লকডাউনেও থেমে নেই হিন্দুদের উপর মুসলমানীয় আক্রমণ!

এই লকডাউনেও থেমে নেই হিন্দুদের উপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণের নির্মমতা। প্রতিদিন দেশের কোনো কোনো না জায়গায় সমান হারে চলছে হিন্দুদের বাড়ি-ঘর বা ভুমি দখল, মন্দির ভাঙ্গচুর, মুর্তি ভাঙ্গচুর। এভাবে চলতে থাকলে এদেশের হিন্দুরা টিকবে কিভাবে? একটা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে তখনই সুস্থ বলা যায়, সেদেশের সংখ্যালঘুরা তাদের মৌলিক অধিকার নিয়ে কতটা স্বস্তিতে আছে। আর হ্যাঁ হিন্দুরাও একটা জাতি মাইরি। এরা জাতি ভাইয়ের বিপদে কেউ এগিয়ে আসে না। যে বিপদে পড়ে পারলে আক্রমণকারী মুসলিমদের সাথে আঁতাত করে তাকে আরো বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। এরা ভাবে, আরে আমি তো ভাল আছি! আমার তো কিছু হয় নাই! এরা যতক্ষন না নিজের ঘাড়ের উপর কোপটি না আসছে ততক্ষন এদের কোনো বিকার নেই। এদের একটা প্রতিযোগিতা খুবই লক্ষ্যনীয়। কে কত বেশি প্রপার্টি অর্জন করবে, অর্থ ও নামের আভিজাত্যে কে কার আগে এগিয়ে যাবে এটাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। আজ আপনার কিছু হয় নাই বলে আপনার প্রতিবেশিটি অন্য ধর্মের মানুষ দ্বারা মার খাক, উচ্ছন্নে যাক, তাতে কিই বা যায় আসে আপনার? আপনার পাড়ার, আপনার স্বধর্মের জাতি ভাই আক্রমনকারী মুসলিম দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে বলে আপনি প্রকাশ্যে চুক চুক করে দুঃখ প্রকাশ করছেন, আবার লোকটি আপনার খ্যাতির সমমান বলে তার অবস্থার অবনতি হয়েছে দেখে গোপনে আপনি মিটি মিটি হাসছেন। এই যে এখন আপনি তার বিপদের পাশে দাঁড়াননি, একদিন একইভাবে আপনার বিপদেও কাউকে পাশে পাবেন না। কারণ সেই পথটিই আপনি প্রথমে প্রসস্থ করেছেন।

একটা মনে রাখা ভাল যে, এটা আমার দেশ, এই ভুমিতে আমার জম্ম। আমি এই ভুমিরই পুত্র! হ্যাঁ আমি এদেশের ভুমিপুত্র! অনেক পরে আসা কোথাকার আরব বেদুইন পারস্য সংস্কৃতির অনুগামীরা এসে আমাদের চোখ রাঙিয়ে যদি বলে ভারতে চলে যা! আমি চলে যাব? আমি তার চোখে চোখ রেখে বলতে চাই, আমাকে ভারত চলে যেতে বলার তুমি কে? এদেশটা কি তোমার বাপ দাদাদের উইল করে দেয়া সম্পত্তির দলিল যে বললে চলে যাব? আমরা কি কখনো বলেছি, এখানে আদি আর্যদের ভুমিতে আরব্য -পারস্য সংস্কৃতি অনুগামীরা থাকতে পারবে না?

প্রতিবাদটা আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবেই করতে হবে। যেখানে বাচ্চা না কাঁদলে মায়ের দুধ পায় না, সেখানে আপনি প্রতিরোধ গড়ে না তুলে আপনার জমি জমাকে তারা এমনি এমনি টোকরাবে না এই আশা করেন কি করে? আপনারা লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে মন্দির গড়তে পারেন, আশ্রম গড়তে পারেন। কিন্তু নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের সুরক্ষার একটা শক্তিশালী সংগঠন গড়তে পারেন না। দিন দিন মন্দিরের নির্মাণের সংখ্যার পরিধি কি আপনাদের সুরক্ষা দিতে পারছে? দিনশেষে একটা শক্তিশালী অর্গানাইজেশন দিতে পারে আপনাদের সুরক্ষা। ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের দেখুন। তারা সংগঠিত হয়ে সাবেক কংগ্রেস আমলে পার্লামেন্টে তাদের সংখ্যালঘু সংরক্ষিত সংসদীয় আসন আদায় করে নিয়েছে। নিজেদের সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্র থেকে আলাদা সমাজ ব্যবস্থা আদায় করে নিয়েছেন। তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈমাম ভাতা, হ্বজ ভাতা আদায় করে নিয়েছে, আর বাংলাদেশে আপনারা বড় মাপের, বড় গর্বের হিন্দু-সনাতনী হয়ে কি আদায় করতে পেরেছেন? হিন্দুদের কোনো একটা জোট বা মহাজোট বাধলে, পুজার সময় সেখানে কবে সরকারি অল্প অনুদান আসবে আর সেই অনুদান কখন ভাগ ভাটোয়ারা করে নিজেদের পকেটে ভরবেন এই নিয়ে পাগলের মতো মত্ত থেকেছেন সবাই। কিন্তু নিজেদের জাতিসত্তা বা স্বধর্মী মানুষের জন্য একরত্তি চিন্তাও কখনো করেননি। ২৪% থেকে ধীরে ধীরে ৮% নেমে আসা নিরব থেকে দেখেছেন। হাঁটু গেঁড়ে বসে মাথা নুইয়ে মেনে নিয়েছেন।

আসলে আমরা নিজেরাই নিজেদের ভোটগুলোকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানিনা। পশ্চিমবঙ্গে দেখেন, সেখানে ৩০% মুসলিম যা বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বেগম থুক্কু ব্যানার্জি তাই করে। তাই মমতা প্রকাশ্যে মুসলিমদের বলে দুধেল গাই। সেখানে সংখ্যালঘু মুসলিমরা যত অপরাধই করুক না কেন, মমতার প্রশাসন খুব যত্ন করে তা চেপে যায়। শুধু তায় নয়, তাদের ভোট পাওয়ার জন্য তিনি মসজিদে নামাজও পড়েন। এটাই হল ঐক্যবদ্ধতার অর্জন। আর আমরা একটা দলকে সেই মান্দাতার আমল থেকেই আন্ধার মতো সমর্থন করে যাচ্ছি। সেই দল আমাদের ভোটকে গুরুত্ব না দিলেও হিন্দু পাড়ায় নির্বাচনী প্রচার না চালালে তবুও আমরা সেই দলের দিকে ভেড়ার পালের মতো দৌঁড়ায়। অথচ সেই দলটি কখনো চায় না আমরা নিজের অস্তিত্বের উপর ভর করে দাঁড়ায়। দলটি চায় না আমাদের নিজের পায়ে দাঁড়ায়। সেই দলটি চায় আমরা তাদের উপর আজীবন নির্ভর হয়ে পরজীবি হয়ে বেঁচে থাকি। একটা বটগাছের ডালে পরজীবি হয়ে বাঁচার চেয়ে নিজেদেরকে জাতিসত্তাকে ধীরে ধীরে বটগাছ রুপে পরিনত করার লক্ষ্য অনেক গুনে শ্রেয়।

আমি ছোট ও অতি সাধারণ মানুষ, কিই বা করতে পারি? দেশে হিন্দুদের উপর অব্যাহত থাকা এসব নির্যাতন আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় বলেই মাঝে মাঝে এসব ছাইপাঁশ লিখি। নিজেকে অসুস্থবোধ করি বলেই মনের ভাবনাগুলো উগড়ে দিই। তারপরও বলছি, এই লেখা যদি সত্যি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ।

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

66 + = 74