২০৫: হুনায়েন যুদ্ধ-৪: ফেরেশতা-বাহিনী প্রেরণ ও তার কারণ!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

মানব শরীরে মস্তিষ্ক (Brain) হলো এমন একটি অবশ্য প্রয়োজনীয় অঙ্গ, যার কার্যক্ষমতা ব্যতিরেকে মানবের চিন্তা, চেতনা, স্মৃতি, ইন্দ্রিয়-অনুভূতি, বাক, নড়াচড়া ও শরীরের অন্যান্য প্রয়োজনীয় অঙ্গের শক্তি ও কর্ম-ক্ষমতা লোপ পায়। আর আমাদের যে দু’টি অঙ্গ তাদের যথাযথ কার্য-প্রণালী দ্বারা মস্তিষ্ক সহ শরীরের যাবতীয় অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো-কে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখে, তা হলো: “হৃৎপিণ্ড-রক্তসঞ্চালন ও ফুসফুস-শ্বাস যন্ত্র (Cardiovascular and Respiratory system)।” হৃৎপিণ্ড-রক্তসঞ্চালন ও শ্বাস যন্ত্র অচল হলে মস্তিষ্ক সহ সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের একে একে মৃত্যু ঘটে। সামগ্রিকভাবে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস যন্ত্রই হলো আমাদের জীবনের মূল চালিকা শক্তি!

একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের (Evidenced based knowledge) এই স্বর্ণ-যুগে আজ আমরা আমাদের জীবনের প্রায় সমস্ত প্রয়োজনে বিজ্ঞান ও তার আবিষ্কারের প্রতি নির্ভরশীল। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে টয়লেট-দাঁত ব্রাশ থেকে শুরু করে আকাশ-ভ্রমন পর্যন্ত; প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই। আজকের এই বিজ্ঞান যুগে, যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, তা হলো: “মৃত্যুই” হলো আমাদের জীবনের সর্বশেষ পরিণতি! এটি আমাদের সবচেয়ে বড় অসহায়ত্বের একটি! মৃত্যুর ওপার থেকে কেউ কখনোই ফিরে এসে মৃত্যু-পরবর্তী (পরকাল) জীবনের অকাট্য সত্যতার “প্রমাণ” হাজির করতে পারেন নাই। আর এ-বিষয়ে কোন বিজ্ঞান-ভিত্তিক প্রমাণ ও কোথাও নেই; কখনো ছিলও না। সে কারণেই ধর্ম-গ্রন্থে রচিত যাবতীয় ‘মৃত্যু-পরবর্তী’ জীবনের গল্পগুলো ভিত্তিহীন ও অবৈজ্ঞানিক। এগুলো আমাদের পূর্ব-পুরুষদের রচিত কিচ্ছা-কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়!

জগতের সকল ধর্ম-বিশ্বাস কে যদি “ধর্মের মস্তিষ্ক” রূপে বিবেচনা করা হয়, তবে তার যাবতীয় অলৌকিক কিচ্ছা-কাহিনী ও তার প্রথা-আচার অনুষ্ঠান প্রক্রিয়াগুলো-কে ধর্মের হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস যন্ত্র হিসাবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে। অলৌকিক কিচ্ছা-কাহিনী ও আচার অনুষ্ঠান প্রক্রিয়াগুলোই “ধর্মবিশ্বাস-কে” সচল রাখে ও তাতে শক্তি যোগায়। যে কোন নির্দিষ্ট ধর্মের সকল ইহকাল ও পরকাল বিষয়ক কিচ্ছা-কাহিনী গুলোর প্রচার ও প্রসার যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে সেই “ধর্ম-বিশ্বাসের মৃত্যু” শুধুই সময়ের অপেক্ষা মাত্র! ধর্মের প্রাণ বলতে যা বোঝায়, তা হলো, এই অলৌকিক কিচ্ছা-কাহিনী ও তার প্রথা-আচার অনুষ্ঠানাদি। আর তা নৃত্য করে মানুষের অজ্ঞতা ও অসহায়ত্ব-কে (মৃত্যু, রোগ, শোক, দুঃখ, প্রিয়জনের বিচ্ছেদ ও না পাওয়ার বেদনা: ইত্যাদি) পুঁজি করে।

জগতের প্রায় সকল ধর্ম-বিশ্বাসই ইহকাল ও পরকালের কিচ্ছা-কাহিনী নির্ভর। “ইসলাম” ও তার ব্যতিক্রম নয়। স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর স্ব-রচিত ব্যক্তি-মানস-জীবনী গ্রন্থ (Psycho-biography) ‘কুরআনে’ দাবী করেছেন যে, হুনায়েন (হুনাইন) যুদ্ধের” প্রাক্কালে তাঁর আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর অনুসারীদের সাহায্য করেছিলেন!

মুহাম্মদের (আল্লাহর) ভাষায় – কুরআন: [1] [2]

৯:২৫ (সূরা আত তাওবাহ) – “আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেছেন অনেক ক্ষেত্রে এবং হোনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদের প্রফুল্ল করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি এবং পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্তেও তোমাদের জন্য সংকুচিত হয়েছিল। অতঃপর পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।”

৯:২৬- “তারপর আল্লাহ নাযিল করেন নিজের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা, তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি এবং অবতীর্ণ করেন এমন সেনাবাহিনী যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। আর শাস্তি প্রদান করেন কাফেরদের এবং এটি হল কাফেরদের কর্মফল।”

প্রেক্ষাপট:
হুনায়েন যুদ্ধে মুহাম্মদের সঙ্গে ছিল ১২০০০ সশস্ত্র অনুসারী। আল-ওয়াকিদি (৭৪৭-৮২৩ সাল) ও মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, মুহাম্মদের এই ৯:২৫-ভাষ্যের প্রেক্ষাপট ছিল এই বিশাল বাহিনী বিষয়ে একটি মন্তব্য! ইবনে ইশাকের বর্ণনা মতে, সেই মন্তব্যটি করেছিলেন নবী মুহাম্মদ, অথবা বানু বকর গোত্রের এক লোক। আর আল-ওয়াকিদির বর্ণনা মতে, মন্তব্যটি করেছিলেন আবু বকর সিদ্দিক, কিংবা মুহাম্মদের অন্য এক অনুসারী।

আল-ওয়াকিদির বর্ণনা: [3]
তিনি বলেছেন: মামর আমাকে < আল-যুহরি হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন: —
‘তারা বলেছে: আল্লাহর নবী বার হাজার মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করেন, যাদের দশ হাজার ছিল মদিনার লোকজন ও দুই হাজার মক্কার অধিবাসী। যাত্রার প্রাক্কালে তাঁর এক অনুসারী বলে,” —অল্প সংখ্যার কারণে আজ কেউ আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।” এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক ঘোষণা করে: “আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেছেন অনেক ক্ষেত্রে এবং হোনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদের প্রফুল্ল করেছিল (কুরআন: ৯:২৫)।”

তিনি বলেছেন: ইসমাইল বিন ইবরাহিম আমাকে < মুসা বিন উকবা হইতে <আল যুহরি হইতে < সাইদ আল-মুসায়েব হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন যে, সে বলেছে: ‘আবু বকর সিদ্দিকি বলেছে: হে আল্লাহর নবী, অল্প সংখ্যার কারণে আজ আমরা পরাজিত হবো না।” এই প্রসঙ্গে আল্লাহ নাজিল করে যে, “আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেছেন অনেক ক্ষেত্রে।

মুহাম্মদের ইবনে ইশাকের বর্ণনা: [4]
‘এক মক্কাবাসী আমাকে যা বলেছেন তা হলো, যখন আল্লাহর নবী মক্কা থেকে হুনায়েনের উদ্দেশ্যে রওনা হোন ও দেখতে পান যে তাঁর সঙ্গে আছে আল্লাহর বিশাল বাহিনী, তিনি বলেন, ” অল্প-সংখ্যার অভাবে আজ আমাদের পরাজিত হতে হবে না (We shall not be worsted today for want of numbers)।” কিছু লোক দাবী করেছে যে, এই উক্তি-টি করেছিল বানু বকর গোত্রের এক লোক।’

মুহাম্মদের (আল্লাহর) এই “৯:২৫-২৬ বানী” সাক্ষ্য দিচ্ছে যে:

‘হুনায়েন যুদ্ধে মুহাম্মদের সৈন্য-সংখ্যা ছিল “বিশাল”; যা মুসলমানদের “প্রফুল্ল” করেছিল; কিন্তু তা সত্বেও মুসলমানরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে “পলায়ন করেছিল;” এবং এমত অবস্থায় “আল্লাহ অবতীর্ণ করেছিল সেনাবাহিনী” যাদের তারা দেখতে পায় নাই!”

কিন্তু “কীভাবে” আল্লাহ তার এই সাহায্য-টি করেছিল, তার বিশদ ও বিস্তারিত বর্ণনা কুরআনে অনুপস্থিত। অন্যদিকে, আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের নিজ নিজ ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থে এ-বিষয়ের বিস্তারিত ও প্রাণবন্ত বর্ণনা বিভিন্ন ভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তাঁদের সেই বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, আল্লাহর এই সাহায্য ব্যবস্থা-টি ছিল অতি অত্যাশ্চর্য ও অলৌকিক! ইসলামের পরিভাষায় যাকে বলা হয়, “মোজেজা!” তাঁদের সেই বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, হুনায়েন যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ ও তাঁর আল্লাহ উভয়েই তাদের ‘মোজেজা’ প্রদর্শন করেছিলেন। নবী মুহাম্মদের মোজেজা-টি ছিল, এই যে, তিনি তাঁর শত্রুদের উদ্দেশ্যে “এক মুঠো ধূলি বা নুড়ি-পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন;” যার প্রতিক্রিয়াই কাফেররা পরাজয় বরণ করেছিলেন! আর তাঁর আল্লাহর মোজেজা-টি ছিল, এই যে, আল্লাহ তার প্রিয় নবী মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সাহায্যের নিমিত্তে “আসমান থেকে ফেরেশতা-বাহিনী” প্রেরণ করে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিয়েছিলেন; যা মুহাম্মদ (আল্লাহ) কুরআনের ওপরে বর্ণিত বাণী দু’টি (৯:২৫-২৬) দ্বারা সত্যায়িত করেছেন! আল্লাহর রেফারেন্সে মুহাম্মদের এই সাক্ষ্যে প্রতীয়মান হয় যে, মুসলমানদের পলায়নের পর “উল্লেখযোগ্য সংখ্যক” মুহাম্মদ অনুসারী তাঁর সাথে থেকে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন নাই। যদি তারা তা করতেন, তবে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নিমিত্তে আল্লাহ-কে আর আসমান থেকে ফেরেশতা-বাহিনী পাঠাতে হতো না!

সুতরাং প্রশ্ন হলো:
“হুনায়েন যুদ্ধে মুসলমানদের পলায়নের পর আনুমানিক কতজন নিবেদিত-প্রাণ মুহাম্মদ অনুসারী মুহাম্মদের পাশে থেকে যুদ্ধ করেছিলেন?”

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা – কবিতা পঙক্তি পরিহার: [5]
(আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) [6] [7]

আমার পিতা ইশাক বিন ইয়াসার আমাকে বলেছেন যে, যুবায়ের বিন মুতিম তাকে যা বলেছেন তা হলো: [8]

‘লোকেরা পলায়ন করার পূর্বে যখন তারা একে অপরের সাথে যুদ্ধ করছিল, আমি আকাশ থেকে কালো পোশাকের মতো এক বস্তুর আগমন দেখতে পাই যা আমাদের ও আমাদের শত্রুদের মাঝখানে এসে পড়ে। আমি তাকিয়ে বিস্মিত হয়ে দেখি যে,

কালো পিঁপড়ারা উপত্যকার সর্বত্র পরিপূর্ণ করে রেখেছে। তারা যে ফেরেশতা, এ ব্যাপারে আমার কোনই সন্দেহ ছিল না।

অতঃপর শত্রুরা পালিয়ে যায়। আল্লাহ হুনায়েনের মুশরিকদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করে ও তার নবী-কে তাদের ওপর ক্ষমতাবান করে।’

আল তাবারীর (৮৩৯-৯২৩ সাল) অতিরিক্ত বর্ণনা: [9]

‘আলী বিন সাহল [10] <মুয়াম্মিল [বিন ইসমাইল আল-আদওয়ায়ি] হইতে [11] <উমারাহ বিন যাদান হইতে <থাবিত [বিন আসলাম আল বানানি আল বাসরি] হইতে [12] < আনাস [বিন মালিক] হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন:

‘হুনায়েনের দিনটি-তে, আল্লাহর নবী দুলদুল (Duldul) নামের এক সাদা খচ্চরের ওপর সওয়ার হয়েছিলেন। মুসলমানরা যখন পালিয়ে যায়, তখন আল্লাহর নবী তাঁর খচ্চরটি-কে বলে, “দুলদুল, (এই জায়গায়) দৃঢ়ভাবে লেগে থাকো!” খচ্চর তার পেট-টি মাটির সঙ্গে লাগিয়ে শুয়ে পড়ে।

আল্লাহর নবী এক মুঠো ধূলি নেন ও তা তাঁর শত্রুদের ওপর নিক্ষেপ করেন ও বলেন: “হা মিম, তারা বিজয়ী হবে না!” [13]

মুশরিকরা পিছু হটে। না কোন তরোয়াল খাপ-মুক্ত করা হয়েছিল, না কোন তীর নিক্ষেপ কিংবা বর্শা নিক্ষেপ।’

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) বিস্তারিত ও অতিরিক্ত বর্ণনা: [7]

তিনি বলেছেন: মামর [ইবনে রসিদ (৭১৪-৭৭০ সাল)] ও মুহাম্মদ বিন আবদুলাহ আমাকে <আল-যুহরি [৬৭১-৭৪১ সাল] হইতে <কাথির বিন আল-আব্বাস বিন আবদ আল-মুত্তালিব হইতে < তার পিতা [আল-আব্বাস বিন আবদ আল-মুত্তালিব] হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন যে, সে বলেছে:

‘হুনাইন যুদ্ধের দিনটি-তে, মুসলমান ও মুশরিকরা মুখোমুখি হয় ও সেই সময় মুসলিমরা পলায়ন করে। —– আমার গলার স্বর ছিল উচ্চকন্ঠ। যা ঘটেছিল তা যখন আল্লাহর নবী দেখতে পান আর লোকজন যখন কোনভাবেই থামে না, তখন তিনি বলেন, “হে আব্বাস, চিৎকার করে ডাকো, ‘হে আনসার জনগণ, হে সামুরাহ বৃক্ষের সাথীরা’!” তাই আমি চিৎকার করে ডাকি, “হে আনসার লোকেরা, হে সামুরাহ বৃক্ষের সাথীরা!” সে বলেছে; উটেরা আকুল হয়ে তাদের বাচ্চাগুলোর দিকে যেমন করে ছুটে আসে তেমনি ভাবে তারা যা বলতে বলতে ছুটে আসে, তা হলো, “আমরা আপনার সেবায় নিয়োজিত! আমরা আপনার সেবায় নিয়োজিত!”

সে বলেছে: ‘এই প্রত্যাবর্তনে তারা ছিল ধৈর্যশীল ও যুদ্ধে ছিল আস্থাশীল। আল্লাহর নবী সম্মুখে তাকান ও তাদের দিকে এমন ভাবে দৃষ্টিপাত করেন যে তিনি যেন তাঁর সত্তয়ারি পশুর ওপর উঠে দাঁড়ানো এক ব্যক্তি। যুদ্ধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার পর তিনি বলেন, “এখন লড়াই মারাত্মকর আকার ধারণ করেছে।’ [বিস্তারিত: পর্ব-২০৩]!”

অতঃপর তিনি তাঁর হাতে কিছু নুড়ি-পাথর তুলে নেন ও তা তাদের-কে লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারেন ও বলতে থাকেন, “কাবার প্রভুর কসম, তারা পরাজিত হবে!”

আল্লাহর কসম, আমি তাদের পিছু হটা দেখতে থাকি। তাদের অবরোধ দুর্বল হয়ে পড়ে ও আল্লাহ তাদের-কে পরাজিত করে। আমার বিষয়টি হলো, আমি লক্ষ্য করি যে আল্লাহর নবী তাঁর খচ্চরের ওপর বসে তাদের পিছনে পিছনে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছেন।’ ——

তিনি বলেছেন: আবদ আল-রহমান বিন আবদ আল-আজিজ আমাকে <আসিম বিন ওমর বিন কাতাদা হইতে <আবদ আল-রহমান বিন জাবির বিন আবদুল্লাহ হইতে <তার পিতা [জাবির বিন আবদুল্লাহ (৬০৭-৬৯৭ সাল)] হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন যে, সে বলেছে:

‘যখন লোকেরা দৃষ্টিগোচর হয় ও আল্লাহর কসম, তাদের পরাজিত লোকেরা যখন ফিরে আসে, তখন তারা দেখতে পায় যে বন্দীরা বন্দী অবস্থায় আল্লাহর নবীর সাথে আছে।’ সে বলেছে: ‘আল্লাহর নবী সে সময় আবু সুফিয়ান বিন আল-হারিথের দিকে ঘুরে তাকান; যার মুখে ছিল এক লোহার মুখোশ। সে ছিল তথায় ধৈর্য-শীলদের একজন, আর সে আল্লাহর নবীর খচ্চরের পিঠের জিন-টি ধরে রেখেছিল। আল্লাহর নবী বলেন, “কে তুমি?” সে জবাবে বলে, “হে আল্লাহর নবী, আমি আপনার মায়ের পুত্র।” —-

আল্লাহর নবী বলেন, “হ্যাঁ, আমার ভাই, কিছু নুরি-পাথর তুমি আমাকে মাটি থেকে তুলে এনে দাও!” সে তাঁকে তা দেয় ও তিনি তা তাদের সবার চোখে ছুঁড়ে মারেন; অতঃপর তারা পরাজিত হয়।

যা বলা হয়েছে, তা হলো: ‘যখন লোকেরা পলায়ন করে, আল্লাহর নবী হারিথা বিন আল-নুমান কে বলেন, “হে হারিথা, তুমি কতজন লোক-কে দৃঢ়পদ অবস্থায় দেখছো?” সে বলেছে, ‘আমি আমার পিছনে ঘুরে তাকিয়ে যখন দেখি যে তাদের সংখ্যা সীমিত। আমি আমার ডান ও বাম দিকে তাকায় ও অনুমান করি যে তাদের সংখ্যা একশত। আমি বলি,

“হে আল্লাহর নবী, তাদের সংখ্যা একশত!”

পরবর্তীতে, দিনের শেষে যখন আল্লাহর নবী মসজিদের দরজায় জিবরাইল ফেরেশতার সাথে নিভৃতে অবস্থান করছিলেন, তখন আমি তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। জিবরাইল বলে, “হে মুহাম্মদ, কে এই ব্যক্তি?” আল্লাহর নবী জবাবে বলেন, “হারিথা বিন আল-নুমান।”

জিবরাইল বলে, “হুনায়েন যুদ্ধের দিনটি-তে যে ‘একশত ধৈর্যশীল লোকেরা ছিল’, এই লোকটি ছিল তাদের একজন।”

অতঃপর সে যখন আমাকে সালাম জানায়, আমি তার সালামের জবাব দেই। আমি আল্লাহর নবীকে অবহিত করায়, “আমি মনে করি নাই যে আপনার সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি-টি দিহায়া আল কালবি ছাড়া অন্য কেউ।”

লোকেরা যখন তাঁর চারিপাশে দৃষ্টিগোচর হয় ও যখন মাত্র একশত ধৈর্যশীল লোক অবশিষ্ট থাকে, তখন আল্লাহর নবী যা বলে দোয়া করেন, তা হলো, “হে আল্লাহ, তোমারই কাছে প্রশংসা ও তোমারই কাছে আমার অভিযোগ। তুমিই সাহায্যকারী!” জিবরাইল তাঁকে বলে, “সমুদ্র বিভক্ত হওয়ার দিনটিতে যখন ফেরাউন মুসার পিছু নিয়েছিল, তখন আল্লাহ মুসাকে যে কথাগুলো শিক্ষা দিয়েছিল তা নিশ্চয়ই আপনি উপলব্ধি করতে পেরেছেন।” —–

বলা হয়েছে: ‘নিশ্চিতই, সেই সময়ে একশত ধৈর্যশীল লোকদের তেত্রিশ-জন ছিল মুহাজির, সাতষট্টি জন আনসার, আল-আব্বাস ও আবু সুফিয়ান [ইবনে আল-হারিথ] – যে আল্লাহর নবীর খচ্চরের লাগাম-টি ধরে ছিল। আবু সুফিয়ান ছিল তাঁর ডান দিকে আর তাঁর চারিপাশে ছিল মুহাজির ও আনসাররা।’ ——–

তিনি বলেছেন: ইবনে আবি সাবরা আমাকে যা বলেছেন, তা হলো: ‘আবদুল্লাহ বিন আবি বকর বিন হাযম আমাকে <ইয়াহিয়া বিন আবদুল্লাহ বিন আবদ রহমান হইতে < তার সম্প্রদায়ের গুরুজন আনসারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যা বলেছেন, তা হলো, তারা বলেছে:

“সেই সময়, আমরা আকাশ থেকে কালো পোশাক সাদৃশ্য জিনিস স্তূপাকারে পড়তে দেখেছিলাম। অতঃপর আমরা তার দিকে তাকিয়ে দেখি যে, তা হঠাৎই পিঁপড়ার এক গালিচা। অবশ্যই সে-গুলো আমরা আমাদের পোশাক থেকে ঝেড়ে ফেলছিলাম। এটি ছিল আমাদের জন্য আল্লাহর সাহায্য। —-

হুনাইনের দিনটি-তে ফেরেশতাদের নিদর্শন ছিল লাল পাগড়ি, যা ঢিলেঢালা অবস্থায় তাদের দুই কাঁধের মাঝখানে পড়েছিল। হুনাইনের দিনটি-তে আল্লাহ মুশরিকদের অন্তরে ভীতি প্রয়োগ করে।”’

মালিক বিন আউস বিন আল-হাদাথান যা বলতো, তা হলো: ‘আমার সম্প্রদায়ের বেশ কিছু লোক যারা ঐ দিনটি প্রত্যক্ষ করেছিল, আমাকে যা জানিয়েছে, তা হলো:

“আল্লাহর নবী পর্যাপ্ত পরিমাণ নুড়ি-পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন। আমাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যে সে তার চোখে ধূলিকণার অভিযোগ করে নাই। সত্যিই আমরা আমাদের বুকে স্পন্দন অনুভব করেছিলাম, যা ছিল গামলায় রাখা নুড়ির মতো। সেই স্পন্দন শান্ত হচ্ছিল না।

সেই সময় আমরা সত্যিই চিত্রবিচিত্র ঘোড়ায় চড়া শ্বেতকায় মানুষদের দেখেছিলাম। যাদের পরিধানে ছিল লাল পাগড়ি, যা তাদের দুই কাঁধের মাঝখানে এসে পড়েছিল; আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে অশ্বারোহী বাহিনী – দলে দলে। তারা কিছুতেই পিছু হটে নাই। আর আমরা ভয়ে তাদের সাথে লড়াই করতে পারি নাই।”‘

সহি মুসলিম: বই নম্বর ১৯, হাদিস নম্বর ৪৩৮৫ [14]
(বড় হাদিস, এই পর্বের প্রাসঙ্গিক অংশ – পূর্ব প্রকাশিতের [পর্ব: ২০৩] পর):

আব্বাস হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ‘—– আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর খচ্চরের ওপর বসে, তাঁর গলাটি সামনের দিকে প্রসারিত করে লড়াই পর্যবেক্ষণ করছিলেন ও বলছিলেন, “এটি হলো সেই সময় যখন প্রচণ্ড লড়াই শুরু হতে চলেছে।

অতঃপর আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হউক) (কিছু) নুড়ি-পাথর নেন ও তা কাফেরদের সম্মুখে ছুড়ে মারেন। অতঃপর তিনি বলেন: “মুহাম্মদের রবের কসম, কাফেররা পরাজিত হয়েছে।”

আব্বাস বলেছে: ‘আমি চারিদিকে ঘোরাঘুরি করি ও দেখতে পাই যে লড়াই একই অবস্থায় আছে যা আমি দেখেছিলাম। আল্লাহর কসম, তা সেই অবস্থাতেই ছিল যতক্ষণে না তিনি নুড়ি নিক্ষেপ করেছিলেন। আমি তা পর্যবেক্ষণ করতে থাকি ও দেখতে পাই যে তাদের শক্তি শেষ হয়ে এসেছে ও তারা পিছু হটতে শুরু করেছে।’

সহি মুসলিম: বই নম্বর ১৯, হাদিস নম্বর ৪৩৯২ [15]

সালামা হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হাদিস-টি বর্ণিত; তিনি যা বলেছেন, তা হলো:
‘হুনায়েনে আমরা আল্লাহর নবীর (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হউক) সাথে লড়াই করেছিলাম। আমরা যখন শত্রুর মুখোমুখি হই, আমি সম্মুখে অগ্রসর হয়ে এক ছোট পাহাড়ের টিলার উপর আরোহণ করি। শত্রুপক্ষের এক লোক আমার দিকে ঘুরে দাঁড়ায়, আর আমি তার উদ্দেশ্যে এক তীর নিক্ষেপ করি। সে (হঠাৎ মাথা নিচু করে ও) নিজেকে আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখে। সে কি করেছিল তা আমি বুঝতে পারি নাই, কিন্তু (হঠাৎ করেই) আমি দেখতে পাই যে অন্যান্য ছোট ছোট পাহাড়ের টিলাগুলো থেকে একদল লোক আবির্ভূত হয়েছে। তারা ও আল্লাহর নবীর (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হউক) অনুসারীরা যুদ্ধে জড়িত হয়; কিন্তু আল্লাহর নবীর অনুসারীরা পরাজিত হয়ে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে ও আমিও পৃষ্ঠপ্রদর্শন করি। আমার ছিল দু’টি আলখাল্লা, যার একটি-কে আমি আমার কোমরের চারপাশে আবৃত করে রেখেছিলাম (আমার দেহের নীচের অংশটি আচ্ছাদিত করে), আর অন্যটি আমি রেখেছিলাম আমার কাঁধের চারপাশে। আমার কোমরের আচ্ছাদন-টি আলগা হয়ে পড়ে ও আমি আমার আলখাল্লা দু’টি একসাথে ধরে রাখি। (এই হতাশা-জনক অবস্থায়) আমি আল্লাহর নবীর (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হউক) পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি তাঁর সাদা খচ্চরটির উপর চড়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আকাওয়ার পুত্র পুরোপুরি বিভ্রান্ত অবস্থায় নিজেকে খুঁজে পেয়েছে।”

যেখানে তাঁর অনুসারীরা তাঁর চারিপাশে সব দিক থেকে জড়ো হয়েছিল, আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হউক) সেখানে তাঁর খচ্চরটির ওপর থেকে নেমে আসেন, মাটি থেকে এক মুঠো ধুলা তুলে নেন ও তা তাদের (শত্রুদের) মুখমণ্ডলে ছুঁড়ে মারেন এবং বলেন: “তদের চেহারাগুলো বিকৃত হয়ে উঠুক।”

শত্রুদের মধ্যে এমন কেউ ছিল না, যার চোখে এই একমুঠো ধুলায় ধুলা-ভর্তি হয় নাই। অতঃপর তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে ও পালিয়ে যায়। মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তাদেরকে পরাজিত করে, আর আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হউক) তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল (booty) মুসলমানদের মাঝে বিতরণ করেন।’

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

প্রশ্ন ছিল: “মুসলমানদের পলায়নের পর আনুমানিক কতজন নিবেদিত-প্রাণ মুহাম্মদ অনুসারী মুহাম্মদের পাশে থেকে যুদ্ধ করেছিলেন?” আদি উৎসে আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বিস্তারিত বর্ণনায় সেই প্রশ্নের জবাব হলো:

“মাত্র একশত! আর এই সংখ্যাটি মুহাম্মদের জিবরাইল দ্বারা সত্যায়িত!”

হ্যাঁ, মাত্র একশত! আর এই একশত মুহাম্মদ অনুসারী হুনায়েন যুদ্ধে আগত প্রতিপক্ষ অবিশ্বাসী ২০,০০০ সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হওয়ার “কারণ-কে” ব্যাখ্যা করার সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ পন্থা হলো “অলৌকিকত্বের কিচ্ছা” প্রচার! আজকের যুগের তথাকথিত কামেল-পীর-ফকির-গুরু-বাবাজী ও তাঁদের অনুসারীরা যেমন-টি করে থাকেন, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা তাইই করেছিলেন (পর্ব-১৪)। [16]

স্ব-ঘোষিত আখেরি নবী মুহাম্মদ কী প্রক্রিয়ায় “ওহী নাজিল” করতেন তার আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব-৭০)। ওহী নাজিলের সেই প্রক্রিয়ায় বদর যুদ্ধ শেষে তার ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার পর যেমন মুহাম্মদ ওহী নাজিল করে তাঁর বিজয়ের কারণ ব্যক্ত করেছিলেন (পর্ব: ৩৪); ওহুদ যুদ্ধ শেষে তার ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার পর যেমন মুহাম্মদ ওহী নাজিল করে তাঁর চরম পরাজয়ের কারণ ব্যক্ত করেছিলেন (পর্ব: ৭০); তেমনই হুনায়েন যুদ্ধ শেষে তার ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার পর তিনি তাঁর বিজয়ের সপক্ষে রচনা করেছিলেন শ্লোক (কুরআন: ৯:২৫-২৬)। অমানুষিক নৃশংসতায় বদর যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পর যেমন-টি তিনি করেছিলেন!

আবারও উল্লেখ্য, কুরআনেরই বর্ণনায় আমরা নিশ্চিত জানি যে, মুহাম্মদ অবিশ্বাসীদের বারংবার আহ্বান স্বত্বেও তাঁর নবুয়তের সপক্ষে একটি প্রমাণও হাজির করতে পারেন নাই (পর্ব:২৩-২৫)! মুহাম্মদের যাবতীয় “মোজেজার কিসসা” ইসলামের হাজারও মিথ্যাচারের একটি।

সুতরাং, কী ঘটেছিল সেদিন? বিস্তারিত আগামী পর্বে।

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র চার ও ছয়):]

The narratives of Al-Waqidi: [3] [7]

‘He said: Ma‛mar related to me from al-Zuhrī, who said: —
—They said: The Messenger of God set out with twelve thousand Muslims, ten thousand from the people of Medina, and two thousand from the people of Mecca. When he went out, one of his companions said: If we meet the Banū Shaybān we will not care. One will not defeat us today for our small numbers. God most high revealed about that: God has already helped you on many fields, and on the day of Hunayn, when your numbers please you (Q. 9:25).
[Page 890] He said: Ismā‛īl b. Ibrāhīm related to me from Mūsā b. ‛Uqba from al-Zuhrīfrom Sa‛īd al-Musayyib, who said: Abū Bakr al-Siddīq said, “O Messenger of God, we will not be defeated to day because of our small numbers.” God revealed about that God has already helped you on many fields.
—————
He said: Ma‛mar and Muḥammad b. ‛Abdullah related to me from al-Zuhrī, from Kathīr b. al-‛Abbās b. ‛Abd al-Muṭṭalib from his father, who said:
When it was the day of Ḥunayn, the Muslims and the polytheists met, and the Muslims turned away, at that time. —— I had a strong voice, and the Messenger of God said, when he saw what he saw among the people and they did not stop for anything, “O ‛Abbās, shout, ‘O, people of the Anṣār! O companions of the Samura tree!’” So I called out, “O people of the Anṣār! O companions of the Samura!” He said: They approached like camels when they crave for their young ones, saying, “At your service! At your service!” –—-He said: They were patient at the meeting, trusting with the war. He said: The Messenger of God looked out, peering over as one who is raised up on his riding animal. Observing the battle he said, “Now there is feverish fighting!” Then he took pebbles in his hand and aimed at them, saying, “Defeat them by the Lord of the Ka‛ba!” By God, I continued to see their command go back. Their constraints were weak until God defeated them. As for me, I observed the Messenger of God gallop behind them on his mule. ——
It was said: When the people were revealed, the Messenger of God said to Ḥāritha b. al-Nu‛mān, “O Ḥāritha, how many do you see who hold firm?” He said: When I turned and looked behind me it was limited. I looked on my right and left and estimated them at a hundred. I said, “O Messenger of God, they are a hundred!” Until later in the day I passed the Prophet while he was confiding in the angel Gabriel at the door of the mosque. Gabriel said: [Page 901] “Who is this, O Muḥammad?” The Messenger of God answered, “Ḥāritha b. al-Nu‛mān.” Gabriel said, “This was one of the patient hundred on the day of Ḥunayn.” And when he greeted I returned his greeting. I informed the Prophet and said, “I did not think he was other than Diḥya al-Kalbī standing with you.”
When the people were exposed around him, and only a hundred enduring ones remained, the Prophet prayed at that time, “O God, to You is praise and to You is my complaint. You are the Helper!” Gabriel said to him, “Surely you understood the words which God taught Moses on the day the sea separated before him, while the Pharaoh was behind him.” —-
It was said: Indeed, the enduring hundred consisted at that time of thirty-three Muhājirūn, sixty-seven Anṣār, al-‛Abbās, and Abū Sufyān who was taking the Prophet’s mule by the reins. Abū Sufyān was on his right, and around him were the Muhājirūn and the Anṣār. —-
He said: Ibn Abī Sabra related to me saying: ‛Abdullah b. Abī Bakr b. Ḥazm related to me from Yaḥyā b. ‛Abdullah b. ‛Abd al-Raḥmān, from the elders of his community of the Anṣār, who said: We saw, at that time, the likeness of a black garment fall from the heavens in a heap. And we looked and all of a sudden there was a carpet of ants, and indeed we were dusting them off our garments. It was God’s help to us.
The mark of the angels on the day of Ḥunayn was a red turban that loosened and dropped between their shoulders. God threw fear in the hearts of the polytheists on the day of Ḥunayn. —-
Mālik b. Aws b. al-Ḥadathān used to say: A number of my community who witnessed that day related to me: The Messenger of God threw sufficient pebbles, and there was not one among us, but he complained of the dust in his eyes. Indeed, we found a beating in our chests like pebbles in the basin. The beating did not calm down. Surely we saw at that time white men on piebald horses, wearing red turbans that fell down between their shoulders, between the heaven and the earth, squadron upon squadron. They did not hold back anything, and we were not able to fight them for fear.

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] কুরআনের উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। http://www.quraanshareef.org/ কুরআনের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/

[2] ইবনে কাথিরের কুরআন (৯:২৫-২৬) তাফসীর:
http://www.alim.org/library/quran/AlQuran-tafsir/TIK/9/25

[3] আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৮৮৯-৮৯০; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৩৭
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[4] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৫৬৯
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[5] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৫৭২

[6] অনুরূপ বর্ণনা-আল-তাবারী, ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা ১৩-১৪
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[7] অনুরূপ বর্ণনা -আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৮৯৮-৯০২ ও ৯০৫-৯০৬; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৪১-৪৪২ ও ৪৪৪-৪৪৫
[8] যুবায়ের বিন মুতিম বিন আদি বিন নওফল বিন আবদ মানাফ মক্কা বিজয়ের পর ইসলাম গ্রহণকরেন। তিনি মৃত্যু বরণ করেন ৬৭৫-৬৭৬ সাল কিংবা ৬৭৮-৬৭৯ সালে।
[9] Ibid আল-তাবারী: ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা ১৪-১৫
[10] আলী বিন সাহল বিন কাদিম, যাকে সম্বোধন করা হতো ইবনে মা’সি আল হায়াসি (Ibn Masi al-Hayashi) নামে, ৮৭৪-৮৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
[11] মুয়াম্মিল বিন ইসমাইল আল-আদওয়ায়ি ৮২১-৮২২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
[12] থাবিত বিন আসলাম আল বানানি আল বাসরি ৭৪০-৭৪১ সাল কিংবা ৭৪৪-৭৪৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
[13] ‘হা মিম’ – কুরআনের ৪৬ নম্বর সুরা, সূরা আল আহক্বাফের শুরুতেই এই অক্ষর দু’টিও “আলিফ-লাম-মীম” এর মতই মুহাম্মদের হিং-টিং-ছট (পর্ব: ১৭)! সংকলিত কুরআনের সুরা-ফাতিহা প্রার্থনাটির পর কুরানের সর্বপ্রথম যে বাণী তা হলো “আলিফ-লাম-মীম” (২:১)” – যার কোন অর্থ (meaning) নেই ।

[14] সহি মুসলিম: বই নম্বর ১৯, হাদিস নম্বর ৪৩৮৫
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-19/Hadith-4385/

‘—Then the Messenger of Allah (may peace be upon him) took (some) pebbles and threw them in the face of the infidels. Then he said: By the Lord of Muhammad, the infidels are defeated. ‘Abbas said: I went round and saw that the battle was in the same condition in which I had seen it. By Allah, it remained in the same condition until he threw the pebbles. I continued to watch until I found that their force had been spent out and they began to retreat.’

[15] সহি মুসলিম (৮২১-৮৭৫ সাল): বই নম্বর ১৯, হাদিস নম্বর ৪৩৯২
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-19/Hadith-4392/

‘This tradition has been narrated on the authority of Salama who said: We fought by the side of the Messenger of Allah (may peace be upon him) at Hunain. When we encountered the enemy, I advanced and ascended a hillock. A man from the enemy side turned towards me and I shot him with an arrow. He (ducked and) hid himself from me. I could not understand what he did, but (all of a sudden) I saw that a group of people appeared from the other hillock. They and the Companions of the Prophet (may peace be upon him) met in combat, but the Companions of the Prophet turned back and I too turned back defeated. I had two mantles, one of which I was wrapping round the waist (covering the lower part of my body) and the other I was putting around my shoulders. My waist-wrapper got loose and I held the two mantles together. (In this downcast condition) I passed by the Messenger of Allah (may peace be upon him) who was riding on his white mule. He said: The son of Akwa’ finds himself to be utterly perplexed.

Where the Companions gathered round him from all sides, the Messenger of Allah (may peace be upon him) got down from his mule, picked up a handful of dust from the ground, threw it into their (enemy) faces and said: May these faces be deformed. There was no one among the enemy whose eyes were not filled with the dust from this handful. So they turned back fleeing and Allah the Exalted and Glorious defeated them, and the Messenger of Allah (may peace be upon him) distributed their booty among the Muslims.’

[16] Ibid আল-ওয়াকিদি: পৃষ্ঠা ৮৯৩; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৩৮
“হুনায়েন যুদ্ধে হাওয়াজিনদের সৈন্য সংখ্যা ছিল ২০,০০০।”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 21 = 24