লাভ জিহাদে ফাঁদে পড়ে অবশেষে হিন্দু মেয়ের দুঃসহ পরিনতি!

হিন্দু কালচার হলো একটা দিগন্ত জোড়া বিস্তীর্ণ বিশাল সবুজ প্রান্তর। সেই সবুজ প্রান্তরে হিন্দু নারীরা খিলখিলিয়ে হাসতে পারে, গাইতে পারে, নাচতে পারে, আঁকতে পারে, যেমন খুশি তেমন বিচরণ করতে পারে। গোটাবিশ্বে সনাতন ধর্মের কালচার এমন একটা কালচার যার ধারণ ক্ষমতা আকাশের মতো বিশাল, সাগরের মতো উদার। হেই হিন্দু কিশোরী তোমাকেই বলছি, তুমি গলা ছেড়ে গান গায়তে চাও? গাও। অন্য ধর্মের মতো হিন্দুর ধর্মের ধর্মবেত্তারা কেউ তোমার গলা চেপে ধরতে আসবে না। তুমি নৃত্য করতে চাও? তাতেও কেউ বাধা দিতে আসবে না। বরঞ্চ তোমার পরিবার ও সমাজ তোমাকে দ্বিগুন উৎসাহ দেবে। তুমি ডাক্তারি পড়ে মানুষের সেবা করতে চাও, তাতেও হিন্দু ধর্মের বিধান তোমার গলায় কাটা হয়ে দাঁড়াবে না। ধর্মীয় ফতোয়ার স্কেল দিয়ে মেপে দেবে না, নারী হয়ে তোমার ঠিক কতটুকু পড়া উচিত। হেই হিন্দু বালিকা, তুমি মনের রঙ মিশিয়ে নিজের মতো করে ক্যানভাসে রঙ বেরঙের যত খুশি ছবি আঁকো না কেন, কেউ তোমাকে বলতে আসবে না, ছবি আঁকা এসব হিন্দু রীতিতে নাজায়েজ। ঘরের চৌকাঠ ডিঙিয়ে রাস্তায় বের হওয়ার আগে তোমাকে কেউ বাধ্য করবে না আপাদমস্তক পুরো অবয়ব কাপড়ে ঢেকে বেড় হতে। তো তোমার ধর্মীয় কালচার এতো সুন্দর ও উদার হওয়ার শর্তেও তুমি ঠিক কোন সুখের আশায় লাভ জিহাদের সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়তে যাও কিশোরী?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এই ফেইসবুকের সৌভাগ্যে আমি এই পর্যন্ত শত শত লাভ জিহাদের শিকার হিন্দু তরুণীদের নির্মম পরিনতি দেখেছি। দেখেছি বিবাহ পরবর্তী তাদের সীমাহীন অত্যাচারিত হওয়ার অবর্ণনীয় কষ্ট। দেখেছি ভুড়ি ভুড়ি হিন্দু নারী প্রতারিত হয়ে তালাকপ্রাপ্ত হয়ে পতিত জীবন যাপন করতে। ব্যক্তিগত ভাবে হিন্দু-মুসলিম বিয়েতে আমার কোনো আপত্তি নেই। হতে পারে দুই বিপরীত মেরুর একসাথে মেলবন্ধন। হতে পারে দুই ভীন্ন সম্প্রদায়ের একটি সুন্দর সজ্জিত ভালবাসার ঘর। এতে দোষের কিছু নেই। তবে ছলনা করে কেন? প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কেন? ঠিক কোন উদ্দেশ্যে এই প্রতারণার আশ্রয় নেয় লাভ জিহাদি মুসলিম যুবকরা? কোনো মুসলিম যুবক শামসুল্লাহ (প্রতীকি নাম) যখন কোনো হিন্দু মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলার টার্গেট করে তখন নাম পালটে সেই হয়ে যায় অজয়, বিজয়, অভিজিৎ, প্রলয় বা নিলয়৷ এগুলি কি সুন্দর হিন্দুর মতো নাম। তাই না? প্রেমের ফাঁদে ফেলার আগে মুসলিম ছেলেটির ব্যবহার ও ইমোশনগুলি থাকে একেবারে খাঁটি হিন্দু ছেলের মতো। যেন তার মতো প্রগতিশীল শিষ্টাচারী উত্তম পুরুষ আর দ্বিতীয়টি হয়না। এরপর হিন্দু মেয়েটির বিশ্বাসের গভীরে যাওয়ার পর কোনো ভাবেই যদি বেশ কয়েকবার শারিরীক সম্পর্ক হয়ে গেলেই তখন প্রতারক ছেলেটি মেয়েটির কাছে হয়ে যায় তার পুরো একটা পৃথিবী। মেয়েটি তখন ছেলেটিকে ছাড়া আর কাউকেই ভাবতে পারে না। মেয়েটির আবেগ ভালবাসা বুঝার পর ছেলেটি আস্তে আস্তে তার পরিচয় প্রকাশ করে। এক সময় খুব ইমোশন দেখিয়ে বলে ফেলে, -“দেখ জানু আমি তোমাকে একটা মিথ্যা কথা বলেছিলাম, আসলে এই ছাড়া আমার উপায় ছিলোনা। দেখ সোনা আসলে আমার জম্ম হল মুসলিম পরিবারে। কিন্তু কি করব তোমাকে অন্ধের মতো ভালবাসি বলেই আমি আমার পরিচয় গোপন করেছিলাম। এরপর দুজনের মধ্যে কয়েকদিন সম্পর্কের দোলাচল চলে। এক সময় মেয়েটি ছেলেটির কথায় প্রভাবিত হয়। ছেলেটি মেয়েটিকে আবার বলে, সমস্যা নেই জানু আমাদের পরিবার আধুনিক পরিবার। আমার বাবা মা খুব মনের মানুষ। তোমাকে সাদরে মেনে নেবে। তুমি তোমার ধর্ম পালন করবে, আমি আমার। সমস্যা কি? তুমি তোমার মতো পুজা পাবন করতে পারো। তুমি যখন খুশি বাপের বাড়ি যেতে পারো। ছেলেটির এই সরল কথাগুলো শুনে মেয়েটি বাবা-মা’র দীর্ঘ বছরের লালিত সম্পর্কে ছেদ করে ভালবাসার টানে মুসলিম ছেলেটির হাত ধরে চলে যায়।

বিয়ের পর ভীনধর্ম হতে আসা মুসলিম ছেলেটির নতুন বউটি পরিবারের খুব আদর যত্ন সমাদর পায়। একে তো ছেলে ভীনধর্মীকে বিয়ে করে এনেছে বলে পরিবারের গর্বের শেষ নেই। তার উপর ভীনধর্মী একটা মেয়েকে মুসলিম বানানো গেলে এই তো সোয়াবের কাম। এভাবে কিছুদিন হিন্দু মেয়েটির সাথে মুসলিম পরিবারটির মিটি মিটি চলে কয়েক মাস সুন্দর সম্পর্ক। তারপর শুরু হয় মেয়েটিকে চরম শিক্ষা দেয়ার খেলা! ইসলামি শরিয়া রীতিতে চলতে বাধ্য করার খেলা। এবার বোরকা পড়তে হবে। নামাজ পড়তে হবে। মেয়ে হয়ে একা কোথায় যাওয়া যাবেনা। উচ্চস্বরে কথা বলা যাবেনা। সবার সামনে মন খুলে খিলখিলিয়ে হাসা যাবে না। আমাদের মুসলিম রীতিতে গান, নাচ, ছবি আঁকা এসব করা যাবেনা! তওবা! তওবা! তারপর শরিয়া রীতিগুলো মানার জন্য তাকে বাধ্য করা হয়,এই রীতিগুলো না মানলে দিনরাত চালানো হয় শারিরীক নির্যাতন। কোনো কোনো পরিবার দেবর জামাই শ্বশুর শ্বাশুড়ি মিলে নির্যাতন করতে করতে তো এক প্রকার মেরেই ফেলে। আবার কোনো পরিবার মেয়েটিকে তালাক দিয়ে ডাস্টবিনের আস্তাকুঁড়ে ফেলে দিয়ে মুসলিম পরিবারটি তাদের ছেলেকে আবার মুসলিম মেয়ে দেখে বিয়ে করায়। তাদের সমাজ ব্যবস্থায় আবার ৪ টা বিয়ে করা এটা শরিয়া সম্মত জায়েজ।

লাভ জিহাদ এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে হিন্দু বা অমুসলিম মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করে, পরে বিয়ে করে মুসলিম বানিয়ে তাদের ব্যবহার করে গন্ডা গন্ডা বাচ্চা পয়দা করে। যাতে মুসলিম জনসংখ্যা অতি দ্রুত হারে বৃদ্ধি পায়। বলিউডের সুপার স্টার আমির খান, শাহরুখ খান, এরা কি হিন্দু মেয়ে বিয়ে করেনি? করেছে। কারণ এদের উদ্দেশ্য লাভ জিহাদ ছিলো না। ছিল বিশুদ্ধ ভালবাসা। তাঁরা লাভ জিহাদের মতো ছলনা বা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে হিন্দু মেয়েদের বিয়ে করেনি। ভালবেসে ঘর বাঁধার উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁরা বিয়ে করেছিল। এবং গৌরি খুব ভাগ্যবতী বলেই শাহরুখ খানের মতো একজন উদার মনের বর পেয়েছে।

লেখাটা অনেক বড় হয়ে গেল। আজকাল বড় লেখা পড়ার ধৈর্য মানুষের অনেক কম। তাই আর কয়েক লাইন বলে লেখাটা এখানে শেষ করছি। আমাদের সমাজে অধিকাংশ হিন্দু অভিভাবকগন (বিশেষ করে মায়েরা) তাদের সন্তানদের পড়াশুনা নিয়ে যথেষ্ট কেয়ারফুল থাকেন। মধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবারের মায়েরা তাদের কন্যা সন্তানদের ছোট থেকে পড়ায়, লেখায়, নাচে, গানে, আবৃত্তিতে পারদর্শী করতে সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্দি পড়াশোনার স্কুল, গানের স্কুল, নাচের ক্লাস ও আবৃত্তির ক্লাশে দৌঁড়ান। যেন তার সন্তানটি সমাজে তাদের মুখ খুব উজ্জ্বল করে। সেটা অবশ্যই ভাল চিন্তা। প্রতিটি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি এমন সিনসিয়ারিটি থাকা উচিত। তো শ্রদ্ধেয় অভিভাবকগন, সেই সাথে আপনার সন্তানকে এই শিক্ষাটাও দেয়া উচিত, হিন্দু সংস্কৃতি আসলে কি। হিন্দু সংস্কৃতি কতোটা উদার। হিন্দু সংস্কৃতি কতোটা সহনশীল। যে সংস্কৃতির প্রান্তরে আপনার সন্তানেরা কতোটা উদারভাবে বিচরণ করতে পারবে। তাকে বোঝান সেই যেন ভুলেও লাভ জিহাদের পরিনতির শিকার না হয়। আপনার উচ্চ শিক্ষিত মেয়ে প্রথা ভেঙ্গে প্রতারক মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করেছে বলে এতে সেই মহান আধুনিক ও প্রগতিশীল ব্যক্তি হয়ে যায়নি। আসলে লাভ জিহাদের ফাঁদে পা দিয়ে সেদিনই তার জীবনটি অন্ধকারে পতিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছে সেই। বর্তমান ভারত বাংলাদেশ জুড়ে হুহু করে বেড়ে চলেছে লাভ জিহাদের সংখ্যা। এতে হিন্দু কিশোরীরা জীবনে চরম পরিনতির শিকার হচ্ছেন। তো প্রিয় অভিভাবকগন, আপনার সন্তানকে সংস্কৃতির সাথে সাথে সেই শিক্ষাটাও দিন যে, যেন সেই বিবেচনা করতে সক্ষম হয় কোন দিক ভাল আর কোন দিকটা মন্দ।

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 1 =