ইশা-ইউনিয়ন জোট এবং বাংলাদেশের বাম-প্রগতিশীলদের অদ্ভুত অসুখ

ইদানীং বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রগতিশীল অংশের মধ্যে এক নতুন ধরণের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এই করোনার সময়ে এমনিতেই দেশের মানুষ রোগে শোকে পর্যুদস্ত, এর সাথে আরেকটা নতুন রোগ প্রগতিশীলেরা পাকিয়ে তুলছেন।আর তা হল ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে সাথে নিয়ে ফ্যাসিবাদকে পরাস্ত করার উদ্ভট তত্ত্ব, যা আমার কাছে এক বিশ্রী রকমের বুদ্ধি বৃত্তিক রোগ বলেই মনে হচ্ছে। আজ আমরা এই অদ্ভুত অসুখের তত্ত্ব-তালাশ করব। তবে তার আগে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর উৎপত্তি ও তাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে খোঁজ খবর নেবো।

ধর্মভিত্তিক দলগুলির উৎপত্তি ও তাদের কর্মকান্ড

যেহেতু, আলোচনাটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হচ্ছে তাই আমরা এখানে ইসলামপন্থী রাজনীতিকেই সামনে আনব, হিন্দুত্ববাদী বা ইহুদীবাদী রাজনীতির আলোচনা এখানে প্রাসঙ্গিক নয়। বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির গোড়াপত্তন হয় মূলত মুসলিম লীগের হাত ধরে। তার আগে যদিও খেলাফতী আন্দোলন, তিতুমীরের ওয়াহাবি আন্দোলন হাজী শরীয়তুল্লার ফরায়েজী আন্দোলন ইত্যাদি কিছুটা সামাজিক, কিছুটা রাজনৈতিক আন্দোলন হয়েছিলো, কিন্তু প্রথাগত রাজনীতির হিসাবে মুসলিম লীগই প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে গঠিত হয়। মূলত বৃটিশ শাসিত ভারতবর্ষে মুসলমানদের জন্য আলাদা স্বাধীন ভূমি গঠন করার লক্ষ্য নিয়ে এই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ, আজকের যে পাকিস্তান আমরা দেখছি তা প্রতিষ্ঠার পেছনে এই মুসলিম লীগের অবদানই সবচেয়ে বেশি। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ইতিহাস খুব মধুর ছিল না।

পাকিস্তান রাষ্ট্র আদায়ে বৃটিশদের চাপে রাখতে ও কংগ্রেসকে প্রতিহত করতে মুসলিম লীগ ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট ডাইরেক্ট একশন ডে ঘোষনা করে। ঐ দিন থেকে সারা ভারতে এক ভয়াবহ ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা শুরু হয়। কোলকাতার চেয়েও ভয়ঙ্কর গণহত্যা চালানো হয় নোয়াখালী অঞ্চলে স্থানীয় হিন্দু জনগোষ্ঠীর উপর। এছাড়াও ভারতবর্ষের আরও বহু জায়গায় হিন্দু-মুসলমান পারষ্পরিক আক্রমণ/ প্রতি আক্রমণ চলতে থাকে। এভাবে সারা ভারতে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ মৃত্যু বরণ করে এবং ১ কোটি চল্লিশ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার মাধ্যমে আদায় হয় মুসলমানের দেশ পাকিস্তান।

নামে মুসলমানের ভূমি হলেও কাজে পাকিস্তান ছিলো মুসলিম এলিট শ্রেণীর দেশ। তবে সব এলিট নয় শুধুমাত্র পাঞ্জাবী এলিটদের দেশ। যেকারণে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পরেও, বৃটিশিদের থেকে আলাদা হওয়ার পরেও, পাকিস্তান অধিভুক্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটে নি। বরং সেখানে অভিজাত শ্রেণী কর্তৃক শ্রমিক-কৃষকদের উপর, পাঞ্জাবীদের কর্তৃক অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীর উপর এমন নিপীড়ন চালানো হয় যে শেষ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে আরেকটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে যার নাম হয় বাংলাদেশ। পাকিস্তান গঠন পরবর্তী সময়ে মুসলিম লীগের আর কোন অবদান রাজনীতিতে থাকেনি। সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণাকে বাড়িয়ে দেয় এমন বহুবিধ আয়োজন পাকিস্তান রাষ্ট্রে থাকলেও তাদের জন্য কোন আন্দোলন বা কর্মসূচি দলটি হাতে নিতে পারে নি। ফলে পাকিস্তান গঠিত হওয়ার মাত্র ১১ বছরের মাথায় দলটি বহুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। মজার ব্যাপার হল যে মুসলিম লীগ পাকিস্তান আদায় করেছিলো সেই মুসলিম লীগ নিঃশেষিত হয়ে গেলেও মুসলিম লীগের নাম ব্যবহার করে অনেকগুলো দল পাকিস্তানে গড়ে উঠেছে। দুর্নীতিবাজ আমলা, গলাকাটা ব্যবসায়ী, আর্মির জেনারেল যার যখন প্রয়োজন মুসলিম লীগ নাম দিয়ে একটি করে দল খুলে বসেছে। ইন্টারনেটে সার্চ দিলে পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রায় চৌদ্দটা রাজনৈতিক দল পাওয়া যায় যাদের নামের আগে পরে “মুসলিম লীগ” শব্দটি ব্যবহার করা হয়ছে। সর্বশেষ পাকিস্তানের সাবেক শাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন যার নাম হল “নিখিল পাকিস্তান মুসলিম লীগ”।

তবে মুসলিম লীগ দূর্বল হয়ে গেলেও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার যে কমে যায় তা কিন্তু নয়। মুসলিম লীগের পরে ধর্মকে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার দায়িত্ব পালন করে আবুল আলা মওদুদী প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার কয়েক বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠা হওয়া জামায়াতে ইসলামীর মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে আরও বেশি ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করা। এই লক্ষ্যে আন্দোলন করে তিনি ও তার দল ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। কিন্তু এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তার দল সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশা দূর করতে কোন ভূমিকা তো রাখেই নি, বরং ক্ষমতাসীনদের নজরে পড়ার জন্য এবং তাদের কাছ থেকে ক্ষমতার আস্বাদ পাওয়ার জন্য পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে কাদিয়ানী বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। সেই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানে দাঙ্গা লাগিয়ে কয়েক হাজার কাদিয়ানী মুসলমানকে হত্যা করা হয়। দাঙ্গার মাধ্যমে এতোগুলি মানুষকে হত্যার উষ্কানি দেয়ার কারণে মওদুদিকে পাকিস্তান সরকার ফাঁসির আদেশ দিলেও পরে সৌদি আরবের হস্তক্ষেপে তা রদ করা হয়। আর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় এই মওদুদির রাজনৈতিক দল জামাতে ইসলামীর ভূমিকা তো সর্বজনবিদিত। এ নিয়ে নতুন করে লিখার কিছু নেই।

ফলে দেখা যায়, ইসলামী দলগুলো সৃষ্টির পর থেকে কোনদিনও সাধারণ মানুষের স্বার্থে কোন প্রকার আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলে নি বা সম্পৃক্ত হয় নি। বরং ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে বিভাজিত করা, তাদের দৃষ্টিকে শাসক শ্রেণীর অন্যায় জুলুম থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়া,এমনকি শাসকদের নির্যাতনের হাতিয়ার হয়ে কাজ করা ইত্যাদি ছিল ধর্মভিত্তিক দলগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্য। স্বাধীন বাংলাদেশেও এই ধারার কোন পরিবর্তন হয় নি। সোনার বাংলাকে শ্মশান বানানো সকল ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিবর্গের সাথেই ইসলামিক দলগুলোর দহরম মহরম ছিল চোখে পড়ার মত। যেমন, প্রেসিডেন্ট জিয়া মুসলিম লীগের সাথে, প্রেসিডেন্ট এরশাদ আটরশির পীরের জাকের পার্টির সাথে, বেগম খালেদা জিয়া জামাতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফতে মজলিশ সহ অনেকগুলো ছোট বড় ইসলামিক দলের সাথে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জামাতে ইসলামী, খেলাফতে মজলিশ এবং হেফাজতে ইসলাম এর সাথে গাঁটছড়া বেঁধে নিজেদের শাসন শোষণ ও লুটপাটের ধারা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু শ্রমিক, কৃষক, মেহনতী জনতার হক আদায় কিংবা জাতীয় স্বার্থে দেশের তেল গ্যাস রক্ষার আন্দোলনে কিংবা ভারত মার্কিন আগ্রাসন রোধকল্পে কোন প্রকার কর্মসূচি তাদের নিতে দেখা যায় নি। অর্থাৎ, দেখা যাচ্ছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতার অংশীদার হতে এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি শাসকগোষ্ঠীর শোষন/লুন্ঠন থেকে সরিয়ে নিজেদের মধ্যে ঘৃণার আগুন জ্বালিয়ে রাখতে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। তাই আজ হঠাৎ করে কেউ যদি ভাবে দেশের কোন এক ইসলামিক দল আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে পরাস্ত করে একটা চমৎকার গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণে সহায়ক হবে তাহলে তা হবে অত্যন্ত বিভ্রান্তিমূলক।

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কার্যকলাপ।

এবার আসেন যে দলটাকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের প্রগতিশীলরা ফ্যাসিবাদ পতনের স্বপ্ন দেখছেন সেই দলটাকে কিছু জানার চেষ্টা করি। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, তাদের লক্ষ্য হল,
“জাহিলিয়াতের সকল প্রকার আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী খোলাফায়ে রাশেদার নমুনায়-সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথে মানবজীবন গঠন ও সমাজের সর্বস্তরে পূর্ণ দ্বীন বাস্তবায়ন।”

তো আসুন এই যে, “কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী খোলাফায়ে রাশেদার নমুনায়-সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথ” এর কথা বলা হচ্ছে এক কথায় যাকে বলে শরীয়াহ, সেই শরীয়ার শাসন আসলে কি রকম তা আমরা একটু বুঝার চেষ্টা করি।আধুনিক বিশ্বে মোটামুটি ১৫টি দেশের নাম পাওয়া যায় যেখানে শরীয়া শাসন চালু আছে বলে মনে করা হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হল এই দেশগুলো কেউ কাউকে প্রকৃত শরীয়তী বলে স্বীকার করে না আবার এই দেশগুলোর বাইরে যে মুসলমান স্কলাররা আছেন তারা এর কোনটাকেই প্রকৃত শরীয়াভিত্তিক দেশ বলে মনে করে না। এই পৃথিবীর মুসলমানেরা সৌদি আরবের সুন্নি শরীয়া দেখেছে, ইরানের শিয়া শরীয়া দেখেছে, মালয়েশিয়ার আধুনিক শরীয়া দেখেছে, আইএস এর গোঁড়া শরীয়া দেখেছে কিন্তু কোন শরীয়াকেই সর্বসম্মতভাবে মেনে নেয় নাই। বরং পৃথিবীর কোন দেশেই সত্যিকারের কোরান-সুন্নাহ নির্দেশিত শরীয়া চালু নেই, এমন ধারণাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা পোষণ করেন। মূলত শরীয়াহ বলতে আসলে যে আলেমগ্রুপ যেরকমভাবে কোরান সুন্নাহকে বুঝে সেই আলেমগ্রুপের বুঝ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করাকেই বুঝায়। এটি কোন সর্বসম্মত এবং সর্বজনগ্রাহ্য ব্যবস্থা নয়। তবে এতো মতানৈক্যের পরেও কিছু কিছু বিষয় সব শরীয়াহ ভিত্তিক রাষ্ট্রেই দেখা যায় যা মোটামুটি একইভাবে মেনে নেয়। যেমন,

  • মত প্রকাশের স্বাধীণতার ব্যাপারে শরীয়াহ ভিত্তিক দেশগুলোতে ভয়ঙ্কর নিষেধাজ্ঞা আছে। শরীয়াহ শাসিত রাষ্ট্রে একজন ব্যক্তি এমন কোন মত প্রকাশ করতে পারবে না যা কোরান ও হাদিসের বক্তব্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। আল্লাহ এবং তার প্রেরিত দূত হযরত মোহাম্মদকে বিতর্কিত করে এমন কোন কাজ কিংবা গবেষনা করা যাবে না। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে, শরীয়াভিত্তিক দেশগুলোতে ডারউইনের বিবর্তনবাদকে অনৈস্লামিক বলে মনে করা হয়,ফলে পড়ানো হয় না। সেখানে ধর্ম না মানার কোন অধিকার নেই। আমি কোন ধর্মই মানি না, এ কথা সেখানে বলা যাবে না। নাস্তিকতাকে সেখানে মৃত্যুদন্ডতুল্য অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।
  • পৃথিবীর কোন শরীয়াহ ভিত্তিক রাষ্ট্রই গণতন্ত্রকে সমর্থন করে না। কারণ শরীয়াহ শাসন মানেই হচ্ছে কোরান হাদীসের আলোকে রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালনা পদ্ধতি যেখানে সাধারণ মানুষের আইন প্রণয়ন কিংবা পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। সেখানে আইন পরিচালিত হবে কোরান-সুন্নাহর নির্দেশিত পথে শীর্ষ পর্যায়ের ইসলামিক আলেমগণের মতামতের ভিত্তিতে। ইসলামিক শরীয়া ভিত্তিক রাষ্ট্রে গনতন্ত্রকে মানবরচিত আইন হিসাবে দেখা হয়। মানবরচিত আইন কোনভাবেই শরীয়াহ রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়।
  • নারী-পুরুষের স্বাধীণতার প্রশ্নে শরীয়াহ রাষ্ট্র ভীষণ রকমের পুরুষতান্ত্রিক। সকল ইসলামী শাস্ত্রেই এটা মনে করা হয়, নারী আদতে পুরুষেরই একটি অংশ, পুরুষের অধীনস্ত, পুরুষের নানাবিধ প্রয়োজন মেটানোর জন্যই তাকে তৈরি করা হয়েছে। আইনের চোখে নারী ও পুরুষ সমান হতে পারবে না। সাক্ষ্য প্রদানের সময় একজন পুরুষ সাক্ষীর বিপরীতে দুজন নারী সাক্ষীকে হাজির করতে হবে, নাহলে পুরুষের সাক্ষ্যকেই গ্রহণ করা হবে। সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেও একজন মেয়ে সন্তান একজন ছেলে সন্তানের সমান সম্পত্তি লাভ করতে পারে না। এইভাবে শরীয়াহ আইন কোনভাবেই নারীকে পুরুষের সমান বা তার চেয়ে উত্তম হিসেবে দেখে না।
  • একই ব্যাপার ভিন্নধর্মীদের ক্ষেত্রেও একইরকম । কোন শরীয়াহ রাষ্ট্রেই একজন অমুসলিমকে মুসলমানের সমান চোখে দেখা হয় না। একজন অমুসলিম মুসলমানের সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করতে পারবে না,চাইলে রাষ্ট্র অমুসলিম ব্যক্তির কাছ থেকে আলাদা কর নিতে পারবে যাকে বলে জিজিয়া কর। একজন অমুসলিম কখনোই রাষ্ট্রের প্রধান হতে পারবে না।
  • এছাড়াও যুদ্ধবন্দী নারীদের দাসী বানানো, তাদেরকে ইচ্ছেমত ধর্ষণ করা, তাদের ছেলে শিশুদের গেলমান হিসেবে ব্যবহার করা, বালেগ হয়েছে এমন সকল পুরুষকে হত্যা করা ইত্যাদি ব্যাপারে শরীয়া আইনে সম্মতি রয়েছে। এই শরীয়ার দোহাই দিয়েই একাত্তরের রাজাকার বাহিনী আমাদের বাঙালি নারীদের ধর্ষণ করেছে এবং সৈন্যদের দিয়ে করিয়েছে। এই শরীয়ার আইন দেখিয়েই আইএস এর যোদ্ধারা হাজার হাজার ইয়াজিদি নারীকে দিনের পর দিন ধর্ষন করেছে, তাদেরকে গরু ছাগলের মত বাজারে নিয়ে কেনাবেচা করেছে।
    তো এই হলো মোটের উপর শরীয়াহ আইনের চিত্র। আর এরকম সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের জন্যই লড়াই করছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। এখন পাঠক আপনারাই বলুন এই সংগঠনকে সাথে নিয়ে গণতান্ত্রিক আধুনিক সমাজব্যবস্থা কায়েমের জন্য, নারী মুক্তির জন্য, গণ অধিকার আদায়ের জন্য কিভাবে লড়াই করা যায়, কোন আক্কেলে তাদের সাথে জোট বাঁধা যায়?

বিষয়টা শুধু তত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই ইশা ছাত্র আন্দোলন বাস্তবেও এমন কিছু কাজ করেছে যা তাদেরকে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবেই প্রতিপন্ন করে। বিগত ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে তারা মহানবীকে নিয়ে কটুক্তির অযুহাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফরহাদকে আজীবন বহিষ্কারের জন্য আন্দোলন শুরু করে। শুধু আন্দোলন নয় তারা নিজেরা বাদী হয়ে ফরহাদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে থানায় গিয়ে মামলাও করে। সেই মামলার প্রেক্ষিতে ফরহাদকে কোতওয়ালী থানার পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এই হলো অবস্থা। যারা নিজেরাই আইসিটি আইনের মাধ্যমে মামলা করে একজন শিক্ষার্থীকে জেলে পাঠায় তারাই আজ এই আইন বাতিলের জন্য লড়াই করছে। আর তাদেরকে সাথী হিসেবে পেতে চাইছে প্রগতিশীল নামধারী কিছু সংগঠন। ব্যাপারটা কেমন অদ্ভুত লাগছে না?

আর তাদের মূল লীডার, তাদের আধ্যাত্মিক গুরু, পীর সাহেব চরমোনাই যার আসল নাম মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম। তার কিছু অমৃত বাণী আমরা দেখে নেই।

“পাঠ্যপুস্তকে অধিকাংশ ভিন্ন ধর্মাবলম্বী লেখকদের লেখা প্রবন্ধে, গল্পে ও কবিতায় ফুটে উঠেছে সংখ্যালঘু বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মতত্ত্ব ভাষা এবং শব্দ চয়নে রয়েছে হিন্দু ধর্মীয় প্রতিফলন, যা শতকরা ৯৫ ভাগ মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজন নেই।পাঠ্যপুস্তকে তথা সিলেবাসে ইসলামের নির্দেশনা না থাকার কারণে আমাদের সন্তানেরা তথা নাগরিকেরা নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে ঘুষ দুর্নীতি মাদকাসক্ত, ব্যভিচার ও নারী নির্যাতনে ব্যাপৃত হয়ে পড়ছে। তাই পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বিধর্মী চেয়ারম্যানকে বাদ দিয়ে ইসলামের ভাবধারায় উজ্জীবিত একজন শিক্ষাবিদকে চেয়ারম্যান করাসহ নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি পাঠ্যপুস্তক সংস্কার কমিটি গঠন করা জরুরি।”
যদিও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়াম্যান মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকী একজন ইসলাম ধর্মাবলম্বী, কিন্তু তাকে পীরসাহেব কেন বিধর্মী বললেন তা বুঝা গেলো না।

এবার মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে তিনি কি বলছেন দেখুন,

“মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি সংখ্যালঘু হিন্দু জনগোষ্ঠীর ধর্ম ও সংস্কৃতির অংশ। ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত মঙ্গল শোভাযাত্রা সাম্প্রদায়িক। মঙ্গল শোভাযাত্রা কোনোক্রমেই বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জীবনধারার সঙ্গে যুক্ত নয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার সঙ্গে শিরক বা মহান আল্লাহর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ধারণা জড়িত। তাই মঙ্গল শোভাযাত্রা সার্বজনীন নয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উৎসবও নয়।”
তবে তার সবচেয়ে ঘৃণিত বক্তব্য কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে দিয়েছিলেন।

“কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি ইসলামী জনতার প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তাই সময়ের অনিবার্য দাবি কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। কাদিয়ানী তথা আহমদিয়া মুসলিম জামাতের অনুসারীরা কাফের। তারা নিজেদেরকে মুসলমান পরিচয় দিলেও তারা মুসলমান নয়। আহমদিয়া মুসলিম জামাত নামধারীরা মহানবী সা.কে শেষ নবী মানে না, তাই তারা কাফের। কাদিয়ানীরা যে আকীদা-বিশ্বাস মেনে চলে তা বিশ্বাস করলে কেউ মুসলিম থাকতে পারে না। অথচ মুসলিম প্রধান বাংলাদেশে কাদিয়ানীরা মুসলিম পরিচয়ে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বহু সরলপ্রাণ মানুষ ঈমানহারা হচ্ছে। তাই ঈমানের তাগিদেই ওলামায়ে কেরাম ও মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকগণ কাদিয়ানীদের এহেন ঈমান বিদ্বেষী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কথা বলেন। তাই অবিলম্বে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে এবং মাদরাসায় হামলার বিচার করতে হবে। অন্যথায় নবীর দুশমন কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

এই কথাগুলো কি পরিচিত মনে হচ্ছে প্রিয় পাঠক? হ্যা,এটা সেই পুরোনো মওদুদি চাল, যে চাল চেলে একদিন মওদুদি বিশাল বড় নেতা হয়েছিলেন। আর এই রকম একটা ঘৃণাজীবি মানুষের নেতৃত্বে পরিচালিত সংগঠনকে সাথে নিয়ে গড়ে উঠবে বাংলার প্রগতির আন্দোলন? হায় মরণ।

প্রতিক্রিয়াশীলদের সাথে ঐক্য কি অনিবার্য? ইতিহাস কি বলে?

ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীলদের সাথে ঐক্য করতে হবে এমন চিন্তা কারো মাথায় কিভাবে আসে তার সুলুক সন্ধান করা প্রয়োজন। এই বাংলাদেশের মানুষের আছে রাজনৈতিক লড়াই সংগ্রামের বর্ণাঢ্য ইতিহাস। পাকিস্তান আমল থেকে অধুনা বাংলাদেশে যতগুলো শাসকবিরোধী, শোষণবিরোধী আন্দোলন হয়েছে তার কোনটাতে ধর্মীয় শক্তিসমুহের সাথে প্রগতির পক্ষের শক্তির ঐক্য করা হয়েছে এমন কোন নজির পাওয়া যায় না। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, উনসত্তুরের গণ অভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বই এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এর কোনটাতে ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলির সাথে প্রগতির পক্ষের শক্তির মেল বন্ধন করতে হয়েছে, কেউ দেখাতে পারবেন? ইসলামিক দলসমুহের সাথে গাঁটছড়া না বেঁধে এই আন্দোলন কি সফল হয় নাই? আইয়ুব খান কি পদত্যাগ করে নাই? জেনারেল নিয়াজী কি আত্মসমর্পণ করে নাই? প্রেসিডেন্ট এরশাদ কি জেলের ভাত খায় নাই? একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তো পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং জামায়াতের রাজাকারবাহিনী উভয়ের বিরুদ্ধেই লড়াই করে বিজয় অর্জিত হয়েছে। তবে আজ কেন আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে মোকাবেলা করার জন্য মৌলবাদী শক্তিসমুহের সাথে আঁতাত করার প্রয়োজন দেখা দিলো?

তবে আমাদের দেশে না হলেও বিদেশের মাটিতে একবার ধর্মীয় মৌলবাদীদের সাথে বাম প্রগতিশীলরা হাত মিলিয়েছিলো। আর এর ফল যে কি ভয়াবহ হয়েছিলো তা ইরানের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। এখনকার ইরানের দিকে তাকালে মনেই হবে না যে সেদেশে একদা বামপন্থী ও নারীবাদীদের শক্ত অবস্থান ছিল। বস্তুত, ইরানের ইসলামিক দলসমুহ, বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক দলসমুহ এবং নারীবাদীদের গ্রুপগুলো একত্রে জোটবদ্ধ হয়ে তৎকালীন শাসক রেজা শাহ পাহলভীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলো। বহু রক্তক্ষয় ও অত্যাচার-নিপীড়ন করে অতঃপর একদিন রেজা শাহ পাহলভী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং তার রাজতন্ত্র উৎখাত হয়।রাজতন্ত্র উচ্ছেদের পর ইরানের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী নারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিয়ে বলেন, “এই বিপ্লবী নারীরা ছিল বলেই স্বৈরাচার পতন ত্বরান্বিত করা গেছে। এই নারীদের জন্যই শাহ’র পুলিশ বাহিনী শেষ পর্যন্ত গুলি চালাতে অস্বীকার করেছে। আমি এই নারীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।” কিন্তু ক্ষমতা দখলের কিছু দিনের মধ্যেই আয়াতুল্লাহ খোমেনি ও তার দল নিজেদের আসল চেহারা প্রকাশ করে। তারা নারীদের অবাধ চলাফেরায় বিধি নিষেধ তৈরি করে, সকল নারীর জন্য হিজাবসহ সহী ইসলামিক পোষাক পরিধান বাধ্যতামূলক করে, বামপন্থীদের ও গণতন্ত্রপন্থীদের মুনাফেক ও কাফির হিসেবে অভিহিত করে তাদের অফিস, লাইব্রেরি ও বসবাসের স্থানগুলোতে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করে দেয়। বাম ও লিবারেলদের গ্রেফতার করে জেলে পুরে দেয় আর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। এইভাবেই ইরানের বাম-প্রগতিশীলরা নিজেদের ভুলের মাশুল গুণে সারা পৃথিবীর সামনে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে জোট করার ফল কি হতে পারে তার উদাহরণ জাজ্বল্যমান করে রেখে যায়।

তাহলে বাংলাদেশের মাটিতে এই ভুল আবার করার জন্য কারা উদ্যোগ নিচ্ছে? কেন নিচ্ছে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মের কারবারিদের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে গণ আন্দোলন গড়ার উদ্যোগ কারা নিচ্ছে, কারা এর তাত্ত্বিক ভিত্তি যুগিয়ে যাচ্ছে, কারা মার্ক্স থেকে মাও, জ্যাক দেরিদা থেকে মিশেল ফুকোর উক্তি আওড়িয়ে ধর্মীয় ফ্যানাটিকদের ফাঁদে পা রাখতে আমাদের তরুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করছে তাদের চিনহিত করতে হবে। এদের চক্রান্ত উন্মোচিত করতে হবে। বাংলাদেশের প্রগতিশীল মহলে ধর্ম ব্যবসায়ীদের গুপ্তচর ঢুকে গেছে। তারা জানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু আল্লাহ-খোদার নাম নিয়ে এককভাবে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। এরজন্য চাই বাম প্রগতিশীলদের সমর্থন। দেশের মানুষ বাম পন্থীদের পছন্দ করে কিন্তু তাদের শক্তি সামর্থের উপর ভরসা করতে পারে না। আবার অনেকেই তাদেরকে ধর্মবিদ্বেষী মনে করে। তাই বামপন্থীদের সাথে যদি লাখো মানুষের সম্মিলন ঘটিয়ে তার সাথে ধর্মীয় লেবাস যুক্ত করা যায় তাহলে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনীতির মাঠে একটা ব্যাপক গোলযোগ তৈরি করা যাবে। আর সেই ঘোলা জলে আসল ক্ষমতা দখল করবে এক বা একধিক ইসলামিক দলের জোট। এই হচ্ছে নীল নকশা।

শেষ কথা

আমাদের বাম ও প্রগতিশীলরা এই চক্রান্ত যত দ্রুত অনুধাবন করতে পারবেন, ততই মঙ্গল। দেশের এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে সকল বামপন্থী ও প্রগতির পক্ষের শক্তিকে এক প্ল্যাটফর্মে আসা আজ ভীষণ প্রয়োজন। বাংলাদেশের নিরীহ, মেহনতি মানুষের সামনে আজ দুই দুশমন। এক হচ্ছে, লুটপাটকারী, পাচারকারী, দুর্নীতিবাজদের পাহারাদার এই আওয়ামী সরকার। আরেক দুশমন হচ্ছে, এই দেশের ধর্ম ব্যবসায়ী, জঙ্গি, মৌলবাদী শক্তিসমুহ যারা নিজেরা চরম ফ্যাসিবাদী ও পশ্চাৎপদ ধ্যান ধারণা লালন করে দেশটাকে পাকিস্তান/ আফগানিস্তানের মত অমানবিক রাষ্ট্র বানাতে চায়। এই দুই দুশমন সমানভাবে সাধারণ মানুষের জন্য অনিরাপদ এবং একটি আত্মমর্যাদাশীল, সুখী, গণক্ষমতাতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এই দুইটা থেকে সমান দূরত্ব বজায় রেখে সাধারণ মানুষদের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন এক সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু করতে হবে যার মাধ্যমে ধর্মীয় ধান্দাবাজদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া যায়,তাদের মুখোশ উন্মোচন করা যায়, গণ মানুষের অনুকুলে নতুন নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা যায় এবং আওয়ামী ফ্যসিবাদকে পরাস্ত করে গণ মানুষের ক্ষমতা দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা যায়। এক ফ্যাসিবাদের পরিবর্তে আরেক ফ্যাসিবাদের উত্থান কোনভাবেই কাম্য নয়।

https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE_%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE
https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%A8
https://en.wikipedia.org/wiki/Iranian_Revolution

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =