শিল্প নিয়ে স্বল্পকালীন শিল্পীদের ধর্মের ভণ্ডামো

আজকে ইত্তেফাক পত্রিকাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ‘মৃত্যুর পরের কথা ভেবে মিডিয়া ছেড়ে ইবাদতে অ্যানি খান’। আমি এই অ্যানি খানের নাম আগে কখনও শুনি নি। খোঁজ নিয়ে দেখি- তিনি ভালোই জনপ্রিয় ও মোটামুটি আকর্ষণীয় শরীরের অধিকারী। গত কয়েকমাস ধরে দেশের মডেল, অভিনেত্রী; আরও পূর্বে গায়িকা, নায়িকা গণহারে মিডিয়া ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছেন এই বলে যে – ধর্মের টানে, মৃত্যুর ভয়ে, কর্মের অনুতাপে বিদায় জানাচ্ছেন। অর্থাৎ তারা তাদের পূর্বের কর্মকে অস্বীকার, তাদের শিল্পকর্মকে ধিক্কার, তাদের পূর্বের জীবনাচরণকে অশ্লীল ও অসম্মানজনক, এবং সর্বোপরি কৃতকর্মে লজ্জিত। চলমান শিল্প ও ভবিষ্যতে নির্মিত সকল শিল্পকর্মকে অবাঞ্ছিত ও হারাম হিশেবে বিবেচনা করবে।
কিন্তু এদের কেউ-ই পূর্বের উপার্জিত হারাম অর্থ বিসর্জন দিয়েছেন বলে শোনা যায় নি এবং শোনা যাবেও না। কারণ এইসকল মানুষের জীবনটাই হাস্য রঙ্গমঞ্চ, অভিনয় বা মিথ্যে হাসি দিতে তারা যেখানে দীক্ষিত, সেখানে নিজের আর্থিক ক্ষতিসাধনে তারা সতর্ক। সুবিধাবাদীদের কাছে শরীর অশ্লীল হতে পারে, মানুষ নষ্ট হতে পারে, পরিবেশ নোংরা লাগতে পারে কিন্তু অর্থ কখনও হারাম হতে পারে না। ব্যাংকের সুদই একমাত্র হারাম, বাদবাকি উপার্জন বড্ড আরাম। মূলত এইসকল কথিত স্বল্পকালীন শিল্পীরা কখনও সৃষ্টিশীলতার জন্য জন্মগ্রহণ করেন নি এবং শিল্পের মর্ম বোঝার মত জ্ঞান ও যোগ্যতা তাদের কখনও ছিল-ই না। এরা প্রবল বন্যায় জট বাঁধানো কচুরিপানা। যদিও কচুরিপানার গুরুত্ব কম নয়।
অনেক অভিনেতাও মিডিয়া ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাদের জোরেশোরে ঘোষণা দিতে হয় নি যে, ধর্মের টানে মিডিয়া ছেড়ে দিলাম। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠের ভূমিতে নারীবাদী নারী থেকে শুরু করে ভিক্ষুক নারীদের প্রচুর অভিনয় করতে হয় যা পুরুষের না করলেও চলে। ছোটকাল থেকেই যেভাবে তাদের শিক্ষাদীক্ষা দেওয়া হয়েছে ও ভয়ভীতির গল্পে চাদরে লেপটে রেখেছে তাতে আত্মবিশ্বাস কম বা শূন্য হওয়া অবিশ্বাস্য নয়।
আত্মবিশ্বাস কম বলে অধিকাংশ নারী নিজেকে যতোই শক্তিশালী হিশেবে জাহির করার চেষ্টা করুক না কেনো, পুরুষসঙ্গী ব্যতীত নারীর আত্মবিশ্বাস বা সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রবণতা খুবই সীমিত, নগণ্য, কম। এর পিছনে যথেষ্ট সামাজিক, আর্থিক, ধর্মীয় কারণ আছে।
মিডিয়া ছেড়ে দিলে খাবে কী? আবার, মিডিয়ায় কাজ করলে মৃত্যুঅব্দি ধর্মবিরোধী কাজের জন্য মোল্লা থেকে হিপোক্রেট বিশ্বাসীদের কাছ থেকে সহ্য করতে হবে অসহ্য যন্ত্রণা। মানুষজন তার মৃত্যুতে ‘মাগী’ শব্দটি ব্যবহার করে উল্লাস প্রকাশ করবে- এই আতংকে মিডিয়া ছাড়তে দ্বিধাবোধ করে না। কিন্তু সাধারণ মানুষকে বিয়ে করলে চলবে কি করে? আজ পর্যন্ত যত গায়িকা ও নায়িকারা সাধারণ বা মধ্যবিত্ত পরিবারের কাউকে বিবাহ করেছেন, তাদের সংসার জীবন ঝঞ্জামুখর।
যার ফলে মিডিয়ায় অধিকাংশ কর্মরত নারীরা বিত্তশালী পুরুষের শরণাপন্ন হন। বিত্তশালী পুরুষেরা মিডিয়ার নায়িকা, গায়িকা, অভিনেত্রীদের সখ করে স্ত্রী হিশেবে গ্রহণ করেন। হোক সেই বিত্তশালী বৃদ্ধ কিংবা তৃতীয় বিবাহের সুযোগ্য পাত্র।
প্রায় সময়ই শোনা যায়- কোন এক ধনী/ শিল্পপতি /ব্যবসায়ী লোকের সাথে কোন স্বল্পমেয়াদী শিল্পী অর্থাৎ অভিনেত্রীর বিবাহ হওয়ার খবর এবং পরক্ষণেই অভিনেত্রী ঘোষণা দেন যে, এখন থেকে ঘরসংসারে মনোযোগ দিবেন তাই মিডিয়ায় কাজকর্ম ছেড়ে দেবেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- এই ধরণের বিয়ের শর্ত থাকে যে, তোমাকে আমি টাকাপয়সায় ভরপুর রাখবো, তার বিনিময়ে তুমি মিডিয়া ত্যাগ করবে। পূর্বে অভিনেত্রী/নায়িকা যে জীবন যাপন করে এসেছেন, সেই খরচ ধারাবাহিকভাবে রাখার জন্য তার একজন ধনী স্বামীর প্রয়োজন। এবং এমন দেনাপাওনায় দুজনই চতুর। অর্থাৎ এক ঢিলে দুই পাখি মারা। সাধারণ মানুষজন জানবে- ধর্মকর্ম করার জন্য কাজ ছেড়েছেন। আবার, সংসার করার জন্যও কাজ ছেড়েছেন।
ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 9 =