২০৬: হুনায়েন যুদ্ধ-৫: হাওয়াজিনদের পরাজয় – কারণ?

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনায় যে বিষয়-টি সর্বদায় সর্বান্তকরণে মনে রাখা বিশেষ প্রয়োজন, তা হলো, আদি উৎসে এই ইতিহাসের একমাত্র উৎস হলো হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর রচিত ‘কুরান’ ও তাঁর অনুসারীদের রচিত ‘সিরাত ও হাদিস;’ যে অনুসারীদের একমাত্র কর্তব্য হলো সর্বাবস্থায় তাঁদের প্রিয় নবীর প্রশংসা করা ও তাঁর যাবতীয় বানী (কুরআন) ও কর্ম-কাণ্ডের বৈধতা প্রদান করা। অন্যথায়, তাঁদের সেই প্রিয় নবীরই অন্যান্য গুণমুগ্ধ নিবেদিত প্রাণ অনুসারীদের হাতে তাঁদের “খুন হওয়ার” সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ (বিস্তারিত: পর্ব:-৪৪)।

সে কারণেই, ‘ইসলামের’ সকল ইতিহাস সম্পূর্ণরূপে একপেশে, পক্ষপাতদুষ্ট ও মুহাম্মদের চাটুকারিতায় সমৃদ্ধ। আর, এই চাটুকারিতার বহিঃপ্রকাশ হলো: কারণে ও অকারণে মুহাম্মদের প্রশংসা, শক্তিমত্তা ও মহানুভবতার জয়গান! সর্বোপরি মুহাম্মদের নামে হাজারও অলৌকিক কিচ্ছা-কাহিনীর অবতারণা। মুহাম্মদের মৃত্যুর ১৪০০ বছর পর, মুমিন-দের এই চাটুকারিতা ও অলৌকিক কিচ্ছা-কাহিনীগুলো আজ এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, ইসলামের আধুনিক স্কলারদের অনেকেই এখন তাঁদের ওয়াজ-মাহফিলে “নবী মুহাম্মদের পায়খানা মোবারকের” গুণকীর্তন ও অলৌকিকত্বের বয়ান করেন! উপস্থিত হাজারও মুসল্লিদের সম্মুখে তাঁরা ঘোষণা দেন: “নবী মুহাম্মদের পায়খানা মোবারক কেউ কখনোই দেখেন নাই! যখনই তিনি পায়খানা করতেন, সঙ্গে সঙ্গেই মাটি তা গ্রাস করে নিতো –!” আর, এই অত্যাশ্চর্য ঘটনাটি শুনে উপস্থিত মুগ্ধ মুসলমানরা তৎক্ষণাৎ ‘সোবহানাল্লাহ! সোবহানাল্লাহ!’ বলে সমস্বরে চিৎকার করে আসর গরম ও ইমানী জোশ ব্যক্ত করেন।

ইসলামের এই পক্ষপাতদুষ্ট ইতিহাস, মিথ্যাচার ও অলৌকিকত্বের বিস্তার ঘটেছে ক্রমবর্ধমান গতিতে; সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে। এই সত্যটি বিবেচনায় রেখে, এই বইটির মূল অংশে নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর ২৯০ বছর পরে রচিত কোন ইসলামের ইতিহাস-গ্রন্থের রেফারেন্স উদ্ধৃত করা হয় নাই। এই চরম একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট ইতিহাস থেকে “সত্য-কে” খুঁজে বের করা অত্যন্ত দুরূহ ও গবেষণা-ধর্মী কার্যক্রম। মুহাম্মদের রচিত “কুরান” ও আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের “সিরাত ও হাদিস” গ্রন্থের বর্ণনার আলোকে হুনায়েন যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ ও তাঁর আল্লাহ উভয়েই কীভাবে তাঁদের অলৌকিক শক্তি প্রদর্শন করেছিলেন, তার আলোচনা গত পর্বে করা হয়েছে। প্রশ্ন ছিল: “কী ঘটেছিল সেদিন?” The Devil is in the Detail (পর্ব ১১৩)!

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনার পুনরারম্ভ – কবিতা পঙক্তি পরিহার: [1]
(আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) [2] [3]

আসিম বিন উমর বিন কাতাদা হইতে <আবদুল রহমান হইতে <তার পিতা জাবির বিন আবদুল্লাহ হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন:

হাওয়াজিনদের সেই লোকটি যখন তাদের পতাকা-টি নিয়ে তার উটের ওপর থেকে তেমন-টি করছিল, যেমন-টি সে আগেও করেছিল, আলী ও আনসারদের একজন [আল ওয়াকিদি: ‘আবু দুজানা’] এক পাশে ঘুরে দাঁড়ায় ও তার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকে। আলী পিছন থেকে তার কাছে আসে ও উটটির উরুর পিছনের মাংসপেশিগুলো (Hamstring) কেটে দেয় ও সেটি তার লেজের ওপর ভূপতিত হয়। আনসার লোকটি তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও আঘাত করে, যার ফলে তার পায়ের নলির অর্ধেক-টি ছিটকে উড়ে যায় ও লোকটি তার পশুর ওপর থেকে মাটিতে পড়ে যায়। লোকেরা যুদ্ধ করতে থাকে, আর আল্লাহর কসম,

পলাতক লোকেরা যখন ফিরে আসে তখন তারা দেখতে পায় যে আল্লাহর নবীর সাথে শুধু বন্দীরা হাতকড়া পরা অবস্থায় আছে। —‘

‘আবদুল্লাহ বিন আবু বকর আমাকে যা বলেছে, তা হলো:

আল্লাহর নবী ঘুরে দাঁড়ান ও উম্মে সুলায়েম বিনতে মিলহান-কে দেখতে পান, সে ছিল তার স্বামী আবু তালহার সাথে। তার পরিধানে ছিল ডোরাকাটা কোমরবন্ধ ও তার গর্ভে (pregnant) ছিল তার পুত্র আবদুল্লাহ বিন আবু তালহা। তার সঙ্গে ছিল তার স্বামীর উট-টি, আর সে ভয় পেয়েছিল এই ভেবে যে তাকে সামলানো তার পক্ষে খুব কঠিন হবে; তাই সে তার মাথাটি ধরে তার নিকটে নিয়ে এসেছিল ও তার হাতটি দিয়ে তার নাকের আংটা সহ লাগাম-টি ধরে রেখেছিল। আল্লাহর নবীর প্রশ্নের জবাবে তাঁকে তার পরিচয় জানানোর পর সে বলে, “যারা আপনাকে ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল তাদের হত্যা করুন, যেমন করে আপনি হত্যা করছেন ঐ লোকদের যারা আপনার সাথে যুদ্ধ করছে; কারণ তাদের যোগ্য পাওনা হলো মৃত্যু!’ আল্লাহর নবী বলেন, “হে উম্মে সুলায়েম, বরং আল্লাহই আমাকে (প্রয়োজন) রক্ষা করবে!’ তার হাতে ছিল একটি চাকু, আর আবু তালহা যখন তাকে তার কারণ জিজ্ঞাসা করে, সে বলে, “আমি এই ছুরিটি এনেছি এই কারণে যে, যদি কোনও মুশরিক আমার কাছে আসে তবে আমি যেন তাকে এটি দিয়ে কেটে ফেলতে পারি!” সে [আবু তালহা] বলে, “হে আল্লাহর নবী, উম্মে সুলায়েম আল-রুমায়েসা কী বলছে তা কি আপনি কী শুনেছেন?”’ [অনুরূপ বর্ণনা: সহি মুসলিম: বই নম্বর ১৯, হাদিস নম্বর ৪৪৫৩][4]

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) বিস্তারিত ও অতিরিক্ত বর্ণনা: [3]

‘মক্কা থেকে বের হওয়ার দিন আল্লাহর নবী বানু সুলাইয়েম গোত্রের অশ্বারোহী সৈন্যদের অগ্রগামী সৈন্য হিসাবে সম্মুখে প্রেরণ করেন। আল্লাহর নবী খালিদ বিন আল ওয়ালিদ-কে তাদের নেতৃত্বে নিযুক্ত করেন ও জিররানা (Ji‛rrāna) নামক স্থানে পৌঁছার পূর্ব পর্যন্ত তা বহাল রাখেন। ——

আনাস বিন মালিক যা বলতো তা হলো: [5]

‘যখন আমরা হুনাইন উপত্যকায় গিয়ে পৌঁছই, যেটি ছিল তিহামার সেই উপত্যকাগুলির একটি যেখানে ছিল সরু গিরিপথ – হাওয়াজিনদের কাছ থেকে এমন একটা কিছু আসে – যা ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন জনতার ঢল; আল্লাহর কসম, না, আমি ততকালে এমনটি কখনোই দেখি নাই। তারা তাদের মহিলা, সন্তান-সন্ততি ও সম্পদগুলো-কে সঙ্গে নিয়ে এসেছিল ও তাদের-কে সারিবদ্ধ ভাবে সজ্জিত রেখেছিল। [6]

তারা তাদের সারিবদ্ধ পুরুষ লোকদের পিছনে তাদের মহিলাদের বসিয়ে রেখেছিল উটের পিঠের ওপর। আর তার পিছনে তারা স্থাপন করেছিল উট, গরু ও ভেড়াগুলো যা তারা সঙ্গে নিয়ে এসেছিল; এই দাবীতে যে তাহলে তারা হয়তো আর পলায়ন করবে না।

অতঃপর যখন আমরা সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন জনতার ঢল দেখতে পাই, আমরা ভাবি যে এদের সবাই হলো পুরুষ। কারণ যখন আমরা উপত্যকাটির নিচে নেমেছিলাম, তখন ছিল ভোরের অন্ধকার। হঠাৎই আমরা এই উপলব্ধি করি যে, সরু উপত্যকা-টি ও তার গিরিখাত থেকে দলে দলে সৈন্যরা আমাদের দিকে এসে আমাদের-কে একযোগে আক্রমণ করছে। সর্বপ্রথম আমাদের যে অশ্বারোহী-দল টি আক্রান্ত হয় তা ছিল সুলায়েম গোত্রের ও তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে; অতঃপর তাদের অনুসরণ করে মক্কাবাসীরা ও অতঃপর অন্যান্য লোকেরা পরাজিত অবস্থায় পিছনে না তাকিয়ে দৌড়ে পালায়।’

আনাস বলেছে: ‘আমি শুনেছি যে, যখন লোকেরা দৌড়ে পালাচ্ছিল, তখন আল্লাহর নবী তাঁর ডান ও বাম দিকে তাকিয়ে দেখেন ও বলেন, “হে আল্লাহ ও তার নবীর সাহায্যকারীরা! আমি আল্লাহ্‌র বান্দা ও তার ধৈর্যশীল রাসূল!”’ সে বলেছে: অতঃপর আল্লাহর নবী তাঁর বর্শাটি নিয়ে লোকদের সম্মুখে অগ্রসর হয়; আর সেই সত্তার কসম যে তাঁকে সত্য সহ প্রেরণ করেছে:

“তারা পরাজিত হওয়া পর্যন্ত না কোন তরোয়াল আমাদের আঘাত করেছিল, কিংবা না কোন বর্শা আমাদের-কে করেছিল বিদ্ধ।”

অতঃপর আল্লাহর নবী তাঁর শিবিরে ফিরে আসেন ও আদেশ করেন,

“মুসলমানদের হাতে ধৃত যে সমস্ত লোকেরা আছে, তাদের-কে যেন হত্যা করা হয়।”

হাওয়াজিন লোকেরা পলায়ন করা শুরু করে ও যে সমস্ত মুসলমানরা পলায়ন করেছিল তারা ফিরে আসে [পৃষ্ঠা: ৪৪০-৪৪১]।’ —

(তিনি বলেছেন: আবদ আল-রহমান বিন আবদ আল-আজিজ আমাকে <আসিম বিন ওমর বিন কাতাদা হইতে <আবদ আল-রহমান বিন জাবির বিন আবদুল্লাহ হইতে <তার পিতা [জাবির বিন আবদুল্লাহ] হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন যে, সে বলেছে: ‘যখন লোকেরা দৃষ্টিগোচর হয় ও আল্লাহর কসম, তাদের পরাজিত লোকেরা যখন ফিরে আসে, তখন তারা দেখতে পায় যে বন্দীরা বন্দী অবস্থায় আল্লাহর নবীর সাথে আছে [পর্ব: ২০৫])।—-

তারা বলেছে: হাওয়াজিনদের এক লোক তার লম্বা বর্শার আগায় তার কালো পতাকা-টি ধরে তার লাল উটের পিঠের ওপর বসেছিল। যখনই সে কোন লোককে অতিক্রম করছিল, তখনই সে তার বর্শা দিয়ে তাকে বিদ্ধ করছিল। সে মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ তীব্রতর করে। আবু দুজানা তার কাছে আসে ও তার উটের পিছনের পায়ের মাংসপেশিগুলো কেটে দেয়। উট-টি ধরাশায়ী হওয়ার সময় যে আর্তনাদ করে, তা সে শুনতে পায়। অতঃপর আলী ও আবু দুজানা লোকটি-কে আক্রমণ করে।

আলী তার ডান হাত-টি কেটে ফেলে, আর আবু দুজানা কেটে ফেলে তার অন্য হাত-টি। তারা তার কাছে আসে ও উভয়ে তাদের তরোয়াল দিয়ে তাকে আঘাত করতে থাকে যতক্ষণ না তাদের তরোয়ালগুলো ভোঁতা হয়ে যায়। অতঃপর, তাদের একজন নিবৃত হয় ও অন্যজন তাকে শেষ করে ফেলে।

অতঃপর তাদের একজন তার সঙ্গী-কে বলে, “বাদ দাও, তার সঙ্গের মালামাল লুট করার নিমিত্তে আর ফিরে এসো না।” অতঃপর তারা যুদ্ধের জন্য আল্লাহর নবীর সম্মুখে গিয়ে হাজির হয়।

অতঃপর হাওয়াজিনদের এক অশ্বারোহী তার হাতে লাল পতাকা নিয়ে তাদের সম্মুখীন হয়। তাদের একজন অশ্বারোহী লোকটির হাতে আঘাত করে ও সে তার মুখ থুবড়ে মাটিতে পরে যায়। অতঃপর তারা তাদের তরোয়াল দিয়ে তাকে আঘাত করে ও তারা তার সাথের মালামালগুলো লুট না করে চলে আসে। আবু তালহা তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, সে প্রথম ব্যক্তিটির মালামাল লুট করে। ও অতঃপর আবার তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সে শেষের লোকটির মালামাল লুট করে। উসমান বিন আফফান, আলী, আবু দুজানা, আয়মান বিন উবায়েদ আল্লাহর নবীর সম্মুখে থেকে যুদ্ধ করে।’

তিনি বলেছেন: সুলায়েমান বিন বিলাল আমাকে <উমারা বিন ঘাযিয়া হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন যে, সে বলেছে:

উম্মে উমারা বলেছে: ‘সেই সময় লোকেরা সবদিক থেকে পরাজিত হয়, আমি তখন এক ধারালো তরোয়াল নিয়ে চারজন মহিলার সাথে ছিলাম। আর উম্মে সুলায়েমের কাছে ছিল এক ছুরি, যেটি সে তার মধ্যবর্তী স্থানে পেঁচিয়ে রেখেছিল – সে ছিল গর্ভবতী, তার গর্ভে ছিল আবদুল্লাহ বিন আবি তালহা। আর সেখানে ছিল উম্মে সালিত ও উম্মে আল-হারিথ। তারা বলেছে: সে তরোয়াল-টি টেনে বের করার চেষ্টা করে ও আনসারদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলে, “এটা কি ধরণের রীতি! কেন তোমরা পালিয়ে যাচ্ছো!”

সে বলেছে: ‘আমি হাওয়াজিনদের এক লোকের দিকে দৃষ্টিপাত করি, লোকটি এক গাঢ়-ধূসর উটের পিঠের ওপর বসেছিল। তার সাথে ছিল এক পতাকা। সে তার উট-টি মুসলমানদের গমন পথে রাখছিল। আমি তাকে বাধা প্রদান করি ও উটটির পায়ের গোড়ালির পেশী ও হাড়ের সংযুক্তি স্থানের মোটা তন্তুটির (Achilles’ tendon) ওপর আঘাত করি। উট-টি ছিল উঁচু। লোকটি তার পিঠের ওপর ধরাশায়ী হয়।

আমি তার বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করি ও তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি তাকে আঘাত করতে থাকি।

আমি তার তরোয়াল-টি নিয়ে নিই ও পিঠের দিক থেকে গড়িয়ে পেটের ওপরে ওঠা আর্তনাদ-রত উটটি-কে ফেলে আসি। আল্লাহর নবী তাঁর হাতের তরোয়াল-টি উঁচু করে ধরেছিলেন। তিনি সেটির খাপটি ফেলে দিয়েছিলেন ও চিৎকার করে ডাকছিলেন, এই বলে, “হে গাভী অধ্যায়ের (Chapter of the Cow) সাথীরা!”

সে বলেছে: ‘অতঃপর, মুসলমানরা ঘুরে দাঁড়ায় ও বলা শুরু করে, “হে আবু আবদ আল-রহমান! হে বানু উবায়েদুল্লাহ! হে আল্লাহর অশ্বারোহী সেনারা!” আল্লাহর নবী তাঁর অশ্বারোহী সেনাদের নাম রেখেছিলেন ‘আল্লাহর অশ্বারোহী সেনা।’ তিনি মুহাজিরদের কোড নাম দিয়েছিলেন ‘আবু আবদ আল-রহমান;’ আউস গোত্রের লোকদের কোড নাম দিয়েছিলেন ‘বানু উবায়েদুল্লাহ।’ অতঃপর আনসাররা ঘুরে দাঁড়ায় ও হাওয়াজিনরা সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়ে ও অতঃপর তারা পরাজিত হয়। আল্লাহর কসম, আমি এর আগে এমন পরাজয় দেখি নাই। শত্রুরা চতুর্দিকে পলায়ন করে। আর আমার দুই পুত্র আমার কাছে ফিরে আসে – হাবিব ও আবদুল্লাহ, যায়েদের পুত্রদ্বয়; তাদের সাথে ছিল বেঁধে রাখা বন্দীরা। আমি ক্রুদ্ধ হয়ে তাদের কাছে আসি ও তাদের একজনের মাথায় আঘাত করি। লোকেরা বন্দিদের নিয়ে আসা শুরু করে। আমি বানু মাযিন বিন নাজ্জার গোত্রের লোকদের সাথে ত্রিশ জন বন্দি দেখেছি। পরাজিত মুসলমানরা পালিয়ে সুদূর মক্কা পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছিল। অতঃপর তারা ঘুরে দাঁড়ায় ও ফিরে আসে। আল্লাহর নবী সকল-কে তাদের প্রাপ্য অংশ প্রদান করেন। [পৃষ্ঠা: ৪৪৩]’ —–

ইমাম মুসলিমের (৮১৫-৮৭৫ সাল) বর্ণনা: [5]
(সহি মুসলিম: বই নম্বর ৫, হাদিস নম্বর ২৩০৯)

‘আনাস বিন মালিক হইতে বর্ণিত: আমরা মক্কা বিজয় করি ও অতঃপর হুনায়েন অভিযানের উদ্দেশ্যে রওনা হই। পৌত্তলিকরা সেখানে আসে ও আমার দেখা সবচেয়ে উত্তম সারিবদ্ধ-ভাবে তারা তাদের নিজেদের বিন্যাস করে।

তারা তাদের সম্মুখের সারি-গুলোতে তাদের অশ্বারোহী-সৈন্যদের স্থাপন করে, অতঃপর তার পরের সারিগুলোতে স্থাপন করে তাদের পদাতিক-বাহিনী ও তার পিছনের সারিগুলো-তে তাদের মহিলাদের। অতঃপর তার পিছনে তাদের ভেড়া, ছাগল ও অন্যান্য প্রাণীদের সারি।

আমাদের লোকজনদের সংখ্যাও ছিল বিশাল, আর আমাদের (সংখ্যা) ছয় হাজারে গিয়ে পৌঁছেছিল। আমাদের এক পাশে অশ্বারোহী-বাহিনীর নেতৃত্বে ছিল খালিদ বিন ওয়ালিদ। আর আমাদের ঘোড়াগুলি অবিলম্বে আমাদের পিছন দিক থেকে ঘুরে যায়। ঘোড়াগুলো হারানোর পর আমাদের অল্পই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে ও বেদুইন ও আমাদের পরিচিত অন্যান্য লোকেরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। (এই দৃশ্যটি দেখে) আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) ডাকতে থাকেন, এই বলে, “হে মুহাজিররা, হে মুহাজিররা।” অতঃপর তিনি ডাকেন, “হে আনসাররা, হে আনসাররা।” (আনাস বলেছে: এই হাদিসটি এক দল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা বর্ণিত।) আমরা বলি, “হে আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক), আমরা আপনার ইশারা ও আহ্বানে হাজির।” অতঃপর আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) সম্মুখে অগ্রসর হোন, আর সে (আনাস) বলেছে:

“আল্লাহর কসম, আমরা তাদের কাছে পৌঁছানোর আগেই আল্লাহ তাদের পরাজিত করে ও আমরা তাদের সম্পদগুলো দখল করি। অতঃপর আমরা তায়েফের দিকে রওনা হই ও চল্লিশ রাত যাবত তাদের-কে ঘেরাও করে রাখি।”

তারপর আমরা মক্কায় ফিরে আসি ও (এক জায়গায়) শিবির স্থাপন করি, আর আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) আমাদের প্রত্যেক-কে একশো-টি করে উট প্রদান করা শুরু করেন। বাকী হাদিসও একই রকম।’

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

আদি উৎসের মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (ও আল-তাবারী), আল-ওয়াকিদি ও ইমাম মুসলিমের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট তা হলো, মুহাম্মদের ধূলি নিক্ষেপের পর:

(১) হাওয়াজিনরা মুসলমানদের ওপর কোনরূপ কার্যকর প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেন নাই; যা আমরা জানতে পারি, মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (পর্ব:২০৫) ও আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনায়:

“অতঃপর মুশরিকরা পিছু হটে; না কোন তরোয়াল খাপ-মুক্ত করা হয়েছিল, না কোন তীর নিক্ষেপ কিংবা বর্শা নিক্ষেপ!”

“তারা পরাজিত হওয়া পর্যন্ত না কোন তরোয়াল আমাদের আঘাত করেছিল, কিংবা না কোন বর্শা আমাদের-কে করেছিল বিদ্ধ।”

বাস্তবিকই হুনায়েন যুদ্ধে মুসলমানদের নিহতের সংখ্যা ছিল মাত্র চার জন, যাদের একজন তাঁর ঘোড়ার ওপর থেকে মাটিতে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

(২) হাওয়াজিনরা পরাজিত হয়েছিলেন মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অতর্কিত আক্রমণে, যা আমরা জানতে পারি, মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও ইমাম মুসলিমের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায়:

“পলাতক লোকেরা যখন ফিরে আসে, তখন তারা দেখতে পায় যে আল্লাহর নবীর সাথে শুধু বন্দীরা হাতকড়া পরা অবস্থায় আছে।”

“আল্লাহর কসম, আমরা তাদের কাছে পৌঁছানোর আগেই আল্লাহ তাদের পরাজিত করে ও আমরা তাদের সম্পদগুলো দখল করি।”

(৩) হাওয়াজিনরা ইচ্ছা করলেও পলাতক মুহাম্মদ অনুসারীদের পিছু ধাওয়া করে তাদের আক্রমণ করতে পারতেন না। কারণ, তাঁদের সঙ্গে ছিল পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, গবাদি-পশু ও সম্পদ এক বিশেষ নিয়মে; যা আমরা জানতে পারি আল-ওয়াকিদি ও ইমাম মুসলিমের বর্ণনায়:

“তারা তাদের সম্মুখের সারি-গুলোতে তাদের অশ্বারোহী-সৈন্যদের স্থাপন করে, অতঃপর তার পরের সারিগুলোতে স্থাপন করে তাদের পদাতিক-বাহিনী ও তার পিছনের সারিগুলো-তে তাদের মহিলাদের। অতঃপর তার পিছনে তাদের ভেড়া, ছাগল ও অন্যান্য প্রাণীদের সারি।”

পরিবার-পরিজন ও গবাদি-পশুর এই বিশাল বহর সঙ্গে নিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে পালানো মুহাম্মদ অনুসারীদের পিছু ধাওয়া করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

(৪) মুহাম্মদের আহ্বানে পলাতক অনুসারীদের একশত জন ফিরে এসে হাওয়াজিনদের “নৃশংস আক্রমণগুলো করেছিলেন অতর্কিতে”, যা আমরা জানতে আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত সকল মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায়। হাওয়াজিন ও থাকিফ গোত্রের নিহতের সংখ্যা ছিল: ইবনে ইশাকের বর্ণনায় ৭০ জন; ও আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় তা ১০০ জন।

আদি উৎসের বর্ণনায় আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, হুনায়েন যুদ্ধে হাওয়াজিন ও থাকিফ গোত্রের লোকেরা মুহাম্মদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন মুহাম্মদের করাল গ্রাস থেকে আত্মরক্ষার নিমিত্তে। তাঁরা বলেছিলেন:

“আমরা লড়াই করব ‘যতক্ষণে না আমরা তাকে পরাস্ত করতে পারি, কিংবা সে ফিরে যায় (বিস্তারিত: পর্ব-২০২)”

তারা ফিরে গিয়েছিল:

আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় প্রতীয়মান হয় যে, মুহাম্মদ অনুসারীদের সকলেই যখন মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গের “মাত্র দশ জন অনুসারী-কে (পর্ব:২০৩)” যুদ্ধের ময়দানে একা ফেলে রেখে পলায়ন করেছিলেন, তখন হাওয়াজিন ও থাকিফ গোত্রের লোকেরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন এই ভেবে যে, “তাঁরা রক্ষা পেয়েছেন!” যে মুহূর্তে মুহাম্মদের সঙ্গে ছিল মাত্র দশ জন লোক, আর তাঁদের সংখ্যা ছিল বিশ হাজার, ইচ্ছা করলেই তখন তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর এই দশজন অনুসারীদের হত্যা করতে পারতেন। তাঁরা তা করেন নাই। এই ঘটনাটি তাঁদের পরম সহিষ্ণুতারই পরিচয় বহন করে। প্রতীয়মান হয় যে, হাওয়াজিন ও থাকিফ গোত্রের লোকেরা যখন তাঁদের নিরাপত্তার “আত্মতুষ্টি-তে মগ্ন ছিলেন,” তখন মুহাম্মদের একশত অনুসারীরা তাঁদের আক্রমণ করেছিলেন অতর্কিতে ও অমানুষিক নৃশংসতায়; যার প্রমাণ আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আল-ওয়াকিদির বর্ণনা:

অতঃপর আল্লাহর নবী তাঁর শিবিরে ফিরে আসেন ও আদেশ করেন, “মুসলমানদের হাতে ধৃত যে সমস্ত লোকেরা আছে, তাদের-কে যেন হত্যা করা হয়।”

মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অতর্কিত আক্রমণ ও অমানুষিক নৃশংসতায় দিগভ্রান্ত অবস্থায় তাঁরা তাঁদের জীবন বাঁচানোর তাগিদে, তাঁদের পরিবার-পরিজন ও সম্পদগুলো ফেলে রেখে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পলায়ন করেছিলেন।

সুতরাং, হুনায়েন যুদ্ধে হাওয়াজিন ও থাকিফ গোত্রের এই পরাজয়, “মুহাম্মদের ধূলি নিক্ষেপের” কারণে নয়। অবিশ্বাসীদের সহিষ্ণুতা ও মানবতার বিপরীতে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অতর্কিত ও চোরাগোপ্তা হামলা, ত্রাস ও নৃশংসতার কারণে।

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র এক ও দুই):]

The narratives of Al-Waqidi: [3]

The Messenger of God [Page 897] had dispatched the Sulaym on the day he set out from Mecca and made them the vanguard of the cavalry. The Messenger of God appointed Khālid b. al-Walīd to lead it and he continued to do so until he arrived in Ji‛rrāna. ——

Anas b. Mālik used to relate saying: When we reached Wādī Ḥunayn—it was one of those valleys of Tihāma with narrow gorges—something came to us from the Hawāzin—no, by God, I had never, in that time, seen anything like such a dark multitude. They had driven their women, their property and their children, and arranged them in rows. They had placed the women on camels, behind the rows of men. Then they brought camels and cows and sheep and placed them behind that, claiming that they could not run away. And when we saw that dark multitude, we thought it all men, for when we descended into the wadi we were in the darkness of dawn. Suddenly, we felt, nothing but the squadrons that came out to us from the narrow valley and its gorges, and attacked us as one.

The first cavalry to be exposed, the cavalry of Sulaym, turned back, followed by the people of Mecca, followed by the people, defeated running without looking back. Anas said: I heard the Messenger of God looking around to his right and left while the people were fleeing, and he says, “O helpers of God [Page 898] and helpers of His messenger! I am the servant of God and his patient messenger!” He said: Then the Messenger of God came forward with his spear, in front of the people, and by Him who sent him with the truth, not a sword struck us nor a spear pierced us until God defeated them. Then the Prophet returned to the camp and he commanded that those who were caught by the Muslims be killed. The Hawāzin began to flee and those Muslims who had fled came back.

He said: Sulaymān b. Bilāl related to me from ‛Umāra b. Ghaziyya, who said: Umm ‛Umāra said: When, at that time, the people were defeated in every way, I was with four women, holding a sharp sword in my hand, while Umm Sulaym had a dagger which she had wrapped around her middle—and she was pregnant with ‛Abdullah b. Abī Ṭalḥa. And there was Umm Salīt and Umm al-Ḥārith. They said: She tried to draw the sword [Page 903] while shouting at the Anṣār, “What custom is this! Why are you fleeing!” She said: I looked at a man from the Hawāzin on a dark grey camel. He had a flag. He was placing his camel in the tracks of the Muslims. I opposed him and struck the Achilles’ tendon of the camel. It was a tall camel, and the man fell on his back. I strengthened against him and I continued to strike him until I killed him.——-

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল): পৃষ্ঠা ৫৭০
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[2] অনুরূপ বর্ণনা-আল-তাবারী (৮৩৯-৯২৩ সাল), ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা ১২-১৩
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[3] আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৮৯৬-৯০৫; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৪০-৪৪৪
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[4] অনুরূপ বর্ণনা: সহি মুসলিম: বই নম্বর ১৯, হাদিস নম্বর ৪৪৫৩:
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-19/Hadith-4453/

[5] অনুরূপ বর্ণনা – সহি মুসলিম: বই নম্বর ৫, হাদিস নম্বর ২৩০৯:
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-5/Hadith-2309/

Anas b. Malik reported: We conquered Mecca and then we went on an expedition to Hunain. The polytheists came, forming themselves into the best rows that I have seen. They first formed the rows of cavalry, then those of infantry, and then those of women behind them. Then there were formed the rows of sheep and goats and then of other animals. We were also people large in number, and our (number) had reached six thousand. And on one side Khalid b. Walid was in charge of the cavalry. And our horses at once turned back from our rear. And we could hardly hold our own when our horses were exposed, and the bedouins and the people whom we knew took to their heels. (Seeing this) the Messenger of Allah (may peace be upon him) called thus: O refugees, O refugees. He then, said: O Ansar, O Ansar. (Anas said: This Hadith is transmitted by a group of eminent persons.) We said: At thy beck and call are we, Messenger of Allah. The Messenger of Allah (may peace be upon him) then advanced and he (Anas) said: By Allah, we had not yet reached them when Allah defeated them and we took possession of the wealth and we then marched towards Ta’if, and we besieged them for forty nights and then came back to Mecca and encamped (at a place), and the Messenger of Allah (may peace be upon him) began to bestow a hundred camels upon each individual. The rest of the Hadith is the same.

[6] ‘তিহামা (Tihāma)’: আরবের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের নিম্নভূমি-তে অবস্থিত এক সরু অঞ্চল, যার সবচেয়ে প্রশস্ত অংশটি জেদ্দার পশ্চাদভূমি-তে অবস্থিত।

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

33 + = 43