চীনের বন্ধুত্বে পাকিস্তান রাষ্ট্রবাদী সন্ত্রাস। বাংলাদেশের কপালে কি শনির দশা অপেক্ষা করছে?

পাকিস্তান রাষ্ট্রটি জম্মের শুরু থেকেই চীনের সাথে গভীর বন্ধুত্ব বজায় রেখে আজ পাকিস্তান বিশ্বের কাছে রাষ্ট্রবাদী সন্ত্রাস হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী ভারত যখন অর্থনীতিতে খুব দ্রুতগতিতে উন্নতি সাধন করছে, তখন তা দেখে চীনের আর তর সইছিল না। তাই ভারতের অতি উর্ধগতির অর্থনীতির রাশ টেনে ধরার জন্য, চীন সব সময় অস্ত্র,শস্ত্র, বিভিন্ন যুদ্ধ বিমান ও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়ে পাকিস্তানকে সহায়তা করে এসেছে। যেন ভারত সব সময় অর্থনীতি উন্নয়নের চেয়ে দেশের প্রতিরক্ষা নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে থাকে। বলা চলে এই দিক দিয়ে চীন অনেকটা সফল। কারণ সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্র পাকিস্তান ও কাশ্মীরের ( জঙ্গি পুশ করতে কাশ্মীরকে বেছে নিয়েছে) জন্য ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে যে পরিমান অর্থ ব্যয় হয়, তা যদি না হতো, তাহলে ভারত আজ অর্থনীতিতে ও জিডিপি রিজার্ভে অনেক আগেই চীনের চেয়ে এগিয়ে যেত। এবং আমেরিকার পরে বিশ্বে দ্বিতীয় শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতো। চীনের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রেখে পাকিস্তান আজ সন্ত্রাসবাদীয় রাষ্ট্র ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারেনি। এই চীনের বন্ধুত্বে বিশ্বে আজ পাকিস্তানের আমও গেল, আঁটিও গেল। বর্তমানে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক পরামর্শকে বিশ্বের উন্নত সংস্থাগুলো কোনো গুনায় ধরেনা। ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্গানাইজেশন খোদ “ও আই সি” পর্যন্ত এখন পাকিস্তানকে পাত্তা দেয় না। এই তো গেল চীনের সাথে পাকিস্তানের বন্ধুত্ব থাকার নির্মম পরিনতির কথা।

আবার এদিকে হিন্দু অধ্যুষিত সদ্য উদীয়মান কম্যুনিস্ট রাষ্ট্র “নেপাল”ও চীনের সাথে নতুন বন্ধুত্ব করে চীনের উস্কানিতে ভারতের বিরুদ্ধে লাফালাফি শুরু করেছে। কুঁই কুঁই শব্দ করে আবার যুদ্ধ করবেও বলছে। আর চীন সেই নেপালের সাথে বন্ধুত্ব করে তার নিষ্ঠুর প্রতিদান দিতে বেশি সময় নেয়নি। সম্প্রতি চীন নেপালের ৩৩ হেক্টর জমি দখল করে এরইমধ্যে দারুন প্রতিদান দিয়ে দিয়েছে! -কিরে নয়া চীনপন্থী কম্যুনিস্টবাদী নেপালের পার্লামেন্টের সাংসদরা, তোরা এখন কেমন আছিস? কেমন লাগছে নয়া বন্ধু চীনের ভুমি আগ্রাসন? কেমন বোধ হচ্ছে? তোমাদের ভাগ্য এখনো ভালো যে, শুধু ৩৩ হেক্টর জমি কেন, চীন এখনো গোটা নেপালটাই যে গ্রাস করে নেয়নি এরচেয়ে ভালো ভাগ্য আর কি হতে পারে?

–এখন শোনা যাছে বাংলাদেশও নাকি চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নতি করার জন্য এগিয়ে যাছে। চীন নাকি বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্ব করার জন্য আগ বাড়িয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের আপামর ৯০%দের মনেও খুব একটা খুশি খুশি ভাব চলে এসেছে! কিন্তু চীনের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব আমি মোটেও খুশি হতে পারিনি। বরঞ্চ একটু বেশি উদ্ধিগ্নই হচ্ছি। আমার মতে, এই চীনের সাথে গভীর সম্পর্ক করতে গিয়ে না জানি আবার বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কপালে কি শনির দশা অপেক্ষা করছে! কে জানে!

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

19 − = 15