সোলার মিনিমামের প্রভাবে সত্যিই কি হিম যুগ ফিরে আসবে?

আমাদের সোলার সিস্টেমে অত্যন্ত ছোট্ট একটি গ্রহ পৃথিবী। বলার অপেক্ষা রাখে না যে বাকী গ্রহগুলোর মত অবশ্যই এটা সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীতে বাসকারী বিজ্ঞানীরা সূর্যের ব্যাপারে যা জানে সেটাকে কিন্তু কোনভাবেই পর্যাপ্ত বলা যাবে না। আর সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা এতটুকু জানি যে সূর্য পৃথিবীর বুকে সকল প্রাণের জন্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু, সূর্যের তাপমাত্রা যদি একেবারে কমে যায় তবে মানুষ সহ বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আমরা এও জানি সমগ্র সোলার সিস্টেমের ফরমেশনে জুপিটার, ইউরেনাস সহ যত এস্ট্রোয়েড বেল্ট রয়েছে, সঙ্গে বহু সেলেস্টিয়াল অবজেক্ট যেমন চন্দ্র সহ সবকিছুতে সূর্যের মারাত্মক একটি জটিল ভূমিকা রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা সূর্যের অনেক ক্রিয়ার এখনও কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি। যেমন বিজ্ঞানীরা জানেন সূর্যেরও সাইকেল আছে, কিন্তু তারা জানেন না সূর্যের সাইকেল কেন হয়? এমন অসংখ্য উত্তর খুঁজতে মানুষ আগামী কয়েক দশকে সূর্যের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু প্রোবিক মিশন পাঠাবে, যেমন নাসার পার্কার সোলার মিশন। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সিগুলোও কিছু প্রোব মিশন পাঠাবে। চীন-ভারত সহ এশিয়ারও কিছু প্রোব যাবে। এদের সকলের উদ্দেশ্য একটাই, সূর্যের রহস্য ভেদ করা। সূর্যের রহস্যের লম্বা তালিকা রয়েছে। তালিকার একটি চিত্তাকর্ষক টপিক হল সোলার মিনিমাম (Solar Minimum)। সোলার মিনিমামের অপজিট সোলার ম্যাক্সিমাম। এই দুটির পর্যালোচনা ও পৃথিবীতে এর প্রভাব নিয়ে কিছু বিজ্ঞানীরা কি বলেছেন সেটাই ব্যাখ্যা করব।

চিত্র ১: দ্য স্কাই ডট কমের সোলার সিস্টেম সিমুলেটরের স্ক্রিন শট। ৭ নং তথ্যসূত্রে দ্য স্কাই লাইভ ডট কমের আমাদের সোলার সিস্টেমের একটি দারুণ সিমুলেশনের লিঙ্ক সংযুক্ত করা হয়েছে। আগ্রহী পাঠকেরা সাইটটি থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

সূর্য প্রতি ১১ বছরে এক বার তার সোলার সাইকেল পূর্ণ করে। এই দীর্ঘ সময়ে সূর্য দুইটি ফেজের মুখোমুখি হয়। ১) Solar Maximum ও ২) Solar Minimum ; দুটি ফেজ একে অপরের বিপরীতমুখী। যখন সূর্যে কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পায়, সান স্পটের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, সূর্যের ম্যাগনেটিক ফিল্ড দ্রুত গতিতে সামনে বাড়তে তখন সেটাকে সোলার ম্যাক্সিমাম ফেজ বলে। এর বিপরীতে যখন সান স্পট অপেক্ষাকৃত কম দেখা যায়, সূর্যকে আক্ষরিক অর্থে শান্ত দেখা যায়, কর্মতৎপরতা কমে আসে তখন ধরে নিতে হবে সূর্য সোলার মিনিমামে অবস্থান করছে। আজ থেকে ১১ বছর পূর্বে সূর্য সোলার ম্যাক্সিমামের সর্বোচ্চ পর্যায়ে (Peak) ছিলো, কিন্তু ২০২০-এ সূর্য ইতোমধ্যে সোলার মিনিমামে পৌঁছেছে। সোলার মিনিমাম ও ম্যাক্সিমাম খুব সম্ভবত ১-২ বছর স্থায়ী হয়, অর্থাৎ তাপমাত্রা পিকে চলে যাওয়া এবং সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার সময় স্থায়ী হয় এক থেকে দুই বছর। এই তথ্যের রেফারেন্স হল স্বয়ং নাসা। নাসা তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে,

Greatest number of sunspots in any given solar cycle is designated as “solar maximum” the lowest number is “solar minimum.” (তথ্যসূত্র: ১)

চিত্র ২: সোলার মিনিমাম ও সোলার ম্যাক্সিমাম

প্রবাদ আছে, “ছবি কথা বলে।” ছবি দেখে যেকোনো বিষয় সম্পর্কে ধারণা আরও স্বচ্ছ হয়। ২ নং চিত্রটি তোলা হয়েছে টেলিস্কোপের মাধ্যমে। ছবিতে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মীও দেখা যাচ্ছে। সোলার ম্যাক্সিমামে দেখা যাচ্ছে তখন সূর্য কি অবস্থায় থাকে। ম্যাক্সিমামে সূর্যের সারফেস অপেক্ষাকৃত বেশি ভায়োলেট হয়। মাঝামাঝি অংশে যে ইরাপশন ঘটছে সেটাও দৃশ্যমান। কিন্তু অপরদিকে সোলার মিনিমাম একেবারে শান্ত। কোন আগ্রাসী গিতিবিধি সূর্যের মাঝে দেখা যাচ্ছে না। তবে এটা ধরে নেওয়া যাবে না যে সোলার ম্যাক্সিমামে সূর্য প্রচুর তাপ উদগীরণ করে এবং সোলার মিনিমামে সূর্যের হিট প্রডিউসিং ক্যাপাসিটি তুলনামূলকভাবে কমে যায়। এটা বলা ১০০% সঠিক হবে না। একটা পার্থক্য নিশ্চয় দেখা যায়। কিন্তু সেই পার্থক্যটা হয়তো তখন দেখা যায় যখন শুধু মাত্র গ্রান্ড সোলার ম্যাক্সিমাম অথবা গ্রান্ড সোলার মিনিমাম ফেজ বজায় থাকে।

সূর্য যে প্রতি ১১ বছরে তার সৌর চক্র পূর্ন করে এটা আবিষ্কার করা হয় ১৮৪৩ সালে, জার্মানির বিজ্ঞানী স্যামুয়েল হেনেরিখ সোয়াগের দ্বারা। ১৭ বছরের দীর্ঘ অবজারভেশনের পর তার রিসার্চ, নোট পর্যালোচনা করে এই আবিষ্কারের কথা জানানো হয়। বর্তমান সময়ে মানবজাতি এতটুকু যোগ্যতা রাখে সূর্য তার সাইকেলের হিসাবে যতটুকু কাজ করবে তা আমরা আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারবো। ৬ বছর পূর্বে ২০১৪ সালে সোলার ম্যাক্সিমামের পিক পয়েন্ট ছিলো। তখনই নাসা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলো যে ২০১৯ এর পর থেকে সোলার মিনিমাম শুরু হয়ে যাবে।

চিত্র ৩.১: সোলার সাইকেল গ্রাফ

 

চিত্র ৩.২: সোলার সাইকেল গ্রাফ

বিগত বছরগুলোর সোলার সাইকেলের দুইটি গ্রাফ তুলে ধরা হয়েছে। নিচের সংখ্যাগুলো বছর, এবং উপরের SC হল সোলার সাইকেল। ৩.১ নং চিত্রে দেখা যাচ্ছে ২০১০ সালের সর্বশেষ সোলার মিনিমাম ছিলো এরপর ২০১১ শুরু হলে আমরা আবার একটি সোলার ম্যাক্সিমাম প্রত্যক্ষ করি। ২০১৫ সালের দিকে গ্রাফের পিক চলে যায় উপরের দিকে। এরপর আবার গ্রাফের পিক নিচের দিকে নেমে আসে। এরপর আবার গ্রাফ নিচের দিকে নেমেছে। ২০২০ এ এসে সূর্য অনেকটাই শীতল। শীতল অর্থ এই না যে সূর্য ঠাণ্ডা হয়ে গেছে বা সেখানে তাপমাত্রা নেই। সূর্য এখনও পুরো সৌরজগতকে শক্তি সরবরাহ করার মতো উত্তপ্ত। কিন্তু সূর্যের যে ভায়োলেট এক্টিভিটি ছিলো সেটা অনেকটাই কমে গেছে।

চিত্র ৪: করোনাল হোল

আপাতত আমরা এটা জেনে ফেলেছি যে সোলার ম্যাক্সিমামের সময় সানস্পট বেশি দেখা যায়, সোলার মিনিমামে সেটা কিছু কম ও অন্য রকম দেখায়। সূর্যের গায়ে রয়েছে বেশ কিছু করোনাল হোল (Coronal Holes), যা সাধারণত সোলার স্পট ও সোলার প্লেয়ারের কারণে ঢাকা পড়ে থাকে। সোলার মিনিমামের সময়ে করোনাল হোল অনেকটাই এক্সপোজ হয়ে যায় এবং সেগুলো থেকে বহু ধরণের পার্টিকেলের সঙ্গে সঙ্গে সোলার উইন্ড বা সৌর বায়ু নির্গত হয়। সোলার উইন্ড পুরো সৌরজগতে ছড়িয়ে পড়ে। এখন প্রশ্ন হল সোলার উইন্ডে কি পৃথিবীতে কোন প্রকার ইম্প্যাক্ট ঘটে? অবশ্যই ঘটে। পৃথিবীতে জিও ম্যাগনেটিক স্টোর্ম আসতে পারে। ৫ নং চিত্রটি ধারণ করা হয় ৮ই অক্টোবর ২০১৫ সালে। নরওয়েতে এই অরোরা দেখতে পাওয়া যায়। এর মূল কারণ ছিল করোনাল হোল থেকে ভেসে আসা ম্যাটনেটিক সোলার ম্যাটেরিয়াল ও উইন্ড। পৃথিবীর ম্যাগনেটিক বাবলের সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়ার পর এই অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য ভেসে ওঠে।

চিত্র ৫: সোলার উইন্ডের প্রভাবে সৃষ্ট হওয়া অরোরা

ইম্প্যাক্ট কেমন হবে সেটা নির্ভর করে সোলার উইন্ড কতটা শক্তিশালী, তখন পৃথিবীর অবস্থান কোথায় ছিলো তার উপরে। এগুলোর উপরে নির্ভর করে স্ট্রং জিও ম্যাগনেটিক স্টোর্মের একটা ওয়েভ যদি পৃথিবীতে আসে তবে ভূপৃষ্ঠে ও স্পেসে কমিউনিকেশন ও নেভিগেশিন সিস্টেম, বিশেষ করে নর্দান হ্যামেস্ফিয়ারে কিছু ডিস্টারবেন্স দেখতে পাওয়া যেতে পারে। ডিস্টারবেন্স কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যদি সেটা গ্রান্ড সোলার মিনিমাম হয়ে থাকে তবে সোলার উইন্ড আরও বেশি শক্তিশালী হবে। মানুষের শরীরে এটা তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না, কিন্তু মহাকাশে পৃথিবীর আপার এটোমোস্ফিয়ারে যে স্যাটেলাইট ও স্পেস ডেবরি রয়েছে তাদের অরবিটে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

চিত্র ৬: স্পেস ডেবরি

আমরা জানি, মহাকাশে বহু স্পেস ডিবরি (Space Debris) ভেসে বেড়াচ্ছে। স্পেস ডিবরিকে সোজা বাংলায় মহাকাশের বর্জ্য বলা যায়। মহাকাশের বর্জ্যও মানুষের সৃষ্টি। স্পেসে বিদ্ধস্ত স্যাটেলাইটের অংশ, স্পেস শাটলের অংশ, নাট-বল্টু-স্ক্রাব মেটাল ভেসে বেড়াচ্ছে বর্জ্য হয়ে। এগুলো সাধারণত পৃথিবীর এটমোস্ফিয়ারের শেষ স্তরে প্রবেশ করে ভূপৃষ্ঠের দিকে এগিয়ে আসে। সোলার ম্যাক্সিমামের সময়ে ম্যাগনেটিক ফিল্ড খুব আগ্রাসী অবস্থায় থাকে। তখন পরিস্থিতি হয় এক রকম ও সোলার মিনিমামে পরিস্থিতি হয় ভিন্ন রকম।

চিত্র ৭: পৃথিবীর তিন প্রকার অরবিটাল স্তর

সোলার ম্যাক্সিমাম ফেজে লো আর্থ অরবিটের (Low Earth Orbit- LEO) আশেপাশে পৃথিবীর আপার এটমোস্ফিয়ারের আয়তন তখন কিছুটা বৃদ্ধি পায় ফলে এটমোস্ফিয়ার পৃথিবীর জন্য আরও বেশি প্রোটেক্টিভ হয়ে ওঠে। সে সময় স্পেস ডিবরি বা স্যাটেলাইট যদি এটমোস্ফিয়ারের বর্ডারের ভেতরে ঢুকে পড়ে কিছুটা ফিকশন ক্রিয়েট হয় এবং পৃথিবীর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এটা স্যাটেলাইটের জন্য তেমন কোনো দুশ্চিন্তার বিষয় না। অপর দিকে স্পেস ডিবরি আয়তনে এতটাও বড় হয় না যে সেগুলো পৃথিবীর এটোমোস্ফিয়ারের ফিকশন সহ্য করে ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কিন্তু সোলার মিনিমামের কেসে এটোমোস্ফিয়ারের শেষ স্তর সোলার ম্যাক্সিমামের সময়ের মত অতটা শক্তিশালী থাকে না, এর অর্থ হল মহাকাশের বর্জ্য বা স্পেস ডিবরি পৃথিবীর দিকে বেশ সহজেই এগিয়ে আসতে পারে৷ আমরা যেহেতু স্পেস ডেবরি থাকা অবস্থায় কিছু সোলার মিনিমাম ইতোমধ্যে দেখে ফেলেছি আর বর্জ্যও সেভাবে পৃথিবীতে এসে পড়েনি সেহেতু বলা যায় এটা এতটাও ক্ষতিকর না।

চিত্র ৮: চট্টগ্রামের স্থানীয়দের হাতে স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ

কিন্তু অনেকেরই মনে থাকতে পারে চলতি বছর মার্চের ২২ তারিখ মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আকাশ থেকে স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ এসে পড়ে (তথ্য সূত্র ৫) । পৃথিবী জুড়ে এমন ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। কিন্তু এই ধ্বংসাবশেষ সোলার মিনিমামের কারণে অক্ষত অবস্থায় চট্টগ্রামে এসে পড়েছিলো কিনা তা নিয়ে কোনো গবেষণা এখন পর্যন্ত আমাদের স্থানীয় বিজ্ঞানীরা করেন নাই। আমরা যদি স্পেস ডেবরি থেকে সব সময়ই নিরাপদ থাকতে চাই তবে সোলার ম্যাক্সিমামই ভালো।

আসা যাক গ্রান্ড সোলার মিনিমাম টপিকে। সাম্প্রতিক নাসা একটি রিপোর্ট পাবলিশ করেছে যেখানে তারা দাবী করেছে আগামী কয়েক দশকে সূর্য গ্রান্ড সোলার মিনিমাম ফেজের মধ্য দিয়ে যাবে, একই ধরণের রিপোর্ট নাসা প্রকাশ করেছিল ২০১৭ সালেও (তথ্য সূত্র: ৬)। উল্লেখ্য দেশীয় পত্রিকাগুলো ঢাউস প্রচার করে বেড়িয়েছে যে ২০২০ সাল থেকেই গ্রান্ড সোলার মিনিমামের কারণে পৃথিবী খুব সম্ভবত লঘু হিম যুগে প্রবেশ করতে পারে। সূর্যের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে আবাদি ফসলে এর ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে, পর্যাপ্ত ফসল ফলবে না, দেশে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে, শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে, গ্রীষ্ম মৌসুমেও আমেরিকায় তুষারপাত ঘটবে (যদিও আমেরিকা-কানাডায় সারা বছর তুষারপাত ঘটার মতো বহু স্থান রয়েছে), আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাত ঘটবে ইত্যাদি। কিন্তু লক্ষ্য করুন, নাসা বলেছে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে গ্রান্ড সোলার মিনিমাম ঘটতে পারে। সেটা ১০ বছরে হতে পারে, ২০ বছরে হতে পারে, ৩০ বছরে হতে পারে, এমনকি ৪০ বছরেও হতে পারে। কিন্তু একথা সত্য সূর্য দীর্ঘ সময়ের জন্য সোলার মিনিমামে প্রবেশ করবে এবং সূর্যের কর্মতৎপরতা খুবই কমে যাবে। সেকারণে পৃথিবীতে সূর্যের যে তাপমাত্রা রয়েছে সেটাতেও একটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যাবে। পার্থক্যটা খুব বেশি হবে না, তবে হবে। সেটা পৃথিবীর এভারেজ টেম্পারেচার বদলে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আর সত্য বলতে কি পৃথিবীতে সে সময় হয়তোবা আইস এজের দেখা যেতে পারে। শেষ বার গ্রান্ড সোলার মিনিমামের কারণে আইস এজ দেখা গিয়েছিলো ১৬৫০-১৭১৫ সাল পর্যন্ত। এই সময়টাকে লঘু হিম যুগ বলা হয়। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হল মানব জাতি যেভাবে ক্লাইমেট চেঞ্জের দিকে এগোচ্ছে তাতে করে গ্লোবাল এভারেজ টেম্পারেচার উপুর্যুপরি বৃদ্ধিই পাচ্ছে ও পাবে। ক্লাইমেট চেঞ্জের মূল কারণ হল কার্বন নিঃসরণ। আগামী কয়েক দশকে যদি আমরা লঘু হিম যুগে প্রবেশ করি অথবা হিম যুগে প্রবেশ করি না কেন কার্বন নিঃসরণ তো বন্ধ থাকছে না। আগামী কয়েক দশকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এত বেড়ে যাবে যে সোলার মিনিমামের ইম্প্যাক্ট তুলনামূলকভাবে কমই হবে।

গ্রান্ড সোলার মিনিমের ইম্প্যাক্টে পৃথিবীর উপরিভাগ অর্থাৎ নর্দান হ্যামেস্ফিয়ারে ঠাণ্ডা বৃদ্ধি পেতে দেখা যাবে। নাসার ক্লাইমেট চেঞ্জ ব্লগের রিপোর্ট মতে,

“When combination of cooling from volcanic aerosols and low solar activity produced lower surface temperatures.”

কিন্তু গবেষকদের মতে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে আইস এইজের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কমে যাওয়া হচ্ছে সোলার সাইকেলের স্বাভাবিক রূপ। এটা চলতে থাকে। এবারই জীবনের প্রথম ও শেষ সোলার মিনিমাম হতে যাচ্ছে না। তবে বেঁচে থাকলে গ্রান্ড সোলার মিনিমাম দেখতে অনেকেই দেখতে পাবো

তথ্যসূত্র:

1) https://www.nasa.gov/mission_pages/sunearth/news/solarmin-max.html

2) https://www.universetoday.com/47851/earths-upper-atmosphere-is-cooling/amp/

3) https://science.nasa.gov/science-news/news-articles/solar-minimum-is-coming

4) https://science.nasa.gov/science-news/news-articles/solar-minimum-is-coming

5) https://www.jugantor.com/m/country-news/291797/%E0%A6%B9%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A7%8E-%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%9C%E0%A6%B2-%E0%A7%A9%E0%A7%A6-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%9C%E0%A6%BF-%E0%A6%93%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%AC-%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%81
6) https://www.google.com/amp/s/www.sciencealert.com/we-re-about-to-experience-solar-minimum-here-s-what-that-really-means/amp

7) https://theskylive.com/3dsolarsystem?date=2020-05-26&h=2&m=5&

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

74 − = 72