনুসারী-কে কখনোই আক্রমণ করতে আসেন নাই! রাতের অন্ধকারে ওৎ পেতে বসে থেকে, অতি-প্রত্যুষে এই অসহায় জনপদ-বাসীর ওপর আক্রমণকারী ব্যক্তিরা ছিলেন, “মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা!”

এই অসীম সাহসী মহিলা-টি তাঁর সবচেয়ে একান্ত এই নিকট-আত্মীয়দের হত্যার প্রতিশোধ স্পৃহায়, নিজের জীবন বাজী রেখে, মুহাম্মদ-কে বিষ-প্রয়োগ করেছিলেন। সময়-টি ছিল মে-জুন, ৬২৮ সাল; বরাবর হিজরি ৭ সালের মহরম মাস। আর সেই বিষের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়ার অসহ্য-যন্ত্রণা মুহাম্মদ তাঁর মৃত্যুকালে অনুভব করেছিলেন! সেই কষ্টের ইতিবৃত্ত মুহাম্মদ তাঁর মৃত্যুকালে নিজেই স্বীকার করেছেন, যার প্রাণবন্ত বর্ণনা আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকরা বিভিন্ন ভাবে তাঁদের নিজ-নিজ গ্রন্থে লিখে রেখেছেন। এ বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব: ১৪৫)। মুহাম্মদ-কে হত্যার প্রথম চেষ্টাটির প্রায় বিশ মাস পর, ৬৩০ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে (শওয়াল, হিজরি ৮ সাল) দ্বিতীয় ও তৃতীয় হত্যা-চেষ্টা ঘটনা দুটি সংঘটিত হয়।

দ্বিতীয় হত্যা-চেষ্টা:

দ্বিতীয় ঘটনাটি সংঘটিত হয় “হুনাইন যুদ্ধ” সংঘটিত হওয়ার পূর্বে। মুহাম্মদ যখন এক বিশাল গাছের নিচে ঘুমচ্ছিলেন। ইবনে হিশাম সম্পাদিত, A. GUILLAUME অনুদিত মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) ‘সিরাত রাসুল আল্লাহ’ ও আল-তাবারী (৮৩৯-৯২৩ সাল) বইটিতে এই হত্যা-চেষ্টার ঘটনা-টি অনুপস্থিত। কিন্তু, আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় তা বিস্তারিত ও প্রাণবন্ত।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) বিস্তারিত বর্ণনা: [1]

তিনি বলেছেন, আবু বারদা বিন নাইয়ার বলেছে: ‘আওতাস [হাওয়াযিন এলাকার একটি উপত্যকা, যেখানে হুনাইন যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল] স্থানটির নিম্নাঞ্চলে আসার পর আমরা এক গাছের নিচে অবতরণ করি। সেখানে আমরা এক বিশাল বৃক্ষ দেখতে পাই। আল্লাহর নবী সেটির নিচে অবতরণ করেন ও তাঁর তরবারি ও ধনুক-টি তাতে ঝুলিয়ে রাখেন।’ সে বলেছে: ‘আমি আল্লাহর নবীর সবচেয়ে নিকটতম অনুসারীদের সঙ্গে ছিলাম।’ সে বলেছে: ‘হঠাৎ তাঁর চীৎকার, “হে আবু বারদা!” আমি চমকে উঠি ও বলি, “আমি আপনার আজ্ঞা-পালন করি!;” ও দ্রুতগতি-তে এগিয়ে আসি ও বিস্মিত হয়ে দেখি যে আল্লাহর নবী এক লোকের সাথে বসে আছেন। আল্লাহর নবী বলেন, “নিশ্চিতই, আমি যখন ঘুমচ্ছিলাম তখন এই ব্যক্তিটি আমার কাছে এসেছে ও তার তরবারি-টি বের করে আমার মাথার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। আমি তার যে কথাটি শুনে হতবাক হয়েছি, তা হলো: “কে আছে যে আজ তোমাকে আমার হাত থেকে বাঁচাতে পারে?” আমি বলেছি, “আল্লাহ!”‘

আবু বারদা বলেছে: ‘আমি লাফিয়ে আমার তরোয়াল-টির নিকট আসি ও তা খাপযুক্ত করি, কিন্তু আল্লাহর নবী বলেন, “তোমার তরবারি-টি খাপে ঢোকাও!” আমি বলি, “হে আল্লাহর নবী, আমাকে শত্রুর মস্তক ছিন্ন করার হুকুম দিন। নিশ্চিতই সে মুশরিকদের গুপ্তচরদের একজন।” কিন্তু, তিনি বলেন, “হে আবু বারদা, চুপ থাকো।”

আল্লাহর নবী কাফের-টি কে না কিছু বলেছিলেনে, না তাকে দিয়েছিলেন কোন শাস্তি।

—————-

আমি শিবিরে তার সম্পর্কে চিৎকার করা শুরু করি। লোকেরা তাকে দেখতে পায় ও তাদের কেউ একজন আল্লাহর নবীর আদেশ ছাড়ায় তাকে হত্যা করে।

আর আমার ব্যাপারটি হলো, আল্লাহর নবী আমাকে সত্যিই তাকে হত্যা করা থেকে বিরত রেখেছিলেন। আল্লাহর নবী বলছিলেন, “হে আবু বারদা, লোকটির কাছ থেকে দূরে থাকো। বস্তুতই, আল্লাহই আমার রক্ষাকারী ও তিনিই আমাকে রক্ষা করবেন যতক্ষণে না তার ধর্ম অন্য সমস্ত ধর্মের উপর বিজয়ী হয়।”’

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত উপাখ্যান-টির “খণ্ডিত অংশ” বহুল প্রচলিত ও প্রচারিত। ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতদের অধিকাংশই এই উপাখ্যান-টির বর্ণনা কালে শুধু প্রথম অংশ-টিই (লাইনের উপরিভাগ) ইসলাম-অজ্ঞ সাধারণ জন গণের উদ্দেশ্যে গর্বভরে প্রচার করেন। অর্থাৎ, “আল্লাহর নবী কাফের-টি কে না কিছু বলেছিলেনে, না তাকে দিয়েছিলেন কোন শাস্তি” পর্যন্ত।” আর তার নিচের অংশটি চতুরতার মাধ্যমে করেন গোপন।

“এক ইহুদি বুড়ি নবীর চলার পথে প্রতিদিন কাঁটা দিত। একদিন পথে কাঁটা না দেখে নবী তার বাড়িতে গিয়ে যখন দেখলেন যে বুড়িটি অসুস্থ। তখন দয়াল নবী নিজেই সেই বুড়িটিকে সেবা-যত্ন করে সুস্থ করে তুললেন। নবীর এই মহানুভবতায় বুড়িটি ইসলাম গ্রহণ করেছিল। এই হলো আমাদের নবীর শিক্ষা (পর্ব-১৫)!” – মিথ্যা কিসসা-টি যে উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়, এই উপাখ্যানের “কাট-ছাঁট” অংশটিও সেই একই উদ্দেশ্যে। আর সেই উদ্দেশ্যটি হলো, প্রমাণ করার চেষ্টা:

“নবী মুহাম্মদ এতই মহানুভব ছিলেন যে তিনি তাঁকে হত্যা চেষ্টাকারী কাফের-কে হাতে-নাতে পাকড়াও করেও তাকে কিছুই বলেন নাই, শাস্তি তো অনেক দূরের বিষয়!”

মুহাম্মদ নিশ্চিত জানতেন যে, তাঁর শিবিরে এসে হাতে-নাতে পাকড়াও হওয়ার পর, এই ব্যক্তি-টি তাঁর জীবন নিয়ে কোন-ভাবেই পালাতে পারবে না। তাই তিনি তাকে আবু বারদার হাতে ছেড়ে দিয়েছিলেন, আর আবু বারদা তার শাস্তি নিশ্চিত করেছিলেন:

“আমি শিবিরে তার সম্পর্কে চিৎকার করা শুরু করি। লোকেরা তাকে দেখতে পায় ও তাদের কেউ একজন আল্লাহর নবীর আদেশ ছাড়ায় তাকে হত্যা করে।”

লোকটি-কে হত্যা করা হয়েছিল মুহাম্মদেরই ইচ্ছায়। “যে মুহাম্মদ-কে জানে, সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

তৃতীয় হত্যা-চেষ্টা: সেইবাহ বিন উসমান বিন আবু তালহার প্রতিশোধ স্পৃহা:

তৃতীয় হত্যা-চেষ্টা ঘটনাটি সংঘটিত হয় “হুনাইন যুদ্ধ” সংঘটিত হওয়ার সময়টিতে, যখন মুহাম্মদ অনুসারীদের প্রায় সবাই তাঁকে যুদ্ধের ময়দানে একা ফেলে রেখে পলায়ন করেছিলেন (পর্ব: ২০৩)। মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও তাঁর উদ্ধৃতি সাপেক্ষে আল-তাবারী ‘সিরাত’ গ্রন্থে এই ঘটনার বর্ণনা খুবই সামান্য। মাত্র পাঁচ লাইন। অন্যদিকে, আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় তা বিস্তারিত। আল-ওয়াকিদি এই উপাখ্যানের দুইটি ভার্সন উল্লেখ করেছন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (ও আল-তাবারীর) বর্ণনা: [2] [3]

‘সেইবাহ বিন উসমান বিন আবু তালহা নামের বানু আবদুল-দার গোত্রের এক ভাই বলে, “আমি বলেছিলাম, আজ আমি মুহম্মদের ওপর আমার প্রতিশোধ নেবো (কারণ উহুদ যুদ্ধে তার পিতা-কে হত্যা করা হয়েছিল)। আজ আমি মুহাম্মদ-কে হত্যা করবো। আমি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার চারপাশে গিয়েছিলেম; অতঃপর আমি আমার উদ্দেশ্যে স্থির থাকা অবস্থায় এমন কিছু ঘটেছিল যে আমি তা চরিতার্থ করতে পারি নাই; আর আমি জানতাম যে সে আমার হাত থেকে রক্ষা পাবে।”

আল-ওয়াকিদির বিস্তারিত ও অতিরিক্ত বর্ণনা: [4]

‘আল্লাহর নবী যখন হুনাইন গমন করেন, সেইবাহ বিন উসমান বিন আবু তালহা এই প্রতিজ্ঞা করে যে, সে ও সাফওয়ান বিন উমাইয়া যদি দেখে যে মুহাম্মদ পরাজিত হয়েছে, তবে তারা তাঁর বিরুদ্ধে যাবে – পুনশ্চ: [সাফওয়ানের পিতা] উমাইয়া বিন খালাফ-কে বদর যুদ্ধের দিনটি-তে [পর্ব: ৩২] ও উসমান বিন আবু তালহা-কে [সেইবাহর পিতা] ওহুদ যুদ্ধের দিনটি-তে [পর্ব: ৬৮-৬৯] হত্যা করা হয়েছিল। তারা তাঁকে অনুসরণ করে। সেইবাহ বলেছে: ‘কিন্তু আমাদের অন্তরে বিশ্বাস স্থাপিত হয়।’

সেইবাহ বলেছে: ‘সত্যই আমি তাকে হত্যার প্রায় কাছাকাছি গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার সম্মুখে একটা-কিছু আসে যা আমার হৃদয় জড়িয়ে দেয় ও আমি তা সহ্য করতে পারি না। আর আমি জানতাম যে সে আমার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।’

যা বলে হয়েছে, সে বলেছে: ‘অন্ধকার আমাকে এমনভাবে ছেয়ে ফেলে যে আমি কিছু দেখতে পাই না। সুতরাং আমি জানতাম যে সে আমার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। অতঃপর আমি ইসলামের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে উঠি।

সেইবাহর এই উপাখ্যানের অন্য এক বিবরণ আমি শুনেছি। সেইবাহ বিন উসমান যা বলতো, তা হলো:

‘আমি দেখেছি যে আল্লাহর নবী মক্কা আক্রমণ করেছেন, সফলকাম হয়েছেন ও অতঃপর তিনি হাওয়াজিনদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সে কারণে আমি সিদ্ধান্ত নেই, “আমি রওনা হবো, ও সম্ভবত, আমার প্রতিশোধ নেব!” আমি স্মরণ করি যে, ওহুদ যুদ্ধের দিনটি-তে আমার পিতা-কে হত্যা করা হয়েছিল। তাকে হত্যা করেছিল হামজা, আর আমার আঙ্কেল-কে হত্যা করেছিল আলী।

যখন নবীর অনুসারীরা পলায়ন করে, আমি তাঁর ডান পাশ দিয়ে তাঁর কাছে আসি। কিন্তু হঠাৎ করেই আমার সম্মুখে আল-আব্বাস এসে দাঁড়ায়; তার পরনে ছিল সাদা বর্ম-আবরণ, যা মনে হয় রূপার ও যার ওপরের ধুলাগুলো সরিয়ে ফেলা। আমি বলি: তাঁর চাচা তাঁকে কখনোই পরিত্যাগ করবে না।’

সে বলেছে: ‘অতঃপর আমি তাঁর বাম দিক দিয়ে তাঁর কাছে আসি ও অবাক হয়ে দেখি যে সেখানে আছে তাঁর চাচার পুত্র আবু-সুফিয়ান। তাই আমি বলি: তাঁর চাচার পুত্র তাঁকে কখনোই পরিত্যাগ করবে না!

অতঃপর আমি তাঁর পিছন দিক থেকে তাঁর কাছে আসি, তাঁকে আমার তরবারির নিশানায় আনার সেটিই ছিল অবশিষ্ট একমাত্র পথ। হঠাৎই তখন আমার ও তাঁর মধ্যে এক আগুনের শিখা জ্বলে উঠে, যা দেখে মনে হয়েছিল বজ্র-বিদ্যুত। আমি আশংকা করছিলাম যে এটি আমাকে জ্বালিয়ে দেবে। তাই আমি আমার হাত আমার দৃষ্টির সামনে ধরে পিছনের দিকে হাঁটা শুরু করি। আর আল্লাহর নবী আমার দিকে ফিরে তাকান ও বলেন, “হে সেইবাহ, আমার কাছে এসো!” অতঃপর তিনি তাঁর হাত আমার বুকে রাখেন ও বলেন, “হে আল্লাহ, শয়তানকে তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নাও।”’

সে বলেছে: ‘আমি আমার মাথা তাঁর দিকে উঁচু করি ও তাঁকে আমার শ্রবণশক্তি বা দৃষ্টিশক্তি বা আমার অন্তঃকরণের চেয়ে ও বেশি পছন্দনীয় বলে মনে হয়। অতঃপর তিনি বলেন, “হে সেইবাহ, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করো!”’

সে বলেছে: ‘আমি সম্মুখে অগ্রসর হই ও আল্লাহর ইচ্ছায় আমি আমার প্রাণ ও সমস্ত কিছুর বিনিময়ে তাঁকে রক্ষার আকাঙ্ক্ষা করি। যখন হাওয়াজিনরা পরাজিত হয়, তিনি তাঁর গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন ও আমিও তাঁর সাথে প্রবেশ করি। অতঃপর তিনি বলেন, “প্রশংসা সেই আল্লাহর, তোমার প্রতি যার কামনা তোমার নিজের কামনার চেয়েও অধিক। অতঃপর যা আমি তাঁর বিরুদ্ধে করা মনস্থ করেছিলাম তা তিনি আমাকে বর্ণনা করেন।’

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল হলো, মুহাম্মদের স্ব-রচিত ব্যক্তি-মানস জীবনী গ্রন্থ ‘কুরআন।’ সেই কুরআনেরই বর্ণনায় আমরা নিশ্চিত জানি যে, তিনি অবিশ্বাসীদের বারংবার আহ্বান স্বত্বেও তাঁর নবুয়তের সপক্ষে একটি প্রমাণও হাজির করতে পারেন নাই! এই বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা “মুহাম্মদের মোজেজা তত্ত্ব (পর্ব: ২৩-২৫)” পর্বে করা হয়েছে। মুহাম্মদের যাবতীয় “মোজেজার কিসসা” ইসলামের হাজারও মিথ্যাচারের একটি। সুতরাং, আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনার “অলৌকিক অংশগুলো” নিঃসন্দেহে অসত্য ও অতিরঞ্জিত।

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র দুই ও তিন):]

The narratives of Al-Waqidi: [1][4]

He said: Abū Burda b. Niyār said: When we were below Awṭās we alighted under a tree, and we observed a large tree. The Messenger of God alighted under it, and he hung his sword and bow on it. He said: I was among the closest of the Messenger of God’s companions. He said: All of a sudden his voice crying, “O Abū Burda!” startled me: I said, “I obey you!” and approached swiftly, and lo and behold, the Messenger of God was seated with a man. The Messenger of God said, “Indeed, this man arrived while I was sleeping, and he drew his sword and stood with it at my head, and I was startled by his words, ‘Who will protect you from me today?’ And I said, ‘God!’” Abū Burda said: I jumped to my sword and drew it, [Page 892] but the Messenger of God said, “Sheath your sword!” I said, “O Messenger of God, ask me to strike off the head of the enemy. Indeed, this is one of the spies of the polytheists.” But he said to me, “Be silent, O Abū Burda.” The Messenger of God said nothing to the disbeliever, nor did he punish him.
I began shouting about him in the camp and the people witnessed him and someone killed him without the command of the Messenger of God. As for me, indeed, the Messenger of God had stopped me from killing him. The Messenger of God kept saying, “Keep away from the man, O Abū Burda. Indeed, God is my protector and my keeper until His religion is victorious over all other religions.” ——-

When the Messenger of God went to Ḥunayn, Shayba b. ‛Uthmān b. Abī Ṭalḥa promised that he and Ṣafwān b. Umayya—and Umayya b. Khalaf was killed on the day of Badr, and ‛Uthmān b. Abī Ṭalḥa was killed on the day of Uḥud—that if they saw Muḥammad defeated, they would be against him. They followed him. Shayba said: But God entered faith in our hearts. Shayba said: Indeed I was about to kill him, but something came forward until it wrapped my heart and I could not bear that, and I knew that he was protected from me. It was said: He said: Darkness wrapped me until I could not see. So I knew that he was protected from me, and I became convinced of Islam. I have heard another version of this story of Shayba. Shayba b. ‛Uthmān used to say: I saw the Messenger of God raid Mecca and be successful, and then set out to the Hawāzin, so I said, “I will set out, and perhaps, take my revenge!” I remembered that my father was killed on the day of Uḥud. Ḥamza had killed him and ‛Alī had killed my uncle. When the Prophet’s companions were exposed, I came to him from his right, but all of a sudden al-‛Abbās stood before me, wearing white armor that appeared silver, and dust was removed from it. I said: His uncle never abandons him. He said: Then I came to him from his left, and lo and behold, there was Abū Sufyān, the son of his uncle. So I said: [Page 910] The son of his uncle will never abandon him! So I came to him from behind him, and it only remained for me to get him with the sword, when all of a sudden a flame was raised between me and him from a fire which looked like lightening. I feared that it would burn me, so I placed my hand on my sight and walked backwards, and the Prophet turned to me and said, “O Shayba, come near me!” Then he put his hand on my chest and said, “O God, take Satan away from him.” He said: I raised my head to him, and he was more desirable to me than my hearing or my sight or my heart. Then he said, “O Shayba, fight the disbelievers!” He said: I stepped before him, and I desired by God, to shield him with my soul and with every thing. When the Hawāzin were defeated he returned to his house, and I entered upon him and he said, “Praise God who desired in you better than what you desired for yourself.” Then he related to me what I had intended to do with him. —

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৮৯১-৮৯২; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৩৮
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[2] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৫৬৯
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[3] অনুরূপ বর্ণনা -আল-তাবারী, ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা ১০-১১
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[4] Ibid আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৯০৯-৯১০; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৪৬

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

23 − = 19