অদ্ভুত গাঁধার পিঠে চলছে স্বদেশ

অদ্ভুত গাধার পিঠে চলছে স্বদেশ!

সবগুলো রাজ্য অতি ক্ষুদ্র ভাইরাসের অাক্রমণে দিশেহারা। খাম্বাজ, মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে! এই অবস্থা দেখে কৃষ্ণনগরের রাজা মন্ত্রীকে ডেকে বললেন, ওহে মন্ত্রী মশাই এখন অামাদের কি করা উচিত? এই ভাইরাস যদি অামাদের রাজ্যে প্রবেশ করে তবে তো মহা সর্বনাশ। মন্ত্রী বলল মহারাজ অামাদের রাজ্যে ভাইরাস অাক্রমণের কোন সম্ভবনা নেই। অাপনি নিশ্চিতে থাকতে পারেন। অামি সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

মন্ত্রী মনে মনে ভাবতে লাগলো এখন কোন ক্রমেই এই ভাইরাসকে অাটকানো ঠিক হবে না। শুধু ভাইরাসকে একবার রাজ্যে অাসতে দেওয়া দরকার। তখন চারিদিকে মোহরের ছড়াছড়ি। যেমন পারো লুটে নাও!

দিন গড়িয়ে সপ্তা যেতে না যেতে কৃষ্ণনগরে ভাইরাসের অাক্রমণ শুরু হল। খাম্বাজ থেকে অাগত এক ব্যক্তি ভাইরাসে অাক্রন্ত হয়েছে। মহারাজ চিন্তায় অস্থির! জরুরী সভার তলব করা হল। সবাইকে ডেকে পাঠানো হয়েছে কিন্তু গোপালের কি হয়েছে কি জানি বাপু তার কোন খবর নেই। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র সবার কাছে জানতে চাইলেন এখন রাজ্যে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার? তখন মন্ত্রী বললেন “মহারাজ অামি সব ব্যবস্থা করছি অাপনি শুধু মোহরের ব্যবস্থা করুন।” মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র কহিলেন, যা লাগবে নাও মন্ত্রী শুধু অামার রাজ্যটাকে রক্ষে করো।

মন্ত্রী রাজকোষ থেকে এক লক্ষ স্বর্ণ মুদ্রা নিয়ে চলে গেল। মন্ত্রী সেনাপতিকে ডেকে পঞ্চাশ সহস্র মুদ্রা দিয়ে বললো অন্য রাজ্য থেকে যারা অাসবে সবাইকে গারদে পুরবে। খরচ বাবদ অাপতত এই মোহরগুলো রাখ। সেনাপতি সীমান্তে পাহারা বসালো৷ অন্য রাজ্য থেকে যারা অাসছে তাদের গারদে পুরতে থাকলো। হটাৎ বটা আর ঘটা অাসছে মুর্শিদাবাদ থেকে। তারা সেনাপতিকে ১০০ মহর গুজে দিয়ে চলে অাসল কৃষ্ণনগরে৷ এই কান্ড দেখে অনেকে ২০/৫০ মোহর গুজে কৃষ্ণনগরে প্রবেশ করতে লাগল। সেনপতিও দেখল এ তো উপরি কামায়। এরপর যখন রাজ্যে অারো মহামরি ছড়াবে তখন তো অারো কামায়।

বিজ্ঞানী মহারাজের কাছে এসে বলল মহারাজ ভাইরাস নির্ণয়ের যন্ত্র অাবিষ্কার করতে হবে। একাজে তো অনেক ব্যায়। মহারাজ তাকে ২০ হাজার স্বর্ণ মুদ্রা দিয়ে দিল। বিজ্ঞানী বাজার থেকে একটা যন্ত্র কিনে বাকি মোহর ঘরে রেখে দিল। বিজ্ঞানী মহাশয় একাই সব কাজ করতে লাগল। যন্ত্র অাবিষ্কারের কাজ চলতে লাগল। কিন্তু কবে নাগাদ হবে কোন ঠিক নেই।

দিনদিন ভাইরাসের অাক্রমণ বাড়তে লাগল। রাজ্য নিয়ে কৃষ্ণচন্দ্র বড়ই উদ্ধিগ্ন! অাবারো জরুরি সভার তলব করা হল। কিন্তু গোপালের দেখা নেই। সভায় অলোচনা হচ্ছে কি দিয়ে কি করা যায়। মহারাজ বললেন রাজ্য জুড়ে বন্ধ ঘোষণা করা হোক, কেও যেন ঘর থেকে বের হতে না পারে। মন্ত্রী বলল, মহারাজ ঘর থেকে বের না হলে সবাই খাবে কি? সবাইকে খাওয়াতে গেলে তো অনেক মুদ্রা খরচ হয়ে যাবে।। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র বলল যা লাগে রাজকোষ থেকে নাও মন্ত্রী। শুধু অামার রাজ্যটাকে রক্ষে করো। রাজকোষ থেকে ৫০ লক্ষ স্বর্ণ মুদ্রা অার চাল ডালের গাড়ি বোঝায় করে মন্ত্রী চলে গেল। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র মন্ত্রীকে ডেকে বলল অামার রাজ্যে যেন কেও না খেয়ে মরে।

রাজ্যে ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করা হল কেও যেন ঘর থেকে বের না হয়। সবার বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে যাবে। সেই ঢাক পেটানো শুনতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়লো। এদিকে রাজ্যের জনগণ কে শুনে কার কথা। রাখে অাল্লা মারে কে টাইপের জীবন চলতে থাকলো! ওদিকে পুরোহিত মশাই বলে দিয়েছেন, মা শিতলা অাছেন তোমরা ভাইরাসের ভয় করো না। সবই তাহার ইচ্ছে মতোন ঘটে। তোমরা যে যার মতোন কাজ করে যাও। এখন শুধু বাচ্চাদের পাঠশালা ছুটি থাকবে। পাঠশালা ছুটে পেয়ে ছেলেরা ঘুরতে গেল মামা বাড়ি।

ওদিকে মন্ত্রী বেটা ছক কসছে কি দিয়ে কি করা যায়। সেনাপতিকে নির্দেশ দিল কয়েকটাকে দু ঘা দিয়ে মহারাজকে দেখাও অামরা কত কি করছি। কিন্তু খবরদার ভাইরাসের বিস্তার যেন রোধ করা না হয়। অার শোন সবাইকে খাবার বিলি করে দাও। দশ কেজির যায়গায় ৬ কেজি করে চাল দিবা। কাওকে তেল দিবা তো কাওকে ডাল। বাকিটা অামার গুদাম ঘরে তুলে রাখ। বটা ঘটাকে সাথে নাও। তোমরাও ভাগ পাবে চিন্তা করো না! অামি যা বলি শুধু তাই করে যাও।

মন্ত্রী বেটা মহারাজার কাছে গিয়ে খবর জানালো রাজ্যের অবস্থা ঠিকঠাক মহারাজ। অাপনি কোন চিন্তা করবেন না। সবাই শান্তিতে বসবাস করছে। অাপনি বিশ্রাম করুন অামি সব দেখে নিচ্ছি। এসব শুনে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র নিশ্চিত হলেন। মনে মনে কহিলেন রাজ্যটাকে বুঝি বাঁচানো গেল।

কিছুদিনের মধ্য রাজ্যে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হল ভাইরাসের অাক্রমণে। মহারাজ অাবার জরুরি সভার তলব করলেন। কি হে মন্ত্রী, সব যে বললে ঠিকঠাক তবে মানুষ মরল কেন? মহারাজ ও তো বৃদ্ধ ছিল, এমনিই মারা যেত। ভাইরাস অাক্রমণ করলেও মরত না করলেও মরতো। অাপনি এটা নিয়ে চিন্তা করবেন না মহারাজ। ও অাচ্চা অাচ্চা তাই বলো! তা বিজ্ঞানী রাজ্যে কতজনের এই ভাইরাস অাক্রমণ হয়েছে? তা মহারাজ ৩ জনের মত। কি বলো বিজ্ঞানী! এত কম? বাহ্ বাহ্ তোমরা তো ভালোই কাজ করছ। বিজ্ঞানী মনে মনে বলল, “নো পরিক্ষা নো রুগী! ” মহারাজ, রাজ্যে চিকিৎসার জন্য কিছু জিনিস কেনা লাগবে। অনেক মোহরের দরকার। এই নাও ৫ লক্ষ মুদ্রা। রাজ্যকে বাঁচাও। মন্ত্রী বলল, মহারাজ রাজ্যে সবার খাদ্যের জন্য অারো মোহর লাগবে। বণিকদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেও অনেক মোহর প্রয়োজন। মন্ত্রী অামার রাজ্যকে ভাল রাখতে অামি সব করতে রাজি। তুমি শুধু সব ঠিকঠাক করে দাও। অামি তোমাকে এক লক্ষ মোহর পুরষ্কার দেবো। এখন রাজকোষ থেকে ১ কোটি স্বর্ণ মুদ্রা নিয়ে যাও। রাজ্যের যেন সবকিছু ভাল থাকে। অাপনি কোনকিছু চিন্তা করবেন না মহারাজ। মন্ত্রী থাকতে এই কৃষ্ণনগরের কিছু হতে দেবে না।

সবাই সবার বরাদ্দের অর্থ নিয়ে ফিরে এল। মন্ত্রী, বিজ্ঞানী, সেনাপতি এরা কেও এখন ঘর থেকে বের হয় না ভাইরাসের ভয়ে। মন্ত্রী সেনাপতির সাথে পরামর্শ করে প্রহরীদের কটা টাকা ধরিয়ে দিয়ে সব কাজ করিয়ে নিচ্ছে। এদিকে অাবার প্রহরীরা ক্ষমতা পেয়ে যা ইচ্ছা তাই শুরু করেছে। যাকে পাচ্ছে তাকে ধোলায় দিচ্ছে। মানুষদের খাবার না দিয়ে বাড়িতে বোঝায় করছে। এদিকে রাজ্যে মানুষ মরতে শুরু করেছে। রাজ্যের মধ্য অরাজকতা শুরু হয়েছে। ওদিকে মন্ত্রী সেনাপতিরা টাকা রাখার যায়গা পাচ্ছে না।

দিন যায় দিন অাসে মহারাজ চিন্তায় চিন্তায় অস্থির। এদিকে অাবার রাজ্য জুড়ে মানুষের মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছে। কৃষক ফসল ফলাতে পারছে না। মাঠে পাঁকা ধান নষ্ট হচ্ছে। খেতে না পেয়ে মারা পড়ছে অনেকে। রাজ্যে ফসল ফলানো হয়নি এ বছর। এখন অার কোথাও কোন ঘরে খাবার নেই। রাজ্যে একটা মানুষও অার বেঁচে নাই। খাবার জন্য কোথাও কিছু অার অবশিষ্ট নেই। মন্ত্রী, রাজা, সেনাপতি সব কি খেয়ে থাকবে? টাকা খেয়ে তো অার বেঁচে থাকা যায় না। মন্ত্রীর প্রতি রাজার অন্ধ বিশ্বাস সোনার কৃষ্ণনগর রাজ্যকে শশান বানিয়ে দিল।

“ওহে গোপাল তুমি কোথায়? কৃষ্ণনগরকে রক্ষা করো!”

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 47 = 57