মাংসের প্রতি দুর্বলতা

গতকাল ‘আমিষ’ নামে অসমীয়া ভাষার একটি সিনেমা দেখলাম। সিনেমাটি একটি শব্দে চমৎকার। সহজভাবে বললে- সিনেমাটি মানুষের মাংস খাওয়া নিয়ে বা মেটাফোরিক ধারণার উপস্থাপন। আমাদের দেশেও এমন অসংখ্য ঘটনার ইতিহাস আছে। যদিও আমার এই লেখাটি সিনেমার সমালোচনা বা বিশ্লেষণমূলক কিছু নয়। তবে এই সিনেমাটির কাহিনীর সাথে আমার জীবনের দুটি ঘটনা কমবেশি সম্পকিত। একটি কাহিনী আমি তুলে ধরব।
আমি যখন জার্মান ভাষার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে উর্ত্তীণ হই, তখন মানুষজনের সাথে কথা বলার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতাম। নানা ধরণের ডেটিং এপসের মাধ্যমে মানুষজনের সাথে পরিচিত হতাম এবং ধীরে ধীরে ভাষার দক্ষতা ও দখলতা হতে থাকে। আমার বন্ধু ও নামহীন সম্পর্কের সংখ্যা মৌমাছির মত বৃদ্ধি পেতে থাকে। আমি জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলকে গ্রহণ করতে থাকি। ঠিক সেই সময়ে- আমার সাথে একটি সিরিয়ান মেয়ের পরিচয় হয়।
মেয়েটি প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞেস করতো- তোমার কী খেতে ভালো লাগে? আমি উত্তর দিতাম, আমি মাংসাশী, মাংসের প্রতি আমার দুর্বলতা।
মেয়েটির সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। মেয়েটি আমার জন্য একেকদিন একেক ধরণের খাবার নিতে আসতো। আমি খুব বিব্রত হতাম। প্রথমে, মেয়েটি আমাকে সিরিয়ান খাবারের সাথে বন্ধুত্ব করায়, পরবর্তীতে মেয়েটি আরবের নানা ধরণের ঝাল খাবারের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক ঘটায়। ধীরে ধীরে মেয়েটি আমাকে নানা ধরণের ঝাল, মিষ্টি, টক- খাবারের প্রতি দুর্বল করায়।
একদিন মেয়েটি আমাকে জিজ্ঞেস করে- তার হাতের রান্না বেশি সুস্বাদু নাকি তার শরীরের মাংস বেশি লোভনীয়?
আমি তাকে বলি- পৃথিবীতে মানুষের শরীরের মাংসের থেকে লোভনীয় আর কোন মাংস হতেই পারে না।
মেয়েটি বলে- আমার মাংস খেতে ইচ্ছে করে না?
আমি বলি- তা তো খেয়েই যাচ্ছি।
মেয়েটি বলে, না। এভাবে না।
মেয়েটি আমার গলায় হাত দিতে দিতে বলে- আমার শরীরের কোন কোন অঙ্গ তোমার বারবার খেতে ইচ্ছে করে?
আমি তাকে বলি- যৌনাঙ্গ, নিতম্ব, স্তন, ঊরু, বাহু এবং পেট।
মেয়েটি হাসতে হাসতে বলে, একদিন রান্না করে খাওয়ালে কেমন হয়?
আমিও হাসতে হাসতে দুষ্টুমির সুরে বলি, মন্দ হয় না কিন্তু!
আমরা যখন কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হই, তখন আমরা নানা ধরণের কাম-বাসনা-আকাঙ্ক্ষা-উদ্ভট-অবাস্তব-অকল্পনীয় ফ্যান্টাসি নিয়ে উত্তেজিত হয়ে থাকি। যদিও অধিকাংশ মানুষই তার পার্টনারকে তার মনের কথা বলতে পারে না। কারণ সবার পক্ষে সব কিছু গ্রহণ করা সহজ নয়।
একদিন মেয়েটি নির্দ্বিধায় আমাকে বলে বসে- তার নিতম্বের মাংস রান্না করে খাওয়াবে।
আমি হতবাক হয়ে যাই। যদিও প্রথমে আমি দুষ্টুমি ভেবেছিলাম। কিন্তু তার কথা, আচরণ, উৎসাহ, আক্রমণাত্মক ভঙ্গি আমাকে ভীত করে তুলেছিল। আমি যতোই তাকে বুঝাই না কেনো, সে বুঝতে অপারগ। আমি মেয়েটিকে অনেক ধরণের প্রশ্ন করি এবং জানতে পারি- সিরিয়ায় থাকাকালীন তার শরীরের উপর দিয়ে আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী ও অজনা অনেক পুরুষ হায়নার মত আচরণ করেছিল। তার শরীরের মাংস হিংস্র হায়েনার মত জোরে কামড়ে ছিঁড়ে রক্তাক্ত করে পৌশাচিক আনন্দ পেতো সেই সকল পুরুষেরা। আর মেয়েটি ধীরে ধীরে তাতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল।
প্রথম যে দিন আমি তার হাতে স্পর্শ করি- মেয়েটি আমাকে প্রশ্ন করেছিল- আমি কেনো তার হাত ধরছি? হাতের পরিবর্তে গলা চেপে ধরাই নাকি পুরুষের কাছে স্বাভাবিক। আমি কথাটি শুনে ভ্রূ কুঁচকে ছিলাম। তখনও জানতাম না তার জীবনের উপন্যাস।
ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

24 − 22 =