এ দায়টি কার?

মেয়েটিকে কি উত্তর দেব ভেবে পাই না। কাকেইবা এর দায় দেব ? এবার আসি আসল কথায়, বড় মেয়েটি প্রশ্ন করলো, আচ্ছা বাবা আমরা প্রায় প্রতিটি ক্লাসে একটি করে প্রবন্ধ বা গল্প পড়েছি। আমাদের নবী মোঃ নাকি খুবই উত্তম চরিত্রের মানুষ ছিলেন। তিনি পাখির ছানাকে বাঁচিয়ে দিয়ে মায়ের ভালবাসার উদাহরন দিলেন, পরিশ্রম করে খাওয়ার জন্য ভিক্ষা না করে কাটুরিয়ার কাজ করে খাওয়ার পরামর্শ দিলেন। এক বৃদ্ধা নাকি তার পথে কাঁটা বিছিয়ে দিত, তিনি মহানুভবতা দেখিয়ে ঐ মহিলাকে ইসলামে দিক্ষিত করেছিলেন। এসবই ছিল আমাদের প্রতিটি ক্লাসের এক একটি মহানুভবতার গল্প। আমরা তাকে এভাবেই চিনে এসেছি ছোট কাল থেকে। এখন বড় হয়ে ইসলামের নানা গ্রন্থ পড়ে দেখলাম তিনি কিভাবে ক্বাব বিন আশরাফ, আসমা বিনতে মারওয়ানের মত কবি সাহিত্যিককে তার বিরুদ্ধে কবিতা লিখায় গুপ্ত ঘাতক পাঠিয়ে নির্মমভাবে হত্যা  করলেন। একজন মহান মানুষের পক্ষে কি সম্ভব তার বুকের শিশু সন্তানকে বুকের দুধ হতে বিচ্ছিন্ন করা। প্রয়োজনে তার লিখনীর জবাব লিখনীতে দেয়া।  বিভিন্ন বাণিজ্য কাফেলা লুট, আরবের বিভিন্ন গুত্র বা গোষ্টিকে আক্রমন করে তাদের মালামাল লুট  করে গণিমতের মাল বানালেন আর নিরিহ অসহায় মহিলা আর শিশুদের দাস বানালেন।  এক পর্যায়ে আরব হতে সকল বিধর্মীদৈর তাড়িয়ে দিলেন। ইসলাম গ্রহণ না করলে তাদের হত্যার নির্দেশ দিলেন। নিজের পালিত পুত্রের স্ত্রীকেও বিয়ে করলেন। মেয়েটির প্রশ্ন শিশুকালের ঐসব গল্পেরতো কোন ভিত্তিইতো খুজে পাই না বরং এই সব বিভৎস কাহিনীগুলো কোরআন হাদিসসহ ইসলামী সোর্স থেকেই পাওয়া যায়। কোন কাফের বিধর্মীতো আর এইসব লিখে রাখেনি। আমি মেয়ের এসব কথায় নিরুত্তর, ভাবছি কারা কোন স্বার্থেই এইসব কোমলমনা শিশুদের পড়তে বাধ্য করছে। নৈতিকতার মানদন্ড স্থান কাল পাত্র ভেদে ভিন্ন হয়, আমরা না হয় আসল সত্যকেই মেনে নিয়ে এই বর্বরতাগুলোকেই চুড়ান্ত নৈতিকতা বলে মেনে নিতাম।

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 81 = 83