ঈদ কি প্রকৃতপক্ষেই খুশির ঈদ?

ঈদ শব্দটি অঙ্গাঙ্গিক ভাবে আমাদের জীবনে জড়িত। ছেলেবেলায় ঈদের দিনের কথা শুনলেই আনন্দে মন নেচে উঠত, প্রকৃতপক্ষে শিশু বয়সে ঈদ মানে সত্যিই ছিল ‘খুশির ঈদ’! সারা বছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করতাম এবং একদিনেই ঈদ শেষ হয়ে যায় এটা ভেবে অভিমানে মন ভরে উঠত! ঈদ মানে তখন নতুন জামাকাপড়, আলোর রোশনাই, লাচ্চা শেমুই, বড়োদের আদর ও ছোটদের ভালোবাসা এটাই ছিল ঈদের মূল বিষয়।

ঈদের আগের রাত অর্থাৎ চাঁদরাত ছিল বিশেষ আকর্ষণের, ওই দিন সারারাত পাড়ার সকলে মিলে জেগে আনন্দ করা হত, নাচ, গান, আলোর ছটা, ফিস্ট প্রকৃতপক্ষে ঈদে এক প্রাণোচ্ছল ভাব দেখা যেত। ঈদের দুএকদিন পরেও ঈদ উপলক্ষে বেশ সুন্দর সুন্দর গান পাড়ার ওলিতে গলিতে বাজত এতে বেশ এক সুন্দর প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হত। দল বেঁধে সকলে মিলে ঈদের দিন ঘুরতে বেরোনো হতো, তাই শিশু বয়সে ঈদ মানে ছিল এক নিখাত আনন্দের দিন।

একটু বড় হতে বুঝতে শিখি ঈদ আসলে দুই প্রকার একটি হল ‘ঈদ উল ফিতর’ ও অপরটি হল ‘ঈদ উল আজহার’। ঈদ উল ফিতর বা ঈদে আমরা একমাস রোজা রাখার পর এই ঈদ পালন করা হয়, তাই একে খুশির ঈদ হিসাবে মনে করা হয়। অন্যদিকে ঈদ উল আজহার হল ত্যাগের উৎসব ওই দিন পশু কোরবানীর মাধ্যমে আমরা আল্লার কাছে নিজেদের আত্মসমর্পণ করি। তাই ধীরে ধীরে বুঝতে পারি কোরবানী কোন আনন্দের দিন নয়, আসলে আনন্দের ঈদ বলতে একটিই ঈদ উল ফিতরকে বোঝায়।

ধীরে ধীরে বুঝতে শিখি ঈদের এই নির্মল আনন্দগুলি বিলীন হতে থাকে। ছোটবেলায় যে ‘চাঁদরাত’ ও ঈদের আনন্দ উপভোগ করতাম দেখলাম এক শ্রেণীর জামাতি ও মোল্লাদের হস্তক্ষেপে এই আনন্দগুলি বিলীন হতে চলেছে। মোল্লাদের হস্তক্ষেপে সর্বত্র যেন এক অঘোষিত নীতি জারি হয়ে গেছে, চাঁদরাতে কোন গান বাজনা ও আনন্দ করা যাবে না এবং ঈদের দিনও কোথাও কোন গান বাজনা বা আনন্দ করা যাবে না। গান বাজনা, আনন্দ করা সবই ইসলামে হারাম!মোল্লাদের যুক্তি একমাস রোজা রেখে যে এবাদত করা হয় এই গান বাজনাতেই নাকি সব আমল (পূণ্য) নষ্ট হয়ে যাবে?

এমন কুযুক্তির ফলে ঈদের নির্মল আনন্দের পরিবেশ ধীরে ধীরে বিলীন হতে থাকে! বর্তমানে ঈদ মানে এক উদ্ভট দিন, এই ঈদের কিছু দিন আগে থেকেই এলাকায় এলাকায় জঘন্য ওয়াজ মেহফিল অনুষ্ঠিত হয়, ওই ওয়াজ মেহফিলে মূর্খ ও ধর্মান্ধ মোল্লাদের বিদ্বেষপূর্ণ ভাষণ চলতে থাকে। এই ভাষণে অন্য ধর্মের মানুষকে গালাগালি দেওয়া ও নারী স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার করা হয়। অর্থাৎ এক সুস্থ সাংস্কৃতিক মেল বন্ধনকে এক উগ্র সাম্প্রদায়িক অনুষ্ঠানে পরিবর্তিত করা হয়। আর কুরবানীর কথা কি আর বলব, ওই দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টির নামে যেভাবে পশু হত্যা করা হয় তাতে মানুষের মনে যে সুকোমল অনুভূতিগুলি ছিল তা নষ্ট হয়ে যায় এবং মানুষ বর্বর হয়ে ওঠে! তাঁরা মনে করে এই নিরীহ পশুগুলির ব্যথা হয় না, তাঁদের কোন কষ্ট হয় না ইত্যাদি! এভাবে তাঁদের বর্বরতার চর্চা চলতে থাকে এবং তাঁরা উগ্র ধর্মান্ধে পরিণত হয়।

প্রকৃতপক্ষে ঈদে নামাজ ছাড়া আর কিছুই নেই। তাই বর্তমানে ঈদের আনন্দ বলতে শুধুমাত্র খাওয়া দাওয়াকেই বোঝায়। তা প্রশ্ন হল খাদ্য গ্রহণ তো বিভিন্ন পশু পাখিরাও করে। তাহলে মানুষের আনন্দের সঙ্গে পশু পাখির আনন্দের কি কোনও পার্থক্য রয়েছে? তাই বর্তমানে ঈদের আনন্দ বলতে কি শুধু কিছু খাওয়া দাওয়া ছাড়া আর অন্য কিছু বোঝায় না? যে ধর্মের ছত্রে ছত্রে কোন মননশীলতা যেমন- নাচ, গান, কবিতা, আবৃত্তি, চিত্রশিল্প, খেলাধুলা ও কোরান হাদিসের বাইরে সমস্ত শিক্ষাকে কুফরি শিক্ষা হিসাবে গণ্য করে হারাম করা হয়েছে, তাদের উন্নতি হবে কিভাবে?

তাই মুসলমানরা প্রকৃতপক্ষে মানসিক দিক থেকে এক অসুস্থ জাতিতে পরিণত হচ্ছে! যাদের জীবনে আনন্দ করা মানেই হারাম, তাঁদের বৌদ্ধিক ও মানসিক বিকাশ ঘটবে কিভাবে? তা প্রশ্ন হল আল্লাহ কেমন সৃষ্টিকর্তা যে তাঁর সৃষ্টিকে খুশি থাকতে দিতে চান না? যে তাঁর সৃষ্টিকে সর্বদা ভয় দেখায়, যার একবেলা এবাদত না পেলে চলে না? আল্লা এত বদরাগি চরিত্রের কেন? আল্লার প্রকৃতি এত মানুষ মানুষ কেন? এবাদত না পেলে মানুষকে জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে মারতে চাই, আল্লাহ এত নিষ্ঠুর কেন? তা মুমিন ভাইদের কাছে প্রশ্ন আপনারা আল্লাকে ভালোবাসেন না ভয় করেন? ভালোবাসলে নিশ্চয়ই এত বাঁধা নিষেধ থাকত না, আর ভয় যদি করেন তাহলে প্রশ্ন হল এ কেমন সৃষ্টিকর্তা যাঁকে আপনাকে ভয় করে চলতে হবে? স্কুলে যদি দুজন শিক্ষক হন একজনকে আপনি ভয় করেন ও অপরজনকে ভালোবাসেন, তাহলে কোন শিক্ষক আপনার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে? তেমনি কোন সৃষ্টিকর্তা আপনার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য যাকে আপনি ভালোবাসেন না ভয় করেন?

আমার বাবা মা কিন্তু আমার খুশিতেই খুশি হন, তাঁদের নামে আলাদা করে এবাদত করে তাঁদের খুশি করতে হয় না, আমার বাবা মায়ের এবাদত না করলে তাঁরা শাস্তি দেন না! তাহলে কি আমার পিতা মাতার চেয়ে ও আল্লা নিকৃষ্ট মনের স্রষ্টা? যে তাঁর সৃষ্টিকে আনন্দে থাকতে দিতে চাই না? মানুষের মতো আল্লারও রাগ হয়, তাহলে প্রশ্ন হল গোটা জাহানের মালিক যে সৃষ্টিকর্তা তাঁর মানুষের মতো তুচ্ছ এক প্রাণীর এবাদত না পেলে এত রাগ হয় কেন? তাহলে কি মানুষের এবাদত না পেলে আল্লার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ে? তাহলে প্রশ্ন হল আল্লার উপর আমরা নির্ভরশীল না আল্লা তাঁর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য মানুষের উপর নির্ভরশীল? প্রসঙ্গত উল্লেখ্য পৃথিবীতে হাজার হাজার ধর্ম ও ঈশ্বরের অস্তিত্ব ছিল বর্তমানে তাঁরা বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাহলে আল্লার অস্তিত্বও কি মানুষের অস্তিত্বের উপর নির্ভরশীল?

যাক এখন দেখা যায় ঈদের সময় এক সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। প্রচেষ্টা চলে ঈদকে এক সার্বজনীন উৎসবে পরিণত করার, তবে সেক্ষেত্রেও বিস্তার বাঁধা নিষেধ লক্ষ্য করা যায়। যে ইসলামে বিধর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করাও হারাম করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের শুভেচ্ছা বিনিময় হবে কিভাবে? তাই মুসলমানরা বিশ্বমানবতার কথা বলবে কিভাবে?

কোরানের কয়েকটি সূরা ও আয়াত উল্লেখ করলেই বুঝতে পারবেন বিধর্মীদের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কিরূপ?

সূরা আল মায়েদাহ:51 – হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

দেখুন এই আয়াতে আল্লা বিধর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করাও হারাম করেছেন। এখানে আশঙ্কা করা হচ্ছে যদি মুসলমানরা তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে তাহলে তাঁরা পথভ্রষ্ট হতে পারে? তাহলে প্রশ্ন হল ইসলাম এখানে কী মানবতা শেখাচ্ছে?

সূরা আল ইমরান:85 – যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।

তাহলে আল্লার দৃষ্টিতে অন্য কোন ধর্মের মানুষ পরোকালে শান্তি পাবে না, এটাই কি আল্লার ন্যায় বিচার?

সূরা আত তাওবাহ:113 – নবী ও মুমিনের উচিত নয় মুশরেকদের মাগফেরাত কামনা করে, যদিও তারা আত্নীয় হোক একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা দোযখী।

এই আয়াতে আল্লা বিধর্মীদের জন্য নবী ও মুসলমানদের দোয়া করতে নিষেধ করেছেন এবং তাঁদের সরাসরি জাহান্নামী হিসাবে উল্লেখ করছেন! এটাই কি আল্লাহর মহানুভবতার নিদর্শন?

সূরা আত তাওবাহ:80 – তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমাপ্রার্থনা কর, তথাপি কখনোই তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে অস্বীকার করেছে। বস্তুতঃ আল্লাহ না-ফারমানদেরকে পথ দেখান না।

এই আয়াত অনুসারে তুমি সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লা তোমাকে ক্ষমা করবে না কারণ তুমি ইসলাম গ্রহণ করোনি। তাহলে প্রশ্ন হল এই ইসলামের আল্লা মানবতার কথা বলে কি করে? ইসলামের আল্লা কি বিধর্মীদের প্রতি ঘৃণা বর্ষণ করছে না?

সূরা বাইয়্যিনাহ:6 – আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।

এই আয়াত অনুসারে আল্লা সরাসরি বিধর্মীদের কাফের ও সৃষ্টির অধম বলে গালিগালাজ করছে এবং বিধর্মীরা স্থায়ীভাবে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে সেটা বলছে। তাহলে বুঝুন ইসলামের আল্লা কেমন সৃষ্টিকর্তা যে শুধুমাত্র বিশ্বাসের কারণে বিধর্মীদের গালি দিচ্ছে এবং তাঁদের জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে মারার কথা বলছে?

সূরা আত তাওবাহ:5 – অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

এই আয়াতে তো আল্লা সরাসরি বিধর্মীদের যেখানে পাও তাঁদের হত্যার কথা বলছে এথেকেই বোঝা যায় কেন মুসলমানদের মধ্যে ভিন্নধর্মের মানুষের প্রতি এত বিদ্বেষ এত ঘৃণা দেখা যায়? এখানে আল্লাহ কি সরাসরি সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করার কথা বলছে না? এখন এই আয়াত পড়ে যদি কোন মুমিন মুসলমান, মুজাহিদ, আই এস বা কোন সন্ত্রাসী সংগঠন যদি কোন মানুষ হত্যা করতে নামে তাহলে তাঁদের দোষ কোথায়?কোরান কি জঙ্গিবাদের প্রচার করছে না?

এখন কিছু মুমিন ঠিকই এসে যাবে প্রেক্ষাপট দেখুন, আগের আয়াত দেখুন পরের আয়াত দেখুন, এভাবে এই আয়াতকে বৈধ করতে চাইবে। তাঁরা আরও যুক্তি দেবে ইসলাম গ্রহণ করলে তো ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে তাহলে ইসলাম কত মানবিক দেখেন। তাহলে প্রশ্ন হল যদি অন্য কোন ধর্মের চরমপন্থীরা মুসলমানদের সেই ধর্ম গ্রহণ না করলে হত্যার হুমকি দেয়, মুসলমানরা যদি সেই ধর্ম গ্রহণ করে তবে তেমন ধর্মকে বলবেন তো কত মহান, কত উদার? তা প্রশ্ন হল আল্লার কোরান নিশ্চয়ই কোন একদিনের জন্য নয় বরং এই কোরান 1400 বছর আগেও যতটা প্রাসঙ্গিক 1400 বছর পরেও আজও ততটাই প্রাসঙ্গিক, তাই এই আয়াত পড়ে যদি কেউ মানুষ হত্যা করে তাঁর দায় কি কোরান এড়াতে পারে? আর যদি দায় এড়াতেই চান তাহলে স্বীকার করতে হবে কোরান কোন ঐশি কিতাব নয় বরং এটা একটা ইতিহাস গ্রন্থ। তাই কোরানকে যদি কোন ঐতিহাসিক গ্রন্থ বা পৌরাণিক বই হিসেবে মেনে নেন তবেই এর দায় মুক্তি সম্ভব নচেৎ নয়! তা প্রশ্ন হল মুমিন ভাইয়েরা কি মেনে নেবেন কোরান এক ঐতিহাসিক গ্রন্থ?

কোরানের এইসব আয়াত থেকে সুস্পষ্ট অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও ইসলামে হারাম করা হয়েছে এবং অন্য ধর্মের মানুষকে নিকৃষ্টতম প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করে তাঁদের জাহান্নমের আগুনে জ্বলতে হবে বলে আল্লা অভিশাপ বর্ষণ করছেন। আল্লার জান্নাতে কোন বিধর্মীরা যে যত ভালোই কাজ করুক না কেন তাঁর স্থান নেই! এথেকেই বোঝা যায় আল্লাহ কত সংকীর্ণ ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির! কোন সৃষ্টিকর্তা কি এত বর্বর ও নিষ্ঠুর হতে পারে? আসলে আল্লাহ মোহাম্মদের কল্পিত সৃষ্টিকর্তা তাই কোরানের মধ্যমে আল্লাহর যে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় তাঁর আদর্শ বহু অংশে মহম্মদের সঙ্গে মেলে! এই কারণেই মুমিন ভাইয়েরা অন্য ধর্মের মানুষের সান্নিধ্য এড়িয়ে চলেন। তাঁরা কোন বিধর্মীদের অনুষ্ঠানে যেতে বাধ্য হলেও তাঁদের জাহান্নামি মনে করে। এথেকেই প্রমাণিত হয় ইসলাম আসলে ঘৃণার শিক্ষা দেয়!

ইসলামে বিধর্মীদের প্রতি এই ঘৃণার কারণে ঈদ আজও কোন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হতে পারেনি। ক্রিসমাস বা দূর্গাপূজায় যেখানে ধর্মের আচার অনুষ্ঠান থেকে আনন্দ ও মজায় মুখ্য হয়ে ওঠে এবং সর্ব ধর্ম, বর্ণের মানুষ এতে অংশ গ্রহণ করে সেখানে ঈদ বড় বেশি সাম্প্রদায়িক রঙে রাঙা! বাস্তবে মুসলমানদের কোন আনন্দের উৎসব নেই তাই তাঁরা ক্রিসমাস, দুর্গাপুজো, পয়লা বৈশাখ ইত্যাদিতে বেশি করে অংশ গ্রহণ করে হয়তো এভাবেই সমাজ বিবর্তিত হচ্ছে।

মানুষ আসলে এক অদ্ভুত প্রাণী ধর্ম গ্রন্থে এসব কথা উল্লেখ থাকলেও বেশিরভাগ মুসলমানরাই এসব ধর্ম গ্রন্থ পড়ে দেখেনি তাই তাঁরা নিজেদের ব্যবহারিক জীবন থেকে বিধর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ও তাঁদের ঈদে আমন্ত্রণ করে এখানেই ধর্ম মানবতার কাছে পরাজিত হয়েছে। বাস্তব অভিজ্ঞতায় বলতে পারি যে যত কম ধার্মিক সে তত সহজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে মিলিত হতে পেরেছে এবং ধর্মের প্রাবল্য যেখানে যত বেশি মানুষের মধ্যে বিভেদ তত বৃদ্ধি পেয়েছে! তা প্রশ্ন হল ধর্ম কি মানুষের মধ্যে মিলন বোধ সহজ করেছে?

ব্যাক্তিগত ভাবে বলতে পারি শিশু বয়সে ঈদ ভালো লাগলেও এখন ঈদের এই চরম সাম্প্রদায়িকতার জন্য ঈদের প্রতি কোন মানসিক টান অনুভব করি না বরং মনে হয় এই দিন যত দ্রুত কেটে যায় ততই মঙ্গলজনক! বরং ঈদের চেয়ে সাধারণ দিন অনেক বেশি শান্তির অনেক বেশি আনন্দের! এবারের ঈদে করোনা ও আমফানের ফলে ওয়াজ মহফিল ও মাইকিং এর প্রাদুর্ভাব একটু কম তাই মোল্লাদের ঘৃণ্য ওয়াজ শুনতে হচ্ছে না এই যা স্বস্তির! তাই ধর্ম সর্বস্ব উৎসব থেকে বিবর্তিত হয়ে পয়লা বৈশাখ বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরের উৎসব পালিত হোক সেটাই অধিক কাম্য!  আগামীতে মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক চেতনার বিনাশ হোক, মানবতার প্রসার ঘটুক ও মুক্তসমাজ গড়ে উঠুক সেটাই আশা রাখি!

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

51 − 47 =